ক্যাটেগরিঃ ক্যাম্পাস

 

নারায়নগঞ্জ ইস্যুতে প্রগতিশীল ভার্সেস প্রতিক্রিয়াশীলদের খেলা জমে উঠেছে নিঃসন্দেহে। এই খেলায় প্রগতিশীলেরা হচ্ছে সংখ্যালঘু যারা মিথ্যা ধর্ম কটুক্তির দ্বায়ে অপরাধী শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্ত ও তার পরিবারের নিরাপত্তা, জাতীয় পার্টির সাংসদ সেলিম ওসমানের বিচারের দাবিতে সোচ্চার। অপরদিকে আওয়ামী লীগের একাংশ, বিএনপি, জামাত, হেফাজতিরা হচ্ছে সংখ্যাগুরু যারা সেলিম ওসমানের পক্ষে সাফাই গেয়ে শিক্ষক শ্যমল কান্তি ভক্তের সাথে বুয়েটের শিক্ষক, ধর্ষক পরিমল শিক্ষকের তুলনা চিত্র তুলে ধরে একজন শিক্ষকের ধর্ম কটুক্তির বিচার চাচ্ছে।

কথা হচ্ছে ওসমান পরিবারের ভূমিকা ও চ্যালেঞ্জ নিয়ে। ধরে নিলাম, মেনে নিলাম, জাতীয় পার্টির এই সাংসদ সেলিম ওসমান সেদিন যা করেছে তা কেবল বিক্ষুব্ধ জনতার রোষানল থেকে শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্তকে বাচানো ছিল মূল উদ্দেশ্য।ওকে ফাইন।

তারপরে সেদিন সেলিম ওসমান যে সাংবাদিক সম্মেলন করলো, সেখানে তার ভূমিকা কী হওয়ার দরকার ছিল? সেলিম ওসমান কি করলো? এইসব উত্তরগুলো মিলিয়ে দেখার দরকার আছে।

কেননা, জনতা যখন বিক্ষুব্ধ হয়, তখন সেই জনতা কে ঠান্ডা করার জন্য তর্কের খাতিরে ধরেই নিচ্ছি যে শিক্ষক শ্যমল কান্তি ভক্তকে কান ধরে উঠ বস করানো ছাড়া আর কোন উপায় ছিল না সাংসদ সেলিম ওসমানের। এবং সেলিম ওসমান যা করেছে শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্তের জন্য ভালোই করেছে। সেই হিসেবে সেটা সেখানেই ইতি। তারপরে?

কথা হলো, উপস্থিত বিচার করে দিয়ে শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্তকে বাঁচানোর ২৪ ঘন্টার মধ্যে সেলিম ওসমান কেন বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির মাধ্যমে ডিউ তারিখ দিয়ে শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্তকে বরখাস্ত করে নিজেকে শ্যামল কান্তি ভক্তের প্রতিপক্ষ বানিয়ে নিলেন? এটার কি খুব বেশি দরকার ছিল?

এই কারনে বলছি এই কথা, সেটা হলো, ইতিহাস, ঐতিহ্য আর রাজনীতির প্রেক্ষাপট বিবেচনায় নারায়নগঞ্জে ওসমান পরিবার এর ভূমিকা প্রগতিশীলতার পক্ষেই থাকে। যার কারণে শিক্ষক যেহেতু সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের সেহেতু প্রগতিশীলতার প্রেক্ষাপটে কান ধরে উঠ বস করানোর ঘটনায় সাংসদ সেলিম ওসমান শুধু শিক্ষক নয়, সাংবাদিক সম্মেলনে দেশবাসিকে উদ্দেশ্য করে ক্ষমা চেয়ে নিলে ওসমান পরিবারের মান ইজ্জত একটুও চলে যেত না। বরং আরো বৃদ্ধি পেত। যেহেতু সেলিম ওসমান পরিস্থিতির স্বীকার সেহেতু সেলিম ওসমান ক্ষমা চেয়ে পাশাপাশি ঐ সাংবাদিক সম্মেলনে মসজিদের মাইক ব্যবহার করে ভুয়া গুজব তৈরিকারিদের খুঁজে বের করার জন্য সরকারের কাছে দাবি জানাতে পারতেন।

সেলিম ওসমান কী করলেন? প্রতিক্রিয়াশীলতার ভূমিকায় অবতীর্ন হয়ে, শিক্ষককে তার ছিড়া বলে সম্বোধন করে কার কাছে ক্ষমা চাইবেন ইত্যাদি ইত্যাদি বলে, সে একজন ধর্ম অবমাননাকারীকে সাজা দিয়েছেন বলে বডি ল্যাঙ্গুয়েজে গর্ববোধ করলেন। এটা কি সারাদেশের মানুষ একজন ঐতিহ্যবাহী প্রগতিশীল রাজনৈতিক পরিবারের সন্তানের কাছে প্রত্যাশা করেছিল?

উত্তর হচ্ছে, করেনি। কারণ সারা বাংলাদেশ ওসমানি পরিবারের শাসন ব্যবস্থায় বিশ্বাস করে না, তাছাড়া সারাদেশ কিন্তু নারায়নগঞ্জ জেলা নয়, কিংবা সবাই উগ্রবাদি ধর্মান্ধও যে সেলিম ওসমান যা বলেছে সেটাই কথা আর বাকী সব ধইঞ্চা।

তারপরে দেখেন, সেলিম ওসমান ও তার পরিবারের কৌশল, ওসমান পরিবারের ইজ্জত বলে কথা। আর তাই ওসমান পরিবার দ্বারস্ত হলেন হেফাজত ইসলাম নামের একটা উগ্রবাদী জঙ্গী ধর্ম ব্যবসায়ী সংগঠনের কাছে। যারা গত শুক্রবার জুমা বাদ এক সমাবেশে সেলিম ওসমানকে ইসলামের রক্ষক এটা ওটা সম্মোধন করে একেবারে শিক্ষক শ্যমল কান্তি ভক্তের ফাঁসি ও শ্যামল কান্তি ভক্তকে পুনরায় বহাল করে দেওয়া শিক্ষা মন্ত্রীর পদত্যাগ চেয়ে ৭২ ঘন্টার আল্টিমেটাম দিয়ে দিল। বলতে পারেন, বুঝাতে পারবেন এই মুহূর্তে দেশ বিরোধী নানামুখী ষড়যন্তের মাঝে এইসব করার মানে কী?

জানি সাংসদ সেলিম ওসমানের পরিবার ও তাদের চাটা-পাটারা পারবে না উত্তর দিতে। তারা যা পেরেছে তা বাচ্চা পোলাপানেরা পারে। সেটা হলো একাত্তর টিভিতে দেওয়া অভিযোগকারী ছাত্র রিফাতকে বাধ্য করে রিপিট ভিডিও ফুটেজ তৈরি করে প্রচার চালিয়েছে, নতুন পায়জামা-পাঞ্জাবি কিনে দিয়ে হেফাজতের সমাবেশে পাঠিয়ে রিফাত কতৃক শিক্ষকের বিচার দাবি করিয়েছে। তারপরে সামনের জীবনে নারায়নগঞ্জে থাকতে চাইলে এটা ওটা বলে হুমকি ধামকি দিয়ে শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্তের ফোনালাপ রেকর্ড করে বাজারে ছেড়েছে। যা নিতান্তই হাস্যকর সস্তা প্রচার-প্রচারনা ছাড়া আর কিছুই বহন করে না।

যে কথা বলছিলাম, যতটুকু জানি সেটা হচ্ছে সরকার এই বিষয়ে প্রথম থেকেই সোচ্চার। আর তাই মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্ত কে স্বপদে পুর্নবহাল ও বিদ্যালয় কমিটি ভেঙ্গে দেওয়ার ঘোষনা শিক্ষামন্ত্রী দিয়েছিল। এখন ওসমান পরিবার সেটা কে সেখানেই ইতি না টেনে হেফাজত-টেফাজত ডেকে নিয়ে যা করেছে তা মুলত প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্ত ভায়োলেট করে সরকারকে চ্যালেঞ্জ জানানোর পর্যায়ে পরে।

দেখা যাক সামনে কী হয়, তবে সরকারের সামনে বিকল্প কোন ওয়ে আছে বলেও মনে করি না। হয় ওসমান পরিবার বিসর্জন দিতে হবে না হয় শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্ত বিসর্জন দিতে হবে।

ওসমান পরিবার বিসর্জনে নারায়নগঞ্জের শান্তি ফিরবে, ধর্ম ব্যবসায়ীদের উপযুক্ত জবাব দেওয়া হবে, আর ভুয়া গুজবে বিশ্বাস করে শিক্ষক শ্যামল কান্তি বিসর্জন দিলে সরকারের গায়ে প্রতিক্রিয়াশীলতার তকমা লাগবে। অসাম্প্রদায়িকতা বৃদ্ধি পাবে, সংখ্যালঘু দের উপরে আরো নির্যাতন বাড়বে আর ওত পেতে থাকে ষড়যন্ত্রকারী প্রভু মোসাদ এটা ওটারা বাংলাদেশ নিয়ে নতুন খেলায় মেতে উঠবে যা সরকার কে আরো অস্বস্তিতে ফেলবে।