ক্যাটেগরিঃ অর্থনীতি-বাণিজ্য

 

০১/০৬/২০১২ ইং দৈনিক প্রথম আলোতে একটি খবর প্রকাশিত হয়েছে ওয়েসিস হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টস লিমিটেড এর প্রতারণা বিষয় নিয়ে। প্রথমেই ধন্যবাদ জানাচ্ছি প্রথম আলো কে এমন একটি জন গুরুত্ত্বপূর্ণ খবর প্রকাশ করার জন্য।

এই খবর প্রকাশ হওয়ার পর ভিত্তি পেলাম যে এখন এই বিষয়টা নিয়ে লেখার সময় এসেছে। তো যাই হোক পাঠক, এই বার বলি নিজের অভিজ্ঞতার কথা গত ১৫/২০ দিন আগের কথা হঠাত্‍ করে সন্ধ্যার দিকে আমার সেল ফোনে একটি মেসেজ এলো, ওয়েসিস হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টস লিমিটেড এর এক সেলস প্রমোটর দিয়েছিল তার নামটা মনে হয় ছিল জাহিদুর রহমান জনি। মেসেজ এ লেখা ছিল ওয়েসিস হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টস লিমিটেড এর একটি রুম বুকিং দেওয়ার জন্য। তো আমি সাথে ওই নাম্বারটি তে ফোন দিলাম। জানতে চাইলাম কে আপনি ? ছেলেটি বলল আমি জনি। কোন জনি ? পরে বলল আপনি কোরেল লিফ থেকে একটি স্টুডিও এপার্টমেন্ট কিনেছিলেন না ? আমি বললাম হা কেন ? সে বলল আমি ওইখান থেকে আপনার নাম্বার নিয়েছি আমাদের ওয়েসিস হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টস লিমিটেড থেকে একটা রুম আপনাকে দিব বলে। আমি জবাবে বললাম এখন তো আমি ব্যস্ত পরে আপনার সাথে কথা বলব। তো জনি বলল আপনার ইমেইল একটু চেক করবেন প্লীজ আমি একটা মেইল সেন্ড করেছি। বললাম ঠিক আছে। বলে রেখে দিলাম। তার পর রাতে আর মনে নেই পরের দিন আবার ওই ছেলেটি ফোন দিল বলল আপনি আপনার মেইল চেক করেছিলেন ? আমি বললাম দেখি আজকে করব।

তো রাতের বেলা মেইল চেক করলাম। দেখলাম তাদের প্রসপেকটাস, পাঠক এদের প্রসপেকটাস এর দুইটা পেজ শেয়ার করছি একটু ভাল করে খেয়াল করে দেখুন। কী লোভনীয় বিজ্ঞাপন যেকোনো মানুষের মাথা ঘুরিয়ে দিতে পারে।

নিচে দেওয়া হল তারপর আসছি পরবর্তী আলোচনায়:

একটি কেক ও একটি কালজয়ী প্রতারণার আইডিয়ার গল্প দিয়ে শুরু

মালিকানা মাত্র ১ লাখ টাকায় পাগলে বিশ্বাস করার কথা

তাদের সেই প্রসপেকটাস,দেখে তো আমার মাথা গরম হয়ে গেল, যে যেখানে ২০০৮ সালে আমি কোরেল লিফ এর কাছে থেকে ১২ লাখ টাকায় এপার্টমেন্ট কিনলাম সেইখানে, মাত্র এক লাখ টাকায় (৫০ হাজার বুকিং মানি, মাসিক কিস্তি দুই হাজার টাকা) মালিকানা গ্রহণ করে প্রতিবছর তিন দিন-দুই রাত করে থাকা, ১৫০ শতাংশ জমির ওপর নির্মিতব্য এই হোটেলে লেক, পার্কিং, অ্যামিউজমেন্ট ও অন্যান্য বিনোদন আইটেম, হোটেলের রুম ইত্যাদি সম্পত্তির মালিকানা সাফ কবলায় নিবন্ধনের মাধ্যমে দেওয়া হবে। এর ফলে ক্রেতারা হোটেলের নিট মুনাফার অধিকারী হবেন।’আমার মাথায় প্রশ্ন ঘুরতে থাকে এটা কী করে সম্ভব ? বর্তমানে নির্মাণ সামগ্রীর যে মূল্য তাতে করে কী ভাবে তারা এটা দিবে।

এই লেখা গুলো দেখে চিন্তা করলাম এরা তো দুই নাম্বার কোম্পানী। যাই হোক পরের বার যদি ফোন করে তাহলে কিছু প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করব। দেখি কী উত্তর দেয়, মাঝ খান দিয়ে আমার আর মনে নেই, হঠাত্‍ করে তিন দিন পরে আবার ওই অফিস থেকে ফোন দিল একটি মেয়ে। তাকে প্রশ্ন করলাম জনি নামের একটি লোক ছিল যে উনি কোথায়, মেয়েটি আমাকে বলল কোন জনি ? আমি বললাম জনিকে চিনেন না আপনি আমার নাম্বার পেলেন কোথায়? মেয়েটি ইনিয়ে বিনিয়ে কিইচু বুঝাতে চাইছিল। আমি বললাম ঠিক আছে ফোন রাখুন আর কোনও দিন এই নাম্বারে ফোন দিবেন না।

এখন তো আমার মনের মধ্যে সন্দেহ সৃষ্টি হলো, ওয়েসিস হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টস লিমিটেড এর কাজ নিয়ে। আসলেই এরা কী করতে চাচ্ছে, তো আমি তাত্ক্ষণিক ফোন দিলাম কক্সবাজারে আমার এক লোকের কাছে, সাথে বললাম কক্সবাজার পৌরসভাতে একটু খোজ নেওয়ার জন্য, সারক নং কপৌ/২৮৭/১০ এর তালিকা বিষয়ে। ও বর্তমানে কলাতলী বিচের হোটেল সি ক্রাউনের একটু দক্ষিণ পার্শ্বে ওয়েসিস হোটেল এর নামে কোনও নির্মাণ কাজ হচ্ছে কী না আর যদি হয় তাহলে বর্তমান কী অবস্থায় রয়েছে। পরের দিন যা জানলাম আর তা হলো এই খানে ওয়েসিস হোটেল এর কোনও জায়গা নেই এটা একটা খাস জমি। আর কক্সবাজার পৌরসভাতে তাদের ট্রেড লাইসেন্স রয়েছে। কিন্তু এরা বিচের পার্শ্বে তাদের হোটেল এর নামে একটি সাইনবোর্ড টাঙ্গিয়ে রেখেছে।

যাই হোক এই বার মূল প্রসঙ্গে আসি আজকে প্রথম আলো এই বিষয়ে খুব গুরুত্ত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছে, যেমন তারা বলেছে, ওয়েসিস হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টস লিমিটেড এর বরাত দিয়ে-ওয়েসিস হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টস লিমিটেড , ৪৫২ বর্গফুটের ২১১ কক্ষবিশিষ্ট পুরো হোটেলটির ৪০ হাজার শেয়ার বিক্রি করবে ৪০ হাজার গ্রাহকের মধ্যে। এ হিসাবে প্রতিটি কক্ষ বিক্রি হবে ১৮৯ জন গ্রাহকের কাছে। প্রতিটি শেয়ারের দাম এক লাখ টাকা করে একটি কক্ষের বিপরীতে পাওয়া যাবে এক কোটি ৯০ লাখ টাকা। পুরো হোটেলে পাওয়া যাবে ৪০০ কোটি টাকার বেশি।

আমি প্রথম আলো ও কক্সবাজারের আমার লোক মারফত জানতে পারলাম, গত তিন দিন আগে কক্সবাজার জেলা প্রশাসন নোটিশ দিয়ে ওয়েসিস হোটেলের জন্য গণমাধ্যমে বিজ্ঞাপন প্রকাশ বন্ধ করে দিয়েছে। জনগণকে প্রতারণার ব্যাপারে সতর্ক করতে সতর্কীকরণ বিজ্ঞপ্তিও জারি করা হয়েছে।

যা নিন্মে দেওয়া হলো, দৈনিক প্রথম আলো তে এই বিজ্ঞাপনটা এসেছে।

সতর্কীকরণ বিজ্ঞপ্তি: কক্সবাজার জেলায় বিভিন্ন কোম্পানির নামে হোটেল কক্ষ, স্টুডিও এবং অ্যাপার্টমেন্ট কেনা-বেচার ক্ষেত্রে সর্বসাধারণকে সতর্ক থাকার অনুরোধ জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক ও কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সভাপতি মোহাম্মদ জয়নুল বারী। গত ২১ মে এই বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সম্প্রতি ওয়েসিস হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টস লিমিটেড নামের একটি পাঁচতারা হোটেলের বিজ্ঞাপন বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচারিত হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটি রিয়েল এস্টেট ডেভেলপমেন্ট ও ম্যানেজমেন্ট আইন ২০১০-এর আলোকে গঠিত কর্তৃপক্ষ থেকে কোনো নিবন্ধন নেয়নি। কক্সবাজার জেলায় এই প্রতিষ্ঠানের কোনো অফিসও নেই। হোটেলের জন্য নির্ধারিত স্থানের ভূমির মালিকানা বিষয়ে যথাযথ কর্তৃপক্ষের প্রত্যয়নও নেওয়া হয়নি। এ বিষয়ে ক্রেতাসাধারণকে এসব প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যেকোনো আর্থিক লেনদেন করার বিষয়ে সাবধান থাকতে অনুরোধ করা হচ্ছে।

এখন কথা হলো হোটেল নির্মাণের আগে গণমাধ্যমে লোভনীয় বিজ্ঞাপন দিয়ে যেভাবে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে ওয়েসিস হোটেল, তাতে একদিন এই প্রতিষ্ঠানটি ডেসটিনি, যুবক, আই টি সি এল,ইউনিপেটু-এর মতো হবে এটা প্রায় নিশ্চিত ভাবে বলতে পারি। আর তাই সবাইকে এখনই এই ব্যপারে সচেতন হতে হবে। যেন কেউ এই প্রতারণার ফাঁদে পা না দেয়।

ধন্যবাদ সবাই কে ।

@সুলতান মির্জা
০১/০৬/২০১২ ইং