ক্যাটেগরিঃ ধর্ম বিষয়ক

বিষয়টি নিয়ে ভাবতে হচ্ছে এই কারণে বাংলাদেশ যেহেতু ইরান বা পাকিস্তান এর মত ধর্মীয় উগ্রপন্থী কোনও দেশ নয় বা বর্তমান শাসন ব্যবস্থা ও কোনও ধর্মীয় শাসন ব্যবস্থার অধীনে নয়। যেহেতু বাংলাদেশ একটি ধর্ম নিরপেক্ষ শাসন ব্যবস্থার অধীনে সেই সেক্ষেত্রে এইখানে ধর্মীয় উগ্রপন্থীদের কোনও গুরুত্ব নেই। ত্রিশ লক্ষ শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত বঙ্গবন্ধুর ধর্ম নিরপেক্ষ সোনার বাংলা আজকে বিপন্ন হতে চলেছে তথাকথিত কিছু ধর্মীয় উগ্রপন্থী, মৌলবাদীদের অত্যাচারে। ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগ সরকারের সফলতা ও ব্যর্থতা নিয়ে যদি আলাপ আলোচনা করা হয়, তাহলে বর্তমান সরকারের আর কিছু হোক বা না অন্তত পক্ষে বেশ কিছু সফলতার মধ্যে আমি দুইটা এজেন্ডা কে খুব বেশি প্রাধান্য দিয়ে থাকি।

এক. যুদ্ধাপরাধীদের বিচার কাজের শুরু
দুই. ধর্মীয় জঙ্গীবাদ দমন,

যা বর্তমান সরকার খুব শক্ত হাতে সম্পাদন করে যাচ্ছে। সেই জন্য আমি বর্তমান সরকারের কার্য ক্ষমতা কে সফল হিসেবে মূল্যায়ন করে থাকি। থাক সফলতা নিয়ে আর বলছি না। এই সফলতার মধ্যে সরকারের একটা সিদ্ধান্ত আমাকে বলতে বাধ্য করাচ্ছে। যে বর্তমান সরকার এর ইউটিউব বন্ধ করা কী জঙ্গীবাদকে রসদ যোগাচ্ছে না তো ?

এখন আমার মনে একটি অজানা আশঙ্কা ভর করছে সরকারের মধ্যে কী কোনও ধর্মীয় কী ডুকে পড়েছে ? যারা বর্তমান সরকার কে ব্যবহার করে জঙ্গীবাদ এর প্রতি নিরব সমর্থন যুগিয়ে যাচ্ছে প্রশাসনিক পর্যায়ে ? বিষয়টি অমুলক নয় মোটেই। ইসলাম বিদ্বেষী ব্লগ বন্ধের দাবি ওলামা লীগের এই আন্দোলন কে সরকার কিভাবে দেখবে ?এরা কারা। এরা যদি আওয়ামীলীগের কোনও অঙ্গসংগঠন এর অন্তর্ভুক্ত হয়ে থাকে। প্রশ্ন আসে তারা কী সংবিধান সম্বন্ধে সম্পূর্ণ অজ্ঞ হয়ে এই আন্দোলন করেছিল ? নাকি সরকারের মধ্যে লুকিয়ে থাকা কোনও ধর্মীয় মৌলবাদীদের এজেন্ডা বাস্তবায়নে মাঠে নেমেছিল ? স্পষ্ট ভাবে যদিও সরকার এই বিষয় নিয়ে মুখ খুলবে না, যেহেতু এরা আওয়ামী ওলামা লীগ করে। কিন্তু আমাদের ধর্ম নিরপেক্ষতা আমাকে বলে যে আমাদের কে এর বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে হবে। জানতে হবে এরা কারা ? জানতে হবে বঙ্গবন্ধুর ধর্ম নিরপেক্ষতার প্রতি এদের আস্থা কতখানি রয়েছে?

বর্তমান বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে গিয়ে বলতে হয়, তথ্য প্রযুক্তি নির্ভর পৃথিবীতে আমাদের দৈনন্দিন জীবনেও তথ্য প্রযুক্তির বিচরণ রয়েছে। সেই ক্ষেত্রে ইউটিউব ও বলা যায় খুব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। মহানবী(সাঃ) ব্যঙ্গ করে নির্মিত “ইনোসেন্স অব মুসলিমস” নিয়ে নির্মিত মার্কিন চলচ্চিত্রটি ইসলাম ধর্মের জন্য চরম অবমাননাকর একটি বিনোদন মাত্র। যার প্রেক্ষাপটে আমাদের দেশে ইউটিউব এখনো নিষিদ্ধ রয়েছে। যদিও জানি না কত দিন পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা চলবে। কিন্তু প্রশ্ন হল তথ্য প্রযুক্তির অপার সম্ভাবনাময় “ইনোসেন্স অব মুসলিমস” নামের সেই অখ্যাত চলচ্চিত্রটির প্রচার কার্য কী বন্ধ হবে ? উদাহরণ দিয়ে বলতে চাই, আমার এক ছোট ভাই আমেরিকার বাসিন্দা সে গত মাসে দেশে এসেছে, চলে যাবে সেপ্টেম্বরের ১০ তারিখে। সে আমাকে গতরাতে বলল, আমেরিকা গিয়ে তার প্রথম কাজ হল “ইনোসেন্স অব মুসলিমস” সিনেমাটি দেখা। কী রয়েছে সেই সিনেমাতে সেটি তার দেখতে হবে। আমি বললাম আমার কাছে বিখ্যাত এগারো মিনিটের একটি ক্লিপ রয়েছে তুমি দেখ। সে উত্তর দিয়েছে সম্পূর্ণ সিনেমাটি না দেখলে সে কিছু বুঝবে না। এখন কথা হলো এই কর্মকাণ্ড কে সরকার কী করে প্রতিহত করবে ? বা যারা সরকারের মাথায় তালের আটি বেধে দিয়েছে তারা কী করে এর বিরুদ্ধে সোচ্চার হবে। ভাবতে ভালই লাগছে যে আমরা ইরান বা পাকিস্তানের চেয়ে কোনও অংশে কম নই।

সরকার কে বুঝতে হবে যারা আন্দোলন করার পাঁয়তারা করছে তারা আন্দোলন করবে। এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু এই আন্দোলনের রসদ ইউটিউব দেখে যোগাতে হবে এটা সরকারের ভাবার কোনও কারণ নেই। সরকার কে উদ্দেশ্য করে বলতে চাই, আমাদের তথাকথিত আলেম সমাজ এর বিজ্ঞ আলেমদের কিছু নমুনা দেখেন, আমরা যখন ছোট ছিলাম তখন জানতাম যে নবী করিম (সাঃ) এর নামে দুরুদ শরীফ (মিলাত মাহফিল) পড়া প্রতিটি মুসলিম এর জন্য একটি সোয়াবের কাজ বলে বিবেচিত। যা হাদীস শরীফে উল্লেখ করা রয়েছে। কিন্তু যখন বড় হয়েছি তখন শুনছি যে এটা কোনও নিয়মের মধ্যে পড়ে না। আর হাদীস শরীফে এমন কিছু লেখা ও নেই। এখন চিন্তা করে দেখুন, সেই হাদীস শরীফ আর এখনকার হাদীস শরীফ এর মধ্যে কতখানি ফারাক হয়ে গেছে। জানি না হয়তো বা হাদীস শরীফের লেখা গুলো ও মুছে গিয়ে থাকতে পারে। কিন্তু আলেম ? হা আলেমদের মধ্যে ও এসেছে বৈপ্লবিক পরিবর্তন। আগে আলেমরা সার্ট-প্যান্টকে অমুসলিমদের পোষাক বলে ঘৃণা করতো। এখন অনেক আলেমরা ক্লিন সেভ হয়ে সার্ট প্যান্ট পড়ে, নিজেকে কে একজন আলেম দাবি করে। আমার, এই ব্লগ যারা পড়বে অর্থ্যাৎ আলেম সমাজের আলেমদের কে বলছি. তাদের ও আতে ঘা লাগবে, এক পর্যায়ে মন্তব্য করে আমাকে নাস্তিক বলে ঘোষণা দিতে ও কার্পণ্য বোধ করবে না। কিন্তু ভাবার বিষয় হচ্ছে এই লেখা পড়া অবস্থায় ও তারা একজন ও খাঁটি ধর্মপ্রাণ মুসলিম এর পর্যায় নেই। তো যাই হোক, এই ভাবে বলতে গেলে আরও অনেক কিছু বলা যাবে। আর বলার ইচ্ছা নেই।

তথ্য প্রযুক্তির অবাধ যুগে ইউটিউব আমাদের দৈনন্দিন বিনোদনের এক মহা প্রযুক্তি। খেয়াল করলে দেখা যাবে এমন কোনও ইন্টারনেট ব্যবহারকারি নেই যে তারা সারা দিনে অন্তত একবারের জন্যে হলেও ইউটিউব পরিদর্শন করে না। যদি তাই হয় তাহলে দ্বাবি করতে অসুবিধে কোথায় যে ইউটিউব চালু করা প্রয়োজন ? আজকে ইউটিউব বন্ধ বিষয়টা নিয়ে আমার মত আমজনতার খুব কস্ট হচ্ছে । বিশেষ করে ইউটিউব যখন আমার দৈনন্দিন কাজের একটা অংশ। সেজন্য আমি এর প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছি। বলতে হয়, ইউটিউব মানে কিন্তু “ইনোসেন্স অব মুসলিমস” নয়। ইউটিউব মানে কিন্তু শুধু ইসলাম ধর্মের করুন পরিস্থিতি সৃষ্টি করা নয়। তাহলে কেন এখন ইউটিউব বন্ধ রয়েছে? ইউটিউব বন্ধ রাখলে যে এই সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে ? যারা এমনটা ভাবছে তাদের উদ্দেশ্য করে বলছি এটা মোটেই ঠিক নয়। বরঞ্চ এটা করা যেতে পারে যে “ইনোসেন্স অব মুসলিমস” এর ক্লিপ গুলো ব্লক রেখে ইউটিউব চালু করে দেওয়া যেতে পারে। যার জন্য ইউটিউব কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা পাওয়া যেতে পারে। যদি সরকার প্রস্তাব দেয়। ইউটিউব কর্তৃপক্ষের কাছে যদি সরকারের নিয়ন্ত্রণাধীন বিটিআরসি নোটিশ পাঠায় যে “ইনোসেন্স অব মুসলিমস” সম্পর্কিত কোনও ফাইল বা ডকুমেন্টস বাংলাদেশে সম্প্রচার হবে না তাহলে সেই ব্যবস্থা ইউটিউব কর্তৃপক্ষ খুব ভাল ভাবে করবে । কারণ ইতিমধ্যে ইনোসেন্স অব মুসলিমস বিষয়ে ইউটিউব কর্তৃপক্ষ এমনটা করেছে। তাহলে বাংলাদেশ সরকার কেন এখনো এই ব্যবস্থা গ্রহণ করছে না ?

নাকি সরকারের এই সিদ্ধান্ত কোনও মহল বিশেষের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে ? যারা শেখ হাসিনার সরকার কে ইসলামী মূল্যবোধের উপর আস্থাশীল একটি সেকুলিজয়ম সরকার এর পদবী দিয়ে বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠিত করতে চায় ?

সিদ্ধান্ত কে নিবে জানি না, তবে এইটুকু বলতে পারি, ইউটিউব বন্ধ রেখে বর্তমান সরকার যদি কোনও মহল কে খুশি রাখতে চায়, তাহলে এর চরম মূল্য কিন্তু সরকার কে দিতে হবে। কারণ এই সিদ্ধান্ত ধর্মপন্থী উগ্রবাদীদের ছাড়া আর কাউকে খুশি করার মত সিদ্ধান্ত নয়। শেখ হাসিনার সরকার যদি এই সিদ্ধান্ত থেকে নিজেদের কে ছাড়িয়ে না আনে তাহলে, আমার মত আমজনতার মনে ও প্রশ্ন জাগতে পারে শেখ হাসিনার সরকার কে ব্যবহার করে ধর্ম নিরপেক্ষতার আড়ালে কী তাহলে ধর্মপন্থী উগ্রবাদ কে প্রতিষ্ঠিত করার কোনও পাঁয়তারা করছে কোনও মহল ?

অতএব, ধর্ম নিরপেক্ষতার নাম যদি বেনাম থেকে হয়, বর্তমান সরকার যদি মনে করে এই দেশের স্বাধীনতা কোনও মাওলানারা অর্জন করেছে, সংবিধানে যদি উল্লেখিত থেকে থাকে যে ইসলাম ধর্ম শাসিত দেশ বাংলাদেশ, তাহলে আর ইউটিউব চালু করার দরকার নেই।

উপরোল্লিখিত তেমন কিছু যদি না থেকে থাকে তাহলে সরকারের নিকট অনুরোধ করছি অনতিবিলম্বে অনলাইন ভিত্তিক জনপ্রিয় গণমাধ্যম ইউটিউব এর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে চালু করে দেওয়া হোক।

সুলতান মির্জা ।