ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

ছাত্র রাজনীতির একটা স্বর্ণালী সময় আমরা পার হয়ে এসেছি যা আর কোনও দিন ফিরে আসবে না। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব, থেকে শুরু সদ্য প্রয়াত আব্দুর রাজ্জাক ভাই ছিলেন, জীবন্ত কিংবদন্তী বলে আমি যাকে মনে করি,তোফায়েল ভাই, আরও রয়েছেন যাদের কাছ থেকে দেশ অনেক কিছু পেয়েছে এবং এখনো রাজনীতির সাথে জড়িত রয়েছেন আরও কিছু দেওয়ার প্রত্যাশায় সেই নূরে আলম সিদ্দিকী, সুলতান মোহাম্মদ মনসুর,মাহামুদুর রহমান মান্না, আকতারুজ্জামান, শাজাহান খান, আ স ম আব্দুর রব, রাশেদ খান মেনম, হাসানুল হক ইনু, আরও অনেকে রয়েছেন যাদের নাম এখন মনে পড়ছে না। যাই হোক সেই সব ছাত্র রাজনীতির দিন মনে হয় আর ফেরত আসবে না। ওই হারিয়ে যাওয়া ছাত্র রাজনীতির দিক পর্যালোচনা করলে আপনি হয়ত বা দেখবেন হা আমাদের দেশ পরিচালনার জন্য, গুণগত ও টেকসই রাজনীতিবিদ বৃদ্ধির জন্য ছাত্র রাজনীতির প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।

এবার আসি বর্তমান ছাত্র রাজনীতির কিছু প্রাসঙ্গিক আলোচনায়: বলে রাখি হারিয়ে যাওয়া ছাত্র রাজনীতির সর্বোচ্চ হাতিয়ার ছিল লেখা পড়া, বই খাতা, কাগজ কলম, লাঠি বিড়ি। আর এখনকার ছাত্র রাজনীতির হাতিয়ার হলো, মদ,গাঁজা, চাদাবাজি, টেন্ডারবাজি, ভাড়ায় শক্তি প্রদর্শন, মাদক বাণিজ্য, কাটা রাইফেল, জার্মানির এম ২ রিভালবার, সর্বশেষ যদি সম্ভব হয় তাহলে কিছুটা লেখাপড়া শুধু মাত্র ছাত্রত্ব ধরে রাখার জন্য।

গেল প্রাথমিক ধাপ, আপনি কী জানেন বর্তমান ছাত্র রাজনীতি মেধাশূন্য করার অভিলাষে হচ্ছে। ভাল কোনও মেধা সম্পূর্ণ ছাত্র রাজনীতির মাঠে কোনও অবস্থা তৈরি করতে পারে না। যারা বর্তমান ছাত্র রাজনীতির নেতৃতে রয়েছে, তাদের প্রথমেই হতে হবে অপেক্ষা কৃত কম মেধা শূন্য, হতে হবে ভাল চামচা বাজ,থাকতে হবে পেশী শক্তি ও অস্ত্রের ভাল মজুত না হলে কখনো নেতা হতে পারবে না। এই সব হলো উপরের নেতার ইচ্ছা।

তাহলে এখন আমরা কী করে ভাবি যে দেশ গঠনে ছাত্র রাজনীতির প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম ?

একটা অছাত্র কী করে দেশ এর নেতৃত্ব দিতে পারে সেটা ভাবনার কী কোনও বিষয় হতে পারে না ?

আমার এই সব অভিজ্ঞতা ধার করার জন্য কোথাও যেতে হবে না। ছাত্রদের কিভাবে ব্যবহার করা হয় বাস্তব কিছু অভিজ্ঞতা আমি আপনাদের মাঝে শেয়ার করছি, কোনও নেতা চায় না তার কর্মীটি ভাল কোনও জ্ঞানী-গুণী হোক। তাহলে যেকোনো সময় বিপদ হতে পারে। কারণ হলো যখন সে বুঝে যাবে তাকে শুধু মাত্র প্রতিপক্ষ কে দমনের কাজে ব্যাবহার করা হচ্ছে তখন সে বিদ্রোহ করতে পারে। আর তাই ভাল কোনও ছাত্র সে তার কমিটিতে অনুর্ভুক্ত করবে না। যদি সেটা না হয় তাহলে কেন এই ছাত্র রাজনীতির প্রয়োজনীয়তা রয়েছে ?

একটা ঘটনা বলি , আমার জেলার কোনও একটি উপজেলার মত্স্য কর্মকর্তার কার্যালয়ের। আমার বিশেষ একটি প্রয়োজনে আমি গেলাম। গিয়ে দেখলাম আমি যার কাছে গিয়েছি তার পাশে নতুন একটি ছেলে বসে রয়েছে। তো আমি জানতে চাইলাম কে এই ছেলেটি ? তো আমার কাঙ্খিত কর্মকর্তাটি বললেন নতুন জয়েন করেছে। জিজ্ঞেস করলাম বাড়ি কোথায় ? বললো নেত্রকোনা। তো হটাৎ করে তার অফিসের একটি ফাইলে আমার চোখ আটকে গেল। তো ফাইল টি হাতে নিতে গেলাম ওই ছেলেটি টা আমাকে দেখতে দিল না। তারপর আর এই বিষয়ে কোনও কথা বলিনি। তার পরের দিন আবার গেলাম ওই অফিসে আমার অসমাপ্ত কাজ শেষ করার জন্য। গিয়ে আর ওই ছেলেটিকে দেখতে পেলাম না। তো আগের দিনের উত্সাহ ছিল ছেলেটি আমাকে কেন সেই ফাইল টি দেখাতে দিল না। আমি কর্মকর্তা টি কে প্রশ্ন করলাম সেই কথা টি। এখন কর্মকর্তা টি আমায় যা বললো তা ছিল এমন, ছেলেটি ছাত্র রাজনীতি করতো বাবর সাহেব এর লোক। এইবার গতকালের ফাইল টি আমাকে বের করে দিল এবং বলল দেখেন এই সব ছেলে নিয়ে কী করে কাজ করব। আমি জানতে চাইলাম কেন কী হয়েছে ? সে বললো হাতের লেখা ও বানান গুলো একটু দেখেন। দেখে প্রশ্ন করলাম কতটুকু পাস করছে ? বলল বি এ। আর লেখা যা দেখলাম ২০ টি বানানের মাঝে ১৪ টা ছিল ভুল। পাঠক চিন্তা করতে থাকুন কত মেধা সম্পূর্ণ ছিল এই সাবেক ছাত্র নেতাটি।

ঘটনা লিখতে গেলে আরও অনেক বড় হয়ে যাবে। আর বড় করব না। তবে আমি চাই এই অশুভ ছাত্র রাজনীতি অচিরেই বন্ধ হোক। না হলে দেশ ভরে যাবে গাধা টাইপের বলদ দিয়ে।
উন্নত ক্যাডার (না বিসিএস না) যাদের থাকবে বেয়াদপি করার উজ্জল দৃষ্টান্ত। আধুনিক চাঁদাবাজ, মাদক ব্যাপারি। যাতে মেইন কর্তারা মাসে একটা লাভ গুনবে।

আজব লাগে যখন ভাবতে হয় অমুক এমপি বা মন্ত্রীর ছেলে আমেরিকার অমুক কলেজে পড়ে। এইবার দেশে এসে হাসিনা বা খালেদার কাছ থেকে এমপি মনোনয়ন নিয়ে নির্বাচন করবে। না হেসে পারি না তাদের বাবারা ছাত্র রাজনীতির নামে করিম, যদু, মধুর ছেলে দের দিয়ে নিজেকে চাঙ্গা রাখার সব চিন্তা ভাবনা করে যাচ্ছে। এখন ও আবার বাপের পর ছেলের টা কাধে নিবে।

আমি কি গলা ফাটিয়ে বলতে পারি না ছাত্র রাজনীতি নিপাত যাক?

তো আমাদের কর্তা ব্যক্তিরা কী আমাদের দেশের ছাত্র রাজনীতিটা কে বন্ধ করার মত চিন্তা ভাবনা গ্রহণ করার মত মন মানসিকতা তৈরি করতে পারে না ? পারে না আমাদের ছেলে দের উজ্জল ভবিষ্যতের চিন্তা করতে ?

মনে হয় তা করবে না। কেন না।
যদি ও আমাদের বর্তমান ও অতীত ক্ষমতাসীন বড় দুই দলের তাতে তীব্র আপত্তি রয়েছে। এইখানে আরও ২/১ টা বিষয় উল্লেখ না করলে মনে হয় পোস্টের পূর্ণতা পাবে না। সেই সব বিষয় গুলো হলো, আমাদের রাজনৈতিক মতাদর্শের। একটু খেয়াল করলে দেখে থাকবেন হয়তো বা, আমাদের রাজনৈতিক নেতা-নেত্রীদের কোনও জায়গাতে মিল নেই শুধু মাত্র কিছু আপেক্ষিক বিষয় ব্যতীত। যেমন: বর্তমান সংসদে উপজেলা চেয়ারম্যান দের ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরণের বিষয়ে কিন্তু বড় দুইটি রাজনৈতিক দলের এমপিরা কিন্তু এক কাতারে দাঁড়িয়েছেন। ঠিক যেমনটি এখন যদি আপনি বলেন হরতাল বন্ধ করতে সংসদে একটি আইন প্রণয়ন করা প্রয়োজন। আপনি দেখবেন সব দলের এমপিরা গিয়ে এক কাতারে দাঁড়াবে। আর বলবে না এটা সম্ভব না। এখন যে কথা বলছিলাম, ছাত্র রাজনীতি বন্ধ করতে যদি আইন প্রণয়ন করার দ্বাবি উঠে তাহলে কিন্তু এই সব এমপি রা গিয়ে আবার এক কাতারে দাঁড়াবে। ছাত্র রাজনীতি বন্ধ কারা যাবে না বলে বিভিন্ন যুক্তি তুলে ধরবে । কেন জানেন সেটা ?

কারণ মাগনা ক্যাডার হাতছাড়া হয়ে যাবে সেই ভয়ে। হুকুম দিলে কাজ হয়ে যায়। পরিকল্পনা দিতে হয় না এমনিতে হয়ে যায়।

পরিশেষে বলতে চাই আবারো
ছাত্র রাজনীতি চাই না। যা হওয়ার তা হয়েছে আর দরকার নেই। এই বার মুক্তি চাই।

@ সুলতান মির্জা