ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

 

জামাতে ইসলাম বাংলাদেশে তাদের দ্বাবি আদায় করতে হরতাল করেছে। বিষয়টি নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ করার সময় এসেছে, কেন না যে রাজনৈতিক দলটি মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় তাদের কর্মকান্ডের জন্য সর্ব মহলে বিতর্কিত। তারা এই বাংলাদেশে স্বাধীনতার বিয়াল্লিশ বছরের মধ্যে একক ভাবে হরতাল করার ক্ষমতা রাখে এটা ভাবনার বিষয়। মৌলবাদী আদর্শের রাজনীতি করে তারা এতটুকু পর্যন্ত এগিয়েছে যা আমাদের সমগ্র জাতির জন্য লজ্জাজনক একটি অধ্যায়। সাধারণ ভাবে একটি প্রশ্ন দার হয়ে যায়, তাহলে আমরা কী করছি ? আমরা কী এই স্বাধীনতা বিরোধী মৌলবাদী পরাজিত শক্তিটিকে লালন পালন করছি, আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম কে বিষাক্ত ছোবল দেওয়ার জন্য ?

অপেক্ষা দৃষ্টে তাই মনে হচ্ছে, কেন না আমাদের দেশের একটি বৃহত্‍ রাজনৈতিক দল ক্ষমতায় যাওয়ার লোভে তাদের গুড়িতে পানি ঢেলে ক্রমাননয়ে বড় করছে তাতে সন্দেহ নেই। গলকালকের হরতালের প্রাক্কালে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, ব্লগ, ফেসবুক এ দেখেছি প্রতিবাদের চিত্কার, বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের অনেক চেতনার সৈনিকেরা প্রতিবাদ প্রদর্শন করেছে তাদের নিজেদের ভাষায়। এটা খুব ভাল দিক। কিন্তু যাদের হাতে ক্ষমতা সরকার নির্বাচন কমিশন তারা কী ভাবছে ? শুধু কী রাজনৈতিক বক্তব্য দিয়ে পার করতে চাইছে এই বিষাক্ত ছোবলের সাপদের ?

স্বাধীনতা বিরোধী, খুনী, দালাল চক্র, একাত্তরের পরাজিত শক্তি জামাত। আপনারা নিশ্চয় অবগত রয়েছেন রাজনৈতিক ভাবে জামাত পাকিস্তান ভিত্তিক একটি রাজনৈতিক দল মাত্র। যেই পাকিস্তানে এখনো ধমীয় উপাসনালয়, গির্জায় প্রকাশ্য দিনের আলোয় নির্বিচারে সংখ্যালঘুদের উপর হামলা চালায় এই জামাতীদের পাকিস্তান শাখার কর্মীরা। আন্তর্জাতিক ভাবে জামাত হলো ধর্মীয় একটি উগ্রবাদী সংগঠন, সেখানে এই জামাত এখনো বাংলাদেশে কী করে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে ? বিষয়টি আমার মত আম জনতাকে খুব পীড়া দেয়, অথচ এটাই সত্যি যে জামাত স্বাধীন বাংলাদেশে তাদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে বুক ফুলিয়ে। যেন দেখার কেউ নেই, বড় আজব মনে হয়।

আমি যখন এই ব্লগ লিখছি তার কিছুক্ষণ আগে অনলাইন একটি পত্রিকায় দেখলাম, নির্বাচন কমিশনের ডাকে সারা দিয়ে জামাতে ইসলাম এবার তাদের গঠনতন্ত্র থেকে আল্লাহ রাসূলের নাম গায়েব করে দিয়েছে। ছলচাতুরীর ক্রান্তিলগ্নে নেহায়েত রাজনৈতিক উচ্চবিলাসিতার দিকে দৃষ্টি রেখে জামাতে ইসলামী এই ধরনের একটি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে সংশোধিত আকারে গঠনতন্ত্র জমা দেওয়ার কারণে কী জামাতে ইসলাম আধুনিক একটি রাজনৈতিক দলে রূপান্তরিত হয়ে যাবে ?

যে জামাতের রাজনীতি নিয়ে তর্ক বিতর্কের শেষ নেই। সরকারের কিছুটা সদিচ্ছা থাকলেই চলে, এদের মূল গঠনতন্ত্র নিয়ে যদি কথা বলা হয়, তখন প্রথম থেকেই বলা যায় এরা কোনও রাজনৈতিক দল হতে পারে না। এরা মূলত ধর্মান্ধ, উগ্রপন্থী, ধর্ম ব্যবসায়ীর লেবেল পরিহিত একটি গোত্র মাত্র। কিন্তু অবাক হতে হয় আরও যখন ২০০৮ সালের নির্বাচন কমিশনের কাছে জামাতের নিবন্ধনের বিষয়টি একটি ঝুলন্ত প্রক্রিয়া হিসেবে থেকেও, স্বাধীন বাংলাদেশে এই ঘাতকের দল রাজনীতি করে যাচ্ছে। কিসের উপরে ভিত্তি করে তা আমার জানা নেই, কিন্তু বলার অপেক্ষা রাখে না, জামাত এর রাজনৈতিক পথ যদি আওয়ামীলীগ বন্ধ করতে না পারে, তাহলে এর দ্বায় কিন্তু আওয়ামীলীগ কোনও দিন এড়াতে পারবে না। কারণ আওয়ামীলীগ হল মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের রাজনৈতিক দল, আরও রাজনৈতিক দল রয়েছে কিন্তু ক্ষমতার অংশীদারিত্বে কেবল আওয়ামীলীগের উপর এই দায় বর্তায়।

সকলের অবগতির জন্য এই ধর্মান্ধ রাজনৈতিক দলটির গঠনতন্ত্রের কিছু নমুনা পেশ করছি, তারপর এই প্রসঙ্গে করছি আরও কিছু আলোচনা,একটি স্কিনশর্ট দেখুন, যেখানে ২০০৮ সালের নির্বাচন কমিশনে দলটির নিবন্ধন নিয়ে আপত্তি তোলা হয়েছিল, নির্বাচন কমিশন সুত্রে সংবাদপত্র মাধ্যমে জেনেছি জামাতের সংশোধিত গঠনতন্ত্রের ২ ধারার ৫ উপ-ধারায় বলা হয়েছে, ‘আল্লাহ ব্যতীত অপর কাহাকেও বাদশাহ, রাজাধিরাজ ও সার্বভৌম ক্ষমতার মালিক মানিয়া লইবে না, … কাহাকেও স্বয়ংসম্পূর্ণ বিধানদাতা ও আইন প্রণেতা মানিয়া লইবে না … আল্লাহ ব্যতীত অপর কাহারো আসলেই নেই।’
নির্বাচন কমিশনের গঠনতন্ত্র পর্যালোচনা কমিটির মতে, এ ধারার মাধ্যমে জনগণের রায়ে নির্বাচিত সংসদের আইন প্রণয়নের ক্ষমতাকে অবজ্ঞা করা হয়েছে।

গঠনতন্ত্রের ৫ ধারার ৩ উপধারায় জামায়াতের দাওয়াত সম্পর্কে বলা হয়েছে, ‘… বাংলাদেশে ইসলামের সুবিচারপূর্ণ শাসন কায়েম করিয়া সমাজ হইতে সকল প্রকার জুলুম, শোষণ, দুর্নীতি ও অবিচারের অবসান ঘটানোর আহ্বান।’

কিন্তু বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী দেশ গণতান্ত্রিক রীতিতে পরিচালিত হবে; এখানে ইসলামের সুবিচারপূর্ণ শাসনব্যবস্থা কায়েমের কোনো সুযোগ নেই বলে মনে করে নির্বাচন কমিশন। ছবিতে হলুদ বক্স চিহ্নিত কথা গুলো নিয়ে শুধু নির্বাচন কমিশন আপত্তি দেখিয়েছে,
দেখুন স্কিনশর্ট

দেখুন সংশোধিত জামাতের গঠনতন্ত্রের নমুনা হাইলাইটসে জামাত নির্বাচন কমিশনের দাবির প্রেক্ষাপটে তাদের নীতির পরিবর্তন কতটুকু করেছে শুধুমাত্র নিজেদের পিঠ বাচিয়ে রাখার জন্য,

আল্লাহ ব্যতীত কাহাকেও স্বয়ংসম্পূর্ণ বিধানদাতা ও আইন প্রণেতা মানিয়া লইবে না এবং আল্লাহ্র আনুগত্য ও তাঁহার দেওয়া আইন পালনের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত নয় এমন সকল আনুগত্য মানিয়া লইতে অস্বীকার করিবে’ এ নীতিটিও গঠনতন্ত্র থেকে বাদ পড়েছে।
জামায়াতে ইসলামীর সংশোধিত গঠনতন্ত্রে এগুলো ছাড়াও বেশ কিছু ভাষাগত ও তত্ত্বগত পরিবর্তন আনা হয়েছে। এর অন্যতম হচ্ছে- ‘সমাজের সর্বস্তরে খোদাভীরু নেতৃত্ব কায়েমের চেষ্টা’র বদলে ‘চরিত্রবান নেতৃত্ব’ কথাটি সংযোজন।
নির্বাচন কমিশন জামায়াতে ইসলামীর গঠনতন্ত্রের ২ ধারার ৫ উপধারা, ধারা ৩, ৫ ধারার ৩ উপধারা, ৬ ধারার ৪ উপধারা, ৭ ধারার ১ থেকে ৪ উপধারা, ১১ ধারার ২ উপধারা ও ১৮ ধারার ৪ (চ) উপধারা সংশোধনের তাগিদ দেয়। দলটির নিবন্ধনের সময়ও এসব ধারা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে
দলটির গঠনতন্ত্রের ২ ধারা ৫ উপধারার একাংশে বলা ছিল, ‘(আল্লাহ ব্যতীত) কাহাকেও সয়ংসম্পূর্ণ বিধানদাতা ও আইন প্রণেতা মানিয়া লইবে না এবং আল্লাহ্র আনুগত্য ও তাঁহার দেওয়া আইন পালনের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত নয় এমন সকল আনুগত্য মানিয়া লইতে অস্বীকার করিবে।’ সংশোধিত গঠনতন্ত্রে এ অংশটি বাদ দেওয়া হয়েছে।
৩ ধারায় দলের লক্ষ্য উদ্দেশ্য সম্পর্কে ভূমিকাসহ ৪ টি উপধারাতে আল্লাহ প্রদত্ত ও রাসূল (সাঃ) প্রদর্শিত পথ থেকে দ্বীন (ইসলামী জীবন বিধান) কায়েমের প্রচেষ্টার কথা বলা ছিল। সেগুলো বাদ দিয়ে বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা করা এবং মহান আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টি অর্জন’ বাক্যটি সংযোজন করা হয়েছে।
৫ ধারা ৩ উপধারায় বলা ছিল, ‘সংঘবদ্ধ প্রচেষ্টার মাধ্যমে বাংলাদেশে ইসলামের সুবিচারপূর্ণ শাসন কায়েম করিয়া সমাজ হইতে সকল প্রকার জুলুম, শোষণ, দুর্নীতি ও অবিচারের অবসান ঘটাইবার আহ্বান জানাইবে।’ এ অংশ থেকে ‘ইসলামের’ শব্দটি বাদ দিয়ে তার পরিবর্তে ‘গণতান্ত্রিক পদ্ধতি’ কথাটি সংযোজন করা হয়েছে।
৬ ধারার ৪ উপধারায় বলা ছিল, ‘ইসলামের পূর্ণাঙ্গ প্রতিষ্ঠাকল্পে গোটা রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় বাঞ্ছিত সংশোধন আনায়নের উদ্দেশ্যে নিয়মতান্ত্রিক পন্থায় সরকার পরিবর্তন এবং সমাজের সর্বস্তরে সৎ ও খোদাভীরু নেতৃত্ব কায়েমের চেষ্টা করা।’ এ কথাগুলো থেকে ‘খোদাভীরু’ শব্দটি বাদ দিয়ে ‘চরিত্রবান’ শব্দটি যোগ করা হয়েছে।
৭ ধারার ১ থেকে ৪ উপধারায় জামায়াতের সদস্য হতে হলে ইসলামে বিশ্বাস ও শরীয়তের নির্ধারিত ফরজ ও ওয়াজিব আদায়ের শর্ত দেওয়া ছিল। এগুলো বিলুপ্ত করা হয়েছে।
১১ ধারার ২ উপ ধারায় যে কোনো অমুসলিম নাগরিক কয়েকটি শর্ত পূরণের মাধ্যমে জামায়াতের সদস্য হতে পারবে বলা ছিল। এ উপধারাটি দলের গঠনতন্ত্রের মূল উদ্দেশ্যের সাথে সাংঘর্ষিক ও স্ব-বিরোধী বলে জানায় নির্বাচন কমিশন। জামায়াত এ উপধারাটি বিলুপ্ত করেছে।
জামায়াতের গঠনতন্ত্রের ১৮ ধারার ৪ (চ) উপধারায় বলা ছিল ‘আমীরে জামায়াত কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সহিত পরামর্শ করিয়া প্রযোজনীয় সংখ্যক সদস্যকে ( রুকনকে) কেন্দ্রীয় মজলিশে শূরার সদস্য মনোনীত করিতে পারিবেন।’ এটি আরপিও পরিপন্থি মর্মে উল্লেখ করে নির্বাচন কমিশন। সংশোধিত গঠনতন্ত্রে এ উপধারাটিও বিলুপ্ত করা হয়েছে।

সুত্র: লিঙ্ক

এর মানে কী দাড়াচ্ছে, জামাত ধর্মের নাম ব্যবহার করে এতদিন শুধু ফায়দা লুটেছে নিজেদের স্বার্থের জন্য ? তাই নয় কী ? যদি তাই না হতো বা আল্লাহর সৃষ্টি ইসলাম ধর্মের প্রতি তাদের আস্থা পরিপূর্ণ ভাবে থাকতো তাহলে কী করে এত তাড়াতাড়ি নিজেদের গঠন তন্ত্র থেকে আল্লাহর নাম গায়েব করে দিয়ে সাধু সাজার চেষ্টা করছে ? আসলে এই দোলটা পরিপূর্ণ একটি ভন্ড গোছের রাজনৈতিক দল, যদি তাই না হতো তাহলে এই ধরনের কাজ করতে পারতো না।

অপরদিকে দেখুন জামাতে ইসলাম প্রাইভেট কোম্পানীর সৃষ্টি তরুণ প্রজন্ম কে আধুনিক উপায়ে ব্যাখ্যা প্রদান করে তাদের শিবির নামক একটি প্রতিষ্ঠানে কী করে যুক্ত করে সেটা নিয়ে কিছু তথ্য উপাত্ত তুলে ধরা। আপনাদের অনেকেই জানেন না, একটা শিবিরের কর্মী কতটুকু মগজ ধোলাইয়ের পরে তৈরি হয়ে থাকে। কিন্তু তাদের চালচলনে খুব সহজেই ধরা যায় তারা স্বাধীনতা বিরোধী অপশক্তি জামাতের পারপাচ সাফ করে।

ইদানিং কালে এই শিবিরের কর্মকান্ডের গতি আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে অনেকটা স্লুথ হয়ে পড়েছে। কিন্তু তারপরেও তারা বসে নেই, তাদের মগজ ধোলাই প্রকল্প থেকে। তারা ব্লগ, ফেসবুক ও বিভিন্ন সামাজিক ওয়েবসাইটে তাদের কর্মকাণ্ড অব্যাহত রেখেছে। যা আমাদের মেধা সম্বলিত তরুণ প্রজন্মের জন্য ভয়াবহ বিপদজ্জনক বলে মনে করছি। আমরা অনেকেই জানি, জামাত কী, শিবির কী, এই দলটির জন্ম সম্মন্ধে, আমরা অনেকেই জানি এই দলটির নীতির বিষয়ে, পারত পক্ষে বলতে চাচ্ছিলাম না কিন্তু এদের ধর্মীয় অনুশাসনের বেড়াজালে ভন্ডামি গুলো দেখে না বলে পারছি না, জামায়াতের ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্র শিবিরের সংগৃহীত কিছু ধর্মীয় ভন্ডামির নমুনা প্রদর্শন।

মার্চ, ১৯৮১ / প্রতিষ্ঠার মাত্র তিন বছরের মাথায় শিবির ক্যাডাররা চট্টগ্রাম সিটি কলেজের নির্বাচিত এজিএস ছাত্রলীগ নেতা তবারক হোসেনকে কলেজ ক্যাম্পাসেই কিরিচ দিয়ে কুপিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করে। কিরিচের এলোপাতাড়ি কোপে মুমূর্ষু তবারক যখন পানি পানি করে কাতরাচ্ছিল তখন এক শিবিরকর্মী তার মুখে প্রস্রাব করে দেয়।
১১ মার্চ, ১৯৮২ / চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে ৩ বাস বহিরাগত সন্ত্রাসী নিয়ে এসে শিবির ক্যাডাররা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ ছাত্রদের উপর হামলা চালায়। এই সহিংস ঘটনায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বিশ্ববিদ্যালয়ে শিবিরের রাজনীতি নিষিদ্ধ ঘোষণা করে।
১৯৮৪ / চট্টগ্রাম কলেজের সোহরাওয়ার্দী হলের ১৫ নম্বর কক্ষে শিবিরেরকর্মীরা ছাত্র ইউনিয়ন নেতা ও মেধাবী ছাত্র শাহাদাত হোসেনকে জবাই করে হত্যা করে।
১৯৮৬ / শিবির ডান হাতের কবজি কেটে নেয় জাতীয় ছাত্রসমাজের নেতা আবদুল হামিদের। পরবর্তীতে ঐ কর্তিত হাত বর্ষার ফলায় গেঁথে তারা উল্লাস প্রকাশ করে।
৩১ মে, ১৯৮৮ / রাজশাহী মেডিকেল কলেজ মেইন হোস্টেলের সামনে, কলেজের প্রিন্সিপাল ও একাডেমিক কাউন্সিলের সদস্যবৃন্দ, ও শত শত শিক্ষাথীদের সামনে ছাত্রমৈত্রী নেতা ডাক্তার জামিল আক্তার রতনকে কুপিয়ে ও হাত পায়ের রগ কেটে হত্যা করে শিবিরের ক্যাডাররা।
১৯৮৮ / চাঁপাইনবাবগঞ্জের বীর মুক্তিযোদ্ধা ও জাসদ নেতা জালালকে তার নিজ বাড়ীর সামনে কুপিয়ে হত্যা করে শিবির ক্যাডাররা।
জুলাই প্রথম সপ্তাহ, ১৯৮৮ / বহিরাগত শিবির ক্যাডারদের হামলায় আমির আলী হল ছাত্র সংসদের জিএস ও জাসদ ছাত্রলীগ নেতা প্রিন্স সহ ২০-২৫ জন আহত হয়।
১৭ জুলাই, ১৯৮৮ / ভোর সাড়ে চারটার দিকে এস এম হলে বহিরাগত শিবির ক্যাডাররা হামলা চালায় এবং জাসদ ছাত্রলীগের রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সহ-সভাপতি ও সিনেট সদস্য আইয়ূব আলী খান, বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক ও সিনেট সদস্য আহসানুল কবির বাদল এবং হল সংসদের ভিপি নওশাদের হাত-পায়ের রগ কেটে দেয়।
১৯৮৮ / সিলেটে শিবির ক্যাডাররা মুনীর, জুয়েল ও তপনকে বর্বরভাবে হত্যা করে।
আগষ্ট, ১৯৮৮ / রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক মোঃ ইউনুসের বাসভবনে ছাত্র শিবির বোমা হামলা করে। এতে অধ্যাপক ইউনুস বেঁচে গেলেও তার বাড়ীর কর্মচারী আহত হয়।
রমজান মাস, ১৯৮৯ / ছাত্র ইউনিয়নের রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি গাজী গোলাম মোস্তফাকে বিশ্ববিদ্যালয় পাশ্ববতী চকপাড়ায় ইফতারের দাওয়াত দিয়ে নিয়ে গিয়ে হাতের রগ কেটে দেয় শিবির ক্যাডাররা।
নভেম্বর, ১৯৮৯ / নজরুল ইসলাম মিলনায়তনের সামনে সন্ধ্যায় জাসদ ছাত্রলীগের নেতা-কমীদের ওপর শিবিরের বোমা হামলায় বাবু, রফিক সহ ১০ জন আহত হয়।
২২ ডিসেম্বর, ১৯৯০ / ছাত্রমৈত্রীর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ সভাপতি ফারুকুজ্জামান ফারম্নককে শিবিরের ক্যাডাররা জবেহ করে হত্যা করে।
১৭ মার্চ, ১৯৯২ / পবিত্র রমজান মাসে চট্টগ্রামের কুখ্যাত সিরাজুস সালেহীন বাহিনীসহ কয়েক হাজার সশস্ত্র বহিরাগত শিবীর সন্ত্রাসী রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বেলা ১১ টার সময় অতর্কিত হামলা চালালে জাসদ ছাত্রলীগ নেতা ইয়াসীর আরাফাত পিটু নিহত হয় এবং জাসদ ছাত্রলীগের আইভি, নির্মল, লেমন, রুশো, জাফু, ফারুক এবং সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের রাজেশ সহ প্রায় দেড়শাতাধিক ছাত্র-ছাত্রী আহত হয়। এদের অধিকাংশেরই হাত-পায়ের রগ কেটে দেয়া হয় এবং রাজেশের কব্জি কেটে ফেলা হয়। এই হামলার সময় শিবির ক্যাডাররা এস এম হল, আনোয়ার হল এবং লতিফ হল আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দেয়। ব্যাপক আকারে গান পাউডারের ব্যবহার করায় হলের জানালার কাঁচগুলো গলে গিয়েছিলো। লতিফ হলের অনেকগুলো কক্ষ এখনো অব্যবহূত অবস্থায় পড়ে আছে। এই হামলার তীব্রতা এতই ছিল যে, বেলা ১১টায় শুরু হওয়া হামলা রাত ৩টায় বিডিআর নামানোর আগ পর্যন্ত বন্ধ হয়নি।
মে, ১৯৯২ / ইসলামী ছাত্রী সংস্থা রাজশাহী কলেজ শাখার নেত্রী মুনীরা বোমা বহন করার সময় বিষ্ফোরণে মারা যায় এবং তার সহযাত্রী-সহকমী আপন খালা এবং ঐ রিকসাওয়ালা আহত হয়।
১৯ জুন, ১৯৯২ / শহীদ জননী জাহানারা ইমামের নেতৃত্বে যুদ্ধাপরাধী গোলাম আযমের বিচারের দাবিতে গড়ে ওঠা আন্দোলনে হরতাল কর্মসূচি সফল করার লক্ষ্যে জাসদের মিছিল চলাকালে শিবিরের সশস্ত্র হামলায় সাহেব বাজার জিরো পয়েন্টে জাসদ নেতা মুকিম মারাত্মক আহত হন এবং ২৪ জুন তিনি মারা যান।
আগষ্ট, ১৯৯২/ বিশ্ববিদ্যালয় পাশ্ববর্তি নতুন বুথপাড়ায় শিবির ক্যাডার মোজাম্মেলের বাড়ীতে বোমা বানানোর সময় শিবির ক্যাডার আজিবর সহ অজ্ঞাতনামা অন্তত আরো তিন জন নিহত হয়। বিষ্ফোরণে পুরো ঘর মাটির সাথে মিশে যায় এবং টিনের চাল কয়েকশ গজ দুরে গাছের ডালে ঝুলতে দেখা যায়। পরবর্তীতে পুলিশ মহল্লার একটি ডোবা থেকে অনেকগুলো খন্ডিত হাত পা উদ্ধার করে। যদিও শিবির আজিবর ছাড়া আর কারো মৃতু্র কথা স্বীকার করেনি। পুলিশ বাদি হয়ে মতিহার থানায় শিবির ক্যাডার মোজাম্মেলকে প্রধান আসামী করে বিষ্ফোরক ও হত্যা মামলা দায়ের করে। প্রায় ৫ বছর পলাতক থাকার পর মামলা ম্যানেজ করে মোজাম্মেল এলাকায় ফিরে আসে এবং জামাতের রাজনীতিতে পুনরায় সক্রিয় হয়।
৬ ফেব্রুয়ারি, ১৯৯৩ / রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে শিবির সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীদের ওপর সশস্ত্র হামলা চালালে ছাত্রদল ও সাবেক ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ মিলে গঠিত সর্বদলীয় ছাত্র ঐক্যের ওপর শিবিরের হামলায় ছাত্রদল নেতা বিশ্বজিৎ, সাধারণ ছাত্র নতুন এবং ছাত্র ইউনিয়নের তপন সহ ৫ জন ছাত্র নিহত হয়।
১৯৯৯ / চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. এনামুল হকের ছেলে ও ছাত্রদল নেতা মোহাম্মদ মুছাকে শিবিরকমীরা নৃশংসভাবে হত্যা করে।
১৯ সেপ্টেম্বর, ১৯৯৩ / বহিরাগত সশস্ত্র শিবির কমীরা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শেরেবাংলা হলে হামলা চালিয়ে ছাত্রমৈত্রী নেতা বিশ্ববিদ্যালয় টিমের মেধাবী ক্রিকেটার জুবায়েদ চৌধুরী রিমুকে হাত-পায়ের রগ কেটে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যা করে।
১৯৯৪ / পরীক্ষা দিতে আসার পথে তৃতীয় বিজ্ঞান ভবনের সামনের রাস্তায় ছাত্রমৈত্রী নেতা প্রদুৎ রুদ্র চৈতীর হাতের কব্জি কেটে নেয় শিবির কমীরা।
১৩ ফেব্রুয়ারি, ১৯৯৫ / শিবির কমীরা বিশ্ববিদ্যালয় পাশ্ববতী চৌদ্দপাই নামক স্থানে রাজশাহী থেকে ঢাকাগামী সকাল-সন্ধ্যা বাসে হামলা চালিয়ে বাংলাদেশ ছাত্রমৈত্রী নেতা দেবাশীষ ভট্টাচায রূপমকে বাসের মধ্যে যাত্রীদের সামনে কুপিয়ে হত্যা করে। হত্যার আগে বর্বর শিবির ক্যাডাররা তার হাত ও পায়ের রগ কেটে নেয়।
জুলাই, ১৯৯৫ / জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নেতা-কমীদের ওপর সশস্ত্র শিবির কমীরা হামলা করে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ছাত্রনেতা ফরহাদের হাতের কব্জি কেটে নেয়। এ হামলায় প্রায় ২৫ জন ছাত্রদল নেতা-কমীর হাত পায়ের রগ কেটে নেয় শিবির ক্যাডাররা।
১৯৯৬ / জাসাস রাবি শাখার সাধারণ সম্পাদক আমান উল্লাহ আমানকে কেন্দ্রীয় লাইব্রেরীর সামনে প্রকাশ্য দিবালোকে কুপিয়ে হত্যা করে এবং ছাত্রদল নেতা ডুপ্লের হাত-পায়ের রগ কেটে দেয়। এদের বাঁচাতে এসে দুইজন সহপাঠি ছাত্রী এবং একজন শিক্ষকও আহত হয়।
১৯৯৭ / চট্টগ্রাম পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট দখল করার জন্য শিবির ক্যাডাররা ছাত্র সংসদের ভিপি মোহাম্মদ জমির ও কলেজ ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ফরিদউদ্দিন আহমদকে গুলি করার পর পায়ের রগ কেটে হত্যা করে।
১৯৯৭ / বঙ্গবন্ধু পরিষদের রাবি শাখার সভাপতি অধ্যাপক আব্দুল খালেক, জিয়া পরিষদ নেতা হাবিবুর রহমান আকন্দ সহ প্রায় বিশ জন শিক্ষকের বাসায় বোমা হামলা ও অগ্নি সংযোগ করে ছাত্র শিবির।
১৯৯৭ / গভীর রাতে রাবি ক্যাম্পাসে বহিরাগত শিবির সন্ত্রাসীদের হামলায় ছাত্রলীগ নেতা-কমীরা আহত হয়। রাবি জিমনেসিয়াম পুলিশ ক্যাম্পেও বোমা হামলা করে শিবির।
১৯৯৮ / শিক্ষক সমিতির মিটিং থেকে ফেরার পথে রাবি শহীদ মিনারের সামনে অধ্যাপক মোঃ ইউনুসের ওপর সশস্ত্র হামলা চালায় ছাত্র শিবির। ছাত্র-কর্মচারীদের প্রতিরোধে অধ্যাপক ইউনুস প্রাণে বেঁচে গেলেও মারাত্মক আহত হন তিনি।
১৯৯৯ / রাবিতে অবস্থিত ’৭১ এর গণকবরে স্মৃতিসৌধ নির্মানের জন্য স্থাপিত ভিত্তি প্রস্তর রাতের আঁধারে ছাত্র শিবির ভাঙ্গতে গেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন কর্মচারী বাধা দেন। ফলে শিবির ক্যাডাররা তাকে কুপিয়ে আহত করে এবং ভিত্তিপ্রস্তর ভেঙ্গে ফেলে।
২২ আগস্ট, ১৯৯৮ / চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র ইউনিয়নের কর্মী সঞ্জয় তলাপত্রকে হত্যা করে শিবির ক্যাডাররা।
২০০০ / চট্টগ্রামের বদ্দরহাটে শিবির ক্যাডাররা মাইক্রোবাসের মধ্যে থাকা ৮ ছাত্রলীগ নেতাকর্মীকে প্রকাশ্য দিবালোকে ব্রাশফায়ার করে নৃশংসভাবে হত্যা করে।
২০০১ / রাবি ছাত্রী হলে বহিরাগত অনুপ্রবেশকে কেন্দ্র করে অনুষ্ঠিত ছাত্রী বিক্ষোভে সশস্ত্র ছাত্র শিবির কমীরা কমাণ্ডো হামলা চালায় এবং ছাত্রীদেরকে লাঞ্ছিত ও রক্তাক্ত করে।
অক্টোবরের শেষ সপ্তাহ, ২০০১ / রাবি অধ্যাপক সনৎ কুমার সাহাকে ছাত্র শিবির কমীরা হাত পা বেধে জবাই করার চেষ্টা করে। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারীরা টের পাবার ফলে, তাদের হস্তক্ষেপে তিনি প্রাণে বেঁচে যান।
২০০২ / রাবি সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট নেতা সুশান্ত সিনহাকে প্রকাশ্য দিবালোকে পিটিয়ে হাত-পা ভেঙ্গে দেয় শিবির কর্মীরা।
২৫ জুলাই, ২০০৪ / শিবির ক্যাডার রবি, রোকনের নেতৃত্বে প্রায় ১৫/২০ জনের একটি দল রাবি ছাত্রফ্রন্টের সাধারণ সম্পাদক সুশান্ত সিনহার ওপর হামলা চালায়। ইট দিয়ে জখম করার পামাপাশি তার মেরুদণ্ড ভেঙ্গে দেয়ার চেষ্টা চালায় শিবির ক্যাডাররা।
২০০৪ / রাবি ছাত্রী হলে বহিরাগত অনুপ্রবেশকে কেন্দ্র করে অনুষ্ঠিত ছাত্রী বিক্ষোভে সশস্ত্র ছাত্র শিবির কমীরা হামলা চালায়।
২০০৪ / অধ্যাপক মোঃ ইউনুসকে ফজরের নামাজ পড়তে যাবার সময় কুপিয়ে হত্যা করা হয়। যদিও এই হত্যা মামলায় জেএমবির দুইজন সদস্যকে ফাঁসি দেয়া হয়েছে। তারপরও এলাকাবাসী অনেকেরই মতামত হচ্ছে ছাত্র শিবিরের ক্যাডাররাই তাকে হত্যা করেছে। উল্লেখ্য, ১৯৮৮ ও ১৯৯৮ সালে দুই দফায় ছাত্র শিবির তাকে হত্যার চেষ্টা করেছিল।
২৬ সেপ্টেম্বর, ২০০৪ / বরিশালের বাবুগঞ্জের আগরপুর ইউনিয়নের ছাত্রমৈত্রীর সভাপতি শামীম আহমেদকে শিবির ক্যাডাররা হত্যা করে।
৩০ অক্টোবর, ২০০৪/ জামাতের বর্তমান রাজশাহী মহানগরের আমীর আতাউর রহমান এবং প্রক্টর নূরুল আফসারের উপস্থিতিতে ছাত্রীদের মিছিলে হামলা চালিয়ে শিবির ক্যাডাররা প্রায় অর্ধ শতাধিক ছাত্রীকে রক্তাক্ত করে।
১০ ডিসেম্বর, ২০০৫ / সন্ধ্যায় জুবেরী ভবনের সামনে রাবি ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি এস এম চন্দনের ওপর হামরা চালিয়ে তার রগ কেটে নেয়ার চেষ্টা চালায় শিবির ক্যাডাররা।
২রা ফেব্রুয়ারি, ২০০৬ / বিশ্ববিদ্যালয়ের জামাতপন্থী শিক্ষক মহিউদ্দিন এবং রাবি ছাত্র শিবির সভাপতি মাহবুব আলম সালেহীন সহ আরো দুইজন শিবির ক্যাডার মিলে একযোগে অতকিতে হামলা চালিয়ে রাবি’র ভূতত্ত্ব ও খনিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক আবু তাহেরকে হত্যা করে।
২১ আগস্ট, ২০০৬ / রাবিতে অনুষ্ঠিত ‘সেকুলারিজম ও শিক্ষা’ শীষক সেমিনারে বক্তব্য দেয়ার অপরাধে অধ্যাপক হাসান আজিজুল হককে ক্যাম্পাসে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে শিবির। প্রকাশ্য সমাবেশে তারা অধ্যাপক হাসান আজিজুল হকের গলা কেটে বঙ্গোপসাগরে ভাসিয়ে দেয়ার ঘোষণা দেয়।
৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১০ / রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগ কর্মী ফারুক হোসেনকে হত্যা করে ম্যানহোলের মধ্যে ফেলে রাখে শিবিরের ক্যাডাররা।

সুত্র এই লিংকে দেখুন আরও তথ্য রয়েছে।

এইবার জামাতের ছাত্র সংগঠন শিবিরের কথা মালার প্রশ্ন সম্মলিত কিছু জওয়াব ও সওয়াল এইখানে তুলে ধরা হলো, দেখুন কিভাবে শিবির ধর্মীয় নাম বিক্রি করে আধুনিক ভন্ডামির মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মের ছেলে-মেয়েদের কে তাদের পক্ষে টানছে,

শুরুটা হচ্ছে তাদের এইভাবে শিবির কী ? তাদের ভাষায় বলা হয়ে থাকে শিবির হচ্ছে ইসলাম প্রতিষ্ঠার রাজনীতি নিঃসন্দেহে সন্ত্রাসমুক্ত ও কল্যাণকর। শিবির ইসলামী সংগঠন হওয়ায় এর রাজনীতিও কল্যাণকর। দেখুন কত মিষ্টি আওয়াজ। ইসলামী চেতনা সম্পর্কিত। আসলে কী তাই ? শিবিরের প্রচার ভাষ্য মতে আধুনিক মগজ ধোলাইয়ের জন্য ধর্ম কে ঢাল হিসেবে নিয়ে সকল ভন্ডামির গল্প রয়েছে তাদের প্রকল্পে, যেমন দেখুন

ছাত্রশিবির কি কোন রাজনৈতিক সংগঠন?
মানুষের তৈরি করা আইন প্রতিষ্ঠার দলে শামিল হওয়া হারাম আর ইসলামী দলে শামিল হওয়া ফরয। কাজেই ইসলামী দলে সমপৃক্ত না হলে ফরয অনাদায় থেকে যায়। ফলে সঠিকভাবে ইসলাম মানা হয় না।
ছাত্রশিবির একটি ইসলামী সংগঠন। আর ইসলামে সব সমস্যার সমাধান রয়েছে। রাজনৈতিক সমস্যার সমাধানও ইসলামে আছে। ইসলামের রাজনৈতিক শিক্ষা পরিহার করে সঠিক ও পূর্ণাঙ্গ মুসলমান হওয়া যায় না। তাই, সঠিক ও পূর্ণাঙ্গ মুসলমান হওয়ার স্বার্থে শিবির রাজনৈতিকভাবে সচেতন।

ছাত্রশিবির কি ক্যাডারভিত্তিক সংগঠন? জ্ঞান, যোগ্যতা, চরিত্র ইত্যাদিকে ভিত্তি করে শিবির তার জনশক্তিকে সমর্থক, কর্মী, সাথী, সদস্য ইত্যাদি স্তরে বিভক্ত করে থাকে। এ স্তরভিত্তিক বিভক্তিকরণকে ক্যাডার সিস্টেম বলা হয়। উত্কৃস্থ মেধাবী ক্যাডার বলা যেতে পারে।

ছাত্রশিবির কি জামায়াতের অঙ্গ সংগঠন?
না, ছাত্রশিবির জামায়াতের অঙ্গ-সংগঠন নয়।

আপনারা কি জামায়াতে ইসলামীকে সমর্থন করেন?
আমরা ইসলামকে সমর্থন করি। জামায়াতে ইসলামী একটি ইসলামী দল হওয়ার কারণে এ দলকেও আমরা সমর্থন করি। শুধু জামায়াতে ইসলামী নয় বরং যারা যারা ইসলামের পক্ষে ও জাহেলিয়াতের বিপক্ষে কাজ করছেন তাদের সবাইকে আমরা আমাদের বন্ধু ও সহায়ক মনে করি।

ছাত্রশিবিরকে রগ কাটা বলা হয় কেন? অন্যান্য দলকে তো রগকাটা বলে না। তাহলে ছাত্রশিবিরকে কেন রগকাটা বলা হয়?
একটু চিন্তা করুন -এক জনের রগ কাটতে গেলে দুইজন লোক লাগবে দুই হাত ধরতে, দুজন লাগবে দুই পা ধরার জন্য, আর একজন প্রয়োজন হবে মুখ ঠেসে ধরার জন্য। আর ষষ্ঠজনকে রগ কাটতে হবে। এভাবে রগ কাটাটা অত্যন্ত কষ্টসাধ্য ও ঝুঁকিপূর্ণ। তাছাড়া রগ কাটলে মানুষ মরে না বলে এতে সাক্ষীও থেকে যায়। পরে ধরা পড়ার আশংকা থাকে। কাজেই একজন অপরাধীও এমন বোকা নয় যে সে রগ কাটার মত এমন ঝুঁকিপূর্ণ পথ গ্রহণ করবে। রগ কাটার চেয়ে শব্দরোধকারী পিস্তল দিয়ে লুকিয়ে লুকিয়ে গুলি করা অনেক সহজ। কারণ এতে কষ্ট ও ঝুঁকি নেই। এতে কোন সাক্ষীও থাকে না। তাই ধরা পড়ার আশংকাও থাকে না। কাজেই একজন অপরাধী লোক কাউকে কষ্ট দিতে চাইলে রগ না কেটে এ পথই গ্রহণ করার কথা।

ছাত্রশিবিরের (চূড়ান্ত) লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য কি?
আল্লাহ প্রদত্ত ও রাসূল (সাঃ) প্রদর্শিত বিধানই একমাত্র অভ্রান্ত ও সর্বশ্রেষ্ঠ বিধান। মানুষের সার্বিক জীবনের পুনর্বিন্যাস বলতে বোঝায়- মানুষের ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিকসহ জীবনের সকল দিক ও বিভাগকেই ইসলামের চিরন্তন বিধান অনুযায়ী ঢেলে সাজানো।

আপনারা কি বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ দখল করে রেখেছেন?
চট্টগ্রাম ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়সহ বহু স্থানে শিবিরের মজবুত অবস্থান রয়েছে, আলহামদুলিল্লাহ। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় আমরা দখল করেছি,আমরা বিভিন্ন স্থানকে অপশক্তির হাত থেকে মুক্ত করতে সহায়তা করেছি।

জামায়াতে ইসলামী কি নারী নেতৃত্ব মেনে নেয়নি? তাহলে কেন চার দলে যোগ দিল?
ইসলামসম্মত তথা বিজ্ঞানসম্মত কারণে সার্বিক পরিসরে নারী নেতৃত্ব কাম্য নয়। সঙ্গত কারণেই জামায়াতে ইসলামীসহ কোন ইসলামী দলই সার্বিক পরিসরে নারী নেতৃত্ব পছন্দ করে না।
জামায়াতে ইসলামী চার দলে যোগ না দিলে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার সম্ভাবনা ছিল। তখনও নারী নেতৃত্বই বজায় থাকত। কাজেই চার দল গঠন করলেও নারী নেতৃত্ব, না করলেও নারী নেতৃত্ব। দুটোই তো মন্দ। জামায়াত সেজন্যই দুটো মন্দের মধ্যে যেটিকে অপেক্ষাকৃত কম মন্দ মনে করেছে সেটিকেই গ্রহণ করেছে (বাধ্য হয়েই)। কম মন্দটিকে গ্রহণ না করলে বেশি মন্দটিই বিজয়ী হত , গ্রহণ করতে হতো।
একসাথে চলা মানেই নেতৃত্ব মেনে নেওয়া নয়।
জনগণ জামায়াতকে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে রায় দেওয়ার পরও যদি জামায়াত কোন মহিলাকে রাষ্ট্রপ্রধান বা আমীর বানাতো কেবল তখনই বলা যেত যে- জামায়াত নারী নেতৃত্বের পক্ষে।

স্বাধীনতা মুক্তিযুদ্ধ প্রসঙ্গে, উল্লেখিত তথ্যে প্রশ্ন ছিল
আপনাদেরকে রাজাকার বা মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষের শক্তি বলা হয় কেন?
মগজ ধোলাই প্রকল্পে শিবিরের ভাষ্য হচ্ছে ছিল এই রকম,
১. জামায়াতে ইসলামীর নেতারা পাকিস্তান আমলেও সরকারী অন্যায় ও অপশাসনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছে, জেলও খেটেছে।
২. জামায়াত নেতৃবৃন্দ মনে করেছিলেন, শুধু অস্থানীয় শোষকদের তাড়ালেই হবে না। অস্থানীয় শোষকদের স্থান যদি স্থানীয় শোষকেরা দখল করে তাহলে স্বাধীনতার সুফল পাওয়া সম্ভব হবে না।
৩. একটি ইসলামী দল হিসেবে দীর্ঘদিনের ইসলাম বৈরী ভারতের নেতৃত্বে যুদ্ধে অংশ নেওয়া আদর্শগত কারণেই সম্ভব হয়নি।
৪. তিনদিকে ভারতবেষ্টিত বাংলাদেশ তৎকালীন পশ্চিম পাকিস্তান থেকে মুক্ত হলে প্রকারান্তরে ভারতের খপ্পরেই পড়তে হবে- এ আশংকা করেছিলেন জামায়াতের নেতৃবৃন্দ। আজকের ভারতের আচরণই প্রমাণ করে সে আশংকা অমূলক ছিল না। জামায়াত নেতৃবৃন্দের মতে, ভারতের খপ্পরে পড়ার ঝুঁকি না নিয়ে স্বায়ত্তশাসন দাবি করাটাই ছিল বুদ্ধিমানের কাজ।
৫. জামায়াত দলগতভাবে ঘোষণা দিয়ে স্বাধীনতার যুদ্ধে অংশগ্রহণ করতে পারেনি কিন্তু জামায়াতের বহু লোক ব্যক্তিগতভাবে মুক্তিযুদ্ধ করেছে। এখনও বহু মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের সন্তান জামায়াত ও শিবিরের সাথে জড়িত আছেন।
৬. বর্তমান প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশে কোন দেশের পক্ষ থেকে হামলা হলে তা ভারত থেকেই হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। কাজেই যারা ভারতবিরোধী তারাই মূলত স্বাধীনতার পক্ষের শক্তি। আর যারা ভারতের ভক্ত তারা ভারতের আক্রমণের প্রতিবাদ করতে চাবে না বিধায় তারাই স্বাধীনতার বিপক্ষের শক্তি।

তালেবান জঙ্গি নিয়ে জামাত-শিবিরের মতাদর্শ কী বলে, তালেবানদের আপনারা কি দৃষ্টিতে দেখেন? তারা কি আপনাদের আদর্শ? উত্তর তাদের ভাষায়, ছিল এই রকম আমরা তালেবান হতে যাব কোন দুক্ষে ? তবে হা বর্তমানে তালেবানরা প্রচন্ডভাবে মার্কিন বিরোধী। আমরাও মার্কিনীদের অপকর্মের বিরোধী। বুঝুন ঠেলা, জামাত-শিবির তালেবান না, কিন্তু তালেবান দের সাথে আদর্শগত মিল রয়েছে। তার মানে কী দাড়াচ্ছে ? শিবিরের বক্তব্যের তথ্যের লিঙ্ক দেখুন

জামাতের ভন্ডামির ভাষায় হতে পারে ইসলামী ধর্ম মতে অমুসলিমরা কখনো মুসলিমদের বন্ধ বা সুভাকাংখি হতে পারবে না, কিন্তু বেগম খালেদা জিয়া ভারতে গিয়ে যখন শিব সেনাদের প্রসাদ খেয়ে আসলেন, তারপরেও কী করে এখনো জামাত বিএনপি নামক দলটির সাথে বন্ধন অটুট রেখেছে ? এটাকে কোন ধরনের ভন্ডামির সাথে তুলনা করা যেতে পারে ?

আরও অনেক বিস্তারিত কথা রয়েছে যা শুনে মনে হয়েছে আল্লাহ যেন তাদের শুধু হেদায়েত দান করেন, এইসব ঘৃণিত অপকর্ম থেকে বিরত থাকার জন্য। দারুন লাগলো বিষয়টি, এইখানে জামাত-শিবির প্রকাশ্যে বলছে ইসলামে নারী নেত্রীত্ত্ব হারাম আবার এই জামাত-শিবির এর বিভিন্ন ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ করে নারী নেত্রীত্ত্ব কে হালাল পর্যায়ে নিয়ে গেছে। ভাবার বিষয় হচ্ছে, আল্লাহর সৃষ্টি ইসলাম ধর্মের নাম নিয়ে যে দল শয়তান দ্বারা পরিচালিত হয় তাদের কাছে এইসব বিশ্লেষণের বাহিরে আর কোন ধরনের বিশ্লেষণ আশা করা যেতে পারে ? আমার খুব জানার ইচ্ছে ছিল পবিত্র ইসলাম ধর্মে কোন গ্রন্থে বা কোন আয়াতে ভোগের বিষয়টিকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছিল ? আর ক্ষমতার বিষয়ে বলতে গেলে তো বলা যায়, ক্ষমতার জন্য যদি এতই লালায়িত হতে হয় তাহলে আর ধর্মের নাম বিক্রি কইরা লাভ কী ? এতে করে কী ধর্ম কলঙ্কিত হচ্ছে না ? নারী নেত্রীত্ত্ব মানি না, নারী নেত্রীত্ত্ব হারাম ছিল একদা, এখন কী করে হালাল হয়ে গেছে ?

পরিশেষে বলতে চাই, এরা ঘৃণিত ভন্ড প্রকৃতির ধর্ম নিয়ে ব্যবসা করা যাদের মূল চালিকা শক্তি, কাজেই তাদের বিতাড়িত করা প্রয়োজন। শুধু সটান বাজি করলেই যে তারা (জামাত-শিবির) ভাল হয়ে পরিপূর্ণ শুদ্ধ হয়ে যাবে তার সাথে আমি একমত নই। কোথায় আছে ঢেকি স্বর্গে গেলেও ধান ভাংগে, তেমনি এরাও। কাজেই তাদের কে ছাড় দেওয়া উচিত হবে না নির্বাচন কমিশনের।

ধন্যবাদ সবাইকে
আরেকটি কথা বড় পোস্ট সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে এলোমেলো রয়েছে।
@সুলতান মির্জা।