ক্যাটেগরিঃ অর্থনীতি-বাণিজ্য

 

বিশ্বব্যাংক দীর্ঘ দিন ঝুলিয়ে রেখে স্পষ্ট ঘোষণা দিয়ে দিয়েছে যে পদ্মা সেতুতে তারা আর বিনিয়োগ করবে না। তথাকথিত দুর্নীতির অভিযোগ দিয়ে। আজকে আমি মনে করি বিশ্ব ব্যাংকের এই সিদ্ধান্ত সারা পৃথিবীর কাছে আমাদের মাথা নিচু করে দিয়েছে, অপমানিত করেছে আমাদের। বিশ্ব ব্যাংক দাবি করে বলেছে পদ্মা সেতুতে পরামর্শক নিয়োগ করার সময় সাবেক যোগাযোগ মন্ত্রী আবুল হোসেন কানাডিয়ান একটি প্রতিষ্ঠানের কাছে ১০% কমিশন দাবি করেছিল। মানলাম বিশ্ব ব্যাংকের এই দাবির যৌক্তিকতা অনেক যেহেতু তারা বিনিয়োগকারী। কিন্তু আমার প্রশ্ন হলো যেহেতু এই দুর্নীতির বিষয়টা ছিল তদন্তনাধীন, তদন্ত শেষ করতে দেওয়ার আগে কেন বিশ্ব ব্যাংক এই সিদ্ধান্ত নিল ? তাহলে বিশ্বব্যাংকের ইমেজ রইল কোথায় ? আমি হলফ করে বলতে চাই না, আবুল হোসেন এর বিরুদ্ধে বিশ্বব্যাংকের আনীত অভিযোগ ভিত্তিহীন তবে কাগজে কলমে তথ্য প্রমাণ দিয়ে বিশ্বব্যাংকের এই সিদ্ধান্ত নেওয়া ছিল যৌক্তিক। বিশ্বব্যাংক যা করে দেখাল তাকে বলা যায় পানি নিচু জায়গা দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার মত কিছু একটা।

আমরা জানি নামিক বিশ্বব্যাংকের সত্যিকারে নিয়ন্ত্রণ কার হাতে, কাদের টাকা দিয়ে বিশ্বব্যাংকের মত প্রতিষ্ঠান সারা বিশ্বে তাদের ব্যবসা করে যাচ্ছে। সেই উল্লেখিত দেশটির সাথে বর্তমান সরকারের সম্পর্ক, বেশ কিছু ক্ষেত্রে খুব ভাল শুধুমাত্র ড.ইউনুস এর প্রসঙ্গ ছাড়া। সেই দেশ ও তাদের মিত্ররা বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পড়ে একাধিক বার ড.ইউনুস বিষয়ে সরকার কে চাপ দিয়েছে। রীতিমতো উদ্ধ্বেগ প্রকাশ করেছে ড.ইউনুস এর বিষয়ে। যা এখনো অব্যাহত রয়েছে বলে আমি বিশ্বাস করি।

এখন বিশ্বব্যাংকের ঋণদান বিষয়টি কে যদি বলি ড.ইউনুস এর পক্ষে চাপ প্রদানের একটি সুকৌশল তাহলে বিষয়টি বেশি ভুল বলা হবে না। যেহেতু ড.ইউনুস প্রশ্নে সরকারে আপোষ করার মত তেমন কোনও সুযোগ বা সম্ভাবনা নেই। তাহলে কী ধরে নিতে পারিনা বিশ্বব্যাংক পদ্মা সেতুতে বিনিয়োগ করবে না। আমার সমালোচনা কারিরা হয়তো বা আমার সাথে একমত প্রকাশ না ও করতে পারেন, কিন্তু বাস্তবতা হলো এই যে আমার জানা মতে বিশ্বব্যাংক ইতিপূর্বে কাগজে কলমে তদন্তের মাধ্যমে দুর্নীতি প্রকাশ হওয়ার পরও বাংলাদেশে তাদের বিনিয়োগ অব্যাহত রেখেছিল। তখনকার সময়ের সেই বিশ্বব্যাংক আর আজকের বিশ্ব ব্যাংক যেহেতু একই প্রতিষ্ঠান সেই একই সংবিধান, সেই এক ই নিয়ন্ত্রণকারি তাহলে কেন এই দুর্নীতির বিষয়টি তদন্ত শেষ হওয়ার আগে বিশ্বব্যাংক এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে সেটা আমাদের বুঝতে হবে। তার মানে হলো ড.ইউনুস প্রশ্নে সরকার যদি অবস্থান স্পষ্ট না করে তাহলে বিশ্বব্যাংক ঋণ দিবে না।

এখন আমার বলতে কোনও দ্বিদা নেই যে বিশ্বব্যাংক পদ্মা সেতুতে আর বিনিয়োগের ব্যাপারে আগ্রহী না। আর সেই ব্যাপারে এখন যতই না বিশ্ব ব্যাংক কে তৈল মারা হোক, তাতে কোনও কাজ হবে না। কারণ এটা তাদের পূর্ব পরিকল্পিত। তাহলে কেন অযথা এই সাম্রাজ্যবাদীদের আস্তানা বিশ্বব্যাংক এর পিছনে দৌড়াতে হবে ?

তাই সরকার কে অনুরোধ করে বলব বিকল্প উত্সের খোজে নেমে পড়ুন। যদি পদ্মা সেতু করতে চান। আর না হলে নাই। তারপর ও আর বিশ্বব্যাংকের দ্বারস্থ হবে না। কারণ বিশ্বব্যাংক আপনাদের ঋণ দিবে না।

ধন্যবাদ
সুলতান মির্জা