ক্যাটেগরিঃ প্রশাসনিক

সরকার ঘোষিত বহুল আলোচিত স্মার্ট জাতীয় পরিচয়পত্র (স্মার্ট কার্ড) বিতরণ নিয়ে অপেক্ষা আর আকাঙ্ক্ষাই ছিল মানুষের মূল বিষয়। গেল ডিসেম্বর মাস থেকে যখন দেশের বিভিন্ন জেলায় এই স্মার্ট কার্ড বিলি-বন্টন হচ্ছিল, তখন নারায়ণগঞ্জবাসী ছিল অধীর আগ্রহে। দেশের বিভিন্ন জেলার ফেসবুক ব্যবহারকারীরা স্মার্ট কার্ড হাতে পেয়ে স্ট্যাটাস দিচ্ছিল। তখন নারায়ণগঞ্জের ফেসবুক ব্যবহারকারীরা শুধু মন্তব্যের ঘরে প্রশ্নই রেখেছে, আমরা কবে পাবো? সেই প্রশ্ন নারায়ণগঞ্জ সিটির সকল ওয়ার্ডবাসীরই ছিলো।

গোদনাইল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে স্মার্ট জাতীয় পরিচয়পত্র সংগ্রহের জন্য দুই সারিতে দীর্ঘ লাইন। তবু নেই কোনও হুলুস্থুল। সবার শুধু অপেক্ষা, কখন হাতে পাবে কাঙ্ক্ষিত স্মার্ট কার্ড?

গত জানুয়ারি থেকে নারায়ণগঞ্জবাসীর সেই কাঙ্ক্ষিত আশা পূরণ হচ্ছিলো। স্মার্ট জাতীয় পরিচয়পত্র বিতরণ শুরু হয় নারায়ণগঞ্জের ১নং ওয়ার্ড থেকে। সেটা আস্তে আস্তে অগ্রসর হতে হতে এখন স্বপ্ন পূরণ হলো নারায়ণগঞ্জ সিটি ১০নং ওয়ার্ডবাসীর। স্মার্ট কার্ড বিতরণের কয়েকদিন আগে থেকে ওয়ার্ড কমিশনার কর্তৃক এলাকায় মাইকিং করে জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল। জাগায় জাগায় বিতরণী সময়সূচী ও এলাকার নাম, স্থান লেখা পোস্টারও ছাপিয়ে দেওয়া হয়েছিল। নির্ধারিত তারিখে এলাকার মানুষ সুশৃঙ্খলভাবে লাইন ধরে স্মার্ট কার্ড সংগ্রহ করে। লাইনে দাঁড়িয়ে কষ্ট করার পর যখন স্মার্ট কার্ড হাতে পায়, তখন সব কষ্টই তাদের দূর হয়ে যায়।

এর আগে বিতরণ করা সম্পন্ন হয়েছিল ৯ নং ওয়ার্ডে। নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের ওয়ার্ড সংখ্যা ২৭টি। এরমধ্যে বিতরণ সম্পন্ন হলো ১০নং ওয়ার্ডের। গত ১৪ফেব্রুয়ারি ২০১৮ সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলে স্মার্ট কার্ড বিতরণ। ১৪ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা ১০নং ওয়ার্ড কমিশনার আলহাজ্ব জনাব ইফতেখার আলম খোকন সাহেবের হাতে স্মার্ট কার্ড তুলে দিয়ে স্মার্ট জাতীয় পরিচয়পত্র বিতরণের সূচনা করেন। বিতরণী কেন্দ্র ছিল ১০নং ওয়ার্ড গোদনাইল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়। বিতরণ চলে ১৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত।

গোদনাইল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে স্মার্ট কার্ড সংগ্রহের জন্য মানুষের লাইন ধরে থাকার একটা ভিডিও।

সর্বমোট ১২২০১টি স্মার্ট জাতীয় পরিচয়পত্র বিতরণ করা হয়। বিতরণী কেন্দ্রে দুইজন ওয়ার্ড কমিশনার গুরুত্বের সাথে তাদের দায়িত্বপালন করেন। একজন আলহাজ্ব মোহাম্মদ ইফতেখার আলম খোকন, অপরজন সম্মানিত মহিলা কমিশনার আলহাজ্ব মোসাম্মৎ মিনোয়ারা বেগম মীনা (১০, ১১, ১২নং ওয়ার্ড নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন)। তাদের সহযোগিতায় এলাকার মানুষ লাইন ধরে শান্তিপূর্ণভাবে স্মার্ট কার্ড সংগ্রহ করেন।

সম্মানিত কমিশনার জনাব আলহাজ্ব ইফতেখার আলম খোকন, লাইনে দাঁড়ানো মানুষদের মাঝে চকলেটও বিতরণ করেন।

সবাইকে প্রথমে আগের আইডি কার্ড জমা দিয়ে টোকেন নিতে হয়েছে। টোকেনের জন্য দুটি লাইন ছিল। টোকেন সংগ্রহের পর হাতের আঙুলের ছাপ ও চোখে ছানির ছাপ দিতে হয়েছে। সেখানে বুকিং ছিলো চারটে। আরও ছিল একটি তথ্যানুসন্ধান কেন্দ্র। অনেকেই এখানে এসে হারিয়ে যাওয়া আইডি কার্ডের খোঁজখবর নেয়। তথ্যকেন্দ্র থেকে হারিয়ে যাওয়া ন্যাশনাল আইডি কার্ড হাতে পাবার বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়। নির্বাচন কমিশন অফিস থেকে আগে থেকেই কার্ডগুলো ইনভেলাপে ভরা ছিলো। দুই হাতের আঙুলের ছাপ সহ চোখের ছানির ছাপ দেওয়ার সাথে সাথে স্মার্ট কার্ড হাতে পেয়ে যায়।

স্মার্ট কার্ড হাতে পেয়ে এলাকার সবাই মহাখুশি। সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে স্মার্ট জাতীয় পরিচয়পত্র বিতরণ সম্পন্ন করায় সবাই বর্তমান সরকারকে প্রকাশ্যে ধন্যবাদও জানিয়েছে। সাথে নির্বাচন কমিশনকেও ধন্যবাদ জানান। এরপর শুরু হতে চলছে নারায়ণগঞ্জ সিটির ১১ নং ওয়ার্ডের স্মার্ট জাতীয় পরিচয়পত্র বিতরণ।