ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

 

অনেকদিন পরে  বাংলা ভিশনের টক শো দেখলাম, ভেবেছিলাম হয়তো টক শো গুলোর গুনগত কিছু পরিবর্তন এসে থাকতে পারে। কিন্তু না, গুনগত মান আরো পশ্চাৎমুখি হয়েছে।

উক্ত আলোচনার বিষয়ে আমার দলীয় দৃষ্টিকোনের বাইরে থেকেই বলছি, শেখ হাসিনা এই মুহূর্তে শুধু আওয়ামী লীগের সভানেত্রী নয়, শেখ হাসিনা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী এবং সেটা সাংবিধানিক ভাবে সম্পুর্ন বৈধ ওয়েতেই। এখন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যখন দেশে কিংবা বিদেশে রাষ্টীয় সফর কিংবা ব্যাক্তিগত সফরে যাবে সেটার পরিচয় কিন্তু রাষ্ট বাংলাদেশ বহন করে।

সাম্প্রতিক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৬ দিনের ব্যাক্তিগত বৃটেন সফর শুরু হওয়ার সাথে সাথে লন্ডনে অবস্থানরত বিএনপি-জামাতের নেতাকর্মীরা প্রধানমন্ত্রীর অবস্থান স্থলের আশপাশে নানান ধরনের বিক্ষোভ দেখিয়েছে। কেন দেখিয়েছে ? কি কারনে দেখিয়েছে ? দেখানোর কি দরকার ছিল ? দেখানোর পরে তাদের কি লাভ হল ? জাতি হিসেবে বাঙ্গালীর কতটুকু নিন্মমনমানসিকতার পরিচয় প্রকাশ পেল ? স্বাভাবিক ভাবেই রাষ্ট বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে এই ধরনের বিক্ষোভের পরে এই প্রশ্ন গুলো সামনে আসে।

টক শোতে উল্লেখিত এইসব প্রশ্নের উত্তরে বিএনপির ব্যারিষ্টার নানান ধরনের গুজামিল দিয়ে বিষয়টাকে বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা করেছে। যদিও বিএনপি-জামাতিরা এর চেয়ে ভালো কিছু বলতে পারবে না এটাই স্বাভাবিক। পারভেজ এক জায়গাতে বলেছে,বাংলাদেশে গনতন্ত্র নেই, জুডিশিয়াল কিলিং হচ্ছে, লন্ডনে যারা বিক্ষোভ দেখিয়েছে, তারা লন্ডনের পাসপোর্টধারী ও লন্ডনের নাগরিক কাজেই বাংলাদেশের কারো কোন ইন্ধন এতে কাজ করেনি।

কিন্তু আমরা ইতিমধ্যে জেনেছি যে, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর লন্ডন সফরে গত ৬ দিন যারা একটানা প্রধানমন্ত্রীর অবস্থান স্থলের বাহিরে বিক্ষোভ দেখিয়েছে লন্ডন শাখা বিএনপি, যুবদল, সেচ্ছাসেবক দল, ছাত্রদল, জামাত, শিবিরের কমিটিগুলোতে ভিবিন্ন পদে তাদের প্রমোশন হবে, এবং এটা নাকি বিএনপি নেতা খালেদা পুত্র তারেক ও জামাত নেতা ব্যারিষ্টার রাজ্জাকের নিজেদের মুখের ঘোষনা।

প্রশ্ন হচ্ছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অবস্থানস্থলের বাইরে যারা বিক্ষোভ দেখিয়েছে তারা যদি বৃটেনের নাগরিক হয়ে থাকে এবং বৃটেনে প্রতিষ্ঠিত হয়ে থাকে ইভেন বাংলাদেশে কোন দিন তারা আর আসবে না বা বাংলাদেশ থেকে এই বিষয়ে কোন ইন্ধন নাই, তাহলে একজন বৃটেনের নাগরিক হোক সে বাঙ্গালী সমস্যা নেই, বাংলাদেশের রাজনীতি নিয়ে তারা এত বিচলিত কেন ? বাংলাদেশে জুডশিয়াল কিলিং হবে নাকি মাইরা গাইরা ফালানো হবে সেটা নিয়ে তাদের এত দ্বায় বদ্ধতা কেন ? তাছাড়া বাংলাদেশের গনতন্ত্রের অনুপস্থিতি নিয়ে তাদের ভাবনার কারন কি ?

স্বাভাবিক ভাবেই তাহলে বিষয়টা দাঁড়ায় কারো না কারো ইন্ধনেই তারা এগুলো করেছে। কারা তারা ? বেগম খালেদা জিয়া ? তারেক জিয়া ? ব্যারিষ্টার আব্দুর রাজ্জাক ?

উত্তর যদি এই ৩ টা হয় তাহলে ধরেন, তারেক জিয়া আর ব্যারিষ্টার রাজ্জাক পলাতক হিসেবে চোরের মত পালিয়ে আছে। তাদের কে জুতা দিয়া পিটাইলেও তাদের সম্মানহানী হবে না। কিন্তু খালেদা জিয়া ? কোন কারনে খালেদা জিয়া লন্ডনে গেল, সেই স্থান, সেই দৃশ্যপট, সেই বিক্ষোভ। তখন বিএনপির প্রতিক্রিয়া কি হবে ?