ক্যাটেগরিঃ সেলুলয়েড

 

গত ১৯/০৩/২০১২ ইং তারিখে বাংলাদেশের সবগুলো সংবাদপত্র অনেক খবরের ভিড়ে হলেও একটা খবর ছাপিয়েছিল “অভিনয়শিল্পী তৌকীর আহমেদ ও বিপাশা হায়াতের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে মামলা হয়েছে” শিরোনামে, আমার এই বিষয়টা নিয়ে আলোচনা করার ইচ্ছা ছিল না। কিন্তু না করে আর পারছি না। ইতিমধ্যে এই খবরের অনেক ডালপালা গজিযেছে, আমি মিডিয়াকে দোষারোপ করব না একক ভাবে, যেমনটা এই মুহূর্তে তৌকির আহমেদ ও করছে না। বিভিন্ন ব্লগ ও ফেসবুক এ রসালো গল্পে ভরে উঠেছে।

নাট্য অভিনেতা তৌকির আহমেদ আজকে যেখানে প্রতিষ্ঠিত নিজেদের কর্ম ও সততার গুণে, সেখানে তাকে কে নিয়ে হিংসা করার মত মানুষের অভাব থাকার কথা নয়। যা গত ১৯ শে মার্চ তৌকির আহমেদ এর মেজো বোন তানজিন হায়দার সেই লোভ লালসার কিছুটা আদালতের মাধ্যমে বহি:প্রকাশ করলেন। এখন প্রশ্ন হলো, তৌকির আহমেদ এর বোন টাকা না পেলে মামলা করল কেন আর মিডিয়াতেই বা আসল কেন। তৌকির আহমেদ এর বোন ১৯ শে মার্চ মহানগর মুখ্য আদালতে যে অভিযোগ করেছে, এই টাকা পাওয়ার ঘটনাটা সত্য কিন্তু টাকার পরিমাণটা এতটা নয়। আসল ঘঠনাটা ছিল এমন, তৌকির আহমেদ গাজীপুরে যখন জমি ক্রয় করেছিল তখন তার বোন ও বোন জামাইয়ের কাছ থেকে কিছু টাকা নিয়েছিল যার অংকটা ছিল কয়েক লাখ টাকা। পরবর্তীতে তৌকিরের বোন জামাই সুইডেন থেকে এসে গাজীপুরের জমি দেখতে গিয়েছিল কিন্তু তৌকির যে জমি ক্রয় করেছিল সে জমি তার দুলাভাইয়ের পছন্দ হয়নি। তারপর তৌকির নিজের নামে জমি রেজিস্টি করে। পরবর্তীতে তৌকির আহমেদ তার নিজের ক্রয়কৃত জমিতে ছোট করে একটি খামার বাড়ি গড়ে তুলেছে, যেখানে তার পরিচালনায় বেস কিছু নাটক নির্মিত হয় এবং রাতারাতি এই খামার বাড়ির খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে। এর মধ্যে তৌকির আহামেদ অল্প অল্প করে তার বোনের জামাইয়ের (দুলা ভাইয়ের) পাওনা টাকা অর্ধেকের ও বেশি ফেরত ও দিয়ে দিয়েছেন, ব্যাংকের চেকের মাধ্যমে। কিন্তু যে চুক্তির মাধ্যমে তৌকির টাকা নিয়েছিল সে চুক্তিটি আর বাতিল করা হয়নি কিছু টাকা বাকি ছিল বলে। এখন সেই চুক্তিনামাটি শাপেবর হয়ে দাঁড়িয়েছে তৌকিরের ব্যাক্তি জীবনে।

তৌকির যখন গাজীপুরের জমি ক্রয় করে তখন সেই জমি ছিল, এক কথায় জঙ্গল, বিল, যাওয়ার মত কোনও রাস্তা ছিল না। জমির মূল্য ছিল ৬০ হাজার টাকার বিঘা। আর আজকে তৌকির এই জঙ্গল, বিল সমান করে রাস্তা নির্মাণ করে জমিতে গড়ে তুলেছে, চার তারকা মানের রিসোর্ট, কাম শ্যুটিং স্পট যার নাম দিয়েছেন নক্ষত্রবাড়ি । এখন এই জমির মূল্য দাড়িয়েছে কয়েক কোটি টাকা বিঘা। যে দেখবে তারই লোভ লাগবে। সেক্ষেত্রে তৌকিরের বোন বা বোনের জামাইয়ের লোভ না লাগার কোনও কারণ নেই। আর তাই তারা বাতিল না করা চুক্তির পক্ষে পাওনা টাকার যুক্তি দেখিয়ে আদালতে মামলা করেছেন রিসোর্ট এর মালিক হওয়ার জন্য। আজব লাগে, রিসোর্টটির নির্মাণ কাজ অনেক আগে শেষ হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু টাকার অভাবে তৌকির আহমেদ নির্দিষ্ট সময়ে তা শেষ করতে পারেনি। এই সময়ে উনার শশুর আবুল হায়াত, উনার এক ভাই (অব) সেনাবাহিনীর মেজর, উনার আর এক বোন জামাই ভাষ্যকার আতাহার আলী খান টাকা ধার দিতে চেয়েছিল কিন্তু তৌকির আহমেদ টাকা নেয়নি। ব্যাংক লোন করে অবশেষে গত ১৬ ই ডিসেম্বর কাজ শেষ করেছে। যখন কাজ শেষ হলো তখন দাবিদার বের হলো! আজব দুনিয়া। তারপর ও আপন মেজো বোন ও বোনের জামাই ।

আচমকা এই ঘটনার জন্য তৌকির প্রস্তুত ছিলেন না। ১৮ ই মার্চ উনি ছিলেন কক্সবাজারে। যখন বিডি নিউজে প্রথম খবরটা পড়ি তখনই তাকে ফোন করি, যদিও আমি এই বিষয়টা অনেক আগেই জেনেছিলাম। কিন্তু এমন হবে এটা কেউ কল্পনা ও করতে পারিনি। আমি তাকে সান্তনা দিলাম। বললাম সব ঠিক হয়ে যাবে।

তৌকির আহমেদ কে নিয়ে আমি অনেক বেশি বলতে চাই না, তবে কিছু কথা বলতে চাই যা না বললেই নয়, মিডিয়াতে তৌকির আহামেদ এর মত একজন সৎ মানুষ হয়না। আমি আগেই বলে রাখি আমি কোনও মিডিয়ার লোক নই, ব্যক্তি তৌকির এর সাথে আমার পরিচয়টা হলো ১৯৯৮ সালের শেষ দিকে হবে হয়তো বা তখন থেকে আজ ২০১২ সাল পর্যন্ত অর্থাত্‍ ১৪ বছরের সম্পর্ক এই সময়টা খুব বেশি না একটা মানুষকে চেনা ও জানার আবার কম ও না। এই দীর্ঘ সময়ে আমি উনার মধ্যে কোনও লোভ লালসা কাকে বলে দেখিনি।