ক্যাটেগরিঃ শিল্প-সংস্কৃতি

 

বাঙালির ঐতিহ্যবাহী উৎসব পহেলা বৈশাখ উদযাপনে পান্তা ও ইলিশের কোনো সম্পর্ক ছিলনা আগে। এর প্রচলন শুরু হয় আশির দশকে। বাংলা নববর্ষে পান্তার সাথে ইলিশ মাছ ভোগ এক ধরনের নব্য বাঙালিয়ানার প্রচলন তৈরি করেছে।

এভাবে উন্মাদনা বা ঘটা করে ইলিশ মাছ খাওয়ার অনেকগুলি ক্ষতির দিক আছে। এ সময়ে ইলিশের উৎপাদন কম থাকে। বাজারের চাহিদা বাড়াতে গিয়ে প্রচুর ঝাটকা ধরা হয়। এটা হলো ইলিশের ডিম পারা ও বাচ্চা ফুটানোর মৌসুম। কিন্তু ঝাটকা নিধন ও মা ইলিশ ধরে ফেলায় ইলিশের উৎপাদন কমে যায়। তাছাড়া বৈশাখের গরমে ইলিশ খাওয়া সাস্থ্যসম্মতও না।

নববর্ষ উদযাপনে পান্তা-ইলিশ খাওয়ার মধ্য দিয়ে দরিদ্র বাঙালিদের সাথেও ঠাট্টা করা হয়। কারণ, নিম্নবিত্ত মানুষেরা এমন সময় এতো দামে ইলিশ কিনে খাওয়ার ক্ষমতা রাখে না।

অতীতে নববর্ষ পালনে পান্তা-ইলিশের প্রচলন কখনোই ছিল না। এটা আশির দশকে সৃষ্ট একটা নব্য বাঙালিয়ানা প্রথা। তাই আমাদের উপরের বিষয়গুলো চিন্তা করে নববর্ষে পান্তার সাথের ইলিশ খাওয়ার প্রচালন ত্যাগ করা উচিত।