ক্যাটেগরিঃ ভ্রমণ

পূর্বের লেখা (পর্ব- ১০)

 

পর্ব-১১:

রবীন্দ্র নগর কলোনি পাহাড়ি এলাকা হলেও এখানে কেউ রাত ১০টার আগে ঘুমায় না। অনেক সময় রাস্তের পাশের দোকানগুলো রাত ১২টা পর্যন্ত খোলা থাকে। বেশিরভাগ মানুষের ঘরেই টেলিভিশন আছে। তবে আমি যখন সেখানে গিয়েছিলাম, তখন সেখানে রঙিন টেলিভিশন খুবই কম দেখেছি। সাদাকালো টেলিভিশনই বেশি ছিল। ওখানকার মানুষেরা সিনেমা, নাটক, থিয়েটার, যাত্রাপালা, হরিনাম সংকীর্তন খুবই পছন্দ করে। দেখেও ইচ্ছেমত। ঘরে যদি খাবার নাও থাকে, সিনেমা নাটক দেখার টাকা পকেটে থাকবেই। আর ক’দিন পরপরই বাড়িতে বাড়িতে ঘরোয়া অনুষ্ঠানতো থাকবেই। সেসব ঘরোয়া অনুষ্ঠানে খাবারের আয়োজনে থাকে- বিয়ার, মদ, মাংস সহ পোলাও-বিরিয়ানি। সমবয়সী বন্ধু-বান্ধব নিয়ে ঘরে বসে মা-বাবার চোখের সামনেই মদ্যপান করে থাকে। এটা ভারতের এক প্রকার ঘরোয়া আনন্দ। অনেক ফ্যামিলির এই আয়োজনে মা-বাবা ও বড় ভাই-বোনরাও যোগ দেয়। যাক সে কথা, আসি দিদির বাড়ির কথায়।

বীরপাড়া বাজার থেকে ভাগিনা সহ যখন দিদির বাড়িতে আসলাম সবাই তখন আমার জন্যই অপেক্ষা করছে। আমাদের দেরি দেখেই টেলিভিশনের পর্দার দিকে সবাই তাকিয়ে রয়েছে। আমাদের দেখে বড়দি একরকম রেগেই গেলেন। ভাগিনাকে বলল, ‘রাতে কোথাও থাকার জায়গা হলো না বুঝি? এতো দেরি করে ফিরলি যে! ও এসেছে সে কখন! এখনো ওর পেটে কিছু পড়েনি। বাজার থেকে তোর মামাকে কী খাওয়ালি শুনি?’

– মা তোমার ভাই বাংলাদেশি হলেও মামা কিন্তু আমাদের ভারতের মানুষের মতনই। মামাকে আমি কতকিছু খাওয়াতে চেয়েছি, কিন্তু তোমার ভাই কিছুই খাবে না। সেই দোষ কি আমার বলো?

– হয়েছে হয়েছে, স্নানঘর থেকে হাত মুখ ধুয়ে আয় শীঘ্র। সেই কখন থেকে তোদের জন্য বসে আছি! নিজেরও ক্ষিদে পেয়েছে খুব।
ভাগিনা আর আমি তাড়াতাড়ি করে হাত মুখ ধুয়ে এলাম। সবাই একসাথে রাতের খাবার খেতে বসলাম।

বড়দি সবাইকে পরিবেশন করছে। রুই মাছের ঝোল, আলু ভাজা, বেগুন ভাজা, মুগের ডাল সহ আরও টুকিটাকি অনেক রকমের তরকারি। এখানে বলে রাখি, ওখানে সকলের জন্য সস্তা ও সুস্বাদু মাছের মধ্যে একমাত্র মাছই হলো রুইমাছ। আমাদের দেশিয় মাছ ওখানে পাওয়া যায় না। অল্প কিছু মাছ মাঝেমধ্যে যা দেখা যায়, তা আসে কলকাতা থেকে। কৈ মাছ, পুঁটিমাছ, টেংরামাছ গুড়ামাছ ওখানকার মানুষের কাছে অচেনা। যারা বাংলাদেশ থেকে বা কোলকাতার আশপাশ থেকে ওখানে বসতি গড়েছে, তারাই একমাত্র দেশিয় মাছগুলো চেনে-জানে। নতুন প্রজন্মের কাছে ঐসব মাছ হলো ভিনগ্রহের এলিয়েন!

দিদির বাড়িতে আমি কেবল নতুন। সেজন্য মনে হয় দিদি এতো খাবারের আয়োজন করেছে। হিসেবি দেশের মনুষ ওরা। হিসেব ছাড়া একটা টাকাও খরচ করে না। পরিমাণের চেয়েও কম খরচ করে চলতে চায়। সংসারে যা কিছু দরকার তা-ই করবে, অন্যকিছু নয়। বলছিলাম, দিদির বাড়িতে প্রথম দিনের খাবারের আয়োজন দেখে। কারণ, আমিতো কলকাতা কয়েকদিন থেকে এসেছি। সেই ধারণা থেকেই অনুমান করতে পেরেছি যে, নতুন অতিথির সমাদর বেশি। সে যে-ই হোক না কেন, পুরানো হলেই বুঝা যাবে, প্রথম দিনের মতন হবে কি না। এসব নিয়ে ভাবছি একা একা। খাওয়া-দাওয়া শেষ হলো। এবার ঘুমানোর পালা।

দিদির বাড়িতে একটা ভাড়াটিয়া আছে। ফ্যামিলি নয়, ব্যাচেলর। দুইজন ছেলে থাকে। ওদের বাড়ি পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর। এখানে ওরা একটা পাওয়ার স্টেশনে চাকরি করে। রাতে ওদের সাথে আমার ঘুমানোর জায়গা হলো। ওরা খুবই ভালো ছেলে। আমাকে মামা মামা বলে ডাকে। আমার আগমনে ওরা খুব খুশি হয়েছে। প্রথম দিনেই ওদের আন্তরিকতায় একেবারেই আপনের মতন হয়ে গেলাম। ওরা যেই ঘরে থাকে, সেই ঘরে ওদের নিজেদের টেলিভিশন, ভিসিয়ার, টেপরেকর্ডার সবই আছে। অনেক রাত পর্যন্ত আমরা টেলিভিশন দেখে ঘুমাই। দুঃখ-সুখের আলাপ করতে করতে অনেক রাতে ঘুমালাম। কিন্তু কিছুতেই আমার ঘুম আসছে না। শুধুই চিন্তা আর চিন্তা। দিদির বাড়িতে ক-দিন থাকতে পারবো? আমাকে জামাই বাবু আর ভাগিনারা ক-দিন সুন্দরভাবে দেখবে? বাংলাদেশে ফিরতে হলেও টাকার দরকার। সাথে যা কিছু ছিল প্রায় সবই শেষ। যা আছে তা চার-পাঁচ দিনের মধ্যেই শেষ হয়ে যাবে। তারপর কী করবো? এসব চিন্তা-ভাবনা করতে করতে ভোর রাতের দিকে একটু ঘুমালাম। সকাল বেলা আমাকে আর কেউ ডাক দেয়নি। খেয়ে-দেয়ে সবাই যার যার কাজে চলে গেল। সকাল ১০ টার দিকে দিদি আমাকে ঘুম থেকে ডেকে তুললো।

দিদির ডাক শুনে ঘুম থেকে উঠলাম। ঘড়ির দিকে চেয়ে দেখি সকাল পৌনে ১১টার মতো বাজে। দিদি আমাকে জিজ্ঞেস করলো, “কি রে, তুই কি ওখানেও এতো সকাল পর্যন্ত ঘুমিয়ে থাকিস?”

– না দিদি না। অনেক রাতে ঘুমিয়েছি তো, তাই। দিদি ওরা কোথায়?
– ওরা তো যার যার কাজে চলে গেছে, সেই কখন! খানিক পর দুপুর বেলার খাবার খেতে আসবে। তুই হাত-মুখ ধুয়ে আয় তাড়াতাড়ি। তোর জন্য রাখা খাবার তো ঠাণ্ডা হয়ে গেল!

দুপুর ঘনিয়ে এসেছে। খানিক পর দুপুর বেলার খাবারের পালা। হাত-মুখ ধুয়ে আর লাভ কী? পেটেও ক্ষুধা নেই। ভাবছি ভাগিনা দুইজন আসলে একসাথেই দুপুরের খাবার খেয়ে নিবো। যেই ভাবনা, সেই কাজ। তাই স্নান করে ভাগিনাদের জন্য রেডি হয়ে আছি। কিছুক্ষণ পরেই দুপুরের খাবার খেতে ভাগিনা বাবাজিরা বাড়ি আসলো। একসাথেই মামা-ভাগিনিরা বসে ভাত খেলাম। ভাগিনা বাবাজিরা আবার যার যার কাজে চলে গেল। যাবার সময় মেজো ভাগিনা বললো, “মামা একটু পরে গ্যারেজ লাইনের দিকে যেও।” একটু বিশ্রাম নিয়ে গেলাম।

দিদির বাড়ির দক্ষিণ দিকে আসাম যাওয়ার মেইন রোড। মেইন রোডের পাশে ওদের গ্যারেজ লাইন। একসাথে অনেকগুলো গাড়ি মেরামত করার গ্যারেজ থাকার কারণেই জায়গার নাম হয়েছে গ্যারেজ লাইন। রাস্তার একপাশে গ্যারেজ, অপর পাশে চায়ের দোকান, সিগারেটের দোকান, হোটেল, মুদি দোকান। শিখ (পাঞ্জাবি) ড্রাইভাররা গ্যারেজের মিস্ত্রিকে গাড়ি বুঝিয়ে দিয়ে চা-দোকানে বসে বসে আড্ডা দেয়। ওইসব গাড়িগুলো কমলা, আপেল নিয়ে আসে কাশ্মীর থেকে। যাবে মিজোরাম, না হয় আসাম। আবার কিছু আসে কয়লা নিয়ে গৌহাটি থেকে, যাবে কাশ্মীর। কাশ্মীর থেকে গৌহাটি যেতে সময় লাগে ১৫দিন। আসা-যাওয়ার সময় লাগে একমাস।

একটা গাড়িতে দুইজন ড্রাইভার, দুইজন হেলপার থাকে। এই আসা-যাওয়ার মাঝপথেই বীরপাড়া গ্যারেজ লাইন। বড় বড় গাড়িগুলোর কোনও সমস্যা না হলেও, ড্রাইভাররা এখানে এসে মিস্ত্রি দিয়ে গাড়ি চেক করায়। আর সমস্যা থাকলে মিস্ত্রি তা ঠিক করে দেয়। ঐসব ড্রাইভারদের মধ্যে বেশিরভাগ ড্রাইভার হলো শিখ ধর্মাবলম্বী। এঁদের কেউ কেউ পাঞ্জাবিও বলে। শিখদের মাথায় মেয়েদের মতন চুল থাকে। ওদের মধ্যে বেশিরভাগ শিখ ধর্মাবলম্বীদের জন্মের পর আর মাথার চুল ছাটাই করে না। মাথায় চুল মেয়েদের মতোই খোঁপা বেঁধে রাখে। খোঁপা ঢেকে রাখে পাগড়ি পেঁচিয়ে। শিখদের মাথার পাগড়ি হলো এক অমূল্য সম্পদ। যা জীবনের চেয়েও বেশি দামি। যদি কারোর কাছে প্রাণ ভিক্ষা চাইতে হয়, তাহলে মাথার পাগড়ি খুলো জীবন ভিক্ষা চায়। শিখদের পাগড়ি নিয়ে অনেক কাহিনী আছে, যা আর লিখে শেষ করা যাবে না। তাই আর লিখলামও না।

বিকাল বেলা শার্ট-প্যান্ট পড়ে আস্তে ধীরে গ্যারেজ লাইনের দিকে রওনা হলাম। মেইন রোডে উঠতেই আমার চোখ পড়ল, ছোট ভাগিনার দোকানের দিকে। ছোট ভাগিনার পান-বিড়ি-সিগারেটের দোকান। সাথেই একটা ছোট হোটেল। এই হোটেলটাও ওদেরই। চলে ভাড়ায়। আমি রাস্তা পাড় হয়ে ছোট ভাগিনার দোকানের সামনে গেলাম। ছোট ভাগিনা আমাকে দেখামাত্রই ওর পাশে আমাকে বসতে দিলেন। হোটেলের মালিককে দুইটা শিঙাড়া দিতে বললেন। আমি একটা শিঙাড়া খেলাম, আর একটা ছোট ভাগিনাকে দিলাম। চা-ও পান করলাম। রাস্তার অপর পাশেই বড় ভাগিনা আর মেজো ভাগিনার গ্যারেজ। ছোট ভাগিনার দোকানে আমাকে বসা দেখে মেজো ভাগিনা আমার সামনে এসে বলল, “মামা তুমি কিছু খেয়েছ?”
বললাম, খেয়েছি।
– তাহলে আমার সাথে আসো। আমি যেই গ্যারেজে কাজ করি, তা দেখো।

মেজো ভাগিনার সাথে যাবার সময় ছোট ভাগিনা আমার হাতে এক প্যাকেট সিগারেট দিয়ে দিলো। আসলাম মেজো ভাগিনার গ্যারেজে। গ্যারেজ মালিকের সাথে পরিচয় হলো। আমাকে বসতে দিলো। গ্যারেজ মালিক আমার মেজো ভাগিনাকে বলল চা নিয়ে আসতে। আমি বারণ করলাম। অনেকক্ষণ বসে থেকে মেজো ভাগিনার কাজ করা দেখলাম। তখনো সন্ধ্যা হয়নি। সন্ধ্যা হতে আরও অনেক সময় বাকি। ভাবলাম বীরপাড়া বাজার থেকে ঘুরে আসি। তা-ই করলাম। মেজো ভাগিনাকে বললাম, আমি বাজারে যাচ্ছি। ভাগিনা বাবাজি বলল, “যাও মামা। তবে বেশি দূরে যেওনা। তুমি এখানে নতুন। নেপালিদের সাথে কথা বলবে না। ওরা শুধু শুধু ক্ষেপে যায়। আর বাগানিদের পাড়ায় যেওনা।” ভাগিনা বাবাজির কথা স্মরণে রেখে বাজারের দিকে রওনা হলাম।

হাতের আঙুলের চিবুনিতে সিগারেট। টানছি আর হাঁটছি। গেলাম বীরপাড়া বাজার। বীরপাড়া বাজারটি ছোট হলেও, একটা সিনেমা হল আছে। প্রতিদিন তিন শো করে দেখানো হয়। ওখানে প্রতি রবিবার হলো সপ্তাহের প্রথম দিন। প্রতি রবিবারই নতুন ছায়াছবি মুক্তি পায়। সেদিন মর্নিং শো সহ পাঁচ শো দেখানো হয়। দর্শক হয় প্রচুর। টিকেট কালোবাজারিতেও বিক্রি হয়। সিনেমা হলের সাথে আছে ভিসিয়ার হল। সেটাও সিনেমা হলের মতন। অনেক বড় জায়গা। কেউ সিনেমা হলে টিকেট না পেলে ভিসিয়ার হলে টিকেট কেটে বসে পড়ে। সিনেমা হলের সাথেই আছে চার-পাঁচটা মদের দোকান। সেই দোকানগুলো কিছু নেপালিদের, কিছু ভুটানিদের। বেশিরভাগ মদের দোকানই নেপালি মেয়েরা বেঁচা-কেনা করে থাকে। অনেকে আবার মদের বোতল সাথে নিয়ে সিনেমা হলের ভেতরে চলে যায়। সিনেমা দেখে, আবার মদও পান করে। এমনকি চলন্ত বাসে বা গাড়িতে বসেও মদপান করে। কেউ কাউকে কিছুই বলে না, বা বলার সাহসও পায় না।

সিনেমা হলে আর ভিসিয়ার হলে মদপান করে বেশিরভাগ নেপালিরা, আর ভুটানিও খায়। ওদের সাথে সব সময় একটা মদের বোতল থাকবেই। আর বীরপাড়ার বাঙালিরা থাকে গাঁজা সেবনে ব্যস্ত। কিন্তু কোন প্রকার অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে না। সন্ধ্যার আগ পর্যন্ত বীরপাড়া বাজারটা পুরো ঘুরে ঘুরে দেখলাম। বীরপাড়া বাজারের সাথেই আছে বীরপাড়া রেল স্টেশন। আছে ভুটান-গুমটু যাবার মিনিবাস ও টেম্পো স্ট্যান্ড। ভুটান যেতে ভাড়া লাগে ভারতীয় টাকায় তিন টাকা। আসা-যাওয়া ছয় টাকা।

গুমটু হলো ভুটানের একটা জায়গার নাম। ভারতের মাকড়াপাড়া, ভুটানের গুমটু। ভারত-ভুটান সীমান্ত এলাকা। সীমান্তবর্তী এলাকার প্রায় ভুটানিরাই কাজ করার জন্য সকাল বেলা ভারতে চলে আসে। কেউ আসে নানা রকম ফল-ফলাদি নিয়ে। কাজ শেষে আবার যার যার গন্তব্যে চলে যায়। টাকার মান সমানে সমান। বীরপাড়া এবং শিলিগুড়ির কিছু অংশে ভুটান ও নেপালের টাকা চলে। ভুটান সীমান্তবর্তী এলাকায় সামান্য এলাকা জুড়ে কাঁটাতারের বেড়া থাকে। ভুটান যাবার জন্য একটা সুবিশাল গেট আছে। সেই গেট রাত ৮টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত বন্ধ থাকে। আর বাদবাকি সময়ই থাকে খোলা। টেম্পো স্ট্যান্ডে বসে বসে ভুটানিদের আসা-যাওয়া দেখছি মনের আনন্দে। একবার ভাবলাম ভুটান ঘুরে আসি। কিন্তু বাঁধ সাধল সন্ধ্যা।

পাহাড় ঘেরা বীরপাড়া। তারপর আবার এখানে নতুন মানুষ আমি। রাস্তাঘাট চেনা নেই। ভারতীয় বর্ডার গার্ড বিএসএফ যদি যেতে না দেয়? যদি পাসপোর্ট দেখতে চায়? যদি আমাকে আটকে ফেলে? এসব চিন্তা করে আর টেম্পোতে উঠিনি। শুধু চেয়ে চেয়ে দেখলাম। আর মনে আর মাথায় ‘ভুটান’ রেখে বীরপাড়া বাজার থেকে দিদির বাড়ি চলে এলাম। রাত তখন ৮টা বাজতে লাগলো।

এদিকে আমার মেজো ভাগিনা সন্ধ্যার পর বাড়ি আসে। ও আমাকে বাড়িতে না দেখে পুরো অস্থির হয়ে গেছে। দিদিকে জিজ্ঞেস করছে, মামা কোথায়? দিদি বলল, ওতো তোদের গ্যারেজ লাইনে গিয়েছে, সে কখন! এখনো আসেনিতো! ভাগিনা বাবাজি তাড়াতাড়ি হাত মুখ ধুয়ে আমার খোঁজে বাড়ি থেকে বের হয়ে, সোজা বাজারের দিকে রওনা হলো। বাজারে গিয়ে ভাগিনা বাবাজি আমাকে অনেক খুঁজেছে। কিন্তু পায়নি। পাবে কোত্থেকে? আমিতো বাজারে সাইডে ভুটান যাবার টেম্পো স্ট্যান্ডের সামনে চা-দোকানে বসে বসে ভুটানিদের দেখছি, আর ভুটান ভুটান জপছি। অনেক খোঁজাখুঁজি করে আমাকে না পেয়ে মেজো ভাগিনা বাড়ি ফিরে আসে। ও বাড়ি আসার ১০-১৫ মিনিট পরই আমি দিদির বাড়িতে ঢুকলাম। বাড়িতে ঢোকার পরই মেজো ভাগিনা রেগেমেগে অস্থির! মেজো ভাগিনাকে বড়দি সামলিয়ে আমাকে জিজ্ঞেস করল, “কোথায় গিয়েছিলে?” বললাম, আপনাদের বীরপাড়ার পুরো বাজারটা ঘুরে দেখেছি।

– বেশ ভালো করেছিস! তো বলে-কয়ে তো যাবি!
– আমি তো অষ্টমের কাছে বলেই গিয়েছি দিদি। তবে বলিনি যে, কখন ফিরবো।
– সেই জন্যই তো তোর ভাগিনা রেগে-মেগে অস্থির হয়ে আছে। যা যা হাত-মুখ ধুয়ে আয়, ভাত খাবি!

হাত মুখ ধুয়ে সবাই একসাথে ভাত খেতে বসলাম। খাওয়া-দাওয়া শেষ করে ভাড়াটিয়াদের ঘরে বসে টিভি অনুষ্ঠান দেখে ঘুমিয়ে পড়লাম।

চলবে…