ক্যাটেগরিঃ প্রবাস কথন

সমগ্র বিশ্বের চোখ এখন আমার এই দুর্ভাগা বাংলাদেশের প্রতি। যদিও তাকানোর স্টাইলটা মোটেই ভাল নয় তবুও বলতে হচ্ছে বাংলাদেশ এর সন্তান এই মুহূর্তে সারা বিশ্বের খুব আলোচিত একটি নাম নাফিস। যদিও এই আলোচিত প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে বলতে হচ্ছে একটি বিখ্যাত সিনেমার ডায়ালগ আর তা ছিল “নাম হয়েছে আমার, বিখ্যাত হয়েছি আমি কিন্তু তা কোনও ভাল কাজের জন্য নয়। হোক না খারাপ কাজ করে বিখ্যাত হয়েছি, কিন্তু বিখ্যাত হয়েছি তো।” তেমনি নাফিস এবং বাংলাদেশ এখন বিখ্যাতদের একজনে পরিণত হয়েছে। যা মোটেই প্রবাসী আমেরিকান বাঙালিদের জন্য সুখবর নয়। নাফিস গ্রেফতার হওয়ার পর থেকে আমেরিকার বাঙালি কমিনিউটি থেকে প্রকাশিত ভিবিন্ন গণমাধ্যম থেকে যতটুকু জানতে পেরেছি তা শুনে সত্যি খুব রাগ হচ্ছে এই কুলাঙ্গারটির প্রতি। কেন না, যেহেতু নাফিস আমেরিকায় গেছে সর্বোচ্চ ডিগ্রির জন্য সেখানে কেন গিয়ে এফ বি আইয়ের ফাদে পা দিতে হবে ?

প্রাপ্ত খবর অনুযায়ী প্রবাসের সবচাইতে পুরাতন সংগঠন(১৯৪৮-২০১২) লীগ অব আমেরিকা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের নিন্দা জানাতে আগামী পরশু স্থানীয় সময় রোববার জ্যাকসন হাইটসে এক সমাবেশের আয়োজন করেছে । তারা এই রকম সন্ত্রাসী হামলার পরিকল্পনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ করে সমাবেশে করবে, শিরোনাম হবে ’দিস ইজ নট আওয়ার ফেস’। অর্থ্যাত নাফিস বাংলাদেশের পরিচয় নয় । তাছাড়া বাঙালিরা বলছে,বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্ত প্রয়োজন এর জন্য দ্বাবীও জানাবে। দোষী হলে নাফিসের সর্বোচ্চ শাস্তি চায় প্রবাসীরা এখন প্রশ্ন হলো প্রবাসীরা কেন নাফিসের প্রতি এতটা নির্দয় হয়েছে ?

নাফিসের ঘটনার দিন থেকে নিউইয়র্কে অজানা আশংকা নিয়ে ঘটনার পরদিন থেকে স্কুল করেছে বাংলাদেশি ছেলে মেয়েরা। শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার ক্ষেত্রে নতুন করে আরো কঠোর আইন প্রণয়নের আশংকা এখন সুস্পষ্ট। এরইমধ্যে বাঙালী অধ্যুষিত জ্যাকসন হাইটস ও জ্যামাইকাতে ভিনদেশি কিছু তরুণের মুখে নানান শব্দ প্রয়োগে উচ্চস্বরে বাঙালিদের ধিক্কার দিতে শোনা যাচ্ছে। শুধু তাই নয় নিউইয়র্ক থেকে নির্বাচিত যুক্তরাষ্ট্র সিনেটের প্রভাবশালী ও জ্যৈষ্ঠ সিনেটর চাক শুমার ষ্টুডেন্ট ভিসা নীতি এবং বিভিন্ন রাজ্যে বাংলাদেশী সহ বিদেশি ছাত্রদের জন্য সহায়ক বিভিন্ন প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের কঠোর সমালোচনা করেছেন। পাশাপাশি এদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং বাংলাদেশী ছাত্রদের ভর্তিও ভিসা ব্যবস্থাকে ’প‍ুনঃপর্যালোচনা’ করার ওপর জোর দিয়েছেন।

এ বিষয়ে কংগ্রেসের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিষয়ক কমিটির চেয়ারম্যান কংগ্রেসম্যান পিটার কিংও কঠোর ভাষায় বক্তব্য দিয়েছেন । তিনি আমেরিকার ক্ষমতাসীন ডেমোক্রেটিক পার্টির একজন নেতা। নিউইয়র্ক সিটি ভোটার রেজিস্ট্রেশন সহায়তা বিষয়ক কমিশনার বাংলাদেশি মোর্শেদ আলম এব্যাপারে বলেছেন, সিনেটর চাক শুমারের বক্তব্যে ধারণা করা যায়, যুক্তরাষ্ট্রে বাঙালি শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার ক্ষেত্রে নতুন করে আরো কঠোর আইন প্রণয়নের আশংকা দেখা দিবে। যা বাস্তবায়ন হলে আমেরিকাতে বাঙালি ছাত্রদের লেখা পড়ার সুযোগ হাত ছাড়া হয়ে যাবে।

নাফিসের গ্রেপ্তারের পর থেকে যুক্তরাস্টে বসবাসরত বাঙালিরা ইতিমধ্যে তাদের প্রতিবেশীসহ তার আশেপাশের অনেকেই অপ্রয়োজনে বাইরে থাকা বা অন্যদের সাথে কথাবার্তা একেবারেই এড়িয়ে চলছেন বলে জামাইকার বসবাসরত বাঙালিদের একজন গণমাধ্যমে বলেছেন। এইখানে তিনি আরও উল্লেখ করেছেন নাফিসের গ্রেপ্তারের পর থেকে বাংলাদেশী দের সবার আশংকা অহেতুক পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদের সম্মুখীন হওয়া কিংবা সন্দেহের শিকার হওয়া। যা কোনও ভাবেই মেনে নেওয়া যাচ্ছে না।

লীগ অব আমেরিকার সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদির চৌধুরী শাহীন বলেছেন, আমাদের সন্তানেরা অজানা আশংকা নিয়ে স্কুল করেছে।নাফিসের ঘটনার পর প্রথম দিন স্কুলে নাফিসের ঘটনার সংবাদ সম্পর্কে অবহিত কী না ছাত্রছাত্রীদের কাছে তাদের শিক্ষকরা তা জানতে চেয়েছেন। গণমাধ্যমে আরও বলেছেন তার এক পরিচিতের কথা যিনি বৃহস্পতিবার ঢাকায় মার্কিন এম্বেসিতে গিয়েছিলেন পূর্ব নির্ধারিত ভিসা নেওয়ার জন্য কিন্তু নাফিসের ঘটনার পরে মার্কিন এম্বেসী যাদের ভিসা দেওয়ার কথা কথা ছিল,সিদ্ধান্ত বদলে তাদেরকে ভিসা দেয়নি।

সংগঠনটির সভাপতি আব্দুল কাদির চৌধুরী বলেছেন, নাফিসের ঘটনার পরে ট্যাক্সিতে চালকের পরিচয় জানতে চাওয়া ও সাবওয়েতে বাংলাদেশিদের নিয়ে কথাবার্তা হচ্ছে খুব খারাপ ভাষায় যা প্রবাসী বাঙালিদের খুব নাজুক পরিস্থিতে ফেলেছে। সেই সঙ্গে আরও বলেছেন প্রবাসী বাংলাদেশিদেরকে কোন ধরনের সন্ত্রাসীর পরিচয়ের ’লেবেল’ এটে দিলে আমাদের জন্য তা হবে সত্যি খুবই ভয়ঙ্কর । অথচ আমরা অত্যন্ত শান্তিপ্রিয় কমিউনিটি। জাতিগত ভাবেও তাই।

এইবার বলছি একটু আমাদের দেশীয় কথা,আমাদের যাদের জিহাদী জোস বেড়ে গিয়েছে তাদের কে
বাংলাদেশে নাফিসের এই ঘটনার পরে জিহাদী জোস বেড়ে গেছে, ব্লগ ফেসবুক এ শুরু হয়েছে পক্ষে বিপক্ষে ষড়যন্ত্রের সুবাতাসের সুশীতল কাহিনী। বাংলাদেশের সেই সব ষড়যন্ত্র মূলক বিষয়াদি নিয়ে লিখেছিলাম একটি ব্লগ যা আমার ব্লগে প্রকাশিত হয়েছে বাবার দৃষ্টিতে হতে পারে নাফিস নির্দোষ..কিন্তু মার্কিন সরকারের দৃষ্টিতে ??

এইসব মায়া কান্না যদিও নাফিসের তেমন কোনও উপকার হবে না। কিন্তু অবাক হয়ে যাচ্ছি এই সব আতেল গুলোর কথা শুনে। বলা হচ্ছে নাফিস এর বিরুদ্ধে এইসব নাকি ষড়যন্ত্র। মেনে নিচ্ছি এইগুলো সব ষড়যন্ত্র কিন্তু আমার কিছু প্রশ্ন হলো যে ছেলেটা যুক্তরাস্টে গিয়েছে লেখা পড়ার জন্য সেখানে গিয়ে একজন অপরিচিত লোকের সাথে কিসের এত কথা বলার প্রয়োজন ছিল ? হতে পারে নাফিস কোনও দোষ করে নাই, কিন্তু মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এফ বি আই নাফিসের বিরুদ্ধে যে একুশ পৃষ্টার অভিযোগ নামা দিয়েছে সেখানে রয়েছে বেশ কিছু গুরুত্ত্বপূর্ণ তথ্য যা নাফিসের ইচ্ছায় হয়েছিল, গঠনার বিবরণীতে উল্লেখ করা রয়েছে (সময় সল্পতার কারণে বাংলা অনুবাদ করে দিতে পারিনি) ইংরেজীতে দেখে নিন।

NAFIS Contacts A Confidential Source And Expresses
A Desire To Wage Violent Jihad Against The United States

July 5, 2012, the CHS received a call from NAFIS wherein NAFIS advised, in sum and substance, that NAFIS is from Bangladesh but came to the United States to wage “jihad.”2 NAFIS told the CHS that all Muslims and Muslim sheikhs in the United States are “Talafi,” meaning not true Muslims. NAFIS also told the CHS that NAFIS admired Sheikh “O,” whom the CHS understood to be Osama bin Laden.

During that same July 5, 2012 call with the CHS, NAFIS
described the United States as “dar al-harb,” which means “land of war” in Arabic. NAFIS further told the CHS that NAFIS believes it is permissible to travel to the United States for only two reasons:for “dawaa,” which means “preaching,” or for “J,” which the CHS understood to mean “jihad.” During this call, NAFIS told the CHS that he was in communication with both an individual in the United States (the “CO-CONSPIRATOR”)4 and another “brother” in Bangladesh. NAFIS told the CHS that this group, including the CHS, should remain in close contact.

Based on my training and experience, I know that Inspire
is an English-language online magazine reported to be published by al-Qaeda in the Arabian Peninsula (“AQAP”).

During the period between July 6, 2012 and July 8,
2012, NAFIS, the CO-CONSPIRATOR and the CHS began to communicate via Facebook, an internet social-media website.

NAFIS stated that he had conferred with another
individual in Bangladesh and was advised that he was not bound by such rulings. Accordingly, NAFIS indicated that he believed that he was free to continue with his plan to conduct a terrorist attack on U.S. soil.

A few hours later, on or about July 12, 2012 in the
early morning, NAFIS told the CO-CONSPIRATOR and the CHS, in sum and substance, that NAFIS had contacts with al-Qaeda members overseas who could assist the group in planning and executing an attack on the high-ranking official. This communication was consensually recorded.

NAFIS Meets With The UC And Describes His Plan For
A Terrorist Attack In The United States

NAFIS then said, in sum and substance, that he, “Yaqueen” and the CHS “don’t care anything about our work. We just want to meet our lord as soon as we can.” NAFIS continued:

What I really mean, is that I don’t want
something that’s like, small. I just want
something big. Something very big. Very very
very very big, that will shake the whole
country, that will make America, not one step
ahead, change of policy, and make one step
ahead, for the Muslims . . . that will make us
one step closer to run the whole
world . . . .

একুশ পৃষ্টার হাই লাইট্স দিলাম সম্পূর্ণ টুকু দেখতে চাইলে ডাউনলোড করে নিতে পারেন। নিউয়র্ক টাইমসের এই লিঙ্ক থেকে যা বিডি নিউজ টুয়েন্টি ফোরে গতকাল এড করা হয়েছে।

এখন কথা হলো একজন নাফিসের চেয়ে যুক্তরাস্টে বসবাসরত লক্ষাধিক বাঙালির সুযোগ সুবিদা নিয়ে আমরা কেন সোচ্চার হচ্ছি না ? আমরা কেন নাফিসের পক্ষ নিয়ে অযথা বিতর্ক সৃষ্টি করে সুযোগ খুজে বেড়াচ্ছি ? জানি উত্তর হবে খ্রিস্টান দের দেশে ইসলামের বিজয়। কিন্তু মনে রাখা প্রয়োজন এই খ্রিস্টানদের কল্যাণে কিন্তু আমাদের ভবিষ্যত নির্ধারিত হয়। আর তাই সরকারের কাছে অনুরোধ জানাচ্ছি নজর দিন প্রবাসী বাঙালিদের যেন কোনও ক্ষতি না হয় এক কুলাঙ্গার ছেলের জন্য। দেশে খোজ খবর নিন তার (নাফিস) এর কর্মকাণ্ড সম্মন্ধে। দোষী হলে বিচার করুন তার।

তথ্যসুত্র: নিউয়র্ক থেকে প্রকাশিত অনলাইন ভিত্তিক বাংলা পত্রিকা এখনই সময়,
লসএঞ্জেলস থেকে প্রপকাশিত অনলাইন ভিত্তিক বাংলা পত্রিকা হলিউড বাংলা
নিউয়র্ক টাইমস অনলাইন এডিশন
লিঙ্ক

হ্যাপি ব্লগিং…..সুলতান মির্জা ।