ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

00011
এখন দেশে নেতার অভাব নেই। পথে ঘাটে যথাযথা ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছেন অহতর নেতা। সব নেতাদের একটাই দাবী তারা নিজেরা মুজিব আদর্শের লড়াকু সৈনিক। কিন্তু আজ পর্যন্ত অন্তত একজন নেতাকে “মুজিব আদর্শ কি” সেটা নিয়ে কোন আলোচনা করতে দেখা যায়নি। সম্ভব উনারা নিজেরাই জানেন না মুজিব আদর্শ আসলে কী? না, আমি এর উত্তর দিচ্ছিনা। যারা নিজেদেরকে মুজিব আদর্শের লড়াকু সৈনিক দাবী করেন তারাই যখন এর উত্তর আজ পর্যন্ত দিতে পারেননি আমার মতো অজ্ঞ মূর্খের পক্ষে এমন প্রশ্নের উত্তর দেওয়া কল্পনাহীন।

তবে প্রায় যখন রাস্তাঘাট, শিক্ষা প্রতিষ্টান বা অন্যান্য জায়গায় দেখি মুজিব আদর্শের লড়াকু সৈনিকরা লাঠি, হকিস্টিক, চাপাতি, রামদা নিয়ে নিজেরা নিজেরা লড়াইয়ে মেতে উঠেন, তখন মনে হয় এটাই মনে হয় প্রকৃত মুজিব আদর্শ। এরাই তবে মনে হয় সত্যিকার অর্থের মুজিব আদর্শের লড়াকু সৈনিক।

পুলিশ কোন কারণ বসত যখন রাস্তা দিয়ে গাড়ি চলাচল বন্দ করে দেয়। সেই ধারাবাহিকতায় পুলিশ যখন কোন মুজিব আদর্শের লড়াকু সৈনিককে ঐ রাস্তা দিয়ে গাড়ি নিয়ে যেতে বাধা প্রদান করেন, তখন মুজিব আদর্শের লড়াকু সৈনিকেরা পুলিশের উপর দল বল নিয়ে ঝাঁপিয়ে পরেন। আর তা দেখেই আমার সেদিন মনে হয়েছিল এটাই বুঝি প্রকৃত মুজিব আদর্শ। যখন পত্রপত্রিকায় প্রধান শিরোনাম দেখি জেলখানায় কোন মুজিব আদর্শের লড়াকু সৈনিকের জেল মুক্তির দিন জেল কর্মীর উপর মুজিব আদর্শের সৈনিকদের হামলা। তখন মনে হয়েছিল এটাই তবে মনে প্রকৃত মুজিব আদর্শ।

আবার যখন শুনি কোন ছাত্র বা বহিরাগত কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের হোস্টেলে (হল) রুম পেয়েছেন মুজিব আদর্শের লড়াকু সৈনিক কোন নেতার নিয়ন্ত্রিত কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের হোস্টেলে। তখন মনে হয় এটাই বুঝি প্রকৃত মুজিব আদর্শ। আবার যখন শুনি দেশের বিখ্যাত কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পুলিশ অভিযান চালিয়ে মুজিব আদর্শের লড়াকু সৈনিক কোন নেতার নিয়ন্ত্রিত আবাসিক হল থেকে বিপুল পরিমান দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করেছে, তখন আবার মনে হয় এটাই বুঝি প্রকৃত মুজিব আদর্শ।

আবার যখন শুনি মুজিব আদর্শের লড়াকু সৈনিকরা দেশের নামিদামি কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে নিজেরা নিজেরা মারামারি কাটাকাটি করায় ঐ বিশ্ববিদ্যালয় ভিসি আইনি কোন ব্যবস্থা না নিয়ে বরং তাদের ভয়ে বিশ্বাবিদ্যালয় অনির্ধারিত বন্ধ ঘোষণা করে দেন। তখন মনে হয় এই ভয় দেওয়াটাই বুঝি প্রকৃত মুজিব আদর্শ। ঐসব মুজিব আদর্শের সৈনিক নেতাদের রয়েছেন অসংখ্য অনুসারী বা ভক্ত। অনুসারী বা ভক্তদের নেতাদের প্রতি তাদের ভক্তি আমাকে মুগ্ধ করে। সেই মুগ্ধতা থেকেই সেদিন দু’লাইনের একটা কবিতা লিখে ফেলেছিলাম।

“নেতার প্রতি ভক্তি দেখে অভাক হইরে ভাই প্রচুর
এ যেন মানুষ নয়রে ভাই, প্রভু ভক্ত কুকুর”।

যার নাম শুনলে শ্রদ্ধায় মাথা নত করি। গর্বে আবার মাথা উঁচু করে দাঁড়াই। যার হাত ধরে এই বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছিল তিনি সেই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তিনি হাজার বছররের শ্রেষ্ট বাঙালিদের অন্যতম একজন। তার আদর্শ হয়তো আমরা কোথাও শুনে কিংবা পড়ে জানতে পারি না। কিন্তু অন্তর দিয়ে বুঝতে পারি। অনুভব করতে পারি।

আজ যারা নিজেদেরকে মুজিব আদর্শের লড়াকু সৈমিক দাবি করে মুজিব আদর্শকে বিতর্কিত ও কলঙ্কিত করছেন। কেন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছেনা? তবে কি বর্তমান আওয়ামীলীগ আজ আর বঙ্গবন্ধুর আদর্শের অনুসারী নয়? নাকি আদর্শ বিক্রী করে ম্যান পাওয়ার বৃদ্ধিতে বর্তমান আওয়ামী লীগ মগ্ন?

বর্তমান আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গ সংগঠনের ছোট, বড়, ভাল, মন্দ, তেলবাজ, আমলা, হাইব্রিড সহ সকল নেতারা আলোচনা, সমালোচনায়, নানা টিভি শো, স্টেজে নিজেদেরকে মুজিব আদর্শের নেতা বলে দাবী করেন। কিন্তু কেন তারা আজ পর্যন্ত মুজিব আদর্শ কি তা আলোচনা করতে পারলেন না? তবে কি তারা নামধারি মুজিব আদর্শের নেতা? তবে কি সত্যিকার অর্থে মুজিব আদর্শের অনুসারী নন?

ছবি সংগ্রহ- সিলেট মিডিয়া