ক্যাটেগরিঃ অর্থনীতি-বাণিজ্য


কেমিকেল মিশ্রিত মাটিতে এখন আর তেমন ফসল ফলে না। তবুও জাত কৃষকের থাকে ফসল ফলানোর তাড়না। দূষণের শিকার শীতলক্ষ্যার পাড়ে সহজে ঘাস জন্মাতো না,  অথচ দুই- তিনবছর ধরে এই নদীর পাশে নতুন আশা জাগিয়ে চলছে গাঁদাফুলের চাষ।

মূলত নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ২৫ ও ২৬ নং ওয়ার্ড ঘেঁষা নদীর পাড়েই গাঁদাফুলের চাষ বেশি দেখা যায়। আগে গাঁদাফুলের চাষ হতো বন্দর থানাধীন দাসের গাঁও হতে শুরু করে লাঙলবন্ধ ব্রহ্মপুত্র নদীর এপার-ওপারে। এখনও অনেক কৃষক তাদের ফসলি জমিতে গাঁদাফুলের চাষ করছে। তবে ফসলি জমি থেকে শীতলক্ষ্যা নদীর পাড়ে ভালো ফলন হচ্ছে গাঁদা ফুলের বলে জানালেন অনেক ফুলচাষী।

নদী পাড়ে যার আয়ত্বে যতটুকু জায়গা আছে, সে ততটুকু জায়গাতেই ফুলের চাড়া রোপণ করেছে। বন্দর থানাধীন এলাকা, উত্তর লক্ষণখোলা খেয়াঘাট সংলগ্ন নদীপাড়ে হচ্ছে সবচেয়ে বেশি গাঁদাফুলের চাষ। এর দক্ষিণে সোহাগপুর টেক্সটাইল। উত্তরে সাবেক ১নং ঢাকেশ্বরী কটন মিলস্। বর্তমান সামছুল আলামিন টেক্সটাইল মিলস। মাঝখানের পরিত্যক্ত জায়গাতেই, ছোটবড় অসংখ্য ফুলের ক্ষেত চোখে পড়বে।

লাল-হলুদ-কমলায় মাখামাখি গাঁদাফুলের ক্ষেত দেখতে প্রতিদিন বিভিন্ন বয়সী মানুষও ঘুরতে আসছেন শীতলক্ষ্যা নদীর পাড়ে। আর তাতে দোকান-পসার মিলিয়ে এই এলাকায় দেখা দিয়েছে অন্য রকম প্রাণ চাঞ্চল্য।

গাঁদাফুলের এইসব ক্ষেত থেকেই নারায়ণগঞ্জ জেলার বিভিন্ন জায়গায় আর অনুষ্ঠানে ফুল সরবরাহ করা হয়। ফুল নিতে প্রতিদিন ঢাকা-নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন জায়গা থেকে পাইকাররাও এখানে আসেন। বিকাল জুড়ে  লেনদেনে সরগরম থাকে এই এলাকা।


গত ৩০ ডিসেম্বর ভোটের দিন সকালে খেয়ানৌকায় যোগে গেলাম ওদিকে। গাঁদাফুলের ক্ষেত দেখতে দেখতে  কথা হলো ফুলচাষীদের সঙ্গেও। অনেকে ব্যস্ত ছিলেন গাছে পানি ছিটাতে, কেউ চারা রোপণ করছেন। কেউ ক্ষেতের পাশে বেড়া মেরামত করছেন।

গতবারের তুলনায় এবার ফুলের ফলন কম কি না জানতে চাইলে একজন ফুলচাষী বলেন, “সবেমাত্র মৌসুম শুরু, তাই ক্ষেত কম দেখা যাচ্ছে।”

আরেকজন বললেন, “আগের তুলনায় এবারে খরচ বেশি বিধায় ক্ষেত আর চাষের পরিমাণ কম। গতবারের আগেরবার প্রতি এক হাজার ফুল প্রকার ভেদে দাম ছিল ৯০০ টাকা থেকে ১০০০ টাকা। গতবার বিক্রি হয়েছে ৮০০ টাকা থেকে ৮৫০টাকায়।

“খরচ কিন্তু কমছে না, বরং বেড়েই চলছে। তাই এবার অনেকেই লোকসানের ভয়ে গাঁদাফুলের দিকে বেশি নজর দিচ্ছে না। শীতকালীন শাকসবজির উপরই বেশি নজর।”

একই রকম বক্তব্য পাওয়া গেল আরো কয়েকজন ফুলচাষীর সঙ্গে কথা বলে।

এবার কেমন দাম পাওয়া যেতে পারে জানতে চাইলে একজন কৃষক বললেন, “তা সময়মত বোঝা যাবে। তবে এবার খরচের ভার অনেক বেশি। আগের মতন হবে বলে আশা করছি না।”