ক্যাটেগরিঃ প্রশাসনিক

শুরুতে হাতি দিয়ে ভিক্ষাবৃত্তি মনে করলেও  বিভিন্ন সময় পথে-ঘাটে লোক থামিয়ে, দোকানে গিয়ে টাকা আদায়ের কারণে এখন একে চাঁদাবাজিই বলছে  গোদনাইল এলাকাবাসী।

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের  ১০ নং ওয়ার্ডে কয়েকদিন পর পর হাতির পিঠে বসা মাহুতের আগমণ ঘটে। গোদনাইল এলাকার বিভিন্ন দোকানে গিয়ে প্রতিটি দোকান থেকে ১০-২০ টাকা করে নেওয়া হয়।

কেউ কেউ হাতি দেখে রুটি-কলা বাড়িয়ে দেয়। প্যাকেটসহ রুটি-কলা দিলে হাতি মাহুতের কাছে পৌঁছে দেয়।

মাহুতের প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত হাতি মাহুতের চাবুক বা লাঠির খোঁচা টের পেলে দোকানের সামনে গিয়ে শুড় বাড়িয়ে দেয়। টাকা না দেওয়া পর্যন্ত হাতি দোকানের সামনে থেকে নড়ে না।

আগে দুই টাকা বা পাঁচ টাকা দেওয়া হলেও এখন ১০ টাকার কম দিলে তা হাতি নিতে চায় না। প্রথম প্রথম হাতিকে দেখে মজা পেয়ে অনেকে টাকা দিত।  এটা নিয়মিত হতে থাকায় এখন অনেকে ‘হাতির ভয়ে’ টাকা দিয়ে থাকে।

দোকানদার হাতির শুড়ে টাকা ধরিয়ে দিলে, হাতি শুড় উপরে তুলে সাথে সাথে পিঠে বসা মাহুতের কাছে তা পৌঁছে দেয়। মাহুত সে টাকা ব্যাগে ভরে রাখে।

শুধু দোকানদার আর পথচারিই নয়, রাস্তার মধ্যে চলন্ত মোটর সাইকেল, বড় বড় যানবাহন থামিয়েও টাকা আদায় করতে দেখা যায়।

খোঁজ নিয়ে জানতে পারলাম, এসব হাতি একসময় সার্কাসে কাজ করতো। বর্তমানে সার্কাসের আসর বসে না তাই সেসব হাতি ভাড়া দেওয়া হচ্ছে।

হাতির আকার বুঝে প্রতিদিন ৩০০০ টাকা থেকে ৪০০০ টাকা ভাড়া আদায় করা হয়। সময় থাকে সকাল ৮টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত। এসময় হাতির খাওয়া-দাওয়া সব মাহুতের দায়িত্ব।

হাতি দিয়ে চাঁদাবাজি করানো এই মাহুতেরাও  কাজ করতো সার্কাসে। সার্কাসের বিলুপ্তির সঙ্গে সঙ্গে এতে  যুক্ত থাকা মানুষগুলোর চলছে দুর্দিন।

একজন মাহুত বললেন, এভাবে নগরে হাতি চড়িয়ে দোকানে দোকানে গিয়ে টাকা আদায় করে প্রতিদিন ৪০০০ থেকে ৫০০০ টাকা রোজগার হয়ে থাকে তাদের।

সাধারণত একেক দিন একেক জায়গায় হাতি নিয়ে আনাগোনা করে থাকেন তারা।

স্থানীয়দের মধ্যে অনেকে জানালেন, নিয়মিত হাতির এই আনাগোনায় আর আনন্দ পাচ্ছেন না তারা।  এটা  হাতি দিয়ে  ‘ডাকাতি’ বলেও মন্তব্য করেছেন এলাকাবাসীর অনেকে।

মন্তব্য ১৭ পঠিত