ক্যাটেগরিঃ প্রশাসনিক

 

বিভিন্ন সেবার মূল্য

.

জনগণের সরকারি সেবা প্রাপ্তির সবচেয়ে নিকট সরকারি অফিস হল ইউনিয়ন পরিষদ। এখান থেকেই জন্ম, মৃত্যু নিবন্ধনসহ নাগরিক সনদ, অভিভাবকের আয়ের সনদ ইত্যাদি প্রদান করা হয়। মধ্যবিত্তের এই দেশে জনগণ খুব সহজে এসব সেবা নিতে চায় না। শিক্ষা বা চাকরির ক্ষেত্রে বেকার বা শিক্ষার্থীরা এসব সেবা নিতে বাধ্য থাকে। কিন্তু অনিয়মের স্রোতে এইসব সেবা প্রাপ্তি কি খুব সহজ?

জন্ম নিবন্ধন, তথ্য সংশোধন ফি পাঁচশত টাকা। তথ্য সংশোধন করে পুনরায় সনদ নিতে গুণতে হয় অতিরিক্ত একশ টাকা। তবে কেউ বয়স কমাতে বা বাড়াতে চাইলে তাকে গুণতে হয় অনূন্য ১৫ শত টাকা।

একবার ভাবুনতো, এই দেশে এখনো তিন চতুর্থাংশ লোক জন্ম নিবন্ধন করেননি। যেখানে জনগণ এতো অসচেতন। সেখানে কি করে সবচেয়ে সাধারণ সেবার এত মূল্য হয়?

এর উপরে নিবন্ধক যথাসময়য়ে উপস্থিত না থাকা। সেবা প্রদানে টালবাহানা নিত্য ঘটনা। সাধারণ জনগণ কোন সেবার কত মূল্য তা জানে না। ফলে অনায়াসেই পরিষদ সচিব, নিবন্ধক কোনো কোনো ক্ষেত্রে চেয়ারম্যান এমনকি ইউএনও পর্যন্ত এই খাতে দুর্নীতির সুযোগ পেয়ে যাচ্ছে।

বিদেশ যাত্রা, বিবাহের ক্ষেত্রে বয়স বাড়ানো নিত্য ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। আইন অনুযায়ী বয়স বাড়াতে ইউএনও বা সিটি কর্পোরসনের সচিবের অনুমতি নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে এসব কাজ ও নিবন্ধকরা করে দিচ্ছে। এতে প্রমাণিত হচ্ছে ইউএনওর সাথে তাদের আঁতাত রয়েছে।

এছাড়াও নাগরিক সনদ, আয়ের সনদ প্রদান করতে একশ থেকে তিনশ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে। যা অত্যন্ত বেশি। এর চেয়েও ভয়াবহ তথ্য হচ্ছে, অনেক নিবন্ধকরা জন্ম নিবন্ধনে অতিরিক্ত দুইশ টাকা নিচ্ছে। অর্থাৎ তারা প্রচারণা চালাচ্ছে সরকারি ফি পাঁচশ টাকা আর খরচ দুইশ টাকা।

এভাবে দিনের পর দিন জনগণের টাকায় এদের বাড়িতে দালান হচ্ছে। কিন্তু অচেতন জনগণ কিছুই আলাপ পায় না।

আবার ধরুন তো, একজন এতিমের পিতা-মাতার মৃত্যু নিবন্ধন ফি পাঁশত টাকা পরিশোধ করা কি করে সম্ভব? আর কতদিন এভাবে চলবে? এইসব ফি কি কমানোর সময় হয়নি?

উল্লেখ্য, আইনে দরিদ্র বা অসহায়দের ছাড় দিয়ার কথা লিপিবদ্ধ আছে। তবে এত অনিয়মের মাঝে তা আর মূখ্য হতে পারবে না, আমি নিশ্চিত।