ক্যাটেগরিঃ চিন্তা-দর্শন

 

আমাদের দেশীয় সংস্কৃতি ধ্বংস করার জন্য সবচেয়ে বেশি দায়ী আমাদের স্ব-শিক্ষিত বন্ধু বান্ধবগণ।  আমার মতো মুর্খরা যার ধারে কাছে নেই। আর এই দেশীয় সংস্কৃতি রক্ষার জন্য প্রাণপণ যারা কাজ করে যাচ্ছেন তারাও কিন্তু আমাদের স্ব-শিক্ষিত বন্ধু বান্ধবগণ। আমার মতো মুর্খরা যার ধারে কাছে নেই।

যারা দেশীয় সংস্কৃতি ধংস করছেন তারাও স্ব-শিক্ষিত আবার যারা দেশীও সংস্কৃতি রক্ষার জন্য প্রাণপণ কাজ করে যাচ্ছেন তারাও কিন্তু স্ব-শিক্ষিত। যারা ধংস করছেন তাদের সংখ্যা অনেক গুণ বেশী যারা রক্ষা করার চেষ্টা করছেন তাদের তুলনায়। তাই স্ব-শিক্ষিত সমাজে দেশীয় সংস্কৃতি রক্ষা বা টিকিয়ে রাখা আজ হয়ে পড়েছে দায়।

দেশের কোন মুর্খ মানুষ কিন্তু দেশীও সংস্কৃতি ধ্বংস করছেন না বরং সর্বোপরি দেশীয় সংস্কৃতির ব্যবহার করছেন। আর এই ব্যবহারের মাধ্যমেই টিকিয়ে রাখছেন আমাদের হাজার বছরের পুরনো দেশীয় সংস্কৃতিকে।

আর যে কয়জন মুর্খ মানুষ দেশীয় সংস্কৃতি ধংসে লিপ্ত হয়েছেন উনারা কিন্তু এক শ্রেণীর স্ব-শিক্ষিত মানুষকে অনুসরণ করেই এই ধ্বংসের খেলায় মেতে উঠেছেন। আমাদের দেশীয় একটা প্রবাদ বাক্য আছে “কাক হয়ে ময়ূরের বেস ধরা”। আফসোস ঐ মুর্খ মানুষ গুলির জন্য যারা ময়ূর চিনতে ভুল করছেন।

আমাদের স্ব-শিক্ষিত বন্ধু বান্ধবগণকে অনুরোধ নয় বন্ধুত্বের অধীকার নিয়ে বলছি- আমাদের অর্থাৎ আপনাদের নিজস্ব সংস্কৃতিকে ধংসের হাত থেকে রক্ষা করার দায়ীত্ব কিন্তু আপনাদেরই। কারণ আমরা অজ্ঞ মুর্খ মানুষ। আমাদের জ্ঞান বুদ্ধি কম। আমরা আপনাদের মতো এতো গভির ভাবে ভাবতে শিখিনি বুঝতে ও শিখিনি। আমাদের মত একশত জন মানুষের দ্বারা যে কাজ করা সম্ভব নয় সেই কাজ আপনারা স্ব-শিক্ষিত একজন এর দ্বারা সম্ভব বলে আমি শিকার করি। আপনাদেরকে আবারো বন্ধুত্বের অধিকার নিয়ে বলছি আপনারা আমাদের হাজার বছরের পুরনো সংস্কৃতিকে ধংস করবেন না। আপনারা জানেন যে আপনাদের মতো স্ব-শিক্ষিতদের আমরা অজ্ঞ মুর্খরা সর্বদা অনুসরণ করে চলছি।

এখন আপনারা যদি বেঠিক পথে চলেন তবে কিন্তু আমরা অজ্ঞ মুর্খরাও আপনাদেরকে অনুসরণ করে বেঠিক পথের পথিক হয়ে পরবো। যা কভু সুফল নিয়ে আসবেনা আমাদের এ জাতির জন্য।

এই সময়েও অনেক বন্ধু বান্ধব বলতে পারেন না যে আমাদের জাতীয় খেলা কি? যদিও বাচ্চা ছেলে মেয়েরা বলতে পারে। কারণ তারা স্কুলে জাতীয় খেলা নিয়ে রচনা লিখে এখনো। যা আমরা ও অতীতে লিখেছিলাম। এখন আর লিখতে হয়না বলে ভুলের মাঝেই চাপা পড়ে গেছে আমাদের জাতীয় খেলার নামটা। এবার ভাবুন আমাদের পরবর্তী প্রজন্মদের অবস্থা ভবিষ্যতে কোথায় দাঁড়াবে ?

তাই চলুন আমরা সবাই মিলে আমাদের সংস্কৃতিকে রক্ষা করার লক্ষে দেশীয় সংস্কৃতির সদ্ব্যবহার করি। অপব্যবহারকারীদেরকেও সদ্ব্যবহার করার জন্য উৎসাহী করে তুলি। আমাদের সর্বদা মনে রাখা উচিত যে, যে জাতির সংস্কৃতি ধ্বংস যে জাতিও ধংস। তাই চলুন আমাদের জাতীয়তা রক্ষার স্বার্থে আমাদের সংস্কৃতিকে রক্ষা করি। আর আমাদের সংস্কৃতিকে তুলে ধরি বিশ্ব সংস্কৃতির উচ্চতর আসনে। যাতে হবে আমাদের আরো একটি অহংকারের জন্ম।