ক্যাটেগরিঃ দিনলিপি

জুন মাসের ৮ তারিখ, আমার জন্মদিন। ১৯৬৩ সালের এই দিনে এক দরিদ্র হিন্দু পরিবারে আমার জন্ম। দারিদ্র পরিবারে জন্মগ্রহণ করাটাই, বর্তমান বিশ্বে এক অভিশপ্ত জীবন।

বর্তমানে আমার বয়স  ৫৫ বছর ছাড়িয়ে যাচ্ছে। অথচ এই সুন্দর পৃথিবীতে জন্ম নিয়ে, পৃথিবীর মানুষের জন্য কিছুই করতে পারিনি। আবার দরিদ্র্য পরিবারে জন্ম নিয়ে মাঝে মাঝে এই সমাজের কাছেও ঘৃণার পাত্র হয়ে যাই। এসবের কারণে নিজেকে অনেক সময় ব্যর্থও মনে হয়। যখন মানুষ আমাকে ঘৃণা করে, তখনই নিজের মন থেকে কিছু প্রকাশ করি।

আমার জন্ম নোয়াখালীর চৌমুহনী সংলগ্ন এক গ্রামে। চার বোন, দুই ভাইয়ের মধ্যে আমি ছিলাম সবার ছোট। আমাদের একমাত্র বাড়িটি ছাড়া আর কোনো চাষের জমি ছিল না। আমাদের সংসার চলতে বাবার মাসিক বেতনের টাকা দিয়ে। আমার বাবা ছিলেন একজন কাপড়ের মিলের শ্রমিক। চাকরি করতেন, নারায়ণগঞ্জ বন্দর থানাধীন লক্ষণখোলা আদর্শ কটন মিলে।

তখনকার দিনে বাবার সীমিত বেতনের টাকা দিয়েই আমাদের গরিব সংসার কোনোরকমে চলতো। বেতন ছিল মাত্র ২০ টাকা। এই ২০ টাকার মধ্যেই ছিল বাবার থাকা-খাওয়াসহ আমাদের পুরো সংসারের খরচ। এজন্য প্রতি মাসের শেষ দিনগুলোতে আমাদের  খুবই কষ্ট হতো।

এই আর্থিক দুরবস্থার কারণেই আমার ভাই-বোনদের মধ্যে কেউ বেশি একটা লেখাপড়া শিখতে পারেনি। যা শিখেছে, তা না শেখার মতো। আমার বেলাও তাই হয়েছে। যেখানে জন্মলগ্ন থেকে দেখেছি নুন আনতে পান্তা ফুরায় সেখানে লেখাপড়া হবে কীভাবে? পেটের ক্ষুধায় দুমুঠো ভাতের জন্য অনেক সময় অনেক কান্নাকাটিও করেছি।

আমার কান্নাকাটিতে আমার মা অনেক সময় অধৈর্য হয়ে উঠতেন। তারপর অন্যের বাড়ি গিয়ে আমার জন্য এক বাটি ভাত হাওলাত করে আনতেন।

এখনও মনে পড়ে সেই অভাবের দিনগুলোর কথা। আমার তিন তিনটে নাতি হয়তো কোনো একসময় আমার ফেলে আসা কষ্টের কাহিনীটা জানতে পারবে।

আমার এই জন্মদিনে ব্লগ ডট বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের সকল নাগরিক সাংবাদিকদের কাছে নেমন্তন্ন ছাড়াই আশীর্বাদ কামনা করছি।