ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

বলার অপেক্ষা রাখে না সরকার এখন অনেকটা বেকায়দায় রয়েছে আনুসঙ্গিক কিছু কারণে। ধারনা করি বিএনপি জামাত জোট তাদের জনমুখী রাজনীতি দিয়ে সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে। মিডিয়ার কল্যাণেই বিএনপি জামাত জোট এখনো সরকারের বিরুদ্ধে মাঠে রয়েছে। তা না হলে গত তিন বছরে বিএনপি জামাত জোট জনগণের স্বার্থে এমন কোনও কাজ কাজ করেনি যে মাঠে তাদের অবস্থান সংহত হয়েছে বলে মনে হয়। সরকারের ভিতরে এক ধরনের অস্থিরতা রয়েছে বৈকি কিন্তু তা নিজেদের সমন্বয়হীনতার কারণে। আগে ও বলেছি এখনো বলছি, মন্ত্রী, উপদেষ্টাদের অতি বচনী হলো কারণ।

আগামী ১২ মার্চের কর্মসূচীকে ঘিরে চলছে নানামুখী নাশকতার পরিকল্পনা। এটিকেই যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বানচালের মোক্ষম অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করতে পারে বিএনপি জামাত জোট গত বছরের ১৮ ডিসেম্বরের মতো পুরো রাজধানীতে নাশকতা চালাতে পারে। এবার আতঙ্ক নয় রীতিমতো মানুষ হত্যা করে দেশব্যাপী নৈরাজ্য সৃষ্টির পাঁয়তার চলছে। দেশব্যাপী নৈরাজ্য সৃষ্টি করে সরকার পতনের আন্দোলনের ডাক দেয়ার পরিকল্পনা করছে বিএনপি জামাত জোট। প্রয়োজনে নিজ দলীয় নেতা কর্মীদের হত্যা করেও সরকার পতনের আন্দোলনের ডাক দেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে বিএনপি জামাত জোটের । আগামী ১২ মার্চ বিএনপি-জামাত জোট ঢাকা ঘেরাও কর্মসূচীর পাশাপাশি সরকার পতনের আন্দোলনের ঘোষণা দেয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এজন্য জোরালোভাবে কাজ করে যাচ্ছে স্বাধীনতাবিরোধী জামাত ও তাদের প্রশ্রয় দাতা বিএনপি। কর্মসূচীর আড়ালে নাশকতার মাধ্যমে ঢাকাকে অবরুদ্ধ ও অচল করে ফেলার পরিকল্পনা রয়েছে। এ জন্য জঙ্গীদের মাঠে নামানোর প্রস্তুতি চলছে। দীর্ঘ দিন ধরেই এমন প্রস্তুতি চলছে। এজন্য অনেক আগ থেকেই ঢাকার আশপাশে ঘাঁটি গেড়ে বসেছে জঙ্গীরা। মূলত যারা নাশকতা চালাবে তাদের আগেই ঢাকায় আনা হয়েছে। সর্বশেষ জামায়াতের টার্গেট ছিল গত ২৯ জানুয়ারি বিএনপির গণমিছিল। গণমিছিলে বেপরোয়া হামলা চালিয়ে স্মরণকালের ভয়াবহ পরিস্থিতি সৃষ্টির পরিকল্পনা ছিল। সরকারের গদি নাড়িয়ে দেয়ার মোক্ষম অস্ত্র হিসেবে গণমিছিলকে ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে জামায়াতের। এমন আশঙ্কা থেকেই পুলিশ রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় ১৪৪ ধারা জারী করে। এতে ভেস্তে যায় জামায়াতের বড় ধরনের নাশকতার পরিকল্পনা। তারপরও পরিকল্পিতভাবে বাতিল গণমিছিল কর্মসূচী পালনকালে চাঁদপুর ও লক্ষ্মীপুরে গুলিতে ৪ জন নিহত হন। নিহতরা গণমিছিল আহ্বানকারীদের নেতাকর্মী।

যতটুকু শুনেছি,আন্তর্জাতিক ভাবে বিএনপি খুব সুবিদায় নেই। তার একমাত্র কারণ হলো সঙ্গে রয়েছে তাদের জঙ্গি সংগঠন এর মদদদাতা জামায়াত ইসলামী, আর এই জন্য আগামীতে বিএনপি ক্ষমতায় আসুক এটা আন্তর্জাতিক মহল চায় না। আমার চেয়ে ভাল বিএনপির নীতিনির্ধারণীরা এটা খুব ভাল জানে। সরকারের সাথে মার্কিন সরকারের এক ধরনের মন কষাকষি আছে এটা অনেকটা স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে। এই খানে মূল ইস্যু হলো ডাঃ ইউনুছ। আর বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের কী ধারনা সেটা এই ব্লগে এসে ব্লগ পড়লেই বুঝা যাবে না। সরকারের উপর সাধারণ মানুষের বিরক্ততা আছে তাই বলে বিএনপি কে যে পুরোপুরি বিশ্বাস করে সেটা ধারনা করার অবকাশ নেই। এখন প্রশ্ন হলো জনগণ বিশ্বাস করে তাহলে কাকে ? উত্তরটা বাংলাদেশের জনগণ এখন, কই মাছের মত দুই পিঠেই ভাঝা হয়ে বসে আছে। এখন আর ভাজার কোনও জায়গা নেই, অর্থাত্‍ যে যেভাবে খুশি সে ভাবে ভাজতে থাকুক তাতে জনগণের কিছু যায় আসে না। আমি মনে করি বাংলাদেশের মানুষ আজ ধর্ষিত হচ্ছে তার ভাগ্যের কাছে। মুখে আমরা সবাই জনগণের কথা বলে তৃপ্তি পাই, আসলে কত জনগণ আমাদের সাথে আছে সেটা কিন্তু জানি না। নির্বাচনী মাঠে কার কী অবস্থা হবে সেটা দেখতে হলে আরও ১৮ মাস আমাদের অপেক্ষা করতে হবে। কিন্তু আজকে বিএনপি জামাতের যে অবস্থা তাতে এই সোজা পথে গিয়ে এই ১৮ মাসে যে খুব ভাল অবস্থায় যেতে পারবে না বিএনপি জামাত সেটা বিএনপি জামাতের নেতারা খুব ভাল করে বুঝে ফেলেছে। ১২ই মার্চ দেশে কী হবে সেটা ১২ই মার্চে সন্ধা বেলা দেখা যাবে।

এখন যেই কথা নিয়ে এই পোস্ট লিখলাম, সৌদি নাগরিক যিনি মারা গেলেন যতদূর জানি উনি সৌদি দূতাবাসের তেমন কোনও গুরুত্বপূর্ণ কেউ না। কিন্তু তারপর ও কেন এই ব্যক্তিটিকে হত্যা করা হলো ? আজকে দেখলাম বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া বললেন, এই দেশে বিদেশী নাগরিকরা ও এখন আর নিরাপদ না। খালেদা জিয়ার এই মন্তব্যের উপর নির্ভর করে ধারনা করি বিএনপি জামাত জোট ১২ই মার্চের আগে কম গুরুত্তপূর্ণ একজন বিদেশী নাগরিককে হত্যা করে উনার ১২ই মার্চ নিয়ে যে মহা পরিকল্পনা সেটার একটা ড্রেস রিহারসেল করিয়ে নিলেন। উল্লেখ করেছি মার্কিন প্রশাসনের সাথে যেহেতু বিএনপির সম্পর্ক তেমন ভাল নেই জামাতের সঙ্গে জোট করার কারণে। আর আন্তর্জাতিক ভাবে বিএনপি জামাতের বন্ধু রাষ্ট হলো সৌদি আরব ওই দিকে মার্কিন প্রশাসনের ঘনিষ্ট রাষ্ট হলো সৌদি আরব। এখন সৌদি আরবের কোনও কথা আবার মার্কিন প্রশাসন ফেলতে পারে না। মোট কথা হলো সৌদি আরব কে বাংলাদেশ সরকারের বিরুদ্ধে ব্যবহার করার জন্য বিএনপি জামাত এই পরিকল্পিত হত্যাকান্ড ঘটিয়ে থাকতে পারে।

আমি সরকারকে পরামর্শ দিয়ে বলতে চাই, বিএনপি জামাতের শীর্ষস্হানীয় কিছু নেতৃবৃন্দ কে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে এই হত্যাকাণ্ডের মূল আসামি বের হয়ে যেতে পারে।