ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

বিরোধী দলের অংশ গ্রহণে সংসদ প্রাণবন্ত হয়েছে এটা বলার কোনও অপেক্ষা রাখে না। কিন্তু এমন প্রাণবন্ত অবস্থা খুব বেশি দিন যদি থাকে তাহলে জাতির জন্য হবে খুব লজ্জাদায়ক ঘটনা। সেটা খুব ভাল করে জানেন বেগম খালেদা জিয়া। আর তাই জাতিকে এই লজ্জা দায়ক গঠনার হাত থেকে রক্ষা করতে সংসদ বর্জন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। একটা ভাবসম্প্রসারণ আছে, বন্যেরা বনে সুন্দর……….শিশুরা মাতৃক্রোড়ে। তেমনি আমাদের সংবিধানের একটা ভাবসম্প্রসারণ দরকার ছিল, ক্ষমতাসীনরা সংসদে সুন্দর……….বিরোধীরা রাজপথে।

প্রধান বিরোধী দলের সংসদে যোগদান এটা আমি মনে করি সংসদীয় গণতন্ত্রের জন্য অতি প্রয়োজনীয় এবং গুরুত্বপূর্ণ। বিএনপি সংসদে গেল, গালি-গালাজ করল তার পর ও সমস্যা নেই। কিন্তু সংসদ বর্জনের সিদ্ধান্ত টা শুনে কিছু তা অবাক হলাম। গত ২৮/০৩/২০১২ ইং বিরোধী দলীয় হুইপ জয়নাল আবেদীন ফারুক বলেছেন ““সরকার সংসদকে অচল করে ফেলেছে। সেখানে সর্বক্ষণ মিথ্যাচার, অশালীন ও কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য দেওয়া হয়। অবিলম্বে মিথ্যা ও কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য সংসদের কার্যবিবরণী থেকে বাদ দিতে হবে।” “তা না হলে বৃহস্পতিবার থেকে আমরা অধিবেশনে যাব না”, কথা শুনে আমি একবারে গাধা বনে গেলাম। এর নাম কী সংসদীয় গণতন্ত্র?

আচ্ছা হুইপের কথার সাথে আমি সম্পূর্ণ একমত পোষণ করছি। যদি এমন হয়েই থাকে যে সরকারী দল সংসদে ভীষণ গালাগালি, আর এই গালাগালির কারণে বিএনপির সাংসদরা সংসদে দাড়িয়ে কথা বলতে পারছে না। তাহলে এটা সরকারী দলের একক স্বেচ্ছাচারিতা ও অন্যায়।

প্রিয় পাঠক, ধৈর্য ধরে আমার একটা লেখা একটু পরে আসতে হবে প্রথম আলো ব্লগ থেকে, সংসদ কি এমন হওয়া উচিত? শিরোনামে ।

এবার চলুন দেখা, গত ১৮ ও ১৯ শে মার্চ, এর সংসদীয় ভাষা সংকলন অতি সংক্ষেপে:১৮ ই মার্চ এর আলোচিত: বিএনপির সাংসদ রেহেনা আক্তার রানু

* স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সম্পর্কে বলেছেন, ‘টেলিভিশনে তাঁর বিশ্রী হাসি দেখে ভয়ে মানুষ টেলিভিশন বন্ধ করে দেয়।
* আইন প্রতিমন্ত্রী সম্পর্কে বলতে গিয়ে সাংসদ বলেছেন, ‘বিএনপি ক্ষমতায় গেলে তাঁর কাপড়চোপড় খুলে দেশ থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হবে।
* ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী কর্তৃক বাংলাদেশিদের নির্যাতন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বিএনপি ক্ষমতায় গেলে দুইজন মন্ত্রীর লুঙ্গি তুলে ভারতের মহিলা পুলিশ দিয়ে পেটানো হবে।
*প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জামায়াতের সাবেক আমির গোলাম আযমের পা ছুঁয়ে সালাম করেছেন।

তার পরের ঘটনা সাথে সাথে

এই বক্তব্যের পর সরকার দলীয় সাংসদেরা প্রতিবাদ জানায় হই চৈ করে । কিন্তু সেখানে ও শেষ হওয়ার কোনও লক্ষণ নেই ,
রেহানা আক্তারের পেছনের সারিতে বসা সরকার দলীয় সাংসদ ফজিলাতুন্নেসা আঙুল উঁচিয়ে রেহানা আক্তারকে চুপ করতে বলেন। তিনি বলেন, ‘চুপ কর চুপ কর। ওই সময় রেহানা আক্তারের পাশের বসা বিএনপির দুই নারী সাংসদ শাম্মী আক্তার ও সৈয়দা আসিফা আশরাফি পাপিয়া আওয়ামী লীগ সাংসদ ফজিলাতুন্নেসার দিকে তেড়ে যান। এ সময় এই সাংসদেরা বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। তাঁরা সিট ছেড়ে দাঁড়িয়ে যান—উপক্রম হয় হাতাহাতির।

তারপর পররাষ্টমন্ত্রী দীপু মনি একটা কথা বলেছিলেন, যুক্তিসঙ্গত ছিল বলে মনে হয়
*‘যে ধরনের ভাষা সংসদে ব্যবহার হয়েছে, তা নিষিদ্ধ পল্লীতেও ব্যবহার হয় না।

১৯ শে মার্চ বিএনপির সাংসদ সাংসদ আসিফা আশরাফী পাপিয়া
*রাষ্ট্রপতিকে উদ্দেশ্য করে “মেরুদণ্ডহীন রাষ্ট্রপতি’
*পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীপু মনি কে উদ্দেশ্য করে “যারা নিষিদ্ধ পল্লীর সদস্য, তারাই নিষিদ্ধ পল্লীর ভাষা বলতে পারে”
*প্রধানমন্ত্রী কে উদ্দেশ্য করে “‘১৯৮৬ সালে এরশাদের কোলে বসেছিলেন, লং ড্রাইভে গিয়েছেন। গোলাম আযমের কোলে বসে ছিয়ানব্বইয়ে ক্ষমতায় গিয়েছেন। সর্বশেষ মইন উদ্দিন-ফখরুদ্দীনের কোলে বসে ক্ষমতা দখল করেছেন। যৌবনে আর কার কার কোলে বসেছেন? মতিউর রহমান রিন্টুর বইয়ে পড়েছি, কোন বেয়াইয়ের কোলে আপনার বসার দৃশ্য দেখে চাকর আত্মহত্যা করেছে। *‘তিনি মইন উ আহমেদের কোল ছাড়া আর কোথায় কোথায় বসেছেন, তা তদন্ত করে দেখতে হবে” আপনার ছেলে সজীব আহমেদ ওয়াজেদ মাতাল হওয়া এবং অবৈধ অস্ত্র রাখার কারণে আমেরিকায় পুলিশের হেফাজতে ছিলেন।

(সুত্র: প্রথম আলো)

উপরে উল্লেখিত ঘটনার বিশ্লেষণে কাকে দোষারোপ কারা যায় একটু ভেবে দেখবেন কী ?

মোট কথা হল
সংসদে অশালীন ভাষা ব্যবহার, প্রতিপক্ষ সাংসদের ওপর হামলার চেষ্টা এসব কোনোভাবেই ইতিবাচক লক্ষণ নয়। সংসদ হলো রাষ্ট্রের সর্বোচচ গণতান্ত্রিক চর্চা কেন্দ্র। যেখানে গণতন্ত্রের সুষ্ঠু চর্চা হবে কেবল জনগণের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয় গুলো নিয়ে। কিন্তু লক্ষণীয় কিছু গঠনা খেয়াল করলাম এইখানে ঝগড়া হচ্ছে, কথা কাটাকাটি হচ্ছে, অশ্লীল ভাষার প্রয়োগ হচ্ছে, সাংসদরা মারমুখি হচ্ছে কিসের জন্য ? কি কারণে ? এইগুলো কি জনগণের কোনও সমস্যা নিয়ে। মোটেই না, যা হচ্ছে আর তা হলো সরকারী দল ও বিরোধী দলের পারিবারিক বিষয়াদির গুরত্ব নিয়ে। যা আমি মনে করি আমাদের দেশের জনগণের কাছে এক প্রকার মূল্যহীন।

এই পোস্টএ আমি কার পক্ষে সাফাই গাইব না, কিন্তু কিছু বাস্তবসম্মত কথা শেয়ার করব। পাঠকবৃন্দ, আপনারা কি কখনো গ্রামের কোনও অশিক্ষিত মহিলার ঝগড়া দেখেছেন ? কিংবা পায়ে উপর পা পারা দিয়ে কোনও ঝগড়া দেখেছেন ? যদি না দেখে থাকেন তাহলে আমি আপনাদের বলতে চাই, দয়া করে একটু গ্রাম থেকে ঘুরে আসুন, (পাবেন কী না জানি না, শিক্ষিতের হার এখন আগের চেয়ে বেড়ে গেছে) যদি কপাল গুণে ২/১ টা ঝগড়া চোখে পরে তাহলে দেখবেন গ্রামের অশিক্ষিত মহিলারা কেমন করে ঝগড়া করে। কিন্তু তারা এই সাংসদ রানু ও পাপিয়ার মত বিশ্রী ভাষা ব্যবহার করে না লজ্জা বোধের কারণে।

এখন আসল কথায় আসি জাতীয় সংসদে আমরা যে ভাষার ব্যবহার দেখলাম। তাতে করে একটা ব্যপার খুব সহজে অনুমেয়, এই ক্ষেত্রে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বা স্পিকারের কোনও কিছু করার নেই। কারণটা বেশ পরিস্কারই বলা যায় বিএনপি যে বরাবরই নষ্ট রাজনীতির জন্মদাতা, আর জন্মদাত্রী হলেন বেগম খালেদা জিয়া, সেখানে খালেদা জিয়ার সাথে থেকে সাংসদ, রানু ও পাপিয়া প্রধানমন্ত্রী কে উদ্দেশ্য করে যে ভাষা ব্যবহার করলেন আর এটা যে খালেদা জিয়ার শেখানো কথা নয় এটা যারা বিশ্বাস করবে তারা হল দুনিয়ার আহাম্মক। বিএনপি যে সংসদ বর্জন করবে সেটা অনেক আগেই জানি। জয়নাল আবদিন ফারুকদের লজ্জা করে না ? এই সব অসত্য কথা গুলো বলতে। যে আমাদের কথা বলার অধিকার দিতে হবে, আমাদের কথা এক্সপাঞ্জ করা যাবে না.।

এই পাপিয়া কি বলতে পারে আর কি বলতে পারে না সেটার পক্ষে বা বিপক্ষে যুক্তি বা তর্ক দিয়ে অযথা সময় নষ্ট করতে চাই না। তারপর ও বলতে চাই কিছু কথা পাপিয়ার অনেক মহিমা রয়েছে এই সংসদে। শেষ বার যখন বিএনপি সংসদ বর্জন করল এক বছর আগে তখন এই পাপিয়া সংসদে দাড়িয়ে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কে নিয়ে এমন কিছু কটূক্তি করেছিলেন যা বলার বা লেখার মত ভাষা আমার নেই। (কেউ সেটা দেখতে চাইলে ইউটিউব এ দেখে আসুন)। যথারীতি স্পিকার বক্তব্য এক্সপাঞ্জ করে বিএনপি সংসদ বর্জনের পথ ধরে হাঁটার চিন্তা করে। বিএনপির আরেক সাংসদ রেহানা আক্তার রানু থাক আর বলতে ইচ্ছা করছে না।

বিএনপি কে অনুরোধ করব সংসদ বর্জন করুন আমাদের শান্তি দিন। আপনাদের এই রাজনীতি আর দেখতে আর শুনতে ভাল লাগে না।

@ সুলতান মির্জা- ২৯/০৩/২০১২ ইং