ক্যাটেগরিঃ স্বাস্থ্য

 

জিনিসটা হলো, আমাদের অনেকের কাছে খুবই আদরণীয়, দেশের বাহির থেকে আমদানিকৃত, ধনীর দুলাল-দুলালীদের ভোগ্য পণ্য বা নেশার সামগ্রী যার নাম সীসা বা আধুনিক ফ্লেভার্ড হুক্কা। ভাবলে খুব অবাক হতে হয়, মাত্র বছর দুই এর মধ্যে কিভাবে ক্লাস এইট-নাইনে পড়ুয়া ছেলে-মেয়েদের কাছে এই সীসা কেন এত আদরণীয় হয়ে উঠলো।

একটু পিছনে ফিরে যেতে হবে, একটা সময় ছিল গ্রামাঞ্চলে হুক্কা খুব জনপ্রিয় ছিল। কিন্তু বিড়ি, সিগারেটের ব্যাপক প্রচলনে এর জনপ্রিয়তা এখন তেমন নেই বললেই চলে। কোনও এক সময় জমিদার টাইপের কিছু লোকজন নিজেদের অবস্থাকে লোকসমাজে প্রদর্শনের জন্য ভাব নিয়ে গরর গরর শব্দ করে দামী হুক্কা খেত। আর দরিদ্রদের জন্য ছিল কম দামি নারিকেলের খোসা দিয়ে বানানো হুক্কা। দুঃখের বিষয় গ্রামাঞ্চলের সেই হুক্কা আজ বিলুপ্তির পথে, আর জমিদার প্রজাতির বিলুপ্তি ঘটেছে অনেক আগেই। মজার বিষয় হলো, বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া হুক্কা আজ শহরাঞ্চলের ধনীর দুলালদের কাছে অতি জনপ্রিয় মাদক পণ্যে পরিণত হয়েছে।

আপনি জানেন কী ? এই হুক্কা সেবনকারীদের অধিকাংশই মনে করে যে, হুক্কা/সীসা সিগারেটের তুলনায় কম বিষাক্ত মতান্তরে বিষাক্ত নয়। বিশ্বের অন্যতম এই ডাহা মিত্থ্যে কথাতেই হোক অথবা বন্ধুদের সামনে বুক উচু করে বলার জন্যই হোক, অসম্ভব হারে স্কুল কলেজে পড়ুয়া ছেলেমেয়েদের মধ্যে হুক্কার কদর বেড়ে চলেছে। আরও আশ্চর্যের ব্যপার হলো শহরাঞ্চলে একদম হাতের কাছেই বিড়ি-সিগারেটের মতোই পাওয়া যাচ্ছে হুক্কার প্রয়োজনীয় মাদক সীসা। তথাকথিত সেবনকারীদের ধারনা হুক্কা সেবনে রাজকীয় ভাব আছে। আর মূল্য সে তো অনেকটা হাতের নাগালের মধ্যেই বলা যায়, মাত্র ৫০০ থেকে ৬০০ টাকায় আনায়েসে পাওয়া যায়। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে যেসব ছেলে মেয়ে কোনদিন সিগারেট স্পর্শ করেনি অথচ এদের ব্যপক একটি অংশ এখন হুক্কা পানে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছে। আরো আশংকার বিষয় হলো, অস্বাভাবিক হারে উঠতি মেয়েরা হুক্কায় আসক্ত হয়ে পড়ছে। নিজেদের মধ্যে অবলীলায় হুক্কার ব্যবহিত মাদক তথাকথিত সীসা নিয়ে খুব খোলাখুলি আলাপ করছে। যেন এটা কোন লুকানোর বিষয় না।

যে তথাকথিত সীসা নিয়ে আমাদের তরুণ তরুণীদের মাঝে এতো আগ্রহ রয়েছে। আসুন একটু দেখে নেই, সীসায় আসলে কোনও বিপদ আছে কী না? উল্লেখ্য গত বেশ কিছু দিন যাবত এটা নিয়ে অনেক তল্লাশি দিয়েছি ইন্টারনেটে এবং বেশ কিছু ভয়ংকর তথ্য পেয়েছি।

* সীসার চারটি স্তর।রয়েছে যা বেজ, পাইপ, বওল আর মাউথপিস নামে পরিচিত। বওলটাকে এলুমিনিয়ামের কভার দিয়ে ঢেকে দেয়া হয় আর সেই ফয়েলের মাঝে উত্তপ্ত কয়লা রাখা হয়। যা কিনা ভেতরের টোব্যাকো (তামাক) পুড়াতে সাহায্য করে। শিক্ষিত-অশিক্ষিত সকলেই জানে যে, কয়লা পুড়ে কার্বন মনো অক্সাইড হয়, যা মানুষের শ্বাস-প্রশ্বাসে চরম ক্ষতি করে। যা মানব দেহের মৃত্যুর কারণ হতে পারে।

*এই ধোয়া বেজ এ রাখা সুগন্ধী (যেমনঃ স্ট্র্যবেরী, নারিকেল, চকলেট, গোলাপ) পানির ভেতর হয়ে আসে এবং তা মাউথপিসের সাহায্যে সোজা পাকস্থলিতে পৌছে।

* রয়টার্সের নাম কে না জানে? সম্প্রতি রয়টার্সের এক সংবাদ অনুযায়ী একটা পুর্ণ সেশনের সীসা গ্রহন বা এক প্যাকেট সিগারেট সেবনের মতোই মারাত্মক।

*ক্ষতির দিক দিয়ে সীসা বা সিগারেট দুটো জিনিসই ক্ষতিকর। সিগারেটে যেখানে ১-৩% নিকোটিন থাকে, সেখানে সীসাতে ব্যাবহৃত তামাক থেকে ২-৪% নিকোটিন উত্পাদন হয়ে থাকে। সুত্রঃ ড. কেনেথ, আমেরিকা একাডেমী অফ পেডিয়াট্রিক্স এর প্রেসিডেন্ট।

* ইয়েমেন এর একটি প্রসিদ্ধ হাসপাতালের কার্ডিয়াক স্পেশালিস্ট ড. আহমেদ আল-মোতাররেব মতামত ছিল এমন যে কেউ যদি একবার পুর্ণ ভাবে সীসা গ্রহন করে তা ৬০টি সিগারেট গ্রহন করার সমান ক্ষতিকর। সুত্রঃ Journal of Periodontology (Nov. 2005)

*অতি উৎসাহী কিছু শিক্ষিত মানুষ যুক্তি দেখায় যে “এটা তো পানির মুধ্যে দিয়ে আসে। সব কিছু তো শোষন হয়ে যায” কিন্তু আমাদের জানা দরকার নিকোটিন পানিতে প্রকৃতভাবে দ্রবীভুত হয় না। নিকোটিন পানিতে সচল থাকে।

* কেউ কেউ মনে করে থাকে সুগন্ধী, ঠান্ডা ধোয়া শরীরের জন্য এটি ক্ষতিকর নয়। এটা ভুল এই ধারনা গুলো সীসার প্রতি মোহের একমাত্র কারণ। (সুত্রঃ ড. আল খামেরী, হিউম্যান ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান।)

এই সব তথ্যের ভিত্তিতে আমাদের বিবেচনা করা দরকার আসলে আমরা যাচ্ছি কোথায়। আমারা কি এখনো সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারি না? তাই আসুন আমরা সীসার বিরুদ্ধে সতর্ক থাকি।

@সুলতান মির্জা
তথ্য ও ছবি সুত্র: ইন্টারনেট।