ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

প্রসঙ্গ শুরু করছি জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনুর সাম্প্রতিক সময়ের মাইনাস ওয়ান এর বক্তব্য দিয়ে। ইনু সাহেব যা বলেছেন তা একেবারে উড়িয়ে দেওয়ার মত কোনও কথা বলেছেন বলে আমার কাছে মনে হয়নি। এইখানে কেউ কেউ ভিন্নমত প্রকাশ করতে পারেন উক্ত বিষয়টা নিয়ে। যে ইনু সাহেব এর এত সাহস,জামায়াত না ছাড়লে খালেদা জিয়াকে মাইনাস করবে ধরে নিচ্ছি এটা সরকারের উচ্চ পর্যায়ের কথা। কারো মনে প্রশ্নের উদয় হতে পারে খালেদা জিয়াকে মাইনাস করে এই দেশে রাজনীতি করবে, কার এত বড় সাহস ? আওয়ামীলীগের, জাসদের, জাতীয় পার্টির, ওয়ার্কার্স পার্টির ? না মোটেই নয় এদের কার সেই সাহস আছে বলে আমার মনে হয় না। যদি সাহস থাকতো তাহলে, বিশ্বকাপ ক্রিকেট এর সময়ে ঢাকা শহরে ইসলামী ব্যাংকের বিল বোর্ড শোভা পেত না, জামায়াত এর নেতা কর্মীরা বুক ফুলিয়ে এখনো বড় বড় বাক্য ব্যয় করে চলতে ফিরতে পারতো না, মোট কথা জামায়াত ইসলামীর রাজনীতি আরও অনেক আগেই নিষিদ্ধের তালিকায় চলে যেত। এদের সেই সাহস নেই। এরা মুখে বলে এক কাজে-কর্মে বলে আরেক। এরা হলো দু-পয়সার নাদান রাজনীতিবিদ। এদের দিয়ে কিচ্ছু হবে না শুধু মুখ দিয়ে বড় কথা বলবে।

বলছি ইকোনমিস্টের ২৬ মে সংস্করণে ‘লিডারস’ ও ‘এশিয়া’ বিভাগের কথা,যা ইতিমধ্যে আপনারা পড়ে ফেলেছেন।বাংলাদেশের রাজনীতি নিয়ে ইকোনমিস্টের ২৬ মে সংস্করণে প্রকাশিত দুটি প্রতিবেদনই শুক্রবার সাময়িকীটির ওয়েবসাইটে দেওয়া হয়েছে। যা বিডিনিউজ ২৪.কম এর মাধ্যমে পড়লাম, হুবহু তুলে ধরলাম।

‘পলিটিক্স ইন বাংলাদেশ: ব্যাংগড অ্যাবাউট’ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী দেশকে ‘বিপজ্জনক পথে’ নিয়ে যাচ্ছেন। আর ‘বাংলাদেশস টক্সিক পলিটিক্স: হ্যালো দিল্লি’ প্রতিবেদনে বাংলাদেশকে ধ্বংসের হাত থেকে প্রধানমন্ত্রীকে ঠেকাতে ভারতকে পদক্ষেপ নিতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ‘হ্যালো দিল্লি’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়, “শেখ হাসিনা সংসদে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা তার ক্ষমতা জোরদার করতে এবং তার শত্রুদের ঘায়েল করতে ব্যবহার করছেন।” বাংলাদেশের এই পরিস্থিতে ভারতের নাক গলানোর যুক্তি তুলে ধরতে বলা হয়, “বাংলাদেশের রাজনীতিবিদেরা যখন জনগণের ভাগ্য নিয়ে কোনো আগ্রহই দেখাচ্ছে না, তখন বাইরের কাউকেই এগিয়ে আসতে হবে।” “এখন ঢাকার ওপর প্রভাব আছে ভারতের। ভারত তার নিকটতম প্রতিবেশী দেশে কার্যকর গণতন্ত্র চাইলে এখনই সময় জোর গলায় মতামত জানানোর।” দুটি প্রতিবেদনেই বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলীর ‘নিখোঁজ’ হওয়া, বিরোধী দলের শীর্ষ নেতাদের গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো, গ্রামীন ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে সরকারের পদে পদে হেনস্তা করার চেষ্টার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, “ইইউ প্রতিনিধি ও বাংলাদেশ সফর করে যাওয়া মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন ইউনূসের পক্ষে দাড়ানোর পরও সরকার গ্রামীন ব্যাংককে ধ্বংসের জন্য কাজ করে যাচ্ছে।” “ইউনূসকে হাসিনা রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ মনে করছেন। এমনকি হিলারি ইউনূসের পাশে দাড়ানোর পর পরই সরকারের মন্ত্রীরা তার বিষেদগার করেছেন। সরকার গ্রামীন ব্যাংক নিয়ে আবারও আরেকটি তদন্ত শুরু করেছে।” ‘ব্যাংগড অ্যাবাউট’ প্রতিবেদনে বলা হয়, সৌদি কূটনীতিককে গুলি করে হত্যা, ট্রেড ইউনিয়ন নেতাকে নির্যাতন করে হত্যা, দুর্নীতি নিয়ে অনুসন্ধান করায় সাংবাদিক দম্পত্তিকে নৃশংসভাবে হত্যা-গত কয়েক মাসে বাংলাদেশে রহস্যজনক বেশ কয়েকটি হত্যাকাণ্ড হয়েছে। জানুয়ারিতে ‘অদ্ভুত’ এক সামরিক অভ্যুত্থান চেষ্টার সুযোগে সরকার সেনাবাহিনীর ওপর নিয়ন্ত্রণ আরও জোরদার করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, আগামী নির্বাচনের ১৮ মাস আগে বাংলাদেশের রাজপথ এখন উত্তপ্ত। এর মধ্যেই মানুষের জীবন খাদ্য ও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি, লোডশেডিং আর বেহাল সড়কে পর্যুদস্ত।

প্রতিবেদনটি পড়ে কিছুক্ষণ ভাবলাম, আমাদের দেশের বিরোধী দলীয় নেত্রীর মুখের কথাগুলো ইকোনামিষ্ট এর সম্পাদকীয়তে স্থান পেল কী করে ? তাহলে কী বিএনপি-জামাত করে এমন কেউ ইকোনামিষ্ট এর বাংলাদেশ এর প্রতিনিধি ? হয়তো বা নাও হতে পারে। কিন্তু ঘরের চুলার খবর যখন বৃটেনের তথাকথিত নামী দামী পত্রিকার পাতায় চলে আসে তখন এই ধরনের প্রশ্ন আসাটা স্খুব স্বাভাবিক বলে মনে হয়েছে আমার কাছে। আমার জানা মতে সরকার এখনো কোনও প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেনি। করবে কী না জানি না। তবে আমি করছি, যারা বা যিনি এই সব তথ্য নিজের ব্যক্তিগত লাভের আশায় এই ধরনের খবর সরবরাহ করেছেন তারা কী এতটাই দুধে ধোয়া তুলসী বনে গেছেন রাতারাতি ? নাকি অন্য কোনও গ্রহ থেকে এসে এমন বিপদের মুখোমুখি হয়ে পড়েছেন ? যে এছাড়া আর কোনও পথ খোলা ছিল না ?

পাঠক আমার সাথে দ্বিমত প্রকাশ করতে পারেন, কেউ কেউ দালাল বলে গালি ও দিতে পারেন, বাংলাদেশের রাজনৈতিক অধ:পতন ঘটে গেছে অনেক আগেই যা আমি বার বার বলে আসছি, এক হাতে কখনো তালি বাঝে না। বাংলাদেশের প্রতিহিংসার রাজনীতির সূচনা শুরু হয় মুলুত, এই শতকের গত দশকের প্রথম দিক থেকে। অর্থ্যাত ২০০১ সালের সংসদ নির্বাচনের পর থেকে। এই খানে একটা বিষয় উল্লেখ না করলেই নয়, বিএনপির রাজনীতিতে যে প্রগতিশীল নেই এই কথা কিন্তু আমি বিশ্বাস করি না। কারণ এই দলটির ১৯৯১ তো ১৯৯৬ এর ক্ষমতার পর্ব দেখার মত সৌভাগ্য এই খানে যারা রয়েছে তাদের অনেকেরই হয়েছে বলে আমি মনে করি। কিন্তু ওই সময়ের বিএনপির রাজনীতি আর ২০০১ সালের ক্ষমতার পরবর্তী বিএনপির রাজনীতির মধ্যে ছিল আকাশ-পাতাল ব্যবধান। কিন্তু হঠাত্‍ কী হয়ে গেল বিএনপির যা প্রতিহিংসার রাজনীতি সৃষ্টি করতে সহায়তা করেছে এই পোস্ট টি পড়তে পারেন “জামায়াত ইসলাম বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক মরণঘাতী ক্যান্সার! বিএনপি সেই ক্যান্সারে আক্রান্ত ফুসফুস” । হয়তো বা আরও কিছু প্রশ্নের উত্তর পেয়ে যেতে পারেন।

উল্লেখ করতে চাই, বিএনপি -জামাত জোট সরকারের সময়কার একটা তথ্য:
জোট সরকারের সাড়ে চার বছরে ৪০ হাজার ৫৫৮ জন মানুষ খুন হয়েছে, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কবলে ১ লাখ ৬১ হাজার ৭৬৭ জন কে আহত করা হয়েছিল, দেশে প্রতিদিন গড়ে ৯ টি করে মানুষ হত্যা হচ্ছে (তথ্যসুত্র: মানবাধিকার রিপোর্ট প্রকাশিত ইত্তেফাক ৩রা মে ২০০৬ ইং)

পাঠক-পাঠিকা, দেখুন তো খেয়াল করে মনে করতে পারেন কী না, তত্কালীন প্রধান মন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া নিজে ব্যর্থ হয়ে সেনা বাহিনী দিয়ে কিন্তু অপারেশন ক্লিন হার্ড করিয়ে ছিলেন। দেশের পরিস্থিতি এতটা খারাপ হয়ে উঠেছিল। প্রশ্ন করতেই পারি এই গুলো কী সব তখনকার বিরোধী দল আওয়ামীলীগ করেছিল ?

এখন তো প্রতিহিংসার পুনরাবৃদ্ধি চলছে সঝ্য না হলেও কিছু টা মেনে নিতেই হবে। আবার যখন বিএনপি-জামাত ক্ষমতায় আসবে এমনটাই চলতে থাকবে। তার মানে জনগণের শান্তি নেই। পালাবি কোথায় ছি:নেমার মত।

একটা গঠনা বলি, গত কিছুদিন আগে আমার এইখানে একটা মারামারি হয়েছিল, মানে কোপা-কুপি টাইপের আরকি। তো এক পর্যায়ে প্রচুর ব্লাড এর পতন হয়েছিল দুই জনেরই । তো এক পথচারী সেই গঠনাটি প্রত্যক্ষ ভাবে দেখেছিল এবং সাথে সাথে স্টোক করে মাটিতে পড়ে গিয়েছিল ও জ্ঞান হারায়, এখন মজার ব্যাপার হলো যে দুই জন মারা মারি করেছিল তারা কিন্তু মরে নাই। আর যে পথচারী দেখেছিল তিনি কিন্তু বেচে নেই। উনার জ্ঞান আর ফিরে আসেনি।

পাদটিকা হলো: যে দলই ক্ষমতায় প্রতিহিংসার বশবর্তি হয়ে যখন দুই পক্ষ মারামারিতে লিপ্ত হবে, আর মারা যাবে সাধারণ মানুষ যিনি বা যাহারা রক্ত দেখলে মাথা ঘুরিয়ে পড়ে যায়।।

আমি মনে করি বিএনপি-জামাত জোটের নির্যাতনে অতিষ্ঠ হয়ে জনগণ বিএনপি-জামাত কে আর ভোট দেইনি। এখন যদি আওয়ামীলীগ ও সেই রকম কিছু লালন-পালন করে তখন দেখা যাবে বিএনপি-জামাত জোটের মত করে জনগণ আওয়ামীলীগ কেও বর্জন করবে।

তবে এই বর্জনে কিন্তু সঠিক কোনও সমাধান তৈরি হবে বলে আমার মনে হয় না। দেশ এগুবে না। হয়তো বা কিছু ব্যক্তির এগিয়ে যাওয়াটা খুব সহজ হবে। অপেক্ষা করতে হবে মাত্র পাচ বছর। তারপর ক্ষমতা এর পরের বার বাড়ি ছাড়া।

যাই হোক, এই গুলো হলো রাজনীতির বর্তমান লীলাখেলা। যদিও বিএনপি দলটি এমন ছিল না কোনও দিন। জামাত আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে আজকে তারেক রহমান এর কোমর ভেংগেছে বলে আমি মনে করি, তারেক যত দিন বেচে থাকবে অন্তত একটা অংশের মানুষের কাছে সে চোর পরিচয়ে থাকবে। পত্রিকায় পড়েছি, বিএনপি নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া টাকার অভাবে বাড়ি ভাড়া দিতে পারছেন না। (জানি না হলুদ না সাদা খবর এটা) তবে এমন কিছু হয়ে থাকলে অবাক হওয়ার কিছু নেই।

আর সরকার যিনি বা যাহারাই থাকুক না কেন, রাজনীতির মাঠে কিছু কথা রাজনীতিবিদরা অক্ষরে অক্ষরে মেনে চলে বা চলতে হয় “রাজনীতিতে শেষ কথা বলতে কিছু নেই” আমার জানা মতে শেষ কথার প্রতিফলন কোনও দিন চোখে পড়েনি। আর “রাজনীতিতে ছাড় দেওয়াটাটা হলো কাপুরুষতার লক্ষণ” রাজনীতিতে ছাড় দেওয়া ও পাওয়া অত্যান্ত ভাগ্যের বিষয়।

বিএনপির বর্তমান এখন খুব নাজুক হয়ে গেছে আগামী নির্বাচন পর্যন্ত দল টি কোথায় গিয়ে দাড়ায় সেটা এখন অনেক দূরের পথের মত হয়ে গেছে। পত্রিকায় লেখালেখি, ব্লগে গালাগালি, আর ইকুনামিষ্টয়ের সম্পাদকীয় এই গুলো বিএনপির মত দলটির অস্তিত্ত রক্ষার কবচ নয় বলে আমি মনে করি।

কারণ গত কিছু দিন আগের বিএনপি আর এখনকার বিএনপির জনসমর্থন আর প্রভাবশালীদের চাহুনী যে কিছুটা ভাটা পড়েছে টা কিছু টা অনুমান করা যায়, বর্তমান বিএনপির অবস্থা দেখে। আর তবে আমি মনে করি মির্জা ফখরুল, হান্নান শাহ সহ আরও যারা কারাগারে রয়েছেন তারা যদি সহসাই মুক্তি না পায় তাহলে বিএনপি অস্তিত্তের সংকটে পড়বে। এম্নিতেই মাঠ পর্যায়ে নেতা কর্মীর সংখ্যা চোখে পড়ার মত নেই। যেহেতু এটাই রাজনীতির মাঠের খেলা আর তাই খালেদা জিয়ার এখনি দরকার বিএনপি কে সংকট মোকাবিলা করার লক্ষে জাসদ সভাপতির কথা বিবেচনা করে জামায়াত ইসলামীর সাথে সকল সম্পর্ক ছিন্ন করা।

আমি মনে করি এই সব সিদ্ধান্ত বিরোধীদলীয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে নিতে হবে।

@সুলতান মির্জা
২৭/০৫/২০১২ ইং