ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

 

বিএনপির মত একটি রাজনৈতিক দল যখন মিথ্যাচারের উপর ভর করে চলে তখন মোটেই অবাক হই না। কেন না বিএনপির জন্ম হলো জনগণের সাথে ধোঁকাবাজি করে। যা আবারো প্রমাণিত হল। বার বার বিএনপির নেতা কর্মীরা জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে মিথ্যা বলে রাষ্ট্র ও জনগণের সাথে একপ্রকার ধোঁকাবাজি করে চলেছে। যা এখনো অব্যাহত রয়েছে। এটা কী ? এইভাবে কোনও রাজনৈতিক দল চলে কী করে ? ফাজলামির একটা সীমারেখা থাকা প্রয়োজন। জনগণ কে আর কী বুঝাতে চায় বিএনপি ?

মূল পোস্টে যাওয়ার আগে একটা বিষয় স্পষ্ট করে বলতে চাই, উদাহরণ সরূপ বর্তমান সরকারের আমলে হয়ে যাওয়া সকল ভালোমন্দ কাজের জিম্মাদার যেমন আওয়ামীলীগ সরকার এড়িয়ে যেতে পারবে না। তেমনি গত বিএনপি সরকারের আমলে সংগঠিত সকল ভাল মন্দের জিম্মাধারী বিএনপি এড়িয়ে যেতে পারে না। এটা নিয়ে এখন বিএনপি যত কিছু বলুক না কেন এটাই স্বাভাবিক বিষয়। এই আ’লীগই একুশে আগস্টের গ্রেনেড হামলা চালিয়েছে: রিজভী ব্রিফিং দিয়ে বিএনপি নেতা জনগণ কে কী বুঝাতে চাইছেন এটা স্পষ্ট নয় আমার কাছে তবে বিশ্বাস করি এতে করে বিএনপি তাদের রাজনৈতিক দেওলিয়াত্তের প্রমাণ দিল।

২০০৪ সালে ২১ শে আগস্ট তত্কালীন বিএনপি-জামাত জোট সরকারের আমলে, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের পর বাংলাদেশের ইতিহাসের আরেকটি কলঙ্কজনক ও রক্তাক্ত দিন এটি। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করা হয়। ৩০ বছর পর সেই আগস্ট মাসেই বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যে গ্রেনেড হামলা করা হয়। যার সম্পূর্ণ জিম্মাদারী ছিল বিএনপি-জামাতের হাতে। কেন না বিএনপি-জামাত তখন ক্ষমতায় ছিল। এই বিষয়ে, এই বক্তব্য শুধু আমার নয়, আমি মনে করি সকল বিবেকবান মানুষের একই কথা। বঙ্গবন্ধু কন্যার উপর হামলা হয়েছিল এবং তা রাষ্ট্রীয় মদতে।

সেই দিনের সেই চিত্র ছিল ইতিহাসের নারকীয় ঘটনা গুলোর মধ্যে একটি। অল্পের জন্য যদি ও শেখ হাসিনা রক্ষা পেয়েছিলেন কিন্তু চারিদিকে মানুষের রক্তে রঞ্জিত হয়ে গিয়েছিল সেই দিন বঙ্গবন্ধু এভিনিউ। আমার চোখের সামনে এখনো ভেসে উঠে লাশের সারি, আহত মানুষের আর্তচিত্কার, একটু বেঁচে থাকার আকুতি।

গ্রেনেড হামলার পরে তত্কালীন বিএনপি-জামাত জোট সরকারের কর্মকাণ্ড ছিল সন্দেহজনক স্মরণ কালের সেই গ্রেনেড হামলার বিষয়ে তত্কালীন বিএনপি-জামাত জোট সরকারে স্বরাষ্ট প্রতিমন্ত্রী বাবরের তত্ত্বাবধানে একটি তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করা হয় এবং এতে জজ মিয়া নামে এক ভবঘুরে, একজন ছাত্র, একজন আওয়ামী লীগের কর্মীসহ ২০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। খালেদা-নিজামীর অপকর্ম ঢাকতে। অথচ পরবর্তী তদন্তে তত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে তাদের কারো বিরুদ্ধেই অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি। বিএনপি-জামাত এর তত্কালীন সরকার শুধু জজ মিয়া নাটকের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি। গ্রেনেড হামলার সকল আলামত নষ্ট করে দিয়েছিল যাতে করে ভবিষ্যতে আর এই গ্রেনেড হামলার কোনও আলামত খুজে পাওয়া না যায়।বিশ্বাস না হলে দেখুন ২১ শে আগস্টের সেই নারকীয় হামলার অন্যতম বাস্তবায়নকারী হরকতুল জিহাদের নেতা মুফতি হান্নানের ২০১১ সালে দেওয়া জবান বন্দিতে।

উপরের মুফতি হান্নানের দেওয়া তথ্য অনুসারে এই মামলার চার্জশিট তৈরি করা হয়েছে। এর মধ্যে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার ৭ বছর ও অধিকতর তদন্তের আদেশ হওয়ার প্রায় ২ বছর পর ২০১১ সালের ৩ জুলাই আদালতে সম্পূরক চার্জশিট দাখিল করা হয়। সম্পূরক এ চার্জশিট দাখিল করতে দুই বছরে ১৪ দফা সময় নেয়া হয়। অথচ এই বিষয় নিয়ে বিএনপি এখনো মিথ্যাচার করে যাচ্ছে। আমি বিশ্বাস করি আওয়ামীলীগ এই বিষয়ে এখনো যথেষ্ঠ পরিমাণ উদারতার পরিচয় দিয়ে যাচ্ছে।

ঘটনা যে বাস্তবায়ন করেছে সেই মুফতি হান্নান যা বলেছে তার উপর ভিত্তি করে যদি কথা বলি তাহলে বলা যায় ২০০৪ সালে ২১ শে আগস্টের গ্রেনেড হামলার বিষয়ে সরাসরি খালেদা জিয়া অবগত ছিলেন। খালেদা পুত্র তারেক রহমান তা মনিটরিং করেছে। অথচ আজকে বিএনপি নেতারা বলছে ২১ শে আগস্টের বিষয়ে আওয়ামীলীগ জড়িত ছিল। আর কত অধ:পতন দেখতে হবে আমাদের ?

ভিডিও সৌজন্য:মাছরাঙ্গা টেলিভিশন
আপলোডেট সুলতান মির্জা ইউটিউব চ্যানেল

@সুলতান মির্জা