ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

 

দুর্নীতি ওয়াচ ব্লাড ফিউশন আওয়ার রাজনীতি। খালেদা ও তার দল বিএনপি একদা দুর্নীতি করে এসেছে, এখন তারা দুই চোখে দেখতে পারে না। এটা নতুন কোনও আজগুবি গল্প হতে পারে না। আজকে খালেদা ও তার দল বিএনপি দুর্নীতির বিরুদ্ধে যথেষ্ঠ পরিমাণ সোচ্চার যেমনটা আগে কোনদিন ছিল না। আবার খালেদা ও তার দল বিএনপি যখন ক্ষমতায় ফিরবে তখন আবার চোখ বন্ধ করে দুর্নীতি করবে। এখন যেমন খালেদা ও তার দল বিএনপি দুর্নীতি বিরোধী কথা বলছে যদি তাদের ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় এমন করে সোচ্চার হতো তাহলে হয়তো বা দুর্নীতি নামক বস্তুটি হয়ে যেত সোনার হরিণ। বলে রাখছি আওয়ামীলীগ কোনও সাধু সন্নাসীর দল নয়। আওয়ামিলীগের নেতা-কর্মীরা যদি দুর্নীতি করে থাকে তাহলে তার উপযুক্ত জবাব আগামী নির্বাচনে জনগণ ফেরত দিবে। এটাই বাস্তব। এইখানে কারো কোনও বাহাদুরী খাটবে না। জনগণ যেহেতু ক্ষমতা দানের মালিক। আজকে আওয়ামীলীগ দুর্নীতি করবে আগামীতে জনগণ তাদের প্রতিহত করবে। এটাই নিয়ম।

বেগম খালেদা জিয়া বরিশালে বলে আসলেন –

“আরেকবার জনগণের সমর্থন ও সুযোগ চাই। আমি এদেশের চেহারা পাল্টে দেব। বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশকে একটি মডেল দেশ হিসেবে উপহার দেবো।’’
সেইসঙ্গে প্রতিশ্রুতি দিয়ে এসেছেন আপনি ক্ষমতায় গেলে গ্রাম থেকে শহর পর্যন্ত উন্নয়নের মাধ্যমে দেশে পরিবর্তন আনবেন।
আরও বলেছেন “আমরা কোনো দল ও ধর্মের মধ্যে ভেদাভেদ সৃষ্টি করবো না। বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি, গ্যাস, বিদ্যুৎসহ সব সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা নিব।’

বেশ ভাল লাগলো খালেদার ঘোষনা গুলো। কিন্তু আশাহত হয়েছি খালেদা জিয়া তার দল বিএনপি তার সরকারের সময়ে যেসকল অপকর্ম করেছিল তার জন্য জনগণের কাছে ক্ষমা চাননি বলে। আর তাই না বলে পারছি না, আগামীতে ক্ষমতায় এসে খালেদা জিয়া যা করতে পারে,

* ক্ষমতায় আসলে এবার সারা দেশে বোমা বানানোর প্রশিক্ষণ বাধ্যতা মূলক করা হবে।
* ক্ষমতায় আসতে পারলে মুক্তিযোদ্ধাদের লাথি মারা হবে।
* রাজাকারদের আবার পুনর্বাসন করা হবে। জাতীয় পতাকাবাহী গাড়ী চড়ানোর সুযোগ করে দেওয়া হবে।
* আবার বাংলা ভাই এর জন্ম হবে।
* ১০ ট্রাক অস্ত্র আবার আসবে।
* তারেক আর কোকো নতুন করে টাকা পয়দা করবে।

বেগম খালেদা জিয়া উনার বড় ছেলে তারেক রহমান এর জন্মদিনে তারেক এর বিরুদ্ধে দুর্নীতির বিষয়ে স্পষ্ট বলেছেন,

তারেক রহমান কোনো ধরনের দুর্নীতিতে জড়িত ছিলেন না।
উনার ছেলের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগকে ‘অপপ্রচার’ আখ্যা দিয়ে খালেদা বলেছেন “তারেক অত্যন্ত সৎভাবে জীবনযাপন করেছে। দুর্নীতির সঙ্গে কখনোই তার কোনো সম্পর্ক ছিল না। তার কোথাও তেমন কোনো সম্পদও নেই।
খালেদা জিয়া তারেক এর পক্ষ নিয়ে বলেছেন “ষড়যন্ত্রকারীরা তার (তারেক) বিরুদ্ধে প্রথম থেকেই অপপ্রচার চালিয়েছে। ওই সূত্র ধরে মইন-ফখরুদ্দীন নেতৃত্বাধীন অবৈধ সরকার তারেকের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেয়। তারা তাকে শেষ করে ফেলতে চেয়েছিল। কিন্তু আল্লাহর রহমতে তা তারা পারেনি।”
খালেদা আরও বলেছেন বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার আমলে প্রভাব নিয়ে থাকা তারেক সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার আমলে গ্রেপ্তার হন। তার বিরুদ্ধে ডজনখানেক মামলা হয়। বিএনপিকে তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত সংগঠিত করার উদ্যোগের জন্যই তারেককে ‘ষড়যন্ত্রের মধ্যে’ পড়তে হয়। “তারেক যেভাবে দলকে এগিয়ে নিচ্ছিল, তাতে দল ও দেশ উপকৃত হত। কিন্তু চক্রান্তকারীরা আগে থেকেই তারেককে টার্গেট করে নানাভাবে তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অপপ্রচার চালাতে শুরু করে।” সুত্র: বিডি নিউজ ২৪ ডট কম।

আশ্চার্য হয়েছি খালেদার মত একজন আপোষহীন নেত্রীর মুখে একটি দুর্নীতি পরায়ণ ছেলের জন্য মিথ্যা বলা দেখে। খালেদা জিয়ার মনে রাখা দরকার ছিল যে উনি শুধু তারেক আর কোকোর মা নন। উনি বাংলাদেশের একটি অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দলের নেত্রী। কিন্তু উনি যদি ওনার নিজের পুত্রদের অপকর্ম নিজের চোখে দেখতে না পান তাহলে সারা দেশের অপকর্ম দেখবেন কী করে ? কেন না উনি শুধু তারেক-কোকোর জন্য না, উনি…উনি….

বেশ ভাল হতো যদি তারেক রহমান এর বিষয়ে কোনও দুর্নীতির অভিযোগ না থাকতো। তারেক রহমান প্রসঙ্গে অন্য আরেকদিন বলা যাবে। আজকে যাকে নিয়ে বলার জন্য এই লেখা তিনি আর কেউ নয় বেগম খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকো। বেগম জিয়ার এই ছোট ছেলের সম্পর্কে নিউজ পেপারের মাধ্যমে গতকাল কে জানতে পারলাম দুর্নীতি দমন কমিশন নাকি খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর পাচার করা অর্থের একটি অংশ দীর্ঘ চেষ্টার পর দেশে ফেরত এনেছে যার পরিমাণ দেশী টাকায় প্রায় সাড়ে ১৩ কোটি টাকা। ইংরেজি টাকায় ২০ লাখ ৪১ হাজার সিঙ্গাপুরি ডলার।

খটকা লাগছে এই টাকার বিষয়ে বেগম খালেদা জিয়া বক্তব্য কী হতে পারে ? যদিও উনি এই বিষয়ে অনেক আগেই একবার বলেছিলেন এটা ষড়যন্ত্র, এখন উনি নিশ্চয় বলবেন এটা একটি ষড়যন্ত্র উনার নিরীহ ছেলের বিরুদ্ধে। তাই যদি হয় বেগম জিয়া এমন কিছু আমাদের বলে দেয় তাহলে নীরবে মেনে নেওয়া ছাড়া কোনও উপায় থাকবে না। কিন্তু যতটুকু জানতে পেরেছি দুর্নীতি দমন কমিশনের এই টাকা উদ্ধার তত্পরতার সাথে দীর্ঘ দিন ধরে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এফ বি আই এর সংশ্লিষ্টতা ছিল। তাহলে নির্দিধায় বলা যেতে পারে ডাল মে কুছ কালা হ্যায়। তো এইসব আগেরকার দিনের দুর্নীতির কথা বলতে গেলে বাংলাদেশের চলমান গণতন্ত্রের অংশ হিসেবে অটোমেটিক বলা হয়ে থাকে এই গুলো ষড়যন্ত্র আমাদের সম্মান হানির জন্য। এটাও মেনে নিচ্ছি। যার কারণ যিনি বা যাহারা এখন সরকার পরিচালনা করছে তারা বা তাহারা কোনও ভাবেই দুধে ধোয়া তুলসী না। তবে খালেদার জিয়ার উপলব্ধি করা প্রয়োজন নিজের ছেলের বিচার যদি করার ক্ষমতা না থাকে তাহলে রাজনীতি থেকে বিদায় নেওয়া হবে অতি উত্তমপন্থা।

পরিশেষে বলার ইচ্ছে পোষণ করছি, খালেদার নিরীহ ছেলেটি দুর্নীতিবাজ হতে পারে কিন্তু খালেদার পুত্র বলে কথা।

শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত যা বুঝলাম আগামীতে খালেদার ক্ষমতায় আসার স্বপ্নে বিভোর, তবে খালেদা যুদ্ধাপরাধীদের মুক্তি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় আসতে চাচ্ছে। খালেদাকে যুদ্ধাপরাধ মামলার বিষয়ে অবহিত করলেন রাজ্জাক

ধন্যবাদ।
-সুলতান মির্জা-