ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

 

খাদিজাকে কোপাইছে কে? ছাত্রলীগ এর পোলা(একটা ছেলে এই কথা বলেনা কেউ, ওর পরিচয় ও ছাত্রলীগ)। ছাত্রলীগ বলছে ও আমাদের না। বিশ্বজিৎ এর ক্ষেত্রেও ঠিক একই রকম ভূল করেছে বলে আমার মনে হয়। তারা অস্বীকার না করে যদি বলত, হু এই কুলাঙ্গার আমাদের সদস্য ছিল বলতে আমরা লজ্জিত। ওর শাস্তি ডাবল হবে প্রথমত ওর অপরাধের জন্য, দ্বিতীয়ত ও আদর্শ দলের লোক হয়েও এরকম অপরাধ করেছে তাই। এতে মনে হয় জণগণ কিছুটা হলেও ছাত্রলীগ এর প্রতি আস্থা পেত।

আমি আদর্শ দল বলাতে অনেকে বিপরীত মত প্রকাশ করতে পারে। আরে ভাই এই দলটাই একাত্তর, নব্বই এ জয় এনেছে কিন্ত এখন কি হচ্ছে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তাদের অপকর্মের কথা আসে। এর কারণ কী?

এর অনেক কারন আছে। এর মাঝে প্রথম সমস্যা হচ্ছে দলে লোক নেওয়াতে। বেশিরভাগ ছেলেই রাজনীতি করে নিজের ক্ষমতার জন্য। আর সেই ক্ষমতার তারা অপব্যবহার করে। তারা জেলে গেলে তাদের লোক তাদের বাঁচাবে। রাস্তায় অবৈধ মোটরসাইকেল নিয়ে ধরা খেলে যেন ছাড়া পায়। কোন মেয়ে কেস আটকে গেলে ছাড়িয়ে আনা এরকম ব্যাক্তিগত সমস্যা সমাধানেই দলে যোগ দেয়। এরকম সদস্যই বেশি। এদের কারণে যারা দেশপ্রেমিক হয়ে রাজনীতি করে তারাও সমাজের চোখে দোষী হয়। প্রত্যেকেই তাদের নেতার বললে চলে।

গ্রামেতো আরো করুণ অবস্থা। যে খুশি সেই ই দল পায় এবং দলে যোগদান মানেই পদ। অনেকে আচগে পড়ালেখা ছেড়ে দিছে ক্লাস সিক্স -সেভেনেই তারপর রাজনীতি করে। তারা কি করে বিভিন্ন শো-ডাউনে যাবে বিনিময়ে কিছু পাবে। মারামারি করবে। গ্রামে চুরি করবে, গাঁজা,সিগারেট খাবে, ইভটিজিং করবে আর দোষ পড়বে দলের। দলের কেউ যদি এদেরকে ধরে এনে কানের নিচে দিত তাইলে কিছুটা উন্নতি হত।

দলে যোগদান এর জন্য কিছু যোগ্যতা নির্ধারণ করে দেওয়া উচিত । নাহ পড়ালেখা না তবে সমাজের অপরাধীদের ও না। বখে যাওয়া ছেলেদের চেয়ে ফার্স্ট বেঞ্চের স্টুডেন্ট এর দিকে নজর দেওয়া উচিত।

বেশ কয়েকমাস আগে আমার ছোটবোন কে ডিস্টার্ব করায় এক ছেলেকে থাপড়াইসি (ওরে প্রথমে বুঝাইসি)। ছেলেটা সিক্সে পড়ত। এখন সেভেনে থাকার কথা। কিন্ত পড়ালেখা ছেড়ে দিছে। তো ওর বাবার কাছে বিচার দিলাম। ওর বাবা আমাকে বলে, ছেলে আমার জন্যই লাঠি নেয় পারলে ওরে একটু শায়েস্তা করতে। ও কিন্তু এখন এলাকায় ছাত্রলীগ এর সকল ছবিতে থাকে।

যে কোন অপরাধী এবং অপরাধের যে স্বীকার তাকে সবার আগে মানুষ ভাবতে হবে। আর ছাত্রলীগ এর মত একটা দল যেন টেন্ডারবাজির টাকা নয় ভাল পড়াশোনা করে বৃত্তির টাকার জন্য যুদ্ধ করে তা নিশ্চিত করতে হবে। গণহারে দলে সবাইকে নেওয়া বাদ দিতে হবে। অপরাধ করলে দলের পরিচয়ে যাতে পার না পায় সেই ব্যবস্থা করতে হবে। তাহলেই দল হিসেবে ছাত্রলীগ পূর্ন গ্রহনযোগ্যতার দিকে এগিয়ে যাবে।