ক্যাটেগরিঃ স্বাধিকার চেতনা

পাকিস্তানী পররাষ্ট মন্ত্রী হিনা রাব্বানি খান,গতকালকে বাংলাদেশে এসেছিলেন। যদিও একজন পাকিস্তানী রাষ্ট্রপ্রধান বা সরকারের অন্য কোনও কর্তা ব্যক্তির বাংলাদেশ সফর আমি খুব গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করি না। কারণ সে একজন পাকিস্তানী। এটাই তার বড় পরিচয়।

পাকিস্তানী পররাস্ত মন্ত্রীর কাছে আমাদের পররাষ্ট মন্ত্রী বলেছে একাত্তরের ঘটনার জন্য ক্ষমা চাইতে। আমি বলব নিঃসন্দেহে আমাদের পররাষ্ট মন্ত্রী দীপু মনি একটি ভাল প্রস্তাব দিয়েছিলেন। যদিও বিশ্বাস করি, একাত্তরে ঘটে যাওয়ার ঘটনার জন্য পাকিস্তানের সরকার বা তাদের জনগণ তাদের শরীরের চামড়া দিয়ে জুতা বানিয়ে দেয় আমাদের দেশের প্রতিটা বাঙালীকে তারপরেও ক্ষমা থেকে কিনা সন্দেহ থেকে যাবে।

কারণ ত্রিশ লক্ষ আত্মা, আড়াই লক্ষ মা, বোনের সম্মানহানি, তাছাড়া হাজার ঘর বাড়ি জ্বালিয়ে পুড়িয়ে দেওয়ার ক্ষত শুধু মাত্র ফরমালিটিজ মেণ্টেন করার একটি ক্ষমা চাওয়ার সাথে সাথে ফিরে আসবে না।

কিন্তু হতবাক ও বিস্ময়ে তাজ্জব বনে গেছি হীনা রাব্বানী খা যখন বলেছেন একাত্তরে পাকিস্তানি বাহিনীর গণহত্যার মতো ঘটনাগুলো পেছনে ফেলে ভবিষ্যৎ সম্পর্ক গড়ে তোলার প্রত্যাশা করছে পাকিস্তান সরকার। শুধু তাই নয় হীনা আরও বলে গেছেন ৭৪ এর পর বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ভাবে তারা দুঃখ প্রকাশ করেছেন পাকিস্তান সরকার।

তার মানে কী দাঁড়ালো ? পাকিস্তানীরা ক্ষমা চাইতে চাইতে ক্লান্ত হয়ে পড়েছ, আর ক্ষমা চাওয়া তাদের পক্ষে সম্ভব না।

যদি তাই হয়, তাহলে আমার মত আম জনতা মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উজ্জীবিত একজন কেন মনে করতে পারবে না, প্রাসঙ্গিক হীনা রাব্বানীর কথা সুত্র ধরে, কোন অতীত ভুলে গিয়ে তাদের সঙ্গে নতুন সম্পর্ক রচনা করতে হবে ? কোন অতীত ভুলে গিয়ে আবার তাদের কে এই বুকে স্থান দিতে হবে ?

আমার বাবা ভাইদের নির্মম ভাবে কুকুরের মত গুলি করে মেরে ফেলার অতীত ? আমার মা-বোনের গণ ধর্ষণের অতীত ? আমার দেশের বুদ্ধিজীবীদের কে সারি বেধে হত্যা করার অতীত ? আমার দেশের সম্পদ লুণ্ঠন করে নিয়ে দিয়ে অতীত ? আমার দেশের অসংখ্য বাড়ি-ঘর আগুনে জালিয়ে পুড়িয়ে দেওয়ার অতীত ?

তারপরে ও যতটুকু মনে করি, আমাদের সহজ সরল নির্লোভ সাধারণ মানুষেরা ধর্মা ধর্মতার কল্যাণে (আউট অফ রাজাকার, আল-বদর,গুয়াজম,নিজামী গং) মালালাদের নির্যাতনে কেঁদে উঠে।

কিন্তু হিনাদের কথায় সেই মানবতার বার্তা কী পরিলক্ষিত হয় ? হয় না হয়ে উঠে না,কোনও দিন হবে ও না।