ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

 

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, যার পূর্বনাম ছিলো জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ।জামায়াত ইসলামী হলো বাংলাদেশের একটি কুখ্যাত রাজনৈতিক দল যাদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের বিরোধীতার, জঙ্গিদের মদদ দাতা, শান্তির ধর্ম ইসলামের দোহাই দিয়ে সাধারণ মানুষের মাঝে বিবরানতি ছড়ানোর অভিযোগ আছে।জামায়াত ইসলাম বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দল। ২০০১ সালের জাতীয় নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে ১৮ টি আসন লাভ করে।পরবর্তীতে বিএনপির নেতৃত্বে গঠিত চারদলীয় ঐক্যজোটের অন্যতম শরিক হিসেবে সরকার গঠনে ভূমিকা পালন করে। বিএনপির নেতৃতাদিন সরকারে থেকে সরকারী বিভিন্ন স্তরে শুধু নিজেদের লোকজনদেরই সেটাপ করেনি, তত্কালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে ও সেটাপ করে ফেলেছে। যার প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশে ১/১১ পর্যন্ত সৃষ্টি হয়েছিল। তারপর অনেক কিছু এই বাংলাদেশের মানুষ দেখেছে। এরপর ২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে জামায়াত ইসলাম ৩০০ আসনের মধ্যে ২টি আসন লাভ করে।

১৯৭১ সালের পর ধর্মভিত্তিক রাজনীতি নিষিদ্ধ করা হলে জামায়াত ও এর আওতায় পড়ে। ১৯৭৬ সালের আগস্টে জিয়াউর রহমান সরকার সকল ধরণের রাজনৈতিক দলের রাজনীতি উন্মুক্ত করে রাজনৈতিক দল অধ্যাদেশ ঘোষণা করেন। এ সময় ইসলামিক ডেমোক্রেটিক পার্টি নামক একটি দলের সাথে জামায়াতে ইসলামী যুক্ত ছিল। পরে গোলাম আযম বাংলাদেশে ফিরে এলে ১৯৭৯ সালের মে মাসে জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ গঠিত হয়। এর ভারপ্রাপ্ত আমীর পদ লাভ করেন আব্বাস আলি খান।

এই দলটির ছাত্র শাখার নাম বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির, এই ছাত্র শিবিরের রাজনীতির সাথে যারা বর্তমানে জড়িত রয়েছে তাদের অনেকেরই জন্ম স্বাধীনতার পরে। এসব নিরাপরাদ মাদ্রাসা ছাত্রদেরকে মগজ দোলাইয়ের মাধ্যমে সংগঠিত করে ইসলামী ছাত্র শিবিরের কার্যক্রম চালাচ্ছে জামায়াত ইসলামী। ইসলামী ছাত্রশিবির এদেশে কুখ্যাত একটা সংগঠন হিসেবে পরিচিত এমনকি অনেকের কাছে তারা রগ কাটা শিবির নামে পরিচিত। নির্মমতার এমন কোন কঠিন সংজ্ঞা নেই যেটা তাদের জন্য উপযুক্ত। খুন, রাহাজানি, ধর্ষণ এমন কোন জায়গা নেই যে তারা সেটা করেনি।দলটির বর্তমান প্রধান কুখ্যাত যুদ্ধাপরাধী মতিউর রহমান নিজামী। ২০১০ সালের ২৯শে জুন পুলিশের হাতে গ্রেফতার হন। বাংলাদেশ বিরোধী জামায়াত ইসলামী একাত্তরের যুদ্ধাপরাধী সেটা নানা প্রমাণের মাধ্যমে আমরা দেখতে পাই। তাই জামায়াত আর রাজাকার সমার্থক শব্দ।শীর্ষ ৫০ যুদ্ধাপরাধীদের প্রাথমিক তালিকাতে ৩য় অবস্থানে আছেন মতিউর রহমান নিজামী যা ২০০৮ সালে প্রকাশ করেছে সেক্টর কমান্ডার ফোরাম ।

১৯৭১ সালে জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের তীব্র বিরোধিতা করে। ২৫ মার্চ রাতে সংঘটিত অপারেশন সার্চলাইট এর ছয় দিন পর গোলাম আযম ঢাকা বেতার কেন্দ্র থেকে একটি ভাষণ দেন। এ ভাষণে তিনি ভারতের কড়া সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, ” ভারত সশস্ত্র অনুপ্রবেশকারী প্রেরণ করে কার্যত পূর্ব পাকিস্তানীদের দেশপ্রেমকে চ্যালেঞ্জ করেছে।…আমি বিশ্বাস করি যে, এই অনুপ্রবেশকারীরা পূর্ব পাকিস্তানে কোনও প্রকার সাহায্য পাবে না।

জামায়াত ইসলাম পাকিস্তান সেনাবাহিনীকে সাহায্য করতে রাজাকার, আলবদর, আলশামস প্রভৃতি বাহিনী গড়ে তোলেন। এরা পুরো মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানী বাহিনীর পক্ষে কাজ করে। ৩০ জুন লাহোরে সাংবাদিকদের কাছে গোলাম আযম বলেন, “তাঁর দল পূর্ব পাকিস্তানে দুস্কৃতকারীদের (মুক্তিযোদ্ধা) তৎপরতা দমন করার জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করছে এবং এ কারণেই দুস্কৃতকারীদের হাতে বহু জামায়াত কর্মী নিহত হয়েছে।তিনি বাংলাদেশের মুক্তিযোদ্ধাদের দুস্কৃতকারী বলেন।

১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল পাকিস্তানের অখন্ডতা রক্ষার উদ্দেশ্য ঢাকায় শান্তি কমিটি গঠন করা হয়। এর সদস্য ছিলেন পাকিস্তানপন্থী রাজনৈতিক ব্যাক্তিত্বরা। গোলাম আযম ও এই কমিটির সদস্য ছিলেন। গোলাম আজম এর বাংলাদেশ বিরোধিতার প্রমাণ বলে শেষ করা যাবে না। গোলাম আজম বর্তমানে যুদ্ধাপরাধের দ্বায়ে আটক রয়েছে। ১৯৭১ সালের ৫ ও ৬ সেপ্টেম্বর দৈনিক সংগ্রাম এ গোলাম আযমের পশ্চিম পাকিস্তান সফরকালের একটি সাক্ষাৎকারের পূর্ণ বিবরণ দুই কিস্তিতে ছাপা হয়। এই সাক্ষাতকারে তিনি মুক্তিবাহিনীর সাথে তার দলের সদ্স্যদের সংঘর্ষের বিভিন্ন বিবরণ ও পূর্ব পাকিস্তান পরিস্থতির ওপর মন্তব্য করেন। তিনি বলেন পূর্ব পাকিস্তানের বিচ্ছিন্নতাবাদীরা জামায়াতকে মনে করতো পহেলা নম্বরের দুশমন। তারা তালিকা তৈরি করেছে এবং জামায়াতের লোকদের বেছে বেছে হত্যা করছে, তাদের বাড়িঘর লুট করছে জ্বালিয়ে দিয়েছে এবং দিচ্ছে। এত কিছু সত্তেও জামায়াত কর্মীরা রেজাকারে ভর্তি হয়ে দেশের প্রতিরক্ষায় বাধ্য। কেননা তারা জানে ‘বাংলা দেশে’ ইসলাম ও মুসলমানদের জন্য কোন স্থান হতে পারে না। জামায়াত কর্মীরা শহীদ হতে পারে কিন্তু পরিবর্তিত হতে পারে না।

জামায়াত ইসলামী দেশের অশিক্ষিত মানুষদেরকে ধর্মের দোহাই দিয়ে বিপথে পরিচালিত করছে দীর্ঘদিন ধরে যার প্রত্যক্ষ মদদ দিচ্ছে বিএনপি সহ কিছু রাজনৈতিক দল। আমাদের উচিত এখনই এদের রুখে দেয়া না হলে ভবিষ্যতে আমরা হয়তো নিজেরাই পৃথিবী থেকে বিছিন্ন হয়ে যাব।বিলিন হয়ে যাবে বাংলাদেশ ও এর ইতিহাস ঐতিহ্য সবকিছুই।

তথ্যসুত্র ও প্রকাশিত : লিংক