ক্যাটেগরিঃ স্বাধিকার চেতনা

আমাদের শৈশব কৈশোরের সময় আমাদের পরিক্ষা আর ইন্টার্ভিউতে। একটা কমন প্রশ্ন ছিল- বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক কে ? তখন কিন্তু আমরা একেক সরকারের আমলে একেক রকম উত্তর করতাম। যেমন বিএনপি সরকারের আমলে আমরা উত্তর করতাম মেজর জিয়াউর রহমান ঠিক তেমন আওয়ামীলীগ সরকার আমলে উত্তর করতাম বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।

তখনকার সময় কিন্তু সঠিক উত্তরটাই এমন ছিল। বিএনপি সরকার আমলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর উত্তর দিলে ভুল উত্তর হতো। আর আওয়ামীলীগ সরকার আমলে মেজর জিয়াউর রহমান উত্তর দিলে সেটাও ভুল হতো।

বর্তমান বাংলাদেশে এখন আওয়ামীলীগ সরকার। তাই এখন বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান খুব স্বাভাবিক বেপার। কিন্তু অস্বাভাবিক বেপার হচ্ছে এখন বাংলাদেশে আওয়ামীলীগ সরকার বলেই শুধু বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতার ঘোষক নন। হাইকোর্টের রায়েও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতার ঘোষক। আমাদের এখন মেনে নিতেই হবে এবং বলতেই হবে স্বাধীনতার ঘোষক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান।

হয়তো একটা সময় আবার বিএনপি সরকারে আসতে পারে। হয়তো তখন আবার হাইকোর্টের রায়ে মেজর জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষক বলে বিবেচিত হবেন। যে দল সরকার ঘটন করে সে দলের পক্ষেই হাইকোর্ট সুপ্রিমকোর্ট জজ কোর্টের রায় আসে সে কথা আমাদের কারোরই অজানা নয়। তখন কি আবার আমাদের স্বাধীনতার ঘোষকের নাম পরিবর্তন হবে। তখন কি আমাদের সন্তানরা তাদের পরিক্ষা বা ইন্টার্ভিউয়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান শেখা ও জানাটা ইচ্ছে পূর্বক ভুলে গিয়ে মেজর জিয়াউর রহমান লিখবে? যেমনটা আমাদের বেলায় হয়েছে? প্রশ্নটা খুব ভাবায় আমায়।

আমার মনে হয় বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশী বিতর্ক হয়েছে সম্ভবত এই স্বাধীনতার ঘোষক উপাদিটা নিয়েই। যদিও বর্তমানে এই বিষয়টা কিছুটা হলেও বিতর্ক মুক্ত আছে। কিন্তু আগামীতে যে আবার এই বিষয়টা বিতর্কে আসবেনা সেটা ভাবাটা কি বোকামী নয়?

একটা জীনিস কিছুতেই আমার মাথায় ঢুকেনা। আর সেটা হলো আমরা কি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের বিকৃত ইতিহাস শিখে শিক্ষিত হয়েছি নাকী আমাদের সন্তানরা মুক্তিযুদ্ধের বিকৃত ইতিহাস শিখে শিক্ষিত হচ্ছে। কোনটা মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস উত্তরটা কে দেবে?

কালের পরিবর্তনের সাথে সাথে আমাদের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসেরও পরিবর্তন ঘটছে। কেউ এই কথাটা অস্বীকার করবেন না বলে আমার বিশ্বাস ও ধারণা। সামনে দিনগুলিতে যে আরো বেশী বিকৃত হবে সেটা আচ করা এখন আর তেমন কঠিন বিষয় নয়। কারন তখন আর যুক্তিযুদ্ধের সময়কার কোন মানুষ হয়তো পৃথিবীতে থাকবেন না। আসবেন মুক্তিযুদ্ধের পরের প্রজন্ম। তখন যদি উনারা উনাদের আগের প্রজন্মের মতো মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নিজেদের উপযুক্ত (বিকৃত) করে তুলে ধরেন তখন কি করার থাকবে এই প্রজন্মের। তারা তো সেটাই শিখবে যেটা তাদের বর্তমানে লিপিবদ্ধ থাকবে। ঠিক এই ভাবেই চলবে কালের পরিবর্তনের সাথে সাথে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের পরিবর্তন। বাংলাদেশীর সব সন্তানরা যুগের পরিবর্তনে সাথে শিখবে জানবে যুগ উপযুক্ত বাংলাদেশের মুক্তিযোদ্ধের বিকৃত ইতিহাস। যা বাংলাদেশী জাতির জন্য মোটেও কল্যাণকর নয়।

বাংলাদেশে সরকার বদলের সাথে সাথে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের বদলো ঘটে। যা বাংলাদেশীদের চিরাচরিত নিয়ম হয়ে দাড়িয়েছে। এই নিয়ম থেকে বের হয়ে সঠিক মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস তুলে ধরুন হে মহান মুক্তিযুদ্ধের ঐতিহাসিকগণ।

এখন সময় আছে এই এই বিতর্ক আর বিকৃত ইতিহাস এর ইতি ঘটানোর। হয়তো আর কয়েকটা বছর পর আর এই সুযোগ থাকবেনা। তাই যতো দ্রুত সম্ভব এই বিতর্ক আর বিকৃত ইতিহাস মুছে ফেলে সঠিক ইতিহাস লিপিবদ্ধ করুন এই প্রজন্ম আর আগামী সহ সকল প্রজন্মের জন্য। তাতেই বাংলাদেশের প্রতিটি নাগরিক হবে দেশ প্রেমিক। যা বিকৃত আর বিতর্কিত মুক্তিযুদ্ধের ইহিহাস থেকে শিক্ষা হয়ে উঠতে পারেনি আজ অবধি। স্বাধীন বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের বিতর্কিত আর বিকৃত ইতিহাস জেনে শিখে তো আর সু-নাগরিক হয়ে উঠা যায়না কোন ক্রমেই।