ক্যাটেগরিঃ দিনলিপি

একটা সময় ফেলে এসেছি পিছনে যখন ঈদ মানে ছিল সমবয়সী চাচাতো ভাই-বোন, বন্ধুদের সাথে হই হুল্লুর-পটকা ফুটানো, নতুন কাপড়ের ছড়াছড়ি, ঈদের বিশেষ সালামি, ঈদের আগের রাতে নির্ঘুম রাত কাটানো, ঈদের দিন সকাল বেলা কার আগে কে গোসল করব সেই প্রতিযোগিতা, তারপর বহু প্রতীক্ষিত ঈদের জামাত পড়া, ঈদের জামাত শেষে কুলাকুলি, বন্ধুদের বাড়িতে কমন বেড়ানো, সেমাই, পিঠা খাওয়ার আনন্দ, নিজের বাড়িতে মা বসে থাকতেন কখন এক সাথে খাব, কিন্তু সময় হয়ে উঠেনি। তারপর বিকেল বেলা দলবেধে ঘুরাফেরা। এই হল শৈশবের-কৈশোরের ঈদ আনন্দ।

ঈদ এলে এখনো খুব আনন্দ করি ঈদের সেই স্মৃতি গুলো হাতরিয়ে। খুজে ফিরি সেই আনন্দের খানিকটা। জানি এখন বড় হয়ে গেছি সেই আনন্দ আর ফিরে আসবে না।

যাইহোক, ঈদের আনন্দের শৈশব-কৈশোর সবারই এক রকমের কেটেছে। এই বিষয়ে আর বলার কিছু নেই। তবে আমাদের সময়ের ঈদ আর বর্তমান সময়ের ঈদের মধ্যে অনেক পরিবর্তন এসেছে। যদি ও এটা খুব স্বাভাবিক এক চলমান প্রক্রিয়া মাত্র। আরও পরিবর্তন আসবে এটাই কামনা করি।

সাম্প্রতিক সময়ের সকল দ্বন্ধ, মতামত যে শুধু মাত্র রাজনৈতিক ভাবে বিভক্ত তা কিন্তু মোটেই নয়। আমাদের সামাজিক বৈষম্য যথেষ্ঠ পরিমাণ বিদ্যমান যার ফলে ঈদ এখন একটি অসম প্রতিযোগিতার অসম উত্সব মাত্র। যদি ও এখনকার পৃথিবীতে অনেকের ঈদ আনন্দ বছরের বাকি দিন গুলোর মত, কিন্তু এক শ্রেণীর মানুষ সমাজে রয়েছে যাদের ঈদ আনন্দ বছরে এক দিনই হয়ে থাকে। তাদের কিন্তু সারা বছর ভাল করে একটু গোস্ত খাওয়ার মত পরিস্থিতি হয়ে উঠে না। আর তাই আমি বলি ঈদ মানে হল সেই সব মানুষের অসম আনন্দের একটি দিন। আমার ঈদ আনন্দ সেই সব সুবিদা বঞ্চিত মানুষদের জন্য উত্সর্গ করলাম।

আজ আর কথা বেশি বলব না। সবার সাথে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে এই লেখা। আমি মনে করি ঈদ মানে আনন্দ, ঈদ মানে পূর্বের সকল মন মানিল্যতা কে বিসর্জন দিয়ে আবার এক সাথে নতুন করে সম্পর্ক স্থাপন করার একটি বিশেষ দিন।

আর তাই আমাকে যারা পছন্দ করেন বা ঘৃণা করেন সেটা কোনও বিষয় না। সম্মানিত ব্লগার্স, পাঠক ঈদের শুভেচ্ছা গ্রহণ করুন। ঈদ মোবারক।
সবাই ভাল থাকবেন।

সুলতান মির্জা