ক্যাটেগরিঃ প্রযুক্তি কথা

 

প্রযুক্তির বিকাশ নিঃসন্দেহে আমাদের জীবন যাত্রার মানে বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছে। যা ১০ বছর আগেও কল্পনা করা যেত না, তা এখন ঘরে বসেই করা সম্ভব হচ্ছে। শিক্ষা, বিজ্ঞান ও গবেষণা, ব্যবসা- বাণিজ্য, শিল্প- সংস্কৃতি, সকল পর্যায় প্রযুক্তির অবদান অসীম। আগের লেখার সুত্র ধরেই বললাম প্রযুক্তি বিহীন একটি মুহূর্ত বর্তমানে কল্পনা করা সম্ভব নয়।

কিন্তু প্রযুক্তির অপব্যবহার আমদের তরুন প্রজন্ম কে নিয়ে যাচ্ছে অধঃপতনের দিকে। যা আমাদের সার্বিক সামাজিক পরিস্থিতি কে করে তুলছে অস্থির। যোগাযোগ ব্যবস্থা যতই উন্নত হচ্ছে, সামাজিক অপরাধ গুলো নতুন মাত্রায় সংঘটিত হচ্ছে। ইভটিজিং এরকমই এক সামাজিক ব্যাধির নাম। নতুন নতুন প্রযুক্তি ব্যবহার করে নতুন নতুন মাত্রায় সংঘটিত হচ্ছে। একটি উদাহরন দেই, এই কয় বছর আগেও ইভটিজিং এর সংজ্ঞা ছিল এরকম, রাস্তায় মেয়েদের দিকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে হয়রানি মুলক কথাবার্তা, আচরন, আকার ইঙ্গিত ইত্যাদি। কিন্তু সামাজিক যোগাযোগের সাইটগুলোর বৈপ্লবিক জনপ্রিয়তা পাবার কারনে এই কর্ম গুলো পেয়েছে নতুন মাত্রা। ঘরে বাইরে রাস্তা ঘাটে মেয়েদের অজানা মতে ছবি তুলে ফটোশপে এডিট করে এসব সাইটে ছেড়ে দেয়া হচ্ছে, এবং হয়রানি তে যুক্ত হয়েছে নতুন মাত্রা। এগুলো সবই প্রযুক্তির অপব্যবহার।

যে এই হয়রানিগুলোর শিকার হচ্ছে একবার তার কথা চিন্তা করুন। তার মানুষিক অবস্থাটার কথা চিন্তা করুন। সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয় ঘটছে এখানে নিঃসন্দেহে, এর সাথে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে কত গুলো জীবন। যারা অপরাধ করে থাকে তাদের মূল্যবোধের বলতে কিছু নেই।

আমাদের সরকারের ও প্রযুক্তির বাবহারের কোন সুনির্দিষ্ট কোন নিতিমালা নেই, কোনটা ব্যবহার আর কোনটা অপব্যবহার সেরকম কোন সঠিক দিক নির্দেশনাও নেই।
অপরাধীরা, নীতিনির্ধারকদের থেকে অনেক বেশি চালাক মনে হয়, কারন নতুন মাত্রায় একটি অপরাধ ঘটে যাবার পর নীতিনির্ধারকদের হুশ হয়।
সত্যি কথা বলতে প্রযুক্তি বিষয়ক নিতিমালা গঠন করা প্রয়োজন, যা প্রযুক্তির অপব্যবহার কে রোধ করবে। নয়তো অধঃপতনের দিকে আগাতে থাকা আমাদের তরুন প্রজন্ম, ধীরে ধীরে আরও এই অধঃপতনের দিকেই এগিয়ে যাবে, তখন আর আমাদের কিছুই করার থাকবে না।