ক্যাটেগরিঃ ধর্ম বিষয়ক

বেশ কয়েকটি রোজা পার হয়ে গেল। ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা রোজা রেখে কৃচ্ছ্বতা সাধনের মাধ্যমে (সিয়াম সাধনা) পূণ্যের পথে এগিয়ে যায় এই রমজানে।

পরশুদিন শুক্রবার কারওয়ান বাজার রেল লাইনের পাশে বস্তি ঘেসে মগবাজার থেকে হেঁটে ফার্মগেট ফিরছি। কিছুক্ষণ পরই আযান দিবে আর রোজাদার মানুষ ইফতারে বসবে। চারিদিকে শুনশান নিরবতা। রাস্তাগুলোও ফাঁকা হয়ে গেছে। বিজিএমইএ ভবনের পাশ দিয়ে ঢোকা সময় দেখতে পেলাম একজন ষাটোর্ধ রাশভারী লোক প্রাইভেটকারের দরজা কিছুটা খুলে বসে আছে হাতে পানির বোতল নিয়ে। মুখভর্তি সাদা দাড়িতে কিছুক্ষণ পরপর হাত বোলাচ্ছে। মাথায় চিকচিক করছে টুপি। বোঝা যাচ্ছে রোজাদার ব্যক্তি। ইফতারির সময় হতে আর দু’তিন মিনিট বাকি।

এমন সময় একটি দশ বারো বছরের মেয়ে এগিয়ে এসে লোকটাকে বললো, ‘আমারে দশটা টাহা দেন, রোজা ভাঙ্গমু’। প্রথমে লোকটা কিছুটা বিরক্ত হলো। এরপর বললো এখান থেকে যাও। মেয়েটি আবারো সেই একই কথা বললো। এবার লোকটা খেপে গিয়ে মেয়েটাকে একটা চড় বসিয়ে দিলো। মুখ থেকে বের হলো, ‘বেয়াদপ ছোট লোক কোথাকার।’ এতকিছু দেখতে দেখতে আমিও গলির পথে ঢুকে গেলাম। বাকিটা আর দেখা হলো না। এরমধ্যে আযান পড়ে গেছে।

রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতে ভাবতে লাগলাম, মেয়েটা যদি মিথ্যা বলে কিছু চায়ও, তবু কি লোকটার এই কাজটা করা ঠিক হয়েছে! প্রথমত লোকটা রোজাদার, তাহলে তার সহনশীলতা বা সংযম কোথায় গেল। দ্বিতীয়ত একটা মেয়ে, তার গায়ে এভাবে হাত তোলা কি ঠিক হলো? শেষ প্রশ্নটা ছিল, লোকটার রোজা রাখায় কি কোনো লাভ হলো? সে কি সৃষ্টি কর্তার অনুগ্রহ এরপরও পাবে!

লেখার তাগিদটা এটা নয়। তাগিদটা হলো, আসলেই কি আমরা রোজা রেখে কৃচ্ছ্বতা বা সিয়াম সাধনা করতে পারি! দেখা যায় অন্য মাসের তুলনায় রোজার মাসে খরচটা একটু বেশিই হয়! কম খাওয়ার স্থানে চলে ভুরি ভোজ। সন্ধ্যায় দেখা যায় সব দোকান পাট কিছু সময়ের জন্য বন্ধ। সবাই ইফতার করছে। কিন্তু এর আগে পরে তারাই গলাকাটা দাম নিয়ে জিনিস বিক্রি করছে। কি লাভ হচ্ছে এইভাবে সিয়াম সাধনা করে?

আসলেই কি আমরা সারাদিন না খেয়ে একজন গরীবকে সাহায্য করছি! নিজে না খেয়ে কৃচ্ছ্বতা সাধন করে অন্যকে সাহায্য করাই তো হলো রোজার মাহাত্ম। আর আমরা ভুরিভোজে মেতে উঠি। পারলে অন্যের ভাগেটুকু কেড়ে নেই।

রোজা সত্যিকার অর্থে হয়ে উঠুক সিয়াম সাধনার…!