ক্যাটেগরিঃ নাগরিক সমস্যা

 

বিদ্যুত্‍ আমাদের দৈনন্দিন জীবনে এমন একটি প্রয়োজনীয় শক্তি যা না হলে আমরা এক মুহূর্তের জন্য ও থাকতে পারি না। অর্থ্যাত এক বেলা এক মুঠো ভাত কম খেয়ে হলেও বিদ্যুত্‍ কিন্তু চাই। বিদ্যুত্‍ না হলে চলবে না। অথচ এই বিদ্যুত্‍ নিয়ে বৈদ্যুতিক বিতলামি আমরা এখন দেখতে দেখতে অমরা ক্লান্ত হয়ে পড়েছি। বিদ্যুত্‍ খাতে রয়েছে সীমাহীন দুর্নীতি যা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে শুরু হয়ে শেষ হয় চুক্তি ভিত্তিক নিয়োগপ্রাপ্ত মিটার রিডার ম্যান পর্যন্ত গিয়ে। যাই হোক দুর্নীতির বিষয় নিয়ে না হয় আরেক দিন বলা যাবে ।

মহাজোট সরকার ক্ষমতায় আসার পরে যে আমাদের বিদ্যুত্‍ ব্যবস্থার উন্নতি হয়নি এটা ঠিক নয়। বিদ্যুত্‍ উত্পাদন বেড়েছে ঠিক, জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুত্‍ যোগ হয়েছে। পাশাপাশি বেড়েছে আমাদের বিদ্যুত্‍ এর ব্যবহার এটা ও মনে রাখতে হবে।

বর্তমানে আমাদের বিদ্যুত্‍ পরিস্থিতি একেবারে নাজুক যদিও তা একদিনে হয়নি। কিন্তু আমাদের সরকার গুলোর মনে হয় সেই বিষয়ে তেমন কোনও মাথা ব্যাথা লক্ষণীয় নয়। খেয়াল করলে দেখবেন, দীর্ঘদিন ধরে দেশে সাশ্রয়ী খরচে বিদ্যুত্‍ উত্পাদন হতে পারে এমন কোনও বিদ্যুত্‍ কেন্দ্র কোনও সরকারই এখনো তৈরি করতে পারেনি। বিদ্যুতের চাহিদা কিন্তু থেমে নেই প্রতিদিনই হু হু করে বাড়ছে বিদ্যুতের চাহিদা। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার আগে বিদ্যুত্‍ তলানি তে গিয়ে ঠেকেছিল। যদিও বর্তমান সরকার ক্ষমতায় এসে বিদ্যুত্‍ উত্পাদনের জন্য উদ্যোগ নিয়েছে, আবার তা শুরু করতেও সাত-আট মাস দেরি করেছে।

কুইক রেন্টালের ব্যাপারে সরকার শুরুতে দ্বিধাদ্বন্দ্বে ছিল। পরে যেকোনো মূল্যে বিদ্যুত্‍ উত্পাদন করতে হবে এমন একটি অবস্থান থেকে সরকার কুইক রেন্টাল বিদ্যুত্‍ উত্পাদনের উদ্যোগ নেয়। যদিও এতে করে বিদ্যুত্‍ উত্পাদনের খরচ তুলনা মুলুক ভাবে বেড়ে গেছে। কিন্তু জনগণ কে বিদ্যুত্‍ না দেওয়ার চেয়ে, বেশি মূল্যে বিদ্যুত্‍ উত্পাদন করে হলেও জনগণ কে বিদ্যুত্‍ দেওয়ার নীতি সরকার নিয়েছে। এই উদ্যোগটি অবশ্যই ভালো ছিল। সরকার যদি তা করতে না পারত, তবে আজ পরিস্থিতি যে কোথায় গিয়ে ঠেকত, তা আমরা অনুমান করতে পারি। তবে আমি মনে করি সরকার যে বিদ্যুত্‍ উত্পাদনের ক্ষেত্রে কিছুটা ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে, তা হচ্ছে দীর্ঘমেয়াদে ও স্বল্প খরচে বিদ্যুত্‍ উত্পাদনে সক্ষম এমন কোনো বড় বিদ্যুত্‍ কেন্দ্র নির্মাণ না করে।

আপনাদের অবগতির জন্য বলছি বর্তমান বিশ্বে সাশ্রয়ী মূল্যে বিদ্যুত্‍ উত্পাদনের মূলত তিনটি প্রাথমিক জ্বালানি ব্যবহার করা হয়ে থাকে। বর্তমানে পৃথিবীতে বিদ্যুত্‍ উত্পাদনে সবচেয়ে বেশি খরচ হয় কয়লা,দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে গ্যাস ও তৃতীয় হচ্ছে পারমাণবিক বিদ্যুত্‍। এর বাইরে কার্যত আর কোনো পথ নেই। যতটুকু জানতে পেরেছি বর্তমান সরকার কয়লা দিয়ে বিদ্যুত্‍ উত্পাদনের একটি পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। এই ক্ষেত্রে বাগেরহাটের রামপালে যে কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুত্‍ কেন্দ্রটির কথা বলা হচ্ছে, তা কার্যকর হতে পারে বলে আমি মনে করি। যেহেতু বর্তমানে আমাদের হাতে গ্যাস নেই তেমন একটা, আর তাই রামপালের বিদ্যুত্‍ কেন্দটি আমদানি কৃত কয়লা দিয়ে চালু করা যেতে পারে ।

নানা বাস্তবতায় যেহেতু নিজস্ব কয়লা ব্যবহারের পরিস্থিতি এখনো সৃষ্টি হয়নি, তাই আমদানি করা কয়লার ওপর নির্ভর করা ছাড়া আমাদের কোনো পথ নেই। সাশ্রয়ী দামে বিদ্যুত্‍ উত্পাদন করতে হলে এই পথে যেতে হবে। এখন তেল আমদানি করে বিদ্যুত্‍ উত্পাদন করায় আমাদের জ্বালানি তেলের আমদানি প্রায় দ্বিগুণ হয়ে গেছে। সরকার কে মনে রাখতে হবে বর্তমানে পৃথিবীতে কোথাও দীর্ঘমেয়াদে বিদ্যুত্‍ উত্পাদনের জন্য তেলের ওপর নির্ভর করা হয় না। তেল দিয়ে বিদ্যুত্‍ উত্পাদনে সরকার কে প্রতিদিন ভর্তুকি দিতে হচ্ছে । যার ধরুন বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ বৈদেশিক মুদ্রা কমছে হু হু করে।

দিনাজপুরের রয়েছে আমাদের কয়লা খনি। অথচ সেখান থেকে কয়লা উত্পাদনে সরকারের কোনও মাথা ব্যাথা নেই বললেই চলে। সরকার নিজস্ব কয়লা ব্যবহার করতে পারলে তো সবচেয়ে ভালো। কারণ, আমদানি মানেই জ্বালানি নিরাপত্তায় ঝুঁকি। বিষয়টি শুধু দামের নয়, যেকোনো বিশ্বপরিস্থিতির কারণে সরবরাহ বিঘ্নিত হতে পারে। কিন্তু নিজেদের কয়লা ব্যবহার শুরু করতে না পারা পর্যন্ত সাশ্রয়ী দামে বিদ্যুত্‍ উত্পাদনের জন্য আমদানি করা কয়লার ওপর নির্ভর করাই এখন বিকল্প।

এখন কথা হলো দেশের ক্রমবর্ধমান বিদ্যুতের চাহিদার যোগান নিশ্চিত করতে হলে, অতি দ্রুত দীর্ঘ মেয়াদী সাশ্রয়ী বিদ্যুতের উত্পাদনের জন্য এই বিকল্প ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। না হলে সেই দিন বেশি দূরে নয়, বিদ্যুতের জন্য কান্না ছাড়া কোনও উপায় থাকবে না।

@সুলতান মির্জা
০১/০৬/২০১২ ইং