ক্যাটেগরিঃ অর্থনীতি-বাণিজ্য

 

প্রথম আলোতে ৯ ই মার্চ প্রকাশিত হয়েছিল, নতুন ব্যাংক শিরোনামে যেখানে লেখা হয়েছে প্রাথমিক বাছাই ১৬টি ব্যাংকের তালিকা এর মধ্য থেকে অনুমোদন পেতে পারে ৯টি ব্যাংক। পত্রিকাটি আরও উল্লেখ করেছে এইসব উদ্যোক্তা গুলো কারা এবং ব্যাংক গুলোর নাম কী হবে। আমি সংক্ষেপে কিছু তুলে ধরলাম

“নতুন ব্যাংকের তালিকায় আছে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের ‘ইউনিয়ন ব্যাংক’। যদিও এই ব্যাংকের চেয়ারম্যান হিসেবে নাম রয়েছে জনৈক শহীদুল আলমের”

” সাংসদ ফজলে নূর তাপসের ‘মধুমতি ব্যাংক’। এই ব্যাংকের চেয়ারম্যান হিসেবে নাম আছে জনৈক হুমায়ুন কবীরের”

“এনামুল হক চৌধুরীর প্রস্তাবিত ব্যাংকের নাম ‘চার্টার্ড ব্যাংক’। এই ব্যাংকের উদ্যোক্তার তালিকায় নাম রয়েছে সদ্য প্রয়াত সাবেক ছাত্রনেতা জাহাঙ্গীর সাত্তার টিংকুর”

“সাংসদ এইচ এন আশিকুর রহমান ও নসরুল হামিদের প্রস্তাবিত ব্যাংক হচ্ছে ‘মেঘনা ব্যাংক’। চেয়ারম্যান হিসেবে নাম রয়েছে আশিকুর রহমানের”

“সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী মহীউদ্দীন খান আলমগীরের ‘ফার্মারস ব্যাংক’। তিনি ব্যাংকটির প্রস্তাবিত চেয়ারম্যান”

“ভারতের বিখ্যাত কটক মহিন্দ্রা ব্যাংক এর উদ্যোক্তা হিসেবে রয়েছে ‘কটক বাংলা ব্যাংক’যাদের শেয়ার থাকবে ৬০ শতাংশ। এই ব্যাংকে আছে আবদুল মাতলুব আহমাদের নিটল গ্রুপ, প্রাণ এগ্রো বিজনেস ও প্রাণের প্রধান নির্বাহী আমজাদ খান চৌধুরীসহ বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান”

“সাবেক সেনাপ্রধান মইন উ আহমেদের ভাই ইফতেখার আহমেদের (টিপু) ইফাদ অটোস, বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি আনোয়ার উল আলম চৌধুরী পারভেজ এর প্রস্তাবিত ‘পিপলস ইসলামী ব্যাংক’-এর চেয়ারম্যান হিসেবে তালিকায় আছে আমেরিকা-প্রবাসী আবুল কাসেমের নাম”

“ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সাবেক নেতা অধ্যাপক আবদুল মান্নান চৌধুরী প্রস্তাবিত ‘সাউথ বাংলা এগ্রিকালচার অ্যান্ড কমার্স ব্যাংক’-এর চেয়ারম্যান হিসেবে নাম আছে এস এম আমজাদ হোসেনের”

“দেশের প্রথম অর্থসচিব মতিউল ইসলাম প্রস্তাবিত ‘ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক’

“যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মির্জা আজমের প্রস্তাবিত ‘দ্য পিপলস ব্যাংক’। এই ব্যাংকের উল্লেখযোগ্য উদ্যোক্তা হচ্ছেন যুবলীগের কেন্দ্রীয় নেতা মোহাম্মদ আলী খোকন ও স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানকের স্ত্রী সৈয়দ আরজুমান বানু ”

“মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী এ বি তাজুল ইসলামের প্রস্তাবিত ব্যাংকের নাম ‘ফেডারেল ব্যাংক’। এই ব্যাংকের চেয়ারম্যান হিসেবে রয়েছেন সরকারদলীয় সাংসদ শাহরিয়ার আলম ও সরকারের শীর্ষপর্যায়ে ঘনিষ্ঠ হাবিবি মিল্লাত”

জানতে চাই মাননীয় অর্থমন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টাদের কাছে এই মুহূর্তে বাংলাদেশে নতুন ব্যংকের কতটুকু দরকার আছে ? আর উদ্যোক্তারা এত টাকা পেল কোথায় ? আমি এক আম জনতা, এত বড় একটা বিষয়ে জানার আগ্রহ আমার হতেই পারে যখন শুনি এমন কেউ ব্যাংকের মালিক হতে যাচ্ছে যাদের পেশা ঘরে রাজনীতিই লিখা হয়, ব্যবসায়ী না। তাহলে আমার মত আরও আম জনতার মনে প্রশ্ন আসা স্বাভাবিক এই টাকা কথা থেকে এলো ? এগুলো কী আমাদের টাকা না ? জানি এটা জানা আমাদের জন্য ফরজ না, আমাদের চেয়ে তাদের জন্য জরুরী যারা লাইসেন্স দিচ্ছে, আর যারা নিচ্ছে। তবে আমি সাধারণ একজন নাগরিক হিসেবে শঙ্কিত, কেন নয় নতুন ব্যাংকের উদ্যোক্তাদের নাম দেখে আমি বিস্মিত হয়েছি। যারা ব্যাংক সেক্টরে টাকা বিনিয়োগ করবে বলে চিন্তা করেছে তাদের টাকার বৈধতা কতখানি ? তবে গত সরকারের সফল অর্থমন্ত্রী মরহুম সাইফুর রহমান কে শ্রদ্ধাভরে সরণ করছি উনার কাজের জন্য, গত সরকারের সময় উনার বিরোধিতার কারণে নতুন ব্যাংক চালু হতে পারেনি।

কার্যত আমি নতুন ব্যাংক অনুমোদনের বিপক্ষে নই। এখন কথা হলো নতুন ব্যাংক হলে যে আমাদের অর্থনৈতিক অবস্থার যে অনেক উন্নতি হয়ে যাবে এটা মনে করার মত কোনও কারণ আমি খুজে পাই না। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর বলেছেন যে উদ্ভাবনী ব্যাংকিং এর জন্য নতুন অনুমোদন দেওয়া পারে। আপনি বলেছেন রাজনৈতিক বিবেচনা প্রাধান্য পাচ্ছে বেশি। আমি বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর এর কাছে বিনীত ভাবে পরামর্শ দিয়ে বলতে চাই, বর্তমানে দেশে ব্যাংকের সংখ্যা প্রায় ৫১ টির মত এর মধ্যে রাষ্টীয় মালিকাধীন ৪টি বাণিজ্যিক ব্যাংক , ২টি বিশেষায়িত ব্যাংক ছাড়া বাকি ব্যাংক গুলোর সেবা মূলত শহর কেন্দ্রিক। পল্লী উন্নয়ন ও গ্রামাঞ্চলে ব্যাংক গুলো কই গেল ? দেশের অর্থনীতি কে গ্রাম মুখী না করে কেন আপনার এখনো শহরমুখী রেখে দিয়েছেন ? আর সে জন্য মাঝে মাঝে তারল্ল্য সংকট মুকাবিলা করা আপনাদের জন্য কষ্টকর হয়ে যায়। খুব দ্রুত ব্যাংক গুলোকে গ্রামে পাঠানোর ব্যবস্থা গ্রহণ করুন। নতুন নতুন শাখা করুন, নতুন ব্যাংক নয়।

অর্থমন্ত্রী কে পরামর্শ দিয়ে বলতে চাই, পদ্মা সেতুতে বিদেশী বিনিয়োগকারী না খুজে এই ৯ জন উদ্যোক্তা নিয়ে একটি সিন্ডিকেট বোর্ড গঠন করুন, তাদের নির্দেশ দিন পদ্মা সেতুতে বিনিয়োগ করার জন্য। ৯ জনের সিন্ডিকেট ৯ জনের গ্রুপ হবে প্রতি গ্রুপ কে ১ হাজার কোটি করে বিনিয়োগ করতে হবে সর্বমোট বিনিয়োগ হবে ৯ হাজার কোটি টাকা পদ্মা সেতু তৈরি করবেন ২ টা। যারা বিনিয়োগ করবে তারা তাদের বিনিয়োগকৃত টাকা ফেরত নেওয়ার জন্য সেতু নির্মাণ পরবর্তী ১৫ বছর টোল আদায় করবে। ১৫ বছর পর সরকারের নিকট সেতু হস্তান্তর করবে।

কালো টাকা একটু শক্ত ভাবেই সাদা হোক এসি রুমের মধ্যে থেকে নয়।

– সুলতান মির্জা ১৬/০৩/২০১২ ইং