ক্যাটেগরিঃ স্বাধিকার চেতনা

প্রশ্ন করি পাকিস্তানের ৩ জন নাগরিককে কারা দিয়েছে এই সাহস ?

আল-জাজিরা, টবি ক্যাটম্যান আর ডেভিড বার্গ ম্যান (গন ফোরামের কামাইল্লার মেয়ের জামাই) বাংলাদেশের মানবতাবিরোধী যুদ্ধাপরাধের বিচারের ৩ বিতর্কিত নাম। এই ৩ ব্যাক্তি ও প্রতিষ্ঠান যুদ্ধাপরাধী রাজাকারের বিচার বানচাল করতে বিশ্বব্যাপী প্রচার প্রচারনায় জামাতি লবিং এর মোটা টাকায় নিয়োগ প্রাপ্ত এজেন্সি। এদের শুরুটা মার্কিন যুক্তরাষ্ট থেকে লন্ডন হয়ে কাতার ভিত্তিক আল-জাজিরায় এসে শেষ হয়।

 

যদিও ইতিমধ্যে বাংলাদেশের মানবতাবিরোধী ট্রাইবুনালের বিচার বিষয়ে বিতর্কিত কর্মকান্ডের জন্য গনফোরামের কামাইল্লার মেয়ের জামাই ব্রিটিশ নাগরিক ডেভিড বার্গম্যান সাজাপ্রাপ্ত হয়েছিল। তারপরেও ডেভিড বার্গম্যানের লজ্জা হয়নি। আর লজ্জা হবেই বা কি করে ? যেখানে ডেভিড বার্গম্যানের শশুর মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের বলে যাকে চিনতাম সেই আইনজীবি কামাল হোসেন কিভাবে তার মেয়ের জামাইর এইসব কর্মকান্ডে উৎসাহ যোগায়। তাছাড়া মানবতাবিরোধী ট্রাইবুনাল কতৃক সাজাপ্রাপ্ত হওয়ার পরেও আসামী ডেভিড বার্গম্যানের পক্ষে আনু প্রফেসর, জাফরউল্লাহ চৌধুরী, আসিফ নজরুলের মতো ৫০ নাগরিক মানবতা দেখিয়ে উদ্বেগ হয়েছে বিবৃতি দেয়, ডেভিড বার্গম্যানের লজ্জাটা আসবে কোথা থেকে ? থাক সেসব কথা।

 

মূল কথা বলি, চ্যানেল আই অনলাইন নিউজ পোর্টালে গতকাল “রাজাকার সাকার পক্ষে ৩ পাকিস্তানী স্বাক্ষী দিতে চায়” শিরোনাম নিউজ দেখেই বুঝেছিলাম রাজাকার সাকা, রাজাকার মুজাহিদ কে বাচানোর জন্য আরেক নতুন ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে। যদিও আমাদের ট্রাইবুনাল ইতিমধ্যে অপারগতা জানিয়ে দিয়েছে। কিন্তু তারপরেও কথাটা শোনার পরে তাজ্জব হয়ে গেলাম। একটা জাতি (পাকিস্তানী) কত বড় নিলজ্জ আর বেহাইয়া হলে এই রকম স্বাক্ষী দেওয়া তামাশার কথা বলতে পারে।

বিচার বিবেচনা করেই দেখুন না, বাংলাদেশে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে পরাজিত পাকিস্তান ছিল বড় রাজাকার, সেই হিসাবে পাকিস্তানের সকল মানুষকেই রাজাকার বলে গন্য করি। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে বাংলাদেশে যুদ্ধের ময়দানে পাকিস্তানের পক্ষ নিয়ে যারা দুতিয়ালী করে আমার মা-বাবা-ভাই-বোন কে হত্যা ধর্ষন করেছিল বা নেতৃত্ত্ব দিয়েছিল অর্থ্যাৎ রাজাকার গু আজম থেকে রাজাকার নিজামী, রাজাকার সাইদি, রাজাকার মুজাহিদ, রাজাকার সাকা সহ বাদ বাকী সবাই ছিল ছোট রাজাকার (১৯৭১ সালের প্রেক্ষাপটে)।

 

দীর্ঘ ৩৯ বছর পরে যখন বাংলাদেশে ১৯৭১ সালের মানবতাবিরোধী অপকর্মের বিচার কার্য শুরু হয়, তখন সেই বড় রাজাকার পাকিস্তান আমাদের আউট অফ রেঞ্জে চলে গেছে, হাতের কাছে আমাদের ঘরেই বসবাস করছিল ঐ সময়কার ছোট রাজাকার ৩৯ বছরে যাদের পাপ জমতে জমতে দানা বেধে বড় রাজাকারে পরিনত হয়েছে। আজকে ২০১৫ সালে সেইসব দানা বাধা বড় ২ রাজাকারের বিচারের রায় কার্যকরের দ্বারপ্রান্তে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ। এর মধ্যে বাংলাদেশের যুদ্ধাপরাধের বিচারে রাজাকার আসামীর পক্ষে পাকিস্তান রাষ্ট কিংবা পাকিস্তানের কোন নাগরিকের স্বাক্ষ্য দেওয়ার কোন অধিকার আছে বা থাকতে পারে এটা এই গ্রহের কোন পাগলের বিশ্বাস করতে হবে ?

যেখানে ১৯৭১ সালের অপকর্মের জন্য পাকিস্তান রাষ্ট এখনো আমাদের কে ক্ষতিপুরন দিয়ে আনুষ্ঠনিক ভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করে নাই। সেখানে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশের যুদ্ধাপরাধের দ্বায়ে দন্ডিত রাজাকারের পক্ষে পাকিস্তানের নাগরিক দিতে চায় সাফাই স্বাক্ষী।কেউ আমারে বিষ আইন্না দেন, খাইয়া মইরা যাই।

 

তবে হ্যা, ইচ্ছা করলে পাকিস্তানের সচেতন বিবেকবান নাগরিক কেউ যদি থাকে তাহলে বাংলাদেশের ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানী নাপাক বাহিনীর মানবতাবিরোধী অপরাধের দায় কাঁধে নিয়ে নিজের দেশ পাকিস্তানের হয়ে ক্ষমা প্রার্থনার সুযোগ চাইতে পারে আমাদের মানবতা বিরোধী আন্তর্জাতিক ট্রাইবুনালের কাছে। এছাড়া বাংলাদেশের যুদ্ধাপরাধ, রাজাকার, কিংবা এই প্রসঙ্গে একটা আলাপ করার কোন অধিকার পাকিস্তান রাষ্ট কিংবা পাকিস্তানের কোন নাগরিকের নেই। কথা শেষ।