ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

 

জানতে চাই, বিএনপি এই নেতার কাছে, সেদিন কী কারো বিয়ে হবে ? সেদিন কী বাংলাদেশে যুদ্ধ হবে ? নাকি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আপনি ও বিএনপি-জামাতের নেতারা বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে গাড়ি শুমারি করবেন দেখার জন্য বাংলাদেশে এই মুহূর্তে কত গ্ফুল গাড়ি রয়েছে ? প্রশ্ন আশাটা খুব যৌক্তিক নয় কী ?

একটি গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলের শীর্ষ স্থানীয় একজন নেতার মুখে এই ধরনের হুমকি সম্বলিত বাক্য কতটুকু আশার আলো দেখাতে পারে জনমনে ? আমাদের ভোটে নির্বাচিত হয়ে, জনগণের স্বার্থে কথা বলার উন্মুক্ত স্থান সংসদে না গিয়ে সেখান বেতন নিয়ে, আমাদেরই হুমকি দিয়েছেন, এটা কতটুকু যৌক্তিক ?

ঠিক আছে, মেনে নিচ্ছি, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আপনার কথা, কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, কিসের জন্য এই রাজপথে গাড়ি বের হবে না ? আগামীতে ক্ষমতায় যাওয়ার পথ নিশ্চিত করে দেওয়ার জন্য ? যুদ্ধাপরাধী রাজাকারদের মুক্তির জন্য ?

দেখা গেল সেই দিন আমার প্রেগনেণ্ট বোন এর সেদিন প্রসব বেদনা শুরু হয়ে গেল তখন আমি কী করব ? মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সুখের জন্য আমার প্রিয় আদরের বোনটি কী মারা যাবে ? না আমার কোনও এক ভাই দীর্ঘদিন পড়ে প্রবাস থেকে সেইদিন দেশে ফিরছে, আর এই দিকে মির্জা ফখরুল নিষেধ করেছে কোনও গাড়ি বাহির করতে, তাহলে কী আমাদের প্রবাস ফেরত ভাইটি আবার ব্যাক করে প্রবাসে ফিরে যাবে ? প্রশ্ন গুলো এই দেশের খেটে খাওয়া জনসাধারণের, যা তাদের নাগরিক অধিকারের পর্যায়ে পরে।

কিন্তু আমার যতটুকু মনে হয়, মির্জা ফখরুল বা তার রাজনৈতিক দল বিএনপির দাবিগুলো যৌক্তিক নয়, কারণ দেশে এখন এমন কোনও মহামারী শুরু হয়ে যায়নি, কেউ না খেয়ে মারা যায়নি, যে সমস্ত গাড়ি ঘোড়া বন্ধ করে এইসব ঝামেলা থেকে উদ্ধার হতে হবে, না হলে কোনও বিকল্প নেই বের হওয়ার।

বাস্তবতা হচ্ছে মির্জা ফখরুল এর আগামী নির্বাচনের জয়লাভের জন্য তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও ভোটের রাজনীতির কৌশল ধরে রাখার জন্য যুদ্ধাপরাধী বাঁচানোর সকল গাড়ি ঘরে রেখে দিয়ে, ঘুমাতে হবে না হলে বিপদ। এই হচ্ছে আন্দোলন।

এখন আমাদের দ্বাবি হচ্ছে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও তার নেত্রী খালেদা জিয়ার কাছে, আপনারা সেদিন বরঞ্চ উল্টোটা করে দেখান, আপনারা জনকল্যাণে ঘর থেকে বের না হয়ে, বিএনপি ও জামাত সেদিন যে অপকর্ম গুলো করার নৈতিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তা আমাদের সর্ব সাধারণের দিকে তাকিয়ে প্রত্যাহার করে নিক। যেহেতু, মির্জা ফখরুল ও তার প্রিয় নেত্রী খালেদা বেগম সব সময়, সকল জনসভায় গলা ফাটিয়ে চিত্কার করে বলে আসছে, বিএনপি-জামাত হচ্ছে জনগণের দল, জনগণের স্বার্থ বিবেচনা করে, জনগণের কল্যাণে আমরা রাজনীতি করি। যদি এইগুলো সত্যি কথা হয়ে থাকে তাহলে, আগামী রবিবারের অবরোধ বাদ দিয়ে জনগণের কাতারে এসে দাড়ান, এবং প্রমাণ দিন আপনারা জনগণের কল্যাণে রাজনীতি করে যাচ্ছেন।

আর যদি তা আপনাদের পক্ষে সম্ভব না হয়, তাহলে প্লিজ অনুরোধ করছি আমাদের জনসাধারণ কে হুমকি দিনেন না, কারণ আমরা ভোট দিয়ে আপনাদের ক্ষমতায় পাঠাই আপনাদের হুমকি শোনার জন্য না।

ধন্যবাদ সবাইকে,
দাবি একটাই যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসি চাই,
সুলতান মির্জা।