ক্যাটেগরিঃ দিবস প্রসঙ্গ

 

পহেলা মে, মহান মে দিবস, সকল প্রকার শ্রমিকের দাবি আদায়ের লক্ষে এই দিবসটির তাৎপর্য অনেক দিনের পুরানো। সারা বিশ্বের মত আমাদের দেশের শ্রমিকেরা ও এই দিবস টি পালন করে নানা ধরনের দাবি আদায়ের লক্ষে। আসলেই কী সে দ্বাবি গুলো আদৌ পূরণ হয়েছে কোনও দিন। প্রশ্ন থেকে যায় তাহলে শ্রমিক রা কেন তাদের দাবি আদায়ের লক্ষে বছরের অন্যান্য দিন ধর্মঘট, সড়ক অবরোধ, গাড়ি ভাংচুর করে করে তাদের দাবি আদায়ের জন্য লড়াই সংগ্রাম করে? বর্তমান পুঁজিবাদী সমাজ, রাজনৈতিক সমাজ কী সেই প্রশ্নের উত্তর দিতে পারবেন ?

কথায় আছে শ্রমিকের শরীরের ঘাম শুকানোর আগে শ্রমিকের ন্যায্য পাওনা পরিশোধের দায়িত্ব প্রতিটি মালিকের। কিন্তু বর্তমান পুঁজিবাদী বিশ্বে এই বিষয়টা এখন বিলুপ্ত প্রায়। এখন নাকি শ্রমিকের টাকা আটকে না রাখলে আরেক টি নতুন প্রজেক্ট করা হয়ে উঠে না। এই বিষয় গুলো নিয়ে সরকার ও বেশ উদাসীন থাকে সব সময়। কারণ একটা ধনী ব্যাক্তি সরকারের জন্য যা করতে পারে আবার তেমনি গরীব শ্রেণীর শ্রমিকটি ততটাই করতে পারে না। এই জন্য শ্রমিকের কোনও কথার মূল্যায়ন নেই। শ্রমিক তাদের ন্যায্য মজুরি পেল কী না সেটা নিয়ে সরকারের কোনও মাথা ব্যাথা নেই।

প্রতিদিন শত শত কোটি টাকা দুর্নীতি হচ্ছে,পুঁজিবাদীরা লেটেস্ট মডেলের গাড়ি হাঁকিয়ে চলা ফেরা করছে। আমার নিজের চোখে দেখা একটি বিলাস বহুল চেয়ারের কথা বলব। একটা চেয়ার নিতে পাচ টনের একটি ট্রাক লাগে,আমি এর আগে এই ধরনের চেয়ার আর দেখিনি দাম তা কত হবে সেটা ও আমার জানার ক্ষমতার বাহিরে ।(চেয়ার টি গাজীপুর ফ্যাক্টরিতে ছিল) অথচ ওই ব্যাক্তির গাজীপুরের কোনাবাড়ির একটি ফ্যাক্টরির শ্রমিকেরা তাদের প্রাপ্য বেতনের জন্য রাস্তা অবরোধ করেছিল গাড়ি ভাংচুর করেছিল। বিশ্বাস করবেন কী না, জানি না আমি যার কথা বললাম এই ব্যাক্তি টি হলো বাংলাদেশের একটি বেসরকারি ব্যাংকের ভাইস চেয়ারম্যান। গরিবের রক্ত চোষা টাকা দিয়ে ব্যাংকের মূলধন বৃদ্ধি করছে নিয়মিত। শুধু উনি কেন সমগ্র বিশ্বে এই ধরনের গঠনা হচ্ছে প্রতিনিয়ত। এদের বিরুদ্ধে কিছু বলা যাবে না। বললেই হয়ে যাবেন চাঁদাবাজ।

এরাই হল আমাদের সম্মানিত পুঁজিবাদী সমাজের সম্মানিত ধনী ব্যাক্তি। এই সব ব্যাক্তিরা জানে না বা তাদের জানার কথাও না , একটা শ্রমিক সারাদিন কাজ করে যখন নিজের গৃহে ফিরে তখন কোনও কোনও দিন কপালে ভাত ও জুটে না। অথচ তারা পুঁজিবাদীদের জন্য কাজ করছে। কল্পনা করতে পারবেন, এই দেশে এমন ও শ্রমিক রয়েছে তাদের ২/১ টা মাত্র পরিধেয় জামা কাপড় আছে, যা দিনের বেলা অফিস করার পর রাতের বেলা ধুয়ে দিতে হয়, না হলে পরের দিন আর সেটা পড়ার কোনও যোগ্য থাকে না। ভাল মন্দ খাবার সেটা তো এক ধরনের স্বপ্নের মত যা দুয়েক মাসে খেতে পারে কিনা তাতে সন্দেহ থেকে যায়। অথচ তারা বাংলাদেশ গড়তে জন্য কাজ করে যাচ্ছে অবিরাম। আর তাদের শ্রমের মূল্য সেটা ও ভাল মন্দ খাবারের মত অনেক দিন পর পর পায়। আবার কখনো কখনো মালিক পক্ষ মজুরি না দিতে ও বায়না ধরে। বিভিন্ন অজুহাত, গত মাসে, এই মাসে কোম্পানীর গভীর পরিমাণে লস হয়েছে, দেখা যাক সামনের মাসে হয়ে যাবে মানের আশ্বাস।

এই মহান মে দিবসে সেই সব শ্রমিকদের সাথে হবে এক নির্লজ্জ প্রতারণার ট্রায়াল শো। এই দিনটিতে প্রধানমন্ত্রী,বিরোধী দলীয়নেত্রী, ও আরও অন্যান্য রাজনৈতিক দলের প্রধান , মাঝারি,ছোট খাটো পাটি নেতারা শ্রমিকদের শোনাবেন তাদের দ্বাবি আদায়ের কাহিনী। বলবেন আগামী দিনে তাদের দল শ্রমিকদের জন্য এই এই সুযোগ সুবিধা নিয়ে মহা পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। আরও বলবেন, শ্রমিকদের জন্য প্রয়োজন হলে তারা নিজের জীবন দিয়ে হলেও দাবি আদায় করবেন। আর পুঁজিবাদীরা সেদিন তাদের কারখানাতে আয়োজন করবেন ভাল মন্দ কিছু খাবার দাবারের ব্যাবস্থা, ঢালিউডের সাইট কোনও তারকাদের নাচ গান, মিডিয়ার লোকজন আসবে, ফটোগ্রাফার আসবে ফটো তুলবে, এইগুলো নিউজ হবে কারখানার মালিকের প্রতি দরদ দেখিয়ে। মালিক পক্ষ নিজেদের সংরক্ষণাগারে এগুলো প্রমাণ সহ রেখে দিবে “যে শ্রমিকদের জন্য এত কিছু করার পর ও শ্রমিক রা মন দিয়ে কাজ করে না” অথচ সেই মালিকটির কাছে হয়তো বা তখনও শ্রমিকটি পাবে পুরানো কিছু বকেয়া টাকা।

এই হবে শ্রমিক দিবসের মূল আলোচ্য বিষয়। আর সব লোক দেখানো।

যাই হোক মহান মে দিবসে সকল শ্রমিক ভাইদের বিডি ব্লগ ও আমার ব্যাক্তিগত পক্ষ থেকে বলতে চাই, দুনিয়ার মজদুর এক হও, দাবি আদায়ে সোচ্চার হও। সবাইকে ধন্যবাদ।

@সুলতান মির্জা