ক্যাটেগরিঃ নাগরিক আলাপ

 

গৃহকর্তীর এখন বিশ্রামের সময়। কিন্তু তিনি এখনো ভাত ঘুমে যেতে পারছেন না। হারামজাদা চাকরটাকে সেই দশ মিনিট আগে ডেকেছেন। কিন্তু আসার নাম নেই।

আবুল এ বাসায় কাজ করে সে আট দশ বছর তো হবেই। রাতে বাড়ি পাহারা দেয়, বাজার করে আর গৃহকর্তী আর তার মেয়ের জন্যে রিক্সা, ক্যাব, সিএন জি এইসব ডেকে আনে। আবুলের বঊ বুয়ার কাজ করে দু’ বাসায়। তাদের দুই মেয়ে, ছোটটার বয়স দুই। কয়দিন ধরে জ্বরে ভুগছে। ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাওয়ার কোন দরকার এখনো সে মনে করে নাই; গলির মোড়ের ডিসপেনসারি থেকে সিরাপ এনে খাইয়ে দিয়েছে গতকাল। আর সে যে বস্তিতে থাকে সেখানে দু’ একজন মাঝে মধ্যে মরে যাওয়াটাকে কেউই বড় করে দেখে না। একটু কান্না কাটি করেই দ্বায়িত্ব শেষ।

“ আবুল, দৌড়ে বাজারে যা, বড় চেইন শপটাতে যাবি, আমার জন্য টোনার, ফেইস ওয়াস, লিপ লাইনার, নেইল পলিশ রিমুভার আরো আছে লিস্টটা নে। আর এখানে হাজার চারেক টাকা আছে নিয়া যা।”

ফর্দ আর টাকা নিয়ে আবুল দাঁড়িয়ে থাকে। মেয়েটা নাকি কাল রাতে খুব কেঁদেছে। গলির ডাক্তারকে একটু দেখালে হয়। মাসের সাত তারিখ, খালাম্মা বাড়ি ভাড়া না তুলে তার বেতন দেয় না। ভাড়া উঠতে উঠতে দশ তারিখ।

আবুল সাহস করে বলেই ফেলে, “ খালাম্মা বেতনটা। মেয়েডার অসুখ ছিল।”

রাহালা আর ধৈর্য রাখতে পারে না। এমনিতেই ঘুমে তার চোখ বুজে আসছে।

“ খালি ঘ্যানঘ্যান তাই না। তোর বউ এইমাসে কয়দিন কাজে আসে নাই জানোস? যা কইছি কর। আমি ঘুমের থাইকা উইঠা যেন সব পাই। রাইতে বাইরে যামু, মাইয়ার কথা কইয়া আবার বস্তিতে গিয়া বসে থাকবি না। আর টাকা দেখলে এত ছুকছুক করস কেন?”

অগত্যা আবুল বাজারের পথে হাঁটা দেয়। আজ ডাক্তারের কাছে না গেলে কী হবে, গরীবের পোলাপাইন এত সহজে মরে না।

আসলেই তো দু’বেলা খাবার, বাচ্চাদের স্কুল, সংসারের ভার বইতে আর কয় টাকা লাগে। শুধু শুধু টাকার জন্যে বিড়ালের মতো পায়ে পায়ে ঘোরা। কী হবে ওদের জীবনটাকে একটু স্বচ্ছল করে! কাজ নেই শহীদ মিনারটাকে নোংরা করা বেহুদাই। শুধু মরিচের গুড়া নষ্ট হল। টাকার কথা শুনলেই লোকগুলোর চোখ চকচকে হয়ে ওঠে। কেন রে বাপ তোগো লাইগ্যাই তো বুলেট কিনতাছে সরকার। অস্ত্র নিয়া কি নিজেরা যুদ্ধ যুদ্ধ খেলবে। আমাদের কামেই তো লাগবে। এরা আসলে প্রয়োজন বোঝে না। এখন ভাতের চাইতে বুলেট বেশি দরকারি কিনা!

৮০০০ কোটি টাকার অস্র কেনা হচ্ছে রাশিয়া থেকে কিন্তু বাঁচার তাগিদে শিক্ষকরা অনশনে এসে শহীদ মিনারে জায়গা পেল না। এরকমই কথা ছিল।