ক্যাটেগরিঃ স্বাধিকার চেতনা

 

যার রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক প্রজ্ঞা এবং অসীম ধৈর্য ও দৃঢ়তা ছাড়া দেশ স্বাধীন হতো কিনা সন্দেহ রয়েছে, সেই বঙ্গ তাজ তাজউদ্দীন আজ ইতিহাসের পাতা থেকে নির্বাসিত প্রায়। তাকে কেবল কিছু সংখ্যক উন্নত রাজনীতি মনষ্ক মানুষগণ স্বরণ করেন। এই মহান বীরের এর প্রতি রইল লাল সালাম। শ্রদ্ধা জানাই বিনম্য ভাবে বঙ্গ তাজের সকল কর্মকাণ্ডকে।

মহান স্বাধীনতার ইতিহাস রাজনৈতিক বিকেন্দ্রিকরণের বেড়াজালে। ক্ষমতা লিপ্সু একদল চাটুকারদের অত্যাচারে জাতি বঞ্চিত হচ্ছে সঠিক ইতিহাস থেকে। দিককার জানাই এই সব চাটুকার রাজনীতিবিদ দের। আমাদের নতুন প্রজন্ম আজ কোথায় একটু কল্পনা করতে পারেন ?

http://www.youtube.com/watch?v=iR-3_pK_NMg

৫২ একুশে ফেব্রুয়ারি কী হয়েছিল আমাদের নতুন প্রজন্ম তা জানে না। অথচ আমাদের মুখের বুলি শেষ হয় না। কোথায় বাস করি মাঝে মাঝে অবাক লাগে। কে শুনবে কার কথা যারা দেশের প্রথম ক্লাসের মানুষ তারা নিজেরাই তো জানে না সঠিক ইতিহাস। তারা আবার কী শিক্ষা দিবে। যখন আমাদের শুনতে হয় জিয়ার ঘোষণা ‘ধ্রুবতারার’ মতো সত্য মির্জা ফখরুল আলমগীরের মত প্রথম শ্রেণীর কোনও মানুষের মুখ থেকে। তখন শুধু হতাশা ছাড়া আর কিছু নেই। এই সম্পর্কিত একটা পোস্ট আমি লিখেছিলাম “জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষক হয় কী করে!” শিরোনামে । যাই হোক হয়তো বা দুর্ভাগ্য মির্জা ফখরুল সাহেবরা এইসব লেখা পড়তে এখন আর অভ্যস্ত না। বা পড়লে ও বলে বসতে পারেন এটা মিথ্যা ইতিহাস। এই গুলো ষড়যন্ত্র।

বঙ্গবন্ধুর অনুপস্থিতিতে দেশের ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে বাঙালি জাতিকে নেতৃত্ব দিয়ে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা এবং নেতাকে মুক্ত করে তার হাতে সেই রাষ্ট্র তুলে দেয়ার বহুমাত্রিক জটিল দায়িত্ব বঙ্গ তাজ তাজউদ্দীন আহমদ পালন করেছেন। এসব বিচারে ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের অভ্যুদয় এক অনন্য সাধারণ ঘটনা। এই অর্জনের অন্যতম মূল ব্যাক্তিই হলেন বঙ্গ তাজ তাজউদ্দিন আহমদ। কিন্তু একই সাথে এ কথা অনস্বীকার্য যে শারীরিক ভাবে অনুপস্থিত থাকলেও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানই ছিলেন যুদ্ধের মূল প্রেরণা শক্তি।

সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে জাতীয় স্বাধীনতা লাভের এই সংগ্রাম যে কোন দেশের মুক্তিযুদ্ধের চেয়ে ছিল কঠিন। কেননা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর বাংলাদেশ ব্যতীত আর কোন দেশ নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন পরবর্তী সশস্ত্র যুদ্ধেও মাধ্যমে স্বাধীনতা অর্জন করতে পারেনি। ২৫ শে মার্চ কাল রাতে বঙ্গবন্ধুকে গ্রেপ্তারের পর ব্যারিস্টার আমীর-উল ইসলাম ও ড. কামাল হোসেন-এর সাথে বাসা থেকে এক কাপড়ে বেড়িয়ে যাবার তিন দিন পর বঙ্গতাজ তাজউদ্দিন আহামেদ তাঁর স্ত্রী জোহরা তাজউদ্দীনের কাছে একটা চিরকুট লিখে পাঠিয়েছিলেন। তাতে কয়েকটি লাইন এভাবে লেখা ছিল-“আমি চলে গেলাম। আসার সময় বলে আসতে পারিনি। মাফ করে দিও। তুমি ছেলেমেয়ে নিয়ে সাড়ে ৭ কোটি মানুষের সঙ্গে মিশে যেয়ো। কবে দেখা হবে জানি না। বেচে থাকলে হয়তো বাংলাদেশের মুক্তির পর”।

বঙ্গতাজ তাজউদ্দীন আহামেদ বিশ্ব জনপ্রতিনিধির সমর্থন পেতে যিনি ছুটেছিলেন একজন থেকে আরেকজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির কাছে বৈঠকের পর বৈঠকে অংশ নিতে। স্বাধীন বাংলাদেশের সরকার গঠনের সময় নিজেসহ সবাইকে অঙ্গীকার করিয়েছিলেন যে, “স্বাধীন না হওয়া পর্যন্ত কেউ সংসার ধর্ম পালন করবেন না, যা তিনি অক্ষরে অক্ষরে সেই অঙ্গীকার পালন করেছিলেন। মুক্তিযুদ্ধ সংগঠিত করতে প্রতি পদে পদে বাধাগ্রস্থ হয়েছিলেন বঙ্গতাজ তাজউদ্দীন আহামেদ। তবুও তিনি অবিচল থেকেছেন সঠিক দূরদর্শী সিদ্ধান্তে ও দিক নির্দেশনায়। মুক্তিযুদ্ধে কাঙ্ক্ষিত বিজয়কে দ্রুত ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যে রাশিয়ার পূর্ণ সমর্থন ও সহযোগিতা পাবার নতুন এক দ্বারের উন্মোচন হয়েছিল যাতে ভারত স্বতঃস্ফূর্তভাবে বাংলাদেশকে সরাসরি সাহায্য করতে পারে। তাই, দিল্লীর আশ্বস্ততায় তাজউদ্দীন বাংলাদেশের স্বাধীনতাকামী সকল রাজনৈতিক দলকে সঙ্গে নিয়ে “জাতীয় মোর্চা বা জাতীয় মুক্তি ফ্রন্ট”গঠনের সাহসী উদ্দ্যোগ নিয়েছিলেন বঙ্গতাজ তাজউদ্দিন আহামেদ। ফলশ্রুতিতে, তাজউদ্দীনের নেতৃত্বে ভারত সরকারের মাধ্যমে মুক্তিযোদ্ধাদের অস্ত্র-ট্রেনিং প্রদান, পরবর্তীতে ভারতীয় মিত্রবাহিনীর সরাসরি অংশগ্রহন, বাংলাদেশের বামপন্থী সংগঠনগুলোর সহযোগিতা বিশেষত কমরেড মণি সিংহ এর সাহসী প্রচেষ্টায় রাশিয়ার প্রত্যক্ষ সমর্থন, বাঙালি জাতিকে পৌঁছে দিয়েছিল স্বাধীনতা অর্জনের আকাঙ্ক্ষিত বিজয়ের অভূতপূর্ব মুহূর্তে।

বাবা মরহুম মৌলভী মোহাম্মদ ইয়াসিন খান, মা মরহুমা মেহেরুন্নেসা খানম এর পুত্র তাজউদ্দীন আহামেদ ১৯২৫ সালের ২৩শে জুলাই জন্মগ্রহণ করেছিলেন গাজীপুর জেলার, কাপাসিয়া উপজেলার দরদরিয়া গ্রামে। দশ ভাই-বোন পরিবেষ্টিত এবং রক্ষণশীল, মধ্যবিত্ত পরিবারে বেড়ে ওঠা তাজউদ্দীন তার পুরো জীবনই সাদামাটাভাবে যাপন করেছেন। এমনই একজন স্বভাবসূলত বীর নেতা এবং বিরল ব্যক্তিত্বের অধিকারী,বীর বঙ্গতাজ তাজউদ্দিনের প্রতি রইল গভীর শ্রদ্ধাঞ্জলি।

তথ্যসুত্র ও ছবি : বঙ্গতাজ তাজউদ্দিন লাইফ

@সুলতান মির্জা- ২৭/০৩/২০১২ ইং