ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত নিয়ে লেখার কোনও চিন্তা ছিল না। সুরঞ্জিত সেন গুপ্তের ঘটনা নিয়ে অনেক তোলপাড় হয়েছে। সংবাদ পত্রে, ব্লগে, ফেসবুক সবখানে। দেশ বাসী যেমন টা আশা করেছিল, আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সেই আশা একটু দেরি করে হলেও পূর্ণ করেছে। সেজন্য ধন্যবাদ মাননীয় প্রধান মন্ত্রী কে। যে বিষয়টা নিয়ে আমি এই পোস্ট টা লিখেছি, সুরঞ্জিত সেন গুপ্ত যেকোনো ভাবেই হোক না কেন, এখন তিনি যেহেতু নিজে সকল দ্বায় দ্বায়িত্ত স্বীকার করে নিয়েছেন সেহেতু উনি একজন দুর্নীতিবাজ অন্য আর কিছুই না। ব্লগে এই সব বিষয় নিয়ে এত বেশি মন্তব্য হয়েছে যে আমার আর কোনও কথা এর মাঝে চলে না।

কিন্তু একটা ব্যপার নিয়ে না বললে যেন, আমার কথা বলা অপূর্ণ থেকে যায়, সুরঞ্জিত সেন গুপ্ত সাহেবের এ পি এস যেদিন টাকা নিয়ে ধরা পড়লেন তার পর দিন দিন থেকে সারা দেশ ব্যাপী একধরনের আলোড়ন সৃষ্টি হয়ে গিয়েছিল। যা আমাদের জন্য অনেক টা ছিল লজ্জাজনক। বলতে পারেন হতাশ হয়ে গিয়েছিলাম। বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠন, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, সচেতন নাগরিক সবাই সুরঞ্জিত সেন গুপ্তের পদত্যাগ দ্বাবি করেছিলেন, আমাদের মাননীয় প্রধান মন্ত্রী তুরস্ক থেকে ফিরে খুব দ্রুত এই বিষয়ে একটি সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সেটা ও আপনারা সকলে জানেন। কিন্তু একটা অবাক কাণ্ড খেয়াল করলাম, বিএনপি নেতা মওদুদ এর আগ্রহ দেখে। উনি যেন উঠে পড়ে লেগেছিলেন সুরঞ্জিত এর পদত্যাগের জন্য। আমার জানার খুব আগ্রহ ছিল, মওদুদ কোথাকার কোন দুধে ধোয়া তুলসী পাতা। সারা বাংলাদেশের মানুষ যদি সবাই ও সুরঞ্জিত এর পদত্যাগ এর জন্য আন্দোলন করতো তার পর ও মওদুদ সাহেবের এটা নিয়ে কথা বলা ছিল নিষ্প্রয়োজন। কিন্তু না হয়েছে উল্টাটা সবার আগে উনিই তা করলেন। সাব্বাস বেটা মওদুদ, এই না হলে চরিত্র। আমি না সারা পৃথিবীতে যে সকল বাঙালি রয়েছেন তারা সবাই একটা বিষয়ে একমত পোষণ করতে পারেন আমার সাথে, মওদুদের চেয়ে সুরঞ্জিত সেন গুপ্তের চরিত্র অনেক ভাল।

প্রিয় পাঠক, মওদুদ সাহেব হল বাংলাদেশের রাজনীতির এক দীর্ঘ দিনের লালিত বেহাইয়া, যার কোনও লজ্জা শরম বলতে কিছু নেই। স্বাধীনতার পর থেকে আজ পর্যন্ত যতগুলো সরকার হয়েছে সব গুলো সরকারের সাথে উনি ছিল। যা একটা রাজনীতিবিদের চরিত্রকে কলুষিত করার জন্য একটা স্বাভাবিক পন্থা বলে বিবেচিত। তো সেই মানুষ টা দুর্নীতি কতটুকু করেছে আর না করেছে সেই বিষয় টা নিয়ে আমি সময় পেলে আর একদিন বলব। কিন্তু উনি যে আরবের কোনও ক্ষুরম্যা খেজুর না এটা মনে রাখতে পারেন।

যাই হোক সুরঞ্জিত সেন দুর্নীতি করেছে, কথা তো আওয়ামীলীগ ওয়ালাদের শুনতেই হবে, কিন্তু যারা কথা বলছেন তাদের কে ও কিছুটা মনে রাখতে হবে, আপনাদের পূর্ব পুরুষদের স্বভাব চরিত্রের কথিয়ান কিন্তু খুব বেশি ভাল নয়। খাম্বা তারেক রহমান, মাওলানা কোকো, ক্যাসিও বাবর, গিয়াস উদ্দিন দরবেশ, হালুয়া সাকা চৌ, বাংলা রুহুল কুদ্দুচ, লেক্সাস মুশারফ, হারা ধনের একটি বাচ্চা ফালু মিয়া,বেহাইয়া মওদুদ, বেতাল হারিছ চৌ, এমন আরও অনেক রয়েছেন যাদের নামের শেষে পদবী যোগ হয়ে গিয়েছিল।

সর্বশেষ একটা কথা বলে শেষ করব, আগে নিজের ক্রুটি সংশোধন করুন তারপর অন্য জনের ক্রুটি দেখুন। তাতে ফায়দা অনেক।

@ সুলতান মির্জা।