ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

এই মার্চ মাসে একটা খবর আরব-আমিরাত ভিত্তিক খালিজ টাইমসের প্রকাশিত হয়েছিল, খবরটা ছিল এমন “১৯৯১ সালে বাংলাদেশে নির্বাচনের সময় পাকিস্তানের সামরিক নেতৃবৃন্দ শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন ‘ভারতপন্থি’ আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে বিজয়ী হওয়ার জন্য সহায়তা হিসেবে বিএনপি প্রধান বেগম খালেদা জিয়াকে ৫০ কোটি রুপি দেয়”।

বিএনপি নেতারা এই খবরের প্রতিক্রিয়ায় যা বললেন, তা ভাষায় প্রকাশ করার মত নয়, আমি লজ্জিত একজন বাঙালি হিসেবে, কেন নয় বিএনপি একটা বড় রাজনৈতিক দল তাদের টাকার অভাব থাকতেই পারে, এমনকি তারা টাকা কারও কাছ থেকে নিতেই পারে সেটা পাকিস্তান, সৌদি আরব, বা ইজরাইল এর মত দেশে থেকে এটা খুব স্বাভাবিক একটি ব্যপার। বিএনপি যখন আইএসআই এর কাছ থেকে টাকা নিয়েছিল তখন বিএনপির দলীয় ফাণ্ডে পর্যাপ্ত কোনও টাকা ছিল না হয়তোবা । বিএনপি নেত্রীর হাতে পাকিস্তানী আইএসআই এর এই দেশীয় এজেন্ট ৫০ কোটি রুপীর সমপরিমাণ মুদ্রা দিয়ে গেল, ওই সময় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বিএনপির দ্বিতীয় শ্রেণীর নেতা ছিল তাই হয়তো মির্জা ফকরুল ইসলাম আলমগীর এই বিষয়টা খুব ভাল করে জানতেন না। কিন্তু আজব হয়েছি বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফকরুল ইসলাম আলমগীর, গত বৃহস্পতিবার ওই অভিযোগের সপক্ষে প্রমাণ দাবি করে বলেছিলেন প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের কোনো জবাব দেওয়া যায় না। তিনি অত্যন্ত কুরুচিপূর্ণ, অশালীন বক্তব্য দেন। তাঁর বক্তব্যের তথ্য মিথ্যা, বানোয়াট ও রুচিহীন হয়ে থাকে। প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে আমরা শিখব, দেশের মানুষ শিখবে। কিন্তু তিনি এমনভাবে বক্তব্য দেন যে আমাদের ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে গেছে। তিনি এভাবে বক্তব্য দিতে থাকলে কোনো সমস্যার সমাধান তো হবেই না বরং বাড়তে থাকবে। আরও বলেছিলেন, বিএনপি কখনো বিদেশি টাকায় চলে না,’আমাদের নেত্রী (বিএনপি প্রধান) কখনই বিদেশ থেকে টাকা নেননি। আইএসআইর কাছ থেকে টাকা নেওয়ার অভিযোগ মিথ্যা।

বিএনপির আরেক নেতা আমাদের গাজীপুরের উনার ব্যাপারে কিছু বলতে ইচ্ছা করে না, তারপর ও না বলে পারলাম না, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আ স ম হান্নান শাহ, যিনি নিজে গাজীপুরের পরিবহনের চাদাবাজির অভিযুক্ত আসামি এখনো উনি বললেন, পাকিস্তানের সঙ্গে শেখ হাসিনার সম্পর্কই বেশি ভালো। তিনি অন্তঃসত্ত্বা থাকাকালীন পাকিস্তানে গিয়ে চেকআপ করাতেন। তাঁর বাবা শেখ মুজিবুর রহমান যুদ্ধের সময় পাকিস্তানে আত্মগোপন করেছিলেন। তাই শেখ হাসিনারই উচিত পাকিস্তানে চলে যাওয়া। আওয়ামী লীগই ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’ ও পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থা ‘আইএসআই’র সহযোগিতায় ক্ষমতায় এসেছে। আমরা জনগণ কার কাছে প্রশ্ন করব, কার কাছে এই উত্তর পাব, কিসের জন্য কার জন্য এইসব মিথ্যাচার।

মির্জা ফকরুল ও হান্নান শাহ এইসব সাংবাদিক সম্মেলনের কী হবে জানি না, খালেদা জিয়ার থলের বিড়াল গতকাল বের করে দিয়েছে তারা যারা খালেদা জিয়াকে এই নগর অর্থ দিয়েছিল সেই পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা ইন্টার সার্ভিসেস ইন্টেলিজেন্সের (আইএসআই) এর সাবেক এক প্রধান আসাদ দুররানি যিনি ১৯৯১ সালে খালেদা জিয়াকে টাকা প্রেরণ করেছিলেন, গত বুধবার পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্টের জারি করা এক সমনের উত্তরে এ স্বীকারোক্তি দেন, যে ১৯৯১-এর সাধারণ নির্বাচনের সময় আইএসআই বাংলাদেশের প্রধান বিরোধী দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলকে (বিএনপি) তহবিল জোগান দিয়েছে।

এখন বিএনপি নেতা ফকরুল বা হান্নান শাহ কোন মুখে বলবে এটা ডাহা মিথ্যা কথা সেটা দেখার জন্য অপেক্ষায় আছি। আর বেগম খালেদা জিয়াই বা কী বলেন এর প্রতিক্রিয়ায়। তবে আমি মনে করি যেহেতু থলের বিড়াল বের হয়েই গেছে তাই এখন উচিত খালেদা জিয়ার সব সত্যতা শিকার করে জনগণের কাছে ক্ষমা চাওয়া, যদি এটা না করেন খালেদা জিয়া তাহলে জনগণ হাতে কলমে বুঝে নিবে আসলেই রাজনীতিবিদ দের কোনও চরিত্র নেই ।

সুলতান মির্জা ১৭/০৩/২০১২ ইং