ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

মিডিয়ার কর্মকান্ডে বিরক্ত যখন :
গত কয়েক দিন ধরে জামাত-শিবিরের সৃষ্ট তাণ্ডবের বিপরিধে ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া, প্রিন্ট মিডিয়া, ব্লগ, সোস্যাল মিডিয়া গুলোতে প্রতিক্রিয়া, মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখে একটা বিষয় খুব কনফার্ম হয়েছি সাধারণ মানুষ জামাত-শিবিরের এই ঘৃণিত কর্মকাণ্ড কে খুব সহজে মেনে নিতে পারেনি। যার প্রতিফলন আমরা কিছু মিডিয়ার মাধ্যমে জানতে পেরেছি।

অপরদিকে মিডিয়ার মাধ্যমে ভুল তথ্য ও খবর পরিবেশন করে জনমনে এক ধরনের বিভ্রান্তি ও সৃষ্টি করা হচ্ছে। যদিও আমরা জানি কোন সেই মিডিয়া এই কাজ গুলো করেছে। অবাক ও হতাশার বিষয় হচ্ছে পৃথিবীর কোনও দেশে আন্তর্জাতিক ট্রাইবুনালের কোনও আসামির ভি চিহ্নিত কোনও হাস্যজ্জল স্থির চিত্র বা ভিডিও চিত্র প্রিন্ট মিডিয়া বা ইলেক্ট্রনিক্স মিডিয়া প্রচার করতে পারে বলে আমার জানা নেই, কিন্তু আমাদের দেশের মিডিয়া গুলো তা বীরদর্পে প্রচার করছে। যার যা খুশি তাই শিরোনাম করছে। প্রখ্যান্তরে দেখা যাচ্ছে ঘন আবেগের ছড়াছড়ি। বলার অপেক্ষা রাখে না, কিছু চিহ্নিত মিডিয়ার কল্যাণে সকল মিডিয়া প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী জনগণের কাছে। এই দ্বায় কিন্তু জনগণের নয়, এর দ্বায় তথ্য মন্ত্রণালয়ের কেন না, মিডিয়ার স্বাধীনতার নামে স্বাধীনতা বিরোধী চক্রের আবেগ মাখানো সংবাদ প্রচার বন্ধে প্রয়োজনে ঐসব মিডিয়ায় তালা লাগিয়ে দিতে হবে। এছাড়া কোন বিকল্প নেই।

অতিশয় সুশীল বা বিরোধী দল এর সমর্থন কারিরা বলে উঠতে পারেন স্বাধীন মিডিয়া বা গণমাধ্যম হলো মানবাধিকার ও গণতন্ত্রের পূর্ব শর্ত। অস্বীকার করছি না। সরকারের ভাল-মন্দ কাজের আলোচনা-সমালোচনা করতে মিডিয়ার স্বাধীনতার বিকল্প নেই। আমিও একমত, তবে কথা থাকে যে স্বাধীনতা বিরোধীদের দ্বারা মিডিয়ার মাধ্যমে চিহ্নিত ও কিছুটা স্বঘোষিত রাজাকারদের ভি চিহ্নিত খবর প্রচার করা মিডিয়া কোনও ভাবেই নৈতিক সুবিদা প্রাপ্ত হতে পারে না।

কতিপয় রাজনৈতিক দলের জামাত প্রশ্নে ভূমিকা যখন বিরক্তিকর:
প্রথমেই বলে রাখছি আজকের হিংস্র জামাত-শিবির এর রাজনীতির জনক কিন্তু জিয়াউর রহমান। যার কারণে বিএনপি কে যদি বলা হয় জামাতের একটি রাজনৈতিক অংগ সংগঠন তাহবে খুব বেশি ভুল বলা হবে না।

খেয়াল করেছি গত কিছুদিন ধরে জামাত-শিবিরের ভয়াবহ তাণ্ডবের পক্ষে জামাতি মনা রাজনৈতিক বিএনপি নেতাদের বক্তব্য। বিশ্বাস হচ্ছে না, কী করে বিএনপি নেতা খালেদা নিজেদের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের একটি রাজনৈতিক দল বলে থাকে। যে জামাত মহান মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী কে প্রকাশ্য সহযোগিতা কারি খুনী, আল-বদর, কুখ্যাত রাজাকার চক্র বলে প্রমাণিত। তখন নিজেদের বাছানোর প্রশ্নে জামাত মিথ্যার আশ্রয় নিতে পারে একটা মেনে নেওয়া যায় কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের বলে যে রাজনৈতিক দলটি নিজেদের দাবি করে তারা কী করে বলে জামাত প্রসঙ্গে এই ধরনের কথা

ভাবতে হবে ভাবনার সময় এসেছে, দৃষ্টি ভঙ্গি পাল্টাতে হবে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী হতে হবে। আমি গতকাল কোনও এক মন্তব্যে বলেছিলাম, আল্লাহ বানাইছে ইসলাম আর শয়তান বানাইছে জামায়াত ইসলাম। যদিও মনে করি কথাটা একদম মিথ্যা বলিনি। কেন না,গত কয়েকদিন ধরে যুদ্ধাপরাধী, একাত্তরের কুখ্যাত রাজাকার গুয়াজম, নিজামী,মুজাহিদ, সাঈদী, কামরুজ্জামান সহ অন্যান্য জামাতের শীর্ষ নেতাদের বিচার বাঞ্ছালের উদ্দেশ্যে টার্গেট করে সারা দেশের বাড়তি জেলায় অহিংস এক তান্ডব লীলা পরিচালনা শুরু করে দিয়েছে এই মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারি দলটির ছাত্র সংগঠন শিবিরের কর্মীরা। এইখানে একটা বিষয় খুব স্পষ্ট যুদ্ধপরাধী জামায়াতের শীর্ষ স্থানীয় নেতাদের যদি শাস্তি হয়ে যায় তাহলে প্রকাশ্যে বলার মত শিবিরের ভাবমূতি বলতে কিছুই থাকবে না। এ কারণেই যে কোনো মূল্যে এ বিচার ঠেকাতে তারা বদ্ধ পরিকর। বিচার প্রক্রিয়া প্রায় শেষের পথে আর তাই শুরু হয়েছে তাণ্ডন্ব লীলা। আর তাই মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী সকল মতাদর্শের জনগণ কে মোকাবিলা করতে হবে ঘৃণিত জামাত-শিবিরের এই চক্রান্ত।

একটি অনুসন্ধানী চালচিত্র শিবিরের ভয়াবহ উত্থান
বিডি নিউজ ব্লগের সম্মানিত পাঠকদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই চিত্র। কারণ এরা ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে আমাদের মাঝে। এদের চিহ্নিত করা খুব সহজ নয়। আপনারা হয়তো বা অনেকেই জানেন, ১৯৭১ সালে জামাতের ছাত্র সংগঠন ছিলো ইসলামী ছাত্র সংঘ। রাজাকার এবং বুদ্ধিজীবীদের হত্যার জন্য বিশেষ খুনী স্কোয়াড আল বদরদের সদস্যরা ছিলো এই ছাত্র সংগঠনের। স্বাধীনতার পর তারা পলাতক থাকে, পুনর্বাসিত হয় জিয়ার সেনাশাসনের সময়। ১৯৭৭ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি ছাত্র সংঘ নাম পাল্টে রাখে ছাত্র শিবির। প্রসঙ্গত তাদের ছোটদের সংগঠন শাহীন শিবির থেকে এই শিবির নামটি নেয় তারা। চিত্র গুলো পড়ে দেখুন শিবিরের পেছনে রয়েছে ভবিষ্যতের এক ভয়াবহ ষড়যন্ত্র যার প্রাথমিক পর্ব উঠে এসেছে এই দলিলে।

আলোচ্য স্ক্যানড দলিলটি ইমেজ ফাইলে দেওয়া। প্রতিষ্ঠার একযুগের মধ্যে ছাত্র শিবিরের বিস্ময়কর উত্থান ও প্রতিষ্ঠার নেপথ্যে কীর্তিকলাপ এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের মাধ্যমে তুলে ধরেছিলেন সেলিম ওমরাও খান, নিমাই সরকার ও সৈয়দ শামীম নামে তিন তরুণ তুর্কি সাংবাদিক। যা একাত্তরের ঘাতক জামাতে ইসলামীর অতীত ও বর্তমান নামক অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল। ইচ্ছা হলে প্রতিবেদনটি ডাউনলোড করে নিতে পারেন।

পাঠকের সুবিধার জন্য তারপরও পৃষ্ঠা প্রতি কি আছে তার শিরোনাম কিংবা সার দেওয়া হলো

১, জামাতে ইসলামীর প্রধান অঙ্গদল ইসলামী ছাত্র শিবিরের স্বরূপ

২. ছাত্র সংঘ থেকে শিবির, ছাত্র সংসদ নির্বাচন ৮৭

৩. স্বাধীনতা, শিল্প ও সংস্কৃতি

৪. সন্ত্রাস, ট্রেনিং সেন্টার এবং নীল নকশা, জোন ভিত্তিক শিবিরের সদস্য সংখ্যা

৫. শিবিরের অর্থের উৎস

৬. রিক্রুটমেন্টের কৌশল

৭. জামাতের পাঠচক্র : বিকৃত জ্ঞানচর্চার খতিয়ান

৮. পুজিবাদ যোগ সমাজতন্ত্র সমান ইসলাম/পর্দা লংঘনে জিহ্বার স্বাদ নষ্ট হয়

৯. ক্রীজ (কিরিচ) বাহিনী

১০. অপারেশন পর্যালোচনা, জিম্মি : চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

১১. জিহাদী জোশ ও সেল গঠন

১২.প্রেমের আগুন জ্বলে অন্তরে অন্তরে

১৩. শিবিরের জালিয়াতি : ভর্তি পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস

১৪. উপসংহার

আরও পড়ুন সহ ব্লগার আনিস রায়হান সম্পাদিত একটি সহীহ শিবিরনামার জীবন্ত দলিল। উপলব্ধি করুন ধর্মের নাম করে এদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড কতটা হিংস্র হতে পারে। ধর্মের নাম বিক্রি করে, ইসলাম নিয়ে ব্যবসা করে, ইসলামের ঢালে আড়াল নিয়ে এই মুনাফিকদের সম্পর্কে নিজে জানুন, অন্যদেরও সচেতন করুন।

@ সুলতান মির্জা।