ক্যাটেগরিঃ পাঠাগার

অনেকদিন ধরে অপেক্ষায় প্রহর গুনছি, কবে প্রকাশিত হবে আমাদের প্রিয় ব্লগ সংকলন ‘নগর নাব্য’! কবেই-বা আসছে বিপিএল স্টলে? এই নিয়ে জল্পনা-কল্পনা কম ছিল না। অপেক্ষার পরিসমাপ্তি ঘটলো আমাদের ব্লগের সম্মানিত লেখক শফিক মিতুলের একটা পোস্টের মধ্য দিয়ে। পোস্টের শিরোনাম ছিল,“বইমেলায় মিলবে ‘নগর নাব্য- চলচ্চিত্র চালচিত্র’।” কিন্তু এর আগে থেকেই মনের মধ্যে বাজে যাচ্ছিল ‘নগর নাব্য- নগর নাব্য’। আবার গত ২১ ফেব্রুয়ারি ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে আমকে ট্যাগ করা হয়। এতে লেখা ছিল, ‘নগর নাব্য-চল‌চ্চিত্র চাল‌চিত্র’ আস‌ছে। সংগ্রহ করা যাবে বি‌পিএল স্টল থে‌কে।

ফেসবুকের এই স্ট্যাটাসের মূল বিষয়বস্তুর দিকে খেয়াল বা কোন প্রকার চিন্তা না করেই একুশে গ্রন্থমেলায় আসার প্রস্তুতি নিয়ে নেই। এরপর গত ২৩ ফেব্রুয়ারি ঠিক সকাল ১১টায় একুশে গ্রন্থমেলার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হই। আসলাম গ্রন্থমেলায়। দেখা হলো, সম্মানিত লেখক সুকান্ত কুমার সাহা ও সৈয়দ আশরাফ মহী-উদ্-দ্বীনের সাথে। সহ-লেখকদের সাথে পেয়ে ভালোই লাগছিলো। মনে হয়েছিল, বহুদিন পর মায়ের পেটের আপন ভাইদের সামনে পেলাম। জিজ্ঞেস করলাম, ‘নগর নাব্য’র কথা। বললেন, জানিনা বিপিএল-এ গিয়ে দেখতে হবে। গেলাম বিপিএল বুক স্টলে। খবর নিলাম, নগর নাব্য’র। বুক স্টল থেকে জানা হলো, বই এখনো স্টলে পৌঁছায়নি। কখন বা কবে পৌঁছাবে তাও তারা জানে না।

সেদিন গ্রন্থমেলায় অনেকক্ষণ ঘুরাঘুরি করে দুই-একটা বই কিনলাম। এরপর সহ-লেখকদের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে চলে এলাম নারায়ণগঞ্জে। এরপরই সসম্মানিত লেখক শফিক মিতুলের সাথে যোগাযোগ করি। তিনি বললেন, বই স্টলে পৌঁছালেই জানাবেন। এরপরই ২৭ ফেব্রুয়ারি খুব সকাল বেলা সম্মানিত শফিক মিতুলের করা পোস্টখানা ব্লগে দেখতে পাই। সেই পোস্টে একটা মন্তব্য লিখেই রওয়ানা দেই একুশে গ্রন্থমেলায়। সংগ্রহ করি বহু কাঙ্ক্ষিত আমাদের লেখা নিয়ে ‘নগর নাব্য- চলচ্চিত্র চালচিত্র’। এবার আসি গত কয়েকবছর ধরে প্রকাশ হওয়া ব্লগ সংকলন ‘নগর নাব্য’ নিয়ে কিছু আলোচনায়।

ব্লগ সংকলন ‘নগর নাব্য’ নিয়ে আলোচনা করার আগেই, গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করি আমাদের ব্লগ ডট বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের ব্লগার লেখক উৎপল চক্রবর্তীকে। মহান সৃষ্টিকর্তা যেন প্রিয় উৎপল চক্রবর্তীর আত্মাকে শান্তিতে রাখেন। সাথে স্বর্গীয় উৎপল চক্রবর্তীর শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতিও সমবেদনা জানাই।

আমাদের প্রিয় স্বর্গীয় উৎপল চক্রবর্তী। যিনি এখন পরলোকগত।

আমরা জানি, এই স্বনামধন্য ব্লগ ডট বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের  জন্মলগ্ন ২০১১ সালে। আর ‘নগর নাব্য’ সংকলন প্রথম প্রকাশ হয় ২০১২ সালে। সেবছর ২৬ জন ব্লগার/লেখকদের লেখা নিয়ে প্রকাশ হয় ব্লগ সংকলন ‘নগর নাব্য-২০১২’

২৬ জন ব্লগার হলেন- বিভুতি ভুষন মিত্র, সাইফ ভুঁইয়া, মাহফুজুর রহমান মানিক, মোত্তালিব দরবারি, আলী আহসান হাবিব, মাতরিয়শকা ফিইচারিষ্ট, ম.সাহিদ, রাগ ইমন, আব্দুল মোনেম, আইরিন সুলতানা, প্রামানিক জালাল উদ্দিন, সগীর হোসাইন খান, রাইসুল ইসলাম সৌরভ, ফকির ইলিয়াস, আশিকুর-নুর, কৌশিক আহমেদ, বাসন্ত বিষ্ণুব, হাবিবুর রহমান তারেক, নুরুন্নাহার শিরিন, মামুন ম.আজিজ, নাজনীন খলিল, নাহুয়াল মিথ, তৌহিদ উল্লাহ শাকিল, জহিরুল চৌধুরী, রিতা রায় মিঠু এবং সারওয়ার চৌধুরী।

এরপর ২০১৩ সালেও প্রকাশিত হয় নগর নাব্য ২০১৩ নামে ব্লগ সংকলন। সেখানেও স্থান পায় ব্লগারদের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ লেখাসমূহ। এরপর ২০১৪ ও ২০১৫ সালে ব্লগ সংকলন প্রকাশ হয়নি। দু-বছর বিরতি দিয়ে ২০১৬’র ফেব্রুয়ারিতে ‘ভ্রমণ’ ভিত্তিক ব্লগ সংকলন হিসেবে ‘নগর নাব্য ২০১৬’ প্রকাশিত হয় ব্লগের পঞ্চম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে। সেবার ব্লগার জয়নাল আবেদীনকে দেওয়া হয়, ‘নাগরিক সাংবাদিক সম্মাননা-২০১৬’। অন্যদিকে ব্লগার ফারদিন ফেরদৌসকে দেওয়া হয়, ‘সচেতন ব্লগার সচেতন নাগরিক সম্মাননা-২০১৬’।

ছাপা অক্ষরে মলাট বাঁধা ব্লগ সংকলন ‘নগর নাব্য-২০১৬’

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ব্লগের ব্লগাররা পৃথিবীর কত দুর্গম স্থানে পৌঁছে গিয়েছিল, ভ্রমণ কাহিনী নিয়ে প্রকাশিত সংকলন ‘নগর নাব্য ২০১৬’ তা জানিয়ে দিয়েছিল সবাইকে। অসংখ্য ভ্রমণ পোস্ট থেকে যাচাই-বাছাই করে নগর নাব্য- তে স্থান পেয়েছিল মোট ছয়টি লেখা। সেই ‘নগর নাব্য’ পৌঁছে গেছে বাংলাদেশের অসংখ্য পাঠকের কাছে, পাঠকও সেসময়ের প্রকাশিত ‘নগর নাব্য’ গ্রহণ করেছিলেন স্বাচ্ছন্দে। নগর নাব্য ২০১৬ তে প্রকাশিত ছয়টি লেখার লেখক ছিলেন তাদের নাম ও পোস্টের শিরোনাম নিম্নে দেয়া হলো-

নুরুন নাহার লিলিয়ানের লেখায় ‘নৈসর্গিক নান্দনিক নরক নবোরিবেতসু, হোক্কাইতো, জাপান’, রোদেলা নীলার ‘চায়ের দেশে দিনরাত্রি’, মোঃ আলাউদ্দিন ভুঁইয়ার ‘আমাজন জঙ্গলে চারটি দিন’, একুশ তাপাদারের ‘কেওক্রাডং পাহাড়ে দুরন্ত পাহাড়ি মেঘ’, সৈয়দ আশরাফ মহি-উদ-দ্বীনের ‘আমার দেখা আফগানিস্তান’ এবং শিমুল কিবরিয়ার লেখা ‘অভাবিত নাফাখুম’।

 

পঞ্চম বর্ষপূর্তিতে ‘নগর নাব্য’ হাতে ব্লগের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও লেখকবৃন্দ

এসব লেখায় নাগরিক সাংবাদিকরা তুলে ধরেছেন দেশ-বিদেশের বিভিন্ন জায়গার ইতিহাস। জানিয়ে দিয়েছেন, আমরা এদেশের নাগরিক, আমরাই নাগরিক সাংবাদিক।

নাগরিক সাংবাদিকতার বিষয়ে নিজের কোনো অভিজ্ঞতা ছিলো না। কোনো সময় বুঝতামও না। এই স্বনামধন্য ব্লগ ডট বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমে নিবন্ধিত হয়েই তা জানতে পারলাম, মোটামুটি বুঝতেও পারলাম। তাই এই বিডি ব্লগে নারায়ণগঞ্জ নগরবাসীর সমস্যা নিয়েই বেশি লেখালেখি করেছি। যাক সেই কথা, মূল কথায় আসা যাক।

ধানমন্ডির ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত ব্লগের ষষ্ঠ বর্ষপূর্তির অনুষ্ঠানে কেক কাটার স্মরণীয় মুহূর্ত

 

প্রতিবছরের মতো ২০১৭ সালের ১৬ই ফেব্রুয়ারি উদযাপন করা হয় ব্লগের ষষ্ঠ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। অনুষ্ঠানটি হয়েছিল রাজধানীর ধানমন্ডির সোবানবাগের ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটির মিলনায়তনে। অনুষ্ঠানে ব্লগ ডট বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের ব্লগ সংকলন ২০১৭ ‘নগর নাব্য- মেয়র সমীপেষু’ মোড়ক উন্মোচন করা হয়। অনুষ্ঠানে নাগরিক সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়েছিলেন ঢাকা দক্ষিণ নগর প্রধান জনাব মোহাম্মদ সাঈদ খোকন। ওই আয়োজনের শিরোনামই ছিল, ‘নাগরিক সাংবাদিকরা এসেছে- মেয়র সমীপেষু’। উক্ত অনুষ্ঠানে নারায়ণগঞ্জ সিটির সম্মানিত মেয়র ডা: সেলিনা হায়াৎ আইভীও আমন্ত্রিত ছিলেন। কিন্তু ব্যক্তিগত কারণে তিনি উপস্থিত থাকতে পারেননি। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ সরকারের তথ্য সচিব গোলাম রহমান, আর্টস ডট বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের সম্পাদক সম্মানিত কবি নূরুল হুদা, ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য প্রফেসর ড. ইউসুফ এম ইসলাম এবং বিশ্ববিদ্যালয়টির ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান সবুর খান।

ষষ্ঠ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী মিলনমেলায় উপস্থিত ছিলো ব্লগের অনেক স্বনামধন্য লেখকবৃন্দ। ব্লগারদের উপস্থিতিতে সেদিন ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটির হলরুমটি ছিলো কানায় কানায় ভর্তি। সেদিন সম্মানিত জুলফিকার জুবায়ের সাহেব, কাজী শহীদ শওকত, ফারদিন ফেরদৌস, স্বর্গীয় উৎপল চক্রবর্তী,  সুমন দে, গৌতম বুদ্ধ পাল, নুর ইসলাম রফিক, রিফাত কান্তি সেন ও সাথে আসা তার বন্ধু সুমিত বণিক, কাজী রাশেদ,  তানজির খান, সৈয়দ আশরাফ মহি-উদ-দ্বীন, জাহেদ-উর-রহমান, শফিক মিতুল, মোঃ গালিব মেহেদী খান, খন্দকার মনিরুল ইসলাম, সাজ্জাদ রাহমান, নাজনিন খলিল,  রোদেলা নীলা, নুরুন নাহার লিলিয়ান, আনা নাসরিন, আসাদ জামান, আসিফ মাহবুব, শরিফুল ইসলাম সীমান্ত সহ উপস্থিত ছিলেন নাম না জানা আর মনে না পড়া অনেকেই। অনুষ্ঠানে ব্লগারদের সাথে মিলিত হয়েছিল ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটির অনেক ছাত্র-ছাত্রীরাও।

ব্লগ সংকলন ২০১৭ ‘নগর নাব্য- মেয়র সমীপেষু’

ষষ্ঠ বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ সরকারের তথ্য সচিব সম্মানিত গোলাম রহমান সাহেব ব্লগের নতুন লোগো উন্মোচন করেন। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন ব্লগার সম্মানিত আইরিন সুলতানা। ব্লগের ষষ্ঠ বর্ষপূর্তির কেক কাটা শেষে ব্লগে নাগরিক সমস্যা নিয়ে লেখালেখির জন্য আমাকে দেয়া হয় নাগরিক সাংবাদিক সম্মাননা ২০১৭। পরবর্তীতে নাগরিক সমস্যা নিয়ে লেখা ‘নগর নাব্য- মেয়র সমীপেষু’ পর্যায়ক্রমে পৌঁছে যায় বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় তথ্যমন্ত্রী, সিলেট, রংপুর, ঠাকুরগাঁও, চাঁদপুর এবং নারায়ণগঞ্জের নগর প্রধানের কাছে। আর স্থান পেয়েছে অগণিত পাঠকের হৃদয়ে।

প্রতি বছরের ধারাবাহিকতায় এবার অর্থাৎ ২০১৮ সালে ব্লগ সংকলন নগর নাব্য প্রকাশ হয়েছে বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের সংকট-সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে। গত কয়েক বছরের মতন এবারও সকলের আন্তরিক সহযোগিতায় ‘নগর নাব্য- ২০১৮’ প্রকাশ হয়েছে ‘নগর নাব্য- চলচ্চিত্র চালচিত্র’ শিরোনামে। বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলা শহরের সিনেমাহল ও চলচ্চিত্রের বর্তমান সমস্যা নিয়ে ব্লগারদের লেখা নিয়েই এবারের নগর নাব্য।

গত বছর (২০১৭) ১৫ আগস্ট  ব্লগের লেখক সম্মানিত শফিক মিতুলের ‘নগর নাব্য ২০১৮ প্রস্তাবনা: রুপালি পর্দার কথা উঠে আসুক নাগরিক সাংবাদিকদের লেখায়’ শিরোনামে লেখা একটি পোস্টে জানানো হয় যে, “নাগরিকদের চোখে বাংলাদেশের সিনেমার হালচাল চর্চিত হবে নগর নাব্য ২০১৮ পর্বে। ব্লগ ডট বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের নাগরিক সাংবাদিকরা তুলে ধরবেন রুপালি পর্দার, পর্দার পেছনের ও পর্দার বাইরের সিনেমা শিল্পের নানা কথা তাদের লেখায় ও ধারণকৃত ছবিতে।” লেখা জমা দেয়ার সময়সীমা ছিল ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৭ পর্যন্ত। এরপর থেকেই মূলপোস্টের মন্তব্যের ঘরে ব্লগারদের অনেক লেখার লিংক জমা পড়তে থাকে। একপর্যায়ে মোট ৪০টি লেখার লিংক জমা হয়। এই ৪০টি লেখা থেকে যাচাই-বাছাইয়ের পর ১৮ জন লেখকের নির্বাচিত ২২টি লেখা নিয়ে ছাপা হয় এবারের ‘নগর নাব্য- চলচ্চিত্র চালচিত্র’।

 

 ব্লগ সংকলন ‘নগর নাব্য- চলচ্চিত্র চালচিত্র’ 

এবারের ‘নগর নাব্য-চলচ্চিত্র চালচিত্র’ বইটিতে মোট ১৬৪ পৃষ্ঠা রয়েছে। বর্তমানে আমাদের দেশে ৮টি বিভাগে অনেকগুলো ছোটবড় শহর ও বন্দর রয়েছে। এই স্বনামধন্য ব্লগ ডট বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের নাগরিক সাংবাদিকও রয়েছে দেশের বিভিন্ন জেলাশহরে। সেসব নাগরিক সাংবাদিকরা এই ১৬৪ পৃষ্ঠায় তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন বর্তমান সিনেমা হল ও চলচ্চিত্রের হালচাল। লিখেছে প্রাণ খুলে, জানিয়ে দিয়েছেন চলচ্চিত্র আর সিনেমা হল বাঁচাতে হলে কী করতে হবে তা। লিখেছেন এর সংকট নিরসনের জন্য করণীয় কী?

একসময় জেলা শহরে আর বন্দরে ছিলো অনেক অনেক সিনেমা হল, মানুষ ছিলো সিনেমা হলমুখী। এখন সেই সসময়টা যেন শুধুই স্মৃতি। মানুষ এখন হলে গিয়ে সিনেমা দেখে না, ঘরে বসে বসেই আকাশ প্রযুক্তির ডিশ লাইনের মাধয়মে অর্ধশত চ্যানেলে নিত্য-নতুন অনুষ্ঠান দেখে। এতে করে সিনেমা হল মালিকদের মাথায় হাত, অন্যদিকে দেশীয় চলচ্চিত্র ধ্বংসের মুখে। এসব নিয়েই এবারের আয়োজন ‘নগর নাব্য-চলচ্চিত্র চালচিত্র’।

ফেব্রুয়ারি মাসের মাঝামাঝি সময়ে হয়তো বইটির ছাপার কাজ শেষ হয়েছিল। কিন্তু শিডিউল সমস্যার কারণে বিপিএল স্টলে পৌঁছতে দেরি হয়েছে। দেরি হলেও তেমন কোনো সমস্যা নেই। কারণ, বইটি বিপিএল-এর অনলাইনে অর্ডারের মাধ্যমেও সংগ্রহ করা যাবে। যারা দূরে অবস্থান করছেন তারা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর পাবলিশিং লিমিটেড- বিপিএল এর ফেসবুক পেজে অর্ডারের মাধ্যমে সংগ্রহ করতে পারবেন ‘নগর নাব্য- চলচ্চিত্র চালচিত্র’। সেক্ষেত্রে বিপিএল এর ফেসবুক পেজে গিয়ে ইনবক্স করে অর্ডার করতে হবে।

পরিশেষে-

সুপ্রিয় ব্লগার তথা লেখকবৃন্দ, আমরা সবাই ব্লগ ডট বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমে লেখালেখি করে থাকি। আর এই ‘নগর নাব্য-চলচ্চিত্র চালচিত্র’ও আমাদের সকলের লেখা। হয়তো সবার লেখা এই ‘নগর নাব্য- চলচ্চিত্র চালচিত্র’ বইখানায় নেই। আছে অল্পসংখ্যক কয়েকজনের লেখা। তাই বলে কেউ মন খারাপ করে বইখানা হাতছাড়া করবেন না। আজ আমার লেখা এই বইতে প্রকাশ পেয়েছে, আগামিতে হয়তো প্রকাশ পাবে না। তখন প্রকাশ পাবে আজ যাদের লেখা প্রকাশ পায়নি তাদের লেখা। তখনও আমি উৎসাহ নিয়ে গ্রন্থমেলা থেকে আপনাদের লেখা ‘নগর নাব্য’ সংগ্রহ করবো। কিনে আনবো পড়ার জন্য। কারণ, এই ব্লগে আমরা যারা লেখালেখি করি, আমরা সবাই আপন ভাই-বোনের মতন তাই। আমার ভাইয়ের লেখার বই আমি যদি না কিনি, তাহলে কিনবে কে? আপনার লেখা আমি যদি না পড়ি, তাহলে আমার নগণ্য লেখা তো আপনিও পড়বেন না। তাই আমি ব্যক্তিগতভাবে সবাইকে অনুরোধ করবো, দেরি না করে আজই একটা ‘নগর নাব্য- চলচ্চিত্র চালচিত্র’ সংগ্রহ করুন।

প্রিয় সহ-ব্লগার ও লেখকবৃন্দ, আমি হলাম এই সুন্দর পৃথিবীর ভাগ্য বঞ্চিত ব্যক্তিদের মধ্যে একজন অন্যতম প্রতিনিধি। তা হয়েও শত দুঃখ-কষ্টের মাঝে একুশে বইমেলা থেকে চারটি বই কিনে এনেছি। বইগুলো আমার পরিচিত তিনজন ব্যক্তিকে দিবো। তাহলে আপনারা পারবেন না কেন? পারবেন আশা করি।

সবশেষে ব্লগ ডট বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের সংশ্লিষ্ট সবাইকে আন্তরিক অভিনন্দন ও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। বইটিতে আমারও দুইটি লেখা স্থান পেয়েছে। তার জন্য আমি ব্যক্তিগতভাবে ব্লগ টিমের কাছে চিরকৃতজ্ঞ। কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি ব্লগ পরিচালক সম্মানিত আইরিন সুলতানা ও ‘নগর নাব্য’ প্রস্তাবনাকারী শ্রদ্ধেয় শফিক মিতুলের কাছে। যাদের আপ্রাণ চেষ্টায় ও অনেক পরিশ্রমের  বিনিময়ে এই ‘নগর নাব্য- চলচ্চিত্র চালচিত্র’ প্রকাশ হয়েছে। সেইসাথে বইটিতে যাদের লেখা রয়েছে তাদেরকেও আমার আন্তরিক শুভেচ্ছা জানাচ্ছি।

সবশেষে সবাইকে উদ্দেশ্য করে একটি কথাই বলতে চাই, ‘নগর নাব্য- চলচ্চিত্র চালচিত্র’ সংগ্রহ করছেন তো? সংগ্রহ করুন বিপিএল বই স্টল থেকে, না হয় অর্ডার দিন বিপিএল-এর অনলাইন সাইটে। প্রিয় সহ-ব্লগারবৃন্দ, এটা আমাদের নিজেদের লেখা, নিজেদের বই। নিজে কিনুন-পড়ুন, অপরকে একটি বই উপহার দিয়ে পড়ার সুযোগ করে দিন। বই কিনুন, বই পড়ুন। অপরকেও পড়তে উৎসাহ দিন। সবার সুস্বাস্থ্য কামনা করি। সবাই ভালো থাকুন এই সুন্দর পৃথিবীতে।

 

বি:দ্র: যেহেতু একুশে গ্রন্থমেলা শেষ হয়ে গেছে, তাই নগর নাব্য- চলচ্চিত্র চালচিত্র’ প্রকাশনাটি সংগ্রহ করা যাবে বিপিএল এর ফেসবুক ফেজে অনলাইন অর্ডারের মাধ্যমে। এ বিষয়ে আরও তথ্য দেওয়া আছে আমাদের ব্লগের লেখক শফিক মিতুলের দেয়া একটি পোস্টে।

“যারা দূরে অবস্থান করছেন তারাও বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর পাবলিশিং লিমিটেড- বিপিএল এর ফেসবুক পেজে অর্ডারের মাধ্যমে সংগ্রহ করতে পারবেন ‘নগর নাব্য- চলচ্চিত্র চালচিত্র’। সেক্ষেত্রে বিপিএল এর ফেসবুক পেজে গিয়ে ইনবক্স করে অর্ডার করতে হবে।”