ক্যাটেগরিঃ ভ্রমণ

পর্ব-৯-এর শেষাংশ:

ক’দিন পর যখন সব জানাশুনা হয়ে যাবে, তখন হয়ত আর দিবে না। বুঝেশুঝেই দিবে। আমি বড়দিদির কথা শুনে মুচকি হেসে দিদির বাড়ির ভেতরে গেলাম।

পর্ব-১০ আরম্ভ:

আমার পেছনে রবীন্দ্র নগর কলোনির অনেক মানুষ। সবাই বলাবলি করছে, ‘এতো বছর পর দিদির কথা মনে পড়লো?’ কেউ আবার তাদের বাংলাদেশে থাকা বাড়িঘরের কথাও জিজ্ঞেস করছে। কারোর বাড়ি ফরিদপুর, কারোর বাড়ি হরিপুর, কারোর বাড়ি গোপালপুর। কিন্তু নারায়ণগঞ্জে কারোর বাড়ি নেই। নেই আমার জন্মভূমি নোয়াখালীতেও। আমি তখন সবাইকে উদ্দেশ্য করে বলছি, এখানে থাকা কারোর বাড়ি নারায়ণগঞ্জের সাইডে আছে কি-না? আমার কথা শুনে সবাই বলছে, ‘না গো না। নারায়ণগঞ্জ নাম শুনেছি, কিন্তু কখনো সেখানে যাইনি।’

আমার বড়দি বললেন, ‘আমার যখন বিয়ে হয়েছিল, তারও আগে থেকেই আমার বাবা নারায়ণগঞ্জ থাকতেন।’ বড়দির কথার প্রত্যুত্তরে আমি বললাম, দিদি বাবা যেখানে চাকরি করতেন বা থাকতেন, সেই মিলের নামটা কি আপনার মনে আছে? আমার বড়দি বললেন, ‘নামটাতো পেটে আছে, কিন্তু মুখে নেই ‘ আমি বললাম, সেই মিলের নামটা ছিল, আদর্শ কটন মিলস্। আমার কথা শুনে আমার বড়দি আবারও কেঁদে ফেললেন। বললেন, হ্যাঁ রে হ্যাঁ, ঠিক বলেছিস। ঐ আদর্শ মিলে মায়ের সাথে আমিও গিয়েছিলাম। বড়দাও সেখানেই চাকরি করতেন, তাইনা?’ আমি বললাম, হ্যাঁ দিদি, দাদাও সেই মিলেই কাজ করতেন।

এবার আমার বড়দি, জামাইবাবু আমার উপর পুরাপুরি নিশ্চিতভাবে বিশ্বাসী হতে পেরেছেন। এবার তারা শতভাগ বিশ্বাস করতে পেরেছেন যে, এটা আমার ভাই, আর এটা আমার শালা। এতক্ষণ দুইজনের মনের ভেতরে একটু গণ্ডগোল ছিলো। গণ্ডগোলের কারণ হলো, সেই কোলের শিশু নিতাই নাকি অন্য কেউ? যখন ঠিকঠাক সব বলতে পেরেছি, তখনই তাদের মনের ভেতরকার সন্দেহটা দূর হয়েছে।

এর মধ্যে বড়দির কাছে মা-বাবা স্বর্গীয় হবার কথা বললাম। জামাইবাবু, দিদি দুইজনেই হায় আফসোস করলেন। দিদি মা-বাবার কথা বলে কাঁদলেন। দিদি আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, ‘তুই কি বিয়ে করেছিস?’ আমি বললাম, হ্যাঁ দিদি। একটা গরিবের মেয়েকে বিয়ে করেছি। দুইজন বাচ্চাকাচ্চাও আছে। একজন মেয়ে, আরেকজন ছেলে। দিদি বললেন, ‘যাক বাঁচা গেল।’ জিজ্ঞেস করলাম, কেন দিদি? দিদি বললেন, এখানে মেয়ের সংখ্যা বেশি, তাই হাফ ছেড়ে বাঁচলাম বুঝলি?’ আমাদের কথার মাঝেই বড় ভাগ্নি খাবার নিয়ে হাজির হলো। একটা প্লেটে করে কয়টা মিষ্টি আর এক কাপ চা সামনে এনে দিয়ে বলল, ‘মামা আগে কিছু জলখাবার করে নাও, একটু পরে ভাত খাবে।’

আমার সাথে বাড়িতে আসা কলোনির সবাইকে একটা করে মিষ্টি দিলো। সবাই তখন হাসাহাসি করে বলতে লাগলেন, মিষ্ট কি বাংলাদেশ থেকে এনেছে নাকি? আমি বললাম, আমি বাংলাদেশি, মিষ্টিও বাংলাদেশি। আপনাদের এখানে এমন সুস্বাদু মিষ্টি পাওয়া যাবে না। এগুলো উন্নতমানের এবং খুবই দামি মিষ্টি। আমার কথা শুনে সবাই হাসতে লাগলো। আবার কেউ কেউ বলতে লাগলো, জয় বাংলার লোক, বড় চালু। কেউ আবার বললো, চালু না হলে কি পাসপোর্ট ছাড়া একদেশ থেকে আরেক দেশে আসতে পেরেছে? খুব চালু! যাক না ক’দিন, তারপর বুঝবে? এমন হাসাহাসি মধ্যেই আমি ভাগ্নির দেওয়া মিষ্টি আর চা সাবাড় করে ফেললাম। তখনো দিদির বাড়িতে সেখানকার মানুষের আনাগোনা কমছে না। আমার সাথে আরও অনেক মানুষকেই চা দিলো। সবাই চা পান করছে। এই ফাঁকে আমি আমার সাথে নেওয়া ব্যাগটা খুললাম।

ব্যাগ খুলে দিদির জন্য কানাইর দেওয়া শাড়িটা বের করে দিদির হাতে দিলাম। দিদি আমাকে জিজ্ঞেস করলো, ‘এটা আবার কেন নিয়ে এসেছিস। এটা কী ভারতের? না কি বাংলাদেশি? এমনিতেই কতো কষ্ট করে বাংলাদেশ থেকে এসেছিস। এতো বছর পর যে তোকে দেখতে পেরেছি, তাতেই আমি খুশি।’

আমি বললাম, দিদি এই শাড়িটা কোলকাতায় থাকা আমার বন্ধু দিয়েছে। ওর নাম কানাই। ওর সাথেই কোলকাতা এসেছি। এসেছি আজ প্রায় ২০/২৫ দিনের মতো হয়ে গেল। এতদিন কানাই’র ওখানেই ছিলাম। আসার সময় ও আপনার জন্য এই শাড়িখানা দিয়ে দিলো। ওর দেওয়া শাড়িখানা কি আপনার পছন্দ হয়নি? দিদি বললেন, ‘হ্যাঁ পছন্দ তো হয়েছে রে, তো আমি এই স্লিকের শাড়ি কখনোই পড়ি না। এটা বরং তোর বড় ভাগ্নিই পড়বে ‘ বললাম, তা আপনার খুশি।

এভাবে সময় যেতে যেতে বিকাল গড়িয়ে সন্ধ্যার আগমন চলছে। বড় ভাগিনা খবর পেয়ে ওর গ্যারেজ বন্ধ করে তাড়াতাড়ি বাসায় এসেছে। আমার তিন ভাগিনা আর এক ভাগ্নি। দুই ভাগিনা মোটেও লেখাপড়া জানে না। তার মানে হলো, ওরা কোনো সময় স্কুলেই যায়নি। আমার বড়দির বিয়ের ১৫দিন পর এই ভারতে আসা। তখন তারা থাকতো বীরপাড়া থেকে ২৫ কিলোমিটার দূরে, ফালাকাটা নামক স্থানে। আমার জামাইবাবু ছিলেন একজন নেশার রাজা। তাকে নেশার সম্রাটও বলা চলে। কেননা, নেশার জগতের এমন কোনও নেশা বাদ নেই যা আমার শ্রদ্ধেয় জামাইবাবু গ্রহণ করেননি। এখনো কোন অংশে কম নেই। কাচ্চি মদ, বিড়ি, পান, নশ্বি (যেটা নাক দিয়ে টানে- হুবহু শাহাজাদা গুল-এর মতন দেখতে), চা, মাঝেমাঝে সিদ্ধিও (গাঁজা) টানে। এর কারণেই আগে আমার বড়দির সংসারটা ছিল একেবারে এলোমেলো। মোট কথা নুন আনতে পান্তা ফুরায় অবস্থা ছিল।

এখন আর আমার বড়দির অবস্থা আগের মতন নেই। ছেলে দুটোর রোজগারের টাকা দিয়ে বাড়ি করেছে। বাড়িতে রড-সিমেন্টের দালান তৈরি করেছে। বাড়িতে ভাড়াটিয়াও আছে। জামাইবাবু নেশার জগতের সম্রাট হলেও, নিজের তামাকের ব্যবসা আছে। সেখানকার প্রায় লোকেরা তামাক, বিড়ির নেশা করে বা এই সবার আছে। তাই সেখানে তামাকের ব্যবসাটা রমরমা ব্যবসা। জামাইবাবু এখন যেই অবস্থায় আছে, আগে যদি এমন থাকতো, তাহলে আমার ভাগিনা-ভাগ্নিদের লেখাপড়া হতো। হয়নি শুধু আমার গুণধর জামাইবাবু কারণেই।

তাই আর বড় ছেলে দুটোকে স্কুলে পাঠাতে পারেনি। আজীবনের জন্য বকলমই বানিয়ে রেখেছে। তবে আমার দিদি ছেলে দুটোকে কর্ম শিখিয়েছে। কর্ম হলো গাড়ির মিস্ত্রির কাজ। এমন কাজই ভাগিনা দুটো শিখেছে যে, একটা চলন্ত গাড়ির শব্দ শুনে বলে দিতে পারে  গাড়িটার সমস্যার কথা। বড় ভাগিনা অনেক আগেই ওস্তাদের কাছ থেকে ছাড়পত্র নিয়েছে। এখন আলাদা নিজেই মিস্ত্রির কাজ করছে। মেজো ভাগিনা এখনো পরের গ্যারেজে কাজ করছে। বেতন হলো সপ্তাহে মাত্র ৩০০ টাকা। বেতন ছাড়াও উপরি কিছু আছে। উপরি যা পায়, তা আর গ্যারেজ মালিক নেয় না। ওরা দু-ভাই লেখাপড়া না জানলেও জানে ভারতের সবকটি প্রদেশের ভাষা। ইংরেজিতেও কথা বলতে পারে। সবার ছোট ভাগিনা অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়া করে অস্থির হয়ে গেছে। লেখাপড়া করার কষ্ট সইতে না পেরে শেষ অবধি লেখাপড়া ছেড়েই দিয়েছে। তবে বেকার নয়। রাস্তার পাশে ওদের একটা দোকান আছে। সেই দোকানটায় বসে পান-বিড়ি-সিগারেটের ব্যবসা করে। ভাগ্নির কপালেও বেশি লেখাপড়া লাগতে পারেনি। ক্লাস ফাইভ পর্যন্তই শেষ।

অথচ এই ভারতের বাড়িতে প্রায় সকল মানুষেই কমবেশি শিক্ষিত। মা পরের বাড়িতে গৃহকর্মীর কাজ করেও সন্তানদের লেখাপড়া শিখিয়ে শিক্ষিত করে। আর সেখানে আমার ভাগিনা-ভাগ্নি একেবারেই বকলম- এসব দুঃখের কথা শুনলাম, আমার বড়দির কাছ থেকে।
বড় ভাগিনা গ্যারেজ থেকে এসে হাত মুখ ধুয়ে সোজা আমার কাছে। এসেই আমাকে প্রণাম করে বললো, ‘মামা আমার সাথে আসো।’
ভাগিনার কথা শুনে দিদি বললো, কোথায় নিয়ে যাবি শুনি? ও এসেছে অনেকক্ষণ হয়। এখনো খাওয়াদাওয়া কিছুই করেনি। তোর সাথে বাজারে নিয়ে যা। বাজারে নিয়ে, তোর মামাকে আগে কিছু খাইয়ে দিবি। ভাগিনা বললো, ঠিক আছে মা, ঠিক আছে। এ ব্যাপারে তোমার মাথাব্যথার দরকার নেই। চলো মামা চলো। ভাগিনাকে জিজ্ঞেস করলাম, কোথায় যাবে শুনি? এখান থেকে কতটুকু দূরে? প্রত্যুত্তরে ভাগিনা জবাব দিল, এইতো মামা এখানেই। তুমি বাস থেকে যেখানে নেমেছ, সেখানেই। আমাদের বীরপাড়া বাজারে। চলো মামা, মজা হবে খুব। আজ বাজারের পাশেই একটা অনুষ্ঠান আছে। তোমাকে নিয়ে সেখানেই যাবো।

মজার কথা শুনে ভাগিনার সাথে রওনা দিলাম। রাস্তায় দিয়ে হাঁটা অবস্থায় ভাগিনা আমাকে জিজ্ঞেস করছে, মামা তুমি সিগারেট টানো না-কি? বললাম, হ্যাঁ মামা অভ্যাস আছে। ভাগিনা আবারও জিজ্ঞেস করলো, মামা তুমি কী সিগারেট টানো? বললাম, কমদামী একটা হলেই হয়ে যায়। রাস্তার পাশে দোকান থেকে এক প্যাকেট সিগারেট কিনে আমার পকেটে ভরে দিল। এরপর মামা ভাগিনা যাচ্ছি বীরপাড়া বাজারের দিকে।

হেঁটেই যাচ্ছি দুজনে। কারণ, দিদির বাড়ি থেকে বীরপাড়া বাজার অল্পকিছু দূরে। যাচ্ছি পায়ে হেঁটে। সন্ধ্যা ছুঁই ছুঁই করছে। সেখানে সন্ধ্যার পরে বেশিক্ষণ দোকানপাট খোলা থাকে না। কারণ, সেখানকার বেশিরভাগ মানুষই খেটে খাওয়া। সরকারি অফিস-আদালত তেমন নেই। আছে শুধু একটা পোস্ট অফিস, একটা পুলিশ ফাঁড়ি, আর দু-একটা বেসরকারি ব্যাংক ও বীমার অফিস। পুরো এলাকার দুই দিকেই পাহাড়। ভুটান সীমান্তবর্তী পাহাড়ি এলাকা হলেও পাকা রাস্তা। প্যাঁক কাদা কাউকে পারাতে হয় না। গাড়িঘোড়ার বেশি একটা চাপ নেই। রাস্তার পাশে লাইট পোস্ট আছে। আমাদের শহরের মতন প্রতিদিন বিকালবেলা সেখানে বাজার মেলে না। বাজার বলতে বলা যায়, স্থায়ীভাবে থাকা মার্কেট আর কিছু দোকানের টুকটাক বেঁচা-কেনা।

ভাগিনার সাথে গেলাম বীরপাড়া বাজারে। ভাগিনা বাবাজি আমাকে নিয়ে প্রথমেই ঢুকলো একটা মিষ্টির দোকানে। আমি বাস থেকে নেমে যেই দোকান থেকে মিষ্টি কিনেছিলাম, সেই দোকানেই। কিন্তু আমি সেখানে নতুন, তাই ফলো করতে পারিনি। দোকানদার আমার দিকে তাকিয়ে তাকিয়ে হাসছে। দোকানদের মৃদু হাসি দেখে আমার ভাগিনা দোকানদারকে জিজ্ঞেস করলো, ‘হাসলেন কেন?’

_উনি কি তোমার মামা?
_হ্যাঁ, আপনি জানলেন কী করে?
_আ-রে উনিতো কয়েক ঘন্টা আগে আমার দোকান থেকে মিষ্টি কিনে নিয়েছে। আমি একটা রিকশা ডেকে তোমাদের বাড়িতে পাঠিয়েছি। চিন্তায় ছিলাম, রিকশাওয়ালা ঠিকমত তোমাদের বাড়িতে পৌঁছে দিয়েছে কিনা। অবশ্য কিছুক্ষণ পরই রিকশাওয়ালা এসে আমার কাছে বলেছে। এখন ওনাকে দেখে খুব ভালো লাগলো, তাই হাসলাম। বসো বসো। কী খাবে তোমরা?
_ও তাই নাকি কাকা! আমিতো ভাবছিলাম আবার অন্যকিছু। দিন দিন, আমার মামাকে এক প্লেট রসমালাই আর দুটো নিমকি দিন।

মিষ্টির দোকানের কর্মচারী আমাদের নিমকি আর রসমালাই দিলো। আমিও খেলাম, আমার ভাগিনাও খেলো। খুবই সুস্বাদু রসমালাই। যেই রসমালাইয়ের জুড়ি নেই। দোকানদারকে খাবারের দাম বুঝিয়ে দিয়ে দোকান থেকে বের হলাম। তখন সন্ধ্যা ঘনিয়ে রাত হয়ে গেছে। ভাগিনার সাথে পুরো বীরপাড়া বাজারটা ঘুরে ঘুরে দেখলাম। খুবই সুন্দর এক বাজার। দু-একটা টিনের চালের ঘর। আর দু-ৗএকটা ইটের দালান ঘর। বাদবাকি সব ঘরই টালির চালের ঘর। সেখানে টালির চালের ঘরই বেশি। কারণ হলো, টিনের চালের ঘরে নাকি গরম লাগে। ঘর ঠাণ্ডা থাকার জন্যই, সেখানকার মানুষে টালির চালই বেশি পছন্দ করে।

বাজারের পাশেই চা বাগানীদের কোয়ার্টার। দেখতে দেখা যায় আমাদের দেশের সরকারি সুইপার কলোনির মতন। ওদের শরীরের রঙ কালো হলেও ওদের ঘরদোর খুবই পরিস্কার। প্রতিদিন ওদের কলোনির সামনেই ওরা ওদের নিজেদের তৈরিকৃত মদ কেনাবেচা করে থাকে। ভাগিনার সাথে ঘুরেফিরে দেখে চলে এলাম বীরপাড়া বাজারে। ভাগিনা বাবাজি একটা চায়ের দোকানে নিয়ে গেলো। ‌‌‍দোকানের ভেতরে গিয়ে বসলাম। দোকানটা মাচাংঘর, খুব সুন্দর। ভাগিনা দুই কাপ চায়ের অর্ডার দিলো। দোকানদার হলো একজন নেপালি মেয়ে। দোকানে আবার মদও বিক্রি করে। মদের মধ্যে ভুটানি আর নেপালি মদই বেশি। সাথে আছে ওদের নিজেদের তৈরিকৃত মদ। ওই মদকে ওখানকার ভাষায় বলে কাচ্চি মদ। আমরা বাংলাদেশে এগুলোকে বাংলা মদ বলে থাকি। চা পান করে দোকান থেকে বের হলাম। তবে দোকানটা চিনে রাখলাম আবার আসবো বলে।

তখন বৈশাখ মাস। এই বৈশাখ মাসের শুরুতে সেখানে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ স্মরণে নানা রকম সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয়ে থাকে। প্রতিটি পাড়া মহল্লায় আর রাস্তাঘাটে। পুরো ভারতের মানুষই সংস্কৃতি প্রিয়। যাত্রা, নাটক, থিয়েটার, সিনেমা এসব ওদের কাছে খুবই আনন্দের। ছোট ছোট ছেলে-মেয়েরাও নিজের মহল্লায় নানারকম গান-বাজনার আয়োজন করে। ভাগিনা বাবাজি বাজারের পাশে আমাকে নিয়ে গেলো। দূর থেকেই রবীন্দ্র সংগীতের আওয়াজ আমার কানে আসছিলো। ভাবলাম ভাগিনা বাবাজি মনে হয় এখানকার কথাই বলেছিল। আমার ধারণা সঠিক, তা-ই হচ্ছে।

সেখানে প্রতি বছরই বৈশাখ মাসের ২৫ তারিখে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয়। তারই ধারাবাহিতায় বাজারের সব দোকানদাররা কবিগুরু স্মরণে একটা অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। সেই অনুষ্ঠানেই ভাগিনা বাবাজি আমাকে নিয়ে গেল। বসার সিট নেই। ভাগিনা সহ দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে কিছুক্ষণ রবীন্দ্র সংগীত শুনলাম। এরপর বাসায় চলে এলাম। রাত তখন আনুমানিক ৮ টার মতন বাজে। দিদির বাড়িতে তখনো কেউ ঘুমায়নি। সবাই ঘরে বসে টেলিভিশনে কবিগুরু রবীন্দ্র জয়ন্তীর অনুষ্ঠান দেখছে।

চলবে…