ক্যাটেগরিঃ ধর্ম বিষয়ক, ফিচার পোস্ট আর্কাইভ

 

শান্তির ধর্ম ইসলাম। আর ইসলাম ধর্মের সর্ব শ্রেষ্ঠ নবী ও রাসূল (সাঃ) এর জীবন দর্শন ব্যঙ্গ করে, অবমূল্যায়ন করে একদল ইসরায়েলি ইহুদি নির্মার করেছে ‘ইনোসেন্স অব মুসলিমস’ নামের একটি চলচিত্র। যা আমাদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হেনেছে। বলা যায় এটা কোনও চলচিত্র ছিল না, এটা উদ্দেশ্য প্রণীত একটি বিনোদন মাত্র। তবু একজন ইসলাম ধর্মের অনুসারী হিসেবে নিন্দা জানাচ্ছি এই হীনমানসিকতার। নিন্দা জানিয়েছেন আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, নিন্দা জানিয়েছেন আমাদের বিরোধী দলীয় নেত্রী। সেই সাথে মার্কিন প্রশাসনের কাছে দাবি জানিয়েছেন এই চলচিত্র নির্মাতার শাস্তি। বলা যেতে পারে আমাদের জন্য এটা অনেক কিছু কেন না, পুঁজিবাদী বিশ্বে সাম্রাজ্যবাদীদের অধিপত্য যেখানে আমাদের অর্থনৈতিক ত্রাণ কর্তার ভূমিকায় সেখানে এই প্রতিবাদ টুকু বহুত কিছু নির্ণয় করে। মানবে কী মানবে না সেটা তাদের বিষয়। তবে আমার মতামত হলো, ইসলাম ধর্মের প্রতি অবমাননা অন্য ধর্মের অনুসারীদের এটা নতুন কোনও বিষয় নয়। কিন্তু তাজ্জব হয়ে যাই যখন শুনি যে আমাদের দেশের কিছু ধর্ম ভিত্তিক রাজনৈতিক সংগঠন গুলো পবিত্র রমজান মাসে ইফতার পার্টিতে সেই সব বিধর্মীদের দাওয়াত করে এক থালায় ইফতার করে সেই খবরে। শুধু ইফতার নয় আমাদের বিভিন্ন বিচার সালিসের ও তারা থাকে বিচারের আসনে এবং নিজেকে প্রকাশিত করেন আমি উনাদের লোক। মোট কথায়, তাদের কে আমাদের ধর্মের লোকেরা ধরিত্রীর ত্রাণ দাতা হিসেবে মান্য করে। গর্ব বোধ মনে করে নিজেকে একজন মার্কিনির আস্থাভাজন হিসেবে। ইচ্ছা করলে তো বলতে পারি তাহলে সেই সব মার্কিনীরা না হয় একটা সিনেমা বানালো তাতে কী এমন হয়ে গেছে ? যদি আমাদের সাথে এক থালায় ইফতার খেতে কোনও সমস্যা না হয়, আমাদের বিচারিক ক্ষমতা যদি তাদের হাতে থাকে, তারা যদি হয় আমাদের সাহস দাতা তাহলে এই সিনেমায় এত ক্ষতি হলো কী করে? এখন পাল্টা যদি কেউ আমাকে নাস্তিক হিসেবে আক্রমণ করেন তখন তাদের উদ্দেশ্যে আমার প্রশ্ন হলো, তারা এই সাহস পেল কোথায় ? উত্তর ও দিয়ে দিচ্ছি আমাদের ইসলাম ধর্মের নাবালক চাল চলন হলো তাদের এই সাহসের খোরাক।

‘ইনোসেন্স অব মুসলিমস’ নিয়ে যখন সারা বিশ্বে মুসলিম সমাজে তোলপাড় চলছে তার পরবর্তী প্রেক্ষাপট নিয়ে দেখুন, তাদের কী অবস্থা হয়েছে কতিপয় অসাধু চলচ্চিত্রকার হয়েছে নিন্দিত। আমাদের মুসলিম সমাজ জানিয়েছে প্রতিবাদ যদি ও বিশ্বাস করি যা হওয়ার তা হয়ে গেছে, শত চেষ্টা করলেও তা আর ফেরত হবে না। কিন্তু প্রশ্ন থাকে যে এতে করে অমুসলিম মার্কিন সমাজে কী নাড়া লেগেছে ? আপাতত দৃষ্টিতে বলতে হচ্ছে কিছুটা নাড়া লেগেছে বৈকি, যেমন লিবিয়াতে মুসলিমদের হামলায় প্রাণ হারিয়েছে তিন মার্কিন নাগরিক, মুসলিম দেশ গুলোতে হয়েছে বিক্ষোভ, প্রতিফলিত হয়েছে মার্কিন বিরোধী মনোভাবের যার প্রেক্ষাপটে এই চলচিত্র সংশ্লিষ্ট,অভিনেত্রী অবশেষে ক্ষমা চাইলেন ‘ইনোসেন্স অব মুসলিমস- এ অভিনয়ের জন্যে। শুধু তাই নয় এই চলচিত্রের আরেক অভিনেত্রী ও স্বীকার করলেন যে উনি জানতেন না কি ছবিতে অভিনয় করছেন এক কথায় বলা যেতে যেতে পারে নমনীয়তা প্রকাশ পেয়েছে। বা আরও নমনীয়তা দেখাবে বলে ধারনা করা যাচ্ছে।

আর যেহেতু ইসলাম ধর্মের সর্ব শ্রেষ্ঠ নবী ও রাসূল হযরত মোহাম্মদ (সাঃ) সব সময় উনার শত্রুদের ক্ষমা করে দিতেন। আর এখন আমরা সেই নবীর উম্মত হয়ে ক্ষমা করা তো দূরের কথা, উল্টো এর প্রতিবাদ জানাচ্ছি মানুষ হত্যা করে। শুধু তাই নয় আমাদের দেশের কিছু মুসলিম সমাজ এর প্রতিবাদ হিসেবে দিয়েছেন হরতালের ডাক। এর নাম কী শান্তির ধর্ম ইসলাম ?

কোথায় মার্কিন সমাজ, কোথায় এক ইহুদি বাসিল, আর কোথায় বাংলাদেশের জনগণের জন্য ধর্ম পালনের দুর্ভোগ। এই যদি হয় শান্তির ধর্ম ইসলাম রক্ষার পবিত্র পন্থা তাহলে আমি জানার অধিকার রাখি যে আমাদের দেশে এই হরতাল পালনের মধ্য দিয়ে কী আমাদের নবীর প্রতি অবমাননার প্রতিশোধ নিতে পারব ? বা উদ্ধার হয়ে আসবে সেই অবমাননার ক্ষত চিহ্ন ? জানি উত্তর নেই।

আমি বর্তমান সরকারের সমালোচনা করে বলতে চাই, তথ্য প্রযুক্তির জনপ্রিয় একটি সাইট ইউটিউব বন্ধ কেন ? যেহেতু বাংলাদেশ কোনও ধর্মীয় মডারেট দেশ নয়, তাহলে কেন আমাদের এই দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে ? সরকারের পক্ষ থেকে মার্কিন সরকারের কাছে প্রতিবাদ পাঠানো হয়েছে। যা ধরে নিতে পারি একটি নিয়ম মাফিক কর্মকাণ্ড। সারা বিশ্বের প্রতিবাদের সাথে একাত্মতাবোধ করা হয়েছে, সরকারে মনে রাখা উচিত ছিল ইউটিউব বন্ধ রাখলে যে এই সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে এটা মোটেই ঠিক নয়। বরঞ্চ সরকার এটা পারত যে “ইনোসেন্স অব মুসলিমস” এর ক্লিপ গুলো ব্লক রেখে ইউটিউব চালু করা রাখা। এর জন্যে সরকার কে কোনও কস্ট করতে হতো বলে আমি মনে করি না। ইউটিউব কর্তৃপক্ষের কাছে যদি সরকারের নিয়ন্ত্রণাধীন বিটিআরসি নোটিশ পাঠাতো যে “ইনোসেন্স অব মুসলিমস” সম্পর্কিত কোনও ফাইল বা ডকুমেন্টস বাংলাদেশে সম্প্রচার হবে না তাহলে সেই ব্যবস্থা ইউটিউব কর্তৃপক্ষ খুব ভাল ভাবে করবে বলে ধারনা করি। কারণ ইতিপূর্বে ইউটিউব কর্তৃপক্ষ এইরকম পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে বাংলাদেশে। তার সুফলতাও পেয়েছিল বাংলাদেশ । তাহলে “ইনোসেন্স অব মুসলিমস” নিয়ে কেন সম্ভব না ?

সরকার যেহেতু সকল ধর্মের। আর হরতালের প্রতিবাদ যেহেতু বিদ্যমান, সেহেতু সরকারের কাছে মূল আবেদন হলো, আমরা জন দুর্ভোগ চাই না। হরতাল এর নামে সহিংসতা চাই না। আমরা তথ্য প্রযুক্তি থেকে বিচ্ছিন্ন থাকতে চাই না। আমার আমাদের শান্তির ধর্মের অবমূল্যায়ন ঘটতে দিতে চাই না।

আমরা চাই শান্তি আর স্থিতিশীলতা।

ধন্যবাদ সবাই কে
@সুলতান মির্জা

***
ফিচার ছবি: জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম/ ঢাকা, সেপ্টেম্বর ২২, ২০১২