ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

 

জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসের বিশ্বায়ন চলছে, এই বাক্যের বিরোধিতা করে একটা কথা বলার কোন সুযোগ নেই। আগে বিশ্বাস করতে হবে যে জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসের বিশ্বায়নের যুগে যেখানে উন্নত বিশ্বের যুক্তরাষ্ট, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, ডেনমার্ক, জার্মানী, বেলজিয়াম, অষ্ট্রেলিয়া পর্যন্ত নিরাপদ নয়, সেখানে নিন্ম মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে বাংলাদেশও নিরাপদ নয়। তবে, জঙ্গী হুমকি, সন্ত্রাসের বাস্তবতার যদি সুচক বিবেচনা করা হয় তাহলে উন্নত বিশ্বের উল্লেখিত দেশ গুলোর চেয়ে বাংলাদেশ কে অনেক নিরাপদ হিসেবেই রেখে চলেছে শেখ হাসিনার সরকার।

 

বলে নিচ্ছি, ইতালীয় নাগরিক তাভেল্লা সিজার হত্যায় গভীর মর্মাহত হয়েছি। তবে ভেঙ্গে পড়ছি না, কারন সংখ্যাঘরিষ্ট মুসলিম প্রধান দেশ হিসেবে দক্ষিন এশিয়ায় বাংলাদেশ মাত্রাতিরিক্ত ঝুকির মধ্যে থেকেও জঙ্গীবাদ ও সন্ত্রাস মোকাবেলায় বেশ শক্ত হাতে কাজ করে চলেছে। এই ক্রেডিট অবশ্যই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার।

 

তবে ইতালীয় নাগরিক তাভেল্লা সিজার হত্যাকান্ড ও প্রেক্ষাপট নিয়ে রাজনৈতিক ভাবনায় স্যরি টু সে আমার পর্যবেক্ষনে ইতালীয় তাভেল্লা সিজার হত্যা বলির পাঠা হিসেবে বিবেচিত। এই জন্য যে তাভেল্লা সিজার হত্যা না হয়ে পশ্চিমা দেশের যেকেউ হতে পারতো। বিশেষ করে পশ্চিমা দেশের নাগরিক হত্যাকান্ড না হলে পশ্চিমা শক্তিধর দুনিয়ার হঠ্যাৎ চোখ ধারালো দৃষ্টি বাংলাদেশে ফেরানো সম্ভব নয়। এবং হয়েছেও তাই।

 

ইতালীয় নাগরিক তাভেল্লা সিজার হত্যাকান্ডে বড় ধরনের অনেক কিছু হয়ে যাবে বাংলাদেশের এই ভাবনা ভাবার কোন সুযোগ নেই, তবে হয়তো বাংলাদেশ কে কিছুটা সময়ের জন্য ভুগতে হবে। দেখা যাক শেখ হাসিনার সরকার কিভাবে সেটা মোকাবেলা করে।

 

যেখান থেকে ঘটনা শুরু সেদিকে নজর দেওয়া যাক। শুধু কয়েকটা প্রশ্নের উত্তর খুঁজে নিতে পারেন। অষ্ট্রেলিয়া ক্রিকেট দল বাংলাদেশ সফরে আসবে না, কী কারনে ? উত্তর যদি হয় জঙ্গিবাদ হুমকি, ঠিকাছে মেনে নিলাম অষ্ট্রেলিয়ার যুক্তি। প্রশ্ন হচ্ছে, অষ্ট্রেলিয়া কে যদি কেউ কোন হুমকি দিয়ে থাকে কিংবা তাদের গোয়েন্দা প্রতিবেদনে যদি হুমকি উল্লেখিত হয়ে থাকে তাহলে সেই হুমকি কিংবা গোয়েন্দা প্রতিবেদন কার কাছে পেশ করে ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করতে পারতো অষ্ট্রেলিয়া।  উত্তর যদি হয় টিম অষ্ট্রেলিয়া যেহেতু বাংলাদেশ সফর করবে সেহেতু বাংলাদেশের সরকারের কাছেই হুমকি কিংবা গোয়েন্দা প্রতিবেদন হস্তান্তর করে এই বিষয়ে পরবর্তি করনীয় বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারতো। আমরা কি দেখলাম ? অষ্ট্রেলিয়া সেটা করেনি।

 

তারপরে, টিম অষ্ট্রেলিয়ার নিরাপত্তা বিষয়ক কেউ একজন বাংলাদেশ সফরে এলো। সরকারের কোন কোন মন্ত্রীরা গলাবাজি কিছুটা করেছে বটে জঙ্গী নাই অমুক তমুক। কিন্তু সবচেয়ে বেশি উৎসাহী যাদের কে মনে হয়েছে তারা হচ্ছে বিএনপি। আমরা সকলেই জানি এই মুহুর্তে দলটি না আছে সংসদে না আছে সংসদের বাইরে দ্বায়িত্ত্বশীল বিরোধী দলের ভুমিকায়। তারা বললো কী? এইদেশে জঙ্গি নাই, সব অপপ্রচার। প্রশ্ন হচ্ছে তাদের কাছে কেউ কি সার্টিফিকেট চেয়েছিল ? উত্তর হবে চায়নি, তাহলে কেন বিএনপি আগ বাড়িয়ে গলা ফাটালো ? কারন কি ? যেখানে শুধু বাংলাদেশ নয় বিশ্ব সম্প্রদায় জানে যে বিএনপি হচ্ছে সেই রাজনৈতিক দল যাদের সাথে বিশ্ব জঙ্গি সন্ত্রাসবাদের তালিকার অন্যতম শিবির ও তাদের মাদার সংগঠন জামাতের জোট। ঠিক এইরকম একটি জঙ্গি ও সন্ত্রাসী দলের সাথে বিএনপি জোট করে কিভাবে বলে যে বাংলাদেশে জঙ্গি নেই ? অবশ্যই বাংলাদেশে জঙ্গি আছে এবং সেই জঙ্গিবাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করছে বিএনপি এবং খালেদা জিয়া।

 

সেদিন সন্ধায় গুলশানের সৌদি দুতাবাসের সামনে অজ্ঞাত সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত হলো তাভেল্লা সিজার নামের ইতালীয় নাগরিক। হত্যাকান্ডের ঘন্টা দুয়েকের মধ্যে বৃটেন তার নাগরিকদের সতর্ক করে বার্তা দিয়েছে, কিছুক্ষনের মধ্যে আইএসএস হত্যার দ্বায় স্বীকার করেছে মর্মে আমেরিকার শিকাগো থেকে কেউ একজন নিউজ দিল, তারপরে যুক্তরাষ্টের টেষ্ট ডিপার্টমেন্ট বাংলাদেশে তার দেশের নাগরিকদের সতর্ক থাকার জন্য বার্তা দিল। এই হচ্ছে কয়েক ঘন্টার ব্যবধানে ঘটে যাওয়া ঘটনা গুলোর সংক্ষেপ সারনী।যদিও অষত্রেলিয়া তার দেশের নাগরিকদের কে সতর্ক থাকতে একদিন আগেই বার্তা দিয়েছিল।

 

এবার আসেন বিএনপির দিকে, ইতালীয় নাগরিক তাভেল্লা সিজার হত্যাকান্ডের ঠিক পরে থেকে এখন পর্যন্ত বিএনপি ঠিক রাজনীতি বললে ভুল হবে, সরকার কে দোষারোপ করে নানান কিসিমের হরেক রকম বক্তব্য বিবৃতি দিয়েই চলেছে। প্রশ্ন হচ্ছে বিএনপির এই তৎপরতা কিসের স্বার্থে ? অস্বীকার করছি না বিদেশি নাগরিক হত্যাকান্ডে সরকার দ্বায় এড়াতে পারে তবে বিএনপির মির্জা ফখরুলের সর্বশেষ বক্তব্য এটাই প্রমান করে যে ইতালীয় নাগরিক তাভেল্লা সিজার হত্যাকান্ড সম্মন্ধে বিএনপি বেশ ভালো করেই অবগত আছে। না হলে ইতালীয় নাগরিক তাভেল্লা সিজার এর অনাকাংখিত হত্যাকান্ডের বিবৃতি হিসেবে বিএনপির দ্বায়িত্ত্বশীল এই নেতা কোন অবস্থায়ই বলতে পারে না, তাভেল্লা সিজার হত্যাকান্ড প্রমান করে দেশে অবাধ সংসদ নির্বাচনের বিকল্প নেই। মনে রাখতে হবে, নির্বাচনের দ্বাবী জানানো মোটেই ভুল কিছু না, তবে একজন বিদেশী নাগরিক হত্যাকান্ডের বিবৃতিতে নির্বাচনের প্রয়োজনীয়তা প্রশ্নবোধক। কেন আসবে নির্বাচনের প্রসঙ্গ ? তার মানে কি ? খালেদার লন্ডন সফর, জাতিষংঘের সদর দপ্তরের সামনে হেটে হেটে ডঃ ইউনুসের সেলফি তোলা এইসবের সাথে কোন দিক দিয়ে যুক্ত ? উত্তর খোজার প্রয়োজন আছে।

 

আশাকরি খুব শীঘ্রই ইতালীয় নাগরিক তাভেল্লা সিজার হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য উদ্ঘাটন হবে। বেড়িয়ে আসবে ষড়যন্ত্রের মূল হোতা। পরিশেষে জল ঘোলা হয়েছে, জল ঘোলা করেছে, ষড়যন্ত্র সোচ্ছার হয়েছে। বাংলাদেশ নিয়ে প্লান গেমিং শুরু হয়েছে। সকর্ত হতে হবে শেখ হাসিনাকে। উপ্রে ফেলতে হবে ওলামালীগ নামের ফালতু বিএনপি-জামাতি-হেফাজতি বহুজাতিক সংগঠন কে। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপরে সাম্প্রদায়িক কাজে ব্যবহৃত ৫৭ ধারার অপব্যবহার বন্ধ করতে হবে। না হলে উল্লেখিত অপশন গুলোর জন্য সরকারের তিলকে লাগতে পারে জঙ্গিবাদ উস্কানির তকমা।