ক্যাটেগরিঃ প্রতিবন্ধী বিষয়ক, ফিচার পোস্ট আর্কাইভ

 

p20171121-185257
একজন বিকলাঙ্গ মানুষের আর্তনাদ- ‘জন্ম থেকে জ্বলছি মাগো, এবার আদেশ করো তুমি আদেশ করো।’ আদেশ করো মানে, আমাকে মৃত্যু দাও! এই বিকলাঙ্গ জীবন নিয়ে, এই সমাজে আমি আর বেঁচে থাকতে চাই না। ছবিটি একমাস আগে আমার অফিসের সামনে থেকে তোলা। ছবির বিকলাঙ্গ মানুষটির নাম এছাক মিয়া।

আমরা পৃথিবী নামক গ্রহটিতে স্রষ্টার সৃষ্টির সেরা জীব। আমরা আদিযুগ পেরিয়ে এখন সভ্য জগতে বসবাস করছি। কেউ এদেশে, কেউ বিদেশে। কেউ আবার অচিনপুরের চাঁদে গিয়েও বসবাস করতে চাইছে। হচ্ছে না, তবু চেষ্টার কোনও ত্রুটি রাখছে না; নাসার বিজ্ঞানীরা। আশা করা যায়, কোনও একসময় হয়ত মানুষের এই চেষ্টাও সফল হয়ে যাবে। আর আগেকার দিনে শিক্ষার হার যেখানে ছিল শূন্যের কোঠায়। এক গ্রামে একজন যদি মেট্রিক পাস করতো, তাহলে দশ গ্রামের লোক আসতো তাকে দেখতে। আর আজ আমাদের ঘরে ঘরে আইএ, বিএ পাস। তবে আমরা শিক্ষা-দীক্ষায় যেমন-তেমন, সচেতনতার দিক দিয়ে এতো এগিয়ে থাকতে পারিনি। সচেতনতার অভাবে আমরা প্রতিনিয়ত অনেক দুর্দশা ভোগ করে থাকি। আমাদের সচেতনতার অভাবে অনেক সমস্যার মধ্যে একটি হলো, বিকলাঙ্গ বা প্রতিবন্ধী সন্তান জন্ম দেওয়া।

আমরা মাতৃগর্ভ থেকে পূর্ণাঙ্গ অবস্থায় জন্মগ্রহণ করলেও এরমধ্যে অনেকেই জন্মেছে বিকলাঙ্গ হয়ে। আবার অনেকে পূর্ণাঙ্গভাবে জন্মগ্রহণ করার পরও নানারকম রোগব্যাধির কারণে হয়ে যায় বিকলাঙ্গ। এই বিকলাঙ্গ মানুষের সংখ্যা আমাদের দেশে কম নয়। এদের মধ্যে কারও হাত বাঁকা, কারও পা বাঁকা। কেউ আবার কুঁজো, কেউ আবার দৃষ্টি প্রতিবন্ধী, কেউ হাবাগোবা (বুদ্ধি প্রতিবন্ধী)। এসব বিকলাঙ্গ মানুষ নিজ পরিবার ও সমাজের কাছে বিরক্তিকর। এরাও নিজেকে অপদার্থ মনে করে বেঁচে থাকে, আর সবসময় মৃত্যু কামনা করে। অনেকেই বলে,  ‘এভাবে বেঁচে থাকার চেয়ে, মরে যাওয়াও ভালো।’

আবার সমাজের অনেক মনুষ তাদের মাথার বোঝাও মনে করে থাকে। কিন্তু এদের তো কোনও দোষ নেই! এসব বিকলাঙ্গ বা প্রতিবন্ধী তো আমাদেরই আনন্দের ফসল। আমাদেরই অসাবধানতা আর অজ্ঞতার করণেই ওদের জন্ম। অথচ আমাদের আনন্দের ফসল হয়েও আজ তারা সমাজের কাছে ঘৃণিত অবহেলিত! কিন্তু কেন?

p20171122-011958 তিনিও একজন বিকলাঙ্গ। বাড়ি রংপুর কাউনিয়া উপজেলায়। থাকে ঢাকা মতিঝিলের কোন এক স্থানে। সপ্তাহে একবার সিদ্ধিরগঞ্জ থানাধীন গোদনাইলে আসে। পেশা ভিক্ষাবৃত্তি। জন্ম থেকেই দুটি পা শক্তিহীন। চলাফেরা দু’হাতে ভর দিয়ে। এদের দেখলেই নিজের জীবনটা ওদের দেহে চলে যায়। তখন আমি নিজেই এক বিকলাঙ্গ হয়ে যাই। তাই ওদের দুখের কথা, মনের কথা নিজে থেকেই লিখি। আর দু’হাত তুলে সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থনা করি। দয়াল যেন আমার মতো অঙ্গহীন করে, আর কাউকে এই পৃথিবীতে না পাঠায়।

আসলে কি বিকলাঙ্গ বা প্রতিবন্ধী হয়ে জন্মানোর পেছনে তাদের কোনও দোষ আছে? না কি সবই সৃষ্টিকর্তার দোষ? না কি তারা আমাদের অসাবধানতার শিকার? হ্যাঁ, এর পেছনে আমাদের অসাবধানতাই প্রমাণ হয়। যা একজন গর্ভবতী মাকে চিকিৎসকের কাছে নিলেই এর বিবরণ পাওয়া যায় বা শোনাও যায়। তাহলে মাতৃগর্ভ থেকে এই বিকলাঙ্গ বা প্রতিবন্ধী হয়ে জন্ম নেওয়ার পেছনে কারণ কী?

আগেই বলে রাখা ভালো যে, আমি কোনও চিকিৎসক বা রোগ বিশেষজ্ঞ নই। আর আমার তেমন কোনও একাডেমিক ডিগ্রিও নেই। তবে আমি নিজে একজন বিবাহিত পুরুষ। আমার স্ত্রী গর্ভবতী অবস্থায় তাকে নিয়ে অনেকবার হাসপাতালে গিয়েছিলাম। আবার অনেক নগর স্বাস্থ্য কেন্দ্রের সামনেও এসব বিষয়ে বিলবোর্ডেও লেখা থাকে। যা দেখা যায় দেশের প্রতিটি হাসপাতালের সামনে। বিলবোর্ডে থাকে গর্ভবতী মা ও শিশুর সুস্থ জীবন নিয়ে, অনেক পরামর্শ বিষয়ক লেখা। আবার গর্ভবতী মাকে কোনও ডাক্তারের কাছে নিয়ে গেলেই, সেসময় তারা এসব বিষয়ে গর্ভবতী মাকে অনেক উপদেশ দেয়। ডাক্তার যে উপদেশ দেয়, সে বিষয়ে পরে আলোচনা করছি। আগে আমার মায়ের বলা কিছু কথা এখানে উল্লেখ করছি।

IMG_20170108_123641তার নাম মোহাম্মদ সুমন, জন্মেছিল পূর্নাঙ্গভাবে। জন্মের পাঁচবছর পর থেকে আস্তে আস্তে শরীরের অঙ্গহানি দেখা দেয়। ক্লাস ফাইভ পর্যন্ত লেখাপড়াও করেছিল। এরপর আর পারেনি রোগের সাথে যুদ্ধ করে। এখন তার দুটি পা একেবারেই অবশ। চালিকা শক্তি হলো হুইল চেয়ারের মতো একপ্রকার গাড়ি। কাজ করে একটা গেঞ্জির প্রিন্টিং-এ। সুমনও তার এই অঙ্গহীন জীবনটাকে একটা বোঝা মনে করছে।

আমার মা বলতেন, ‘গর্ভবতীদের আমাবস্যা পূর্ণিমা মেনে চলতে হয়। সূর্যগ্রহণ চন্দ্রগ্রহণ ও নানারকম তিথি মেনে চলতে হয়।’ কোন তিথিতে সন্তান জন্ম নিলে কেমন হবে, তা আমার মা ভালো বলতে পারতেন। আমার স্ত্রী প্রথম গর্ভাবস্থায় একবার চন্দ্রগ্রহণ দেখা দিয়েছিল। সেসময় আমার মা, আমার স্ত্রীকে চন্দ্রগ্রহণ শেষ না হওয়া পর্যন্ত, আর ঘুমাতে দেয়নি। আবার অনেক মানুষকে সূর্যগ্রহণের সময়ও একরকম নিয়ম পালন করতে দেখা যায়।

কথিত আছে, ‘সূর্যগ্রহণ বা চন্দ্রগ্রহণের সময় যদি গর্ভবতী মা পা পেঁচিয়ে বসে থাকে, তাহলে তার গর্ভের সন্তানেরও পা বাঁকা হয়ে যায়।’ এ ছাড়াও যতদিন আমার মা বেঁচে ছিলেন, আরও অনেক নিয়ম মেনে চলতে হয়েছে আমার স্ত্রীকে। যা লিখে শেষ করা যাবে না, তাই আর লিখলামও না। আমার মা ছিলেন একরকম ধার্মিক মানুষ। অনেক সময় আমার মায়ের মুখের কথা হুবহু মিলিয়ে যেত। আর যা বলতো, তা আগেকার দিনের বুড়ো বুড়িদের অনুসরণ করেই বলতো। আমার বিয়ের দুইবছরের মাথায় আমার স্ত্রী গর্ভবতী হয়ে পড়ে। গর্ভবতী হবার তিনমাস পর, আমার মা আশেপাশের মানুষের কাছে বলতো, আমার বউমার মেয়ে হবে।

যেই কথা সেই ফল, হলোও তাই। সময়টা ১৯৮৯ সালের মাঝামাঝি। হঠাৎ একদিন আমার স্ত্রীর প্রসববেদনা শুরু হয়। আমার মা পুরানো কাপড়চোপড়, আর তার বউমাকে নিয়ে সোজা চলে গেল হাসপাতাল। মা আগেই বলেছিল, নরমাল ডেলিভারি হবে। হয়েছেও ঠিক তাই।

p20171123-023233 ওর নাম বাবু। বাড়ি সিদ্ধিরগঞ্জ থানাধীন গোদনাইল আজিম মার্কেট। ছোটবেলা থেকেই হাবাগোবা। কথা বলতে পারে না। শুধু গুঙিয়ে গুঙিয়ে শব্দ করে। কোনোকোনো সময় পড়নে কাপড়ও থাকে না। ও খুবই বিত্তশালী পরিবারের সন্তান। কিন্তু খুব কম সময় বাড়িতে থাকে। ওর চায়ের খুবই নেশা। চায়ের নেশা পেলেই ছুটে যায় চায়ের দোকানে। এই প্রতিবন্ধী বাবুকে এক কাপ চা দিতে এলাকার কেউ কৃপণতা করে না। এলাকার প্রতিটি চায়ের দোকানে ওর জন্য চা ফ্রি।

তো এ বিষয়ে আগের দিনের বুড়ো বুড়িদের কিছু কথা এখানে বললাম। এবার আসি বিকলাঙ্গ ও প্রতিবন্ধী শিশু জন্ম নেওয়ার বিষয়ে। আর প্রসূতি বিশেষজ্ঞদের দেওয়া কিছু পরামর্শ নিয়ে। বিকলাঙ্গ শিশু জন্ম নেওয়ার বিষয়ে ডাক্তারদের কিছু পরামর্শ নিম্নে আলোকপাত করা হলো:

১। গর্ভধারণের সময় মায়ের বয়স কম বা বেশি উভয়ই শিশুর জীবনের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। অথচ আমাদের দেশে খুবই শখ করে, অনেকেই অল্পবয়সী মেয়ে বিয়ে করতে চায়। যাকে বলে বাল্যবিবাহ। আবার কোনও কোনও মেয়ে বা পুরুষ, জীবনটাকে সুন্দর ও সাবলম্বী করার জন্য বুড়ো বয়সে বিয়ে করে। ডাক্তার বলেন, ‘অপরিণত বয়সে প্রজনন অঙ্গের বিকাশ সম্পূর্ণ হয় না। তাই অপরিণত বয়সে মা হলে ত্রুটিপূর্ণ শিশু জন্ম হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। আবার বেশি বয়সে অন্তঃক্ষরা গ্রন্থির স্বাভাবিক কার্যাবলি হ্রাস পায়। তাই ৩৫ বৎসরের পর যে সব মহিলা প্রথম সন্তান জন্ম দেন, সে সব শিশু বিকলাঙ্গ বা প্রতিবন্ধী হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে।’ বিশেষজ্ঞদের এমন পরামর্শের প্রতি সবার খেয়াল রাখা উচিৎ। বিকলাঙ্গ ও প্রতিবন্ধী শিশু জন্মের পেছনে যেমন বাল্যবিবাহ ঝুঁকিপূর্ণ, তেমন বেশি বয়সে বিবাহ করাও ঠিক নয়।

২। গর্ভকালীন অবস্থায় যদি কোনও মায়ের এক্স-রে প্রয়োজন হয়, তাহলে খুব সাবধানে করতে হবে। যাতে কোনভাবে মায়ের দেহে তেজস্ক্রিয় রশ্মি প্রবেশ না করে। এর ফলে নাকি মায়ের নার্ভতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ফলে শিশু মানসিক প্রতিবন্ধী বা বিকলাঙ্গ হয়। কিন্তু আমারা এ বিষয়ে কোনপ্রকার সাবধানতা অবলম্ব করি না। স্ত্রীর প্রতি বেশি মোহাব্বত দেখিয়ে যখন তখন এক্স-রে, আল্ট্রসোনোগ্রাম, এসিজিসহ, নানারকম পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে থাকি। ডাক্তারদের ঐসব পরামর্শের দিকে কোনও মাথা ঘামাই না। আর এখনতো যেকোনো চিকিৎসার জন্য ডাক্তারের স্মরণাপন্ন হলেই আগে করতে হয় টেস্ট বা পরীক্ষা। নরমাল ডেলিভারি কাকে বলে সেতো অনেকে জানেই না। জানে শুধু ডেলিভারি মানে সিজার। আর এই সিজারের কারণে সময়সময় কতনা অঘটন ঘটে যায়। কতো গর্ভবতী মায়ের মৃত্যু, কতো পিতা-মাতা হয় সন্তান হারা। সেসব খবরাখবর জনা যায় পত্রিকান্তরে।

৩। গর্ভকালীন অবস্থায় মা যদি ঘন ঘন খিঁচুনি রোগে আক্রান্ত হন। তখন গর্ভের শিশুর শরীরে অক্সিজেনের অভাব ঘটে। ফলে শিশু মানসিক প্রতিবন্ধী বা বিকলাঙ্গ হতে পারে। এসব জানা যায় ডাক্তারদের পরামর্শ থেকে। গর্ভাবস্থায় কোনও মায়ের এমন হলে, আমারা বেশিভাগ মানুষই পাত্তা দেই না। অনেকেই বলে, ‘এ কিছু না, খানিক পর সেরে যাবে।’ যাদের টাকা-পয়সা আছে, তারা ডাক্তারের স্মরণাপন্ন হয়। আর যারা নিঃস্ব তারা থেকে যায় বিনা চিকিৎসায়।

৪। গর্ভকালীন সময়ে মায়েরা যেন ফরমালিন দেয়া খাদ্য না খায়। ডাক্তার বলেন, ‘ফরমালিন যুক্ত খাবার খেলে বিকলাঙ্গ শিশু জন্ম নিতে পারে। এর পাশাপাশি সন্তানেরা বোকা হাবা-গোবা হয়ে যেতে পারে।’ এখন কথা হচ্ছে, আমাদের দেশে কি ফরমালিন ছাড়া কোনও খাদ্যদ্রব্য পাওয়া যায়? পাওয়া যায় না। যা-ও পাওয়া যায়, তা ধনী ব্যক্তিরা সংগ্রহ করতে পারে। যারা গরিব, তারা এই ফরমালিনের রাহুগ্রাসে হয় আক্রান্ত। তবু খাদ্য একটু দেখেশুনে খাওয়া উচিৎ।

৫। ডাক্তার বলেন, ‘গর্ভাবস্থায় প্রথম তিন মাস, গর্ভবতী মাকে খুব সাবধানে থাকতে হয়। প্রথম তিনমাসে যেন যক্ষ্মা, ম্যালেরিয়া, জার্মানহাম, চিকেনপক্স, মাম্পস, রুবেলা ভাইরাস, এইডস ইত্যাদি রোগে আক্রান্ত না হয়। এই তিনমাসের মধ্যে যদি এসব রোগে আক্রান্ত হয়, তাহলে গর্ভের শিশুর উপর এর প্রভাব বিস্তার করে। এর ফলে শিশু শারীরিকভাবে বিকলাঙ্গ ও মানসিক প্রতিবন্ধী হতে পারে। এ ছাড়া মায়ের যদি ডায়াবেটিস, উচ্চরক্ত চাপ, কিডনির সমস্যা থাকে, তাহলে গর্ভস্থ শিশু প্রতিবন্ধী হতে পারে।’ আমারা কি এসব বিষয়ে কোনও খোঁজ-খবর রাখি? গর্ভবতী মায়ের ক্ষেত্রে এসব বিষয়গুলো খেয়াল রাখা খুবই দরকার। কেননা, এটা এমনই একটা সময়, এ সময়ে মা সুস্থ থাকলেই গর্ভের শিশুটিও সুস্থ থাকবে।

৬। অনেক সময় দেখা যায়, গর্ভবতী মাকে ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়াই ঔষধ সেবন করতে। এ বিষয়ে ডাক্তার বলেন, ‘গর্ভাবস্থায় শিশুর মা যদি ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া নানা প্রকার ঔষধ খেতে থাকে, তা শিশুর জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। অনেক ঔষধ ভ্রুণের অঙ্গ সৃষ্টিতে বাঁধার সৃষ্টি করে। ফলে শিশু যে কোন ধরনের বিকলাঙ্গ বা প্রতিবন্ধিতা নিয়ে জন্মগ্রহণ করতে পারে।’ তাই এসব খামখেয়ালির ব্যাপারে আমাদের সকলের সতর্কতা অবলম্বন করা দরকার। গর্ভাবস্থায় ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া যেন গর্ভবতী মা কোনপ্রকার ঔষধ সেবন না করে।

৭। গর্ভবতী মা যদি দীর্ঘদিন যাবৎ রক্তস্বল্পতায় ভোগেন। মা যদি গর্ভকালীন সময়ে পর্যাপ্ত পুষ্টিকর খাবার না খান, তখন ভ্রুণের গঠনগত বিকলাঙ্গ দেখা দেয়। আবার মস্তিস্কের বিকাশ ব্যাহত হয়। ফলে শিশু বিকলাঙ্গ অথবা প্রতিবন্ধী হয়। যেসব মা-বোনেরা এসব বিষয়ে অনেকসময় শরমে কারও কাছে বলতে চান না, তাদের উদ্দেশে বলবো, গর্ভকালীন সময়টা হলো খুবই গুরুত্বপূর্ণ সময়। এ সময়ে শারীরিক সমস্যা নিয়ে কোনও লজ্জাশরম না রাখাই ভালো। যত দ্রুত সম্ভব ডাক্তারের স্মরণাপন্ন হওয়া দরকার।

প্রিয় সম্মানিত পাঠকবৃন্দ, আমি আগেও বলেছি আমি এ বিষয়ে কোনও বিশেষজ্ঞ নই। উপরিল্লিখিত বিষয়াদি সবই মা ও শিশু বিশেষজ্ঞদের মুখে শোনা। কারণ, একসময় আমার নিজের স্ত্রী ও নিজের মেয়েকে নিয়েও বহু ডাক্তারের স্মরণাপন্ন হয়েছিলাম। অনেকসময় নিজের স্ত্রীও এসব পরামর্শগুলো ডাক্তারের কাছ থেকে শুনে আমাকে অবহিত করেছে। আবার দেশের প্রায় সমস্ত হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য সেবা কেন্দ্রেও এসব পরামর্শ সংবলিত বিলবোর্ড দেখা যায়। তাই বিকলাঙ্গ বা প্রতিবন্ধী শিশুর জন্মগত ত্রুটি বা ডাক্তারের পরামর্শগুলো এখানে আলোকপাত করলাম। করলাম এই কারণে যে, যাতে এসব পরামর্শগুলো মেনে চলে। দেশ থেকে যেন বিকলাঙ্গ ও প্রতিবন্ধী শিশু জন্মের হার হ্রাস পায়। আর গর্ভবতী মা সহ শিশুর সুস্বাস্থ্য নিয়ে যেন সবাই সচেতন থাকে।