ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

শিরোনাম দেখে কেউ হতাশ হবেন না দয়া করে। যে আমি বঙ্গতাজ তাজউদ্দিন আহামেদ কে নিয়ে ব্লগ লিখি, সেই আমি কী না উনার ছেলে কে প্রতারক বলছি। হা প্রতারক হিসেবেই বলছি। স্বরাষ্ট প্রতিমন্ত্রী পদ থেকে সোহেল তাজের পদত্যাগ এর ঘটনায় কাপাসিয়ার মানুষ হয়েছিল ব্যথিত,কিন্তু সংসদ সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ এর গঠনায় কাপাসিয়া বাসী হয়েছে স্তম্বিত। তবে একটা মানুষ সবচেয়ে খুশি হয়েছে আর তিনি হলেন বিএনপি এর স্থায়ী কমিটির অন্যতম সদস্য হান্নান শাহ। কারণ উনি আর হয়ত বা জীবনে কাপাসিয়ার মাটিতে এমপি হতে পারতেন না। কিন্তু সোহেল তাজের পদত্যাগের পর সেই সম্ভাবনা উজ্জল হয়ে দেখা দিল। আগামীতে এমপি হতে আর কোনও বাধা নেই।

ভৌগলিক ভাবে বলতে গেলে কাপাসিয়া গাজীপুরের সবচেয়ে অনুন্নত একটি উপজেলা। কিন্তু গাজীপুরের সবচেয়ে শিক্ষিত মানুষের বসবাস এই কাপাসিয়াতে। বঙ্গতাজ তাজউদ্দিন থেকে শুরু করে অনেক বরেণ্য ব্যক্তির জন্ম হয়েছে এই কাপাসিয়াতে। কাপাসিয়ার মানুষের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য ছিল বঙ্গ তাজের পরিবার। বাংলার প্রথম প্রধানমন্ত্রী বঙ্গতাজ তাজ উদ্দিন আহামেদ, ৯৬ আওয়ামীলীগের শাসনামলের গণপূর্ত মন্ত্রী (বরখাস্ত দুর্নীতির দায়ে ), ২০০৮ এর আওয়ামীলীগের শাসনামলের স্বরাষ্ট প্রতিমন্ত্রী সোহেল তাজ (পদত্যাগী)।

সোহেল তাজ যখন গত ২০০১ সালের সংসদ নির্বাচনে প্রথম এমপি হয়েছিলেন তার পূর্বে বঙ্গতাজ তাজউদ্দিন আহামেদ শুধু কাপাসিয়াতে এতটা জনপ্রিয় ছিলেন। দু একটা কথা বলতে চাই সোহেল তাজ কে নিয়ে, আমার নিজ চোখে দেখা সোহেল তাজ যখন কাপাসিয়াতে যেতেন তখন ময়মনসিংহ হাই ওয়ে থেকে কাপাসিয়া রোডে ঢুকে এমন কোনও মানুষ নেই যে কুশলাদি বিনিময় করেননি, রাস্তার দুই পাশে যাকে দেখতেন তাকেই সালাম দিতেন, ভাল মন্দের খোজ নিতেন। মানুষ তখন বলতেন এই না হলে তাজউদ্দিনের ছেলে। এমন কী খেতে নেমে পড়তেন কোনও কৃষকের খোঁজ খবর নেওয়ার জন্য। এক কথায় কাপাসিয়ার মানুষ একজন যোগ্য অভিবাবক পেয়েছিল। যার মধ্যে কাপাসিয়ার আপামর জনগণ দেখেছিল বাবা তাজউদ্দিনের আদর্শের নমুনা। এক কথায় অনন্য।

সোহেল তাজ এর মন্ত্রীত্ব এনে দিয়েছিল, উন্নয়ন বঞ্চিত কাপাসিয়ার জনগণের মুখে এক ঝলক হাসির বন্যা। দুর্ভাগ্য কাপাসিয়ার মানুষের সেই হাসি বেশি দিন কপালে সইলো না। শুরুতেই একটা ধাক্কা। তারপর ও সোহেল তাজের প্রতি ভালোবাসার কোনও কমতি ছিল না কাপাসিয়ার জনগণের কাছে। তখন তারা আগের চেয়েও বেশি করে কাছে চাইতো সোহেল তাজ কে। কিন্তু সোহেল তাজ সেটা করেনি তাই বলে জনগণ কিন্তু একটু ও হতাশ হয়নি। তারা তাদের অভাব, অভিযোগ গুলো জমিয়ে রাখতো কবে কোন দিন তাদের প্রিয় নেতা দেশে আসবে, তাদের কথা গুলো মনোযোগ সহকারে শুনবে ও তার সমাধান দিবে। কাপাসিয়ার জনগণের কতটা প্রিয় ছিল ব্যক্তি সোহেল তাজ।

আমি মনে করি সংসদ সদস্য থেকে সোহেল তাজ পদত্যাগ করে শুধু কাপাসিয়ার উন্নয়ন বঞ্চিত জনগণের সাথে প্রতারণাই করেনি, তাদের দীর্ঘ দিনের আশা আখাঙ্খার গুড়ে বালি ছিটিয়ে দিয়েছে। আমরা সবাই বলে থাকি, ব্যক্তির চেয়ে দল বড়, দলের চেয়ে দেশ বড়। এই খানে একটি কথা স্পষ্ট করে বলে রাখি সোহেল তাজ শুধু যে আওয়ামীলীগের ভোটে এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন সেটা মনে করাটা হবে এক ধরনের বোকামি মাত্র। কাপাসিয়ার সর্বস্তরের জনগণ তাকে ভালবেসে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছিল। অথচ মজার কথা হলো, কাপাসিয়ায় চোখে পড়ার মত যা উন্নয়ন হয়েছে তা গত বিএনপির ৯১ আমলে হান্নান শাহের হাত দিয়ে হয়েছে। কিন্তু তারপর ও সোহেল তাজ কে জনগণ আপন করে নিয়েছিল গভীর ভালবেসে। যার মর্যাদা সোহেল তাজ নষ্ট করে দিয়েছে। কাপাসিয়াতে কথিত আছে সোহেল তাজের সাথে হান্নান শাহ এমপি হতে পারবে না বলে হান্নান শাহ ঢাকার ভোটার হয়েছেন।

এইবার বলি, আওয়ামীলীগের দলীয় নেতা কর্মীদের অবদানের কথা। সোহেল তাজ কে কাপাসিয়াতে প্রতিষ্ঠিত করতে বেশ কিছু নেতা কর্মী নিজের প্রাণ বিলিয়ে দিয়েছিলেন হাসি মুখে। তাদের মধ্যে একজন এর কথা উল্লেখ না করলেই নয়। জালাল উদ্দিন যুবলীগের কাপাসিয়া উপজেলার সভাপতি ছিলেন। গত বিএনপি সরকারের সময় তাকে বিএনপির লালিত ক্যাডাররা খুব নৃশংস ভাবে জবাই করে হত্যা করেছে।

এখন সোহেল তাজ পদত্যাগ করে যদি মনে করে থাকেন সততা ধুয়ে পানি খাবেন তাহলে ভুল করবেন। আমি যতটুকু জানি, মন্ত্রী থাকা অবস্থায় প্রধানমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ একটি মহলের সাথে বনিবনা হয়নি বলে নিজে সেচ্ছা নির্বাসনে গিয়েছিলেন পদত্যাগ করে। তাতে শেখ হাসিনা যতটুকু দরকার ছিল ততটুকু বোঝানোর চেষ্টা করেছিলেন। প্রয়োজনে অন্য দপ্তর দেওয়ার কথাও বলেছিলেন। কিন্তু সোহেল তাজ ফেরত আসেনি। তাতে কী সোহেল তাজ এর প্রাপ্য সম্মানটুকু ও করতে বর্তমান সরকারের কোনও ঘাটতির বাকি রাখেনি । শেষ পর্যন্ত সোহেল তাজ যা করে দেখাল তা আমার দৃষ্টিতে একটি কাপুরুষচিত কাজ বলে বিবেচিত।

@সুলতান মির্জা