ক্যাটেগরিঃ ধর্ম বিষয়ক

 

স্কুলে পড়েছি সকল বস্তুর ধর্ম আছে। যেমন অক্সিজেন, হাইড্রোজেন, নাইট্রোজেন-এর ধর্ম কি তা আমরা জেনেছি। ঠিক তেমনি মানুষের ধর্ম (মানব ধর্ম) সম্পর্কে বলতে গেলে বলা যায়: বাবা-মায়ের মিলনে মায়ের গর্ভের মাধ্যমে মানুষ জন্মগ্রহণ করে, ছোট থেকে বড় হয়, মানুষ বুদ্ধিসম্পন্ন হয়ে থাকে, মুখ দিয়ে কথা বলে, দুটি পা দিয়ে হাটেঁ, দুটি হাত দিয়ে প্রয়োজনীয় কাজকর্ম করে, দুটি চোখ দিয়ে দেখে, দুটি কান দিয়ে শোনে, জিহবা দিয়ে স্বাদগ্রহণ করে, রক্ত লাল হয়ে থাকে, ক্ষুধা নিবারনের নিমিত্ত খায় ইত্যাদি আরো অনেক অনেক ……. অবশেষে মৃত্যুবরণ করে। অর্থাৎ সহজাতভাবে মানুষ যা ধারণ করে তাই মানব ধর্ম। মানুষ মানবিক (মানব ধর্ম/মানবিকতা) জীবনাচার/অনাচার সহজাতভাবে ধারণ করে, পশু পাশবিক (পশুর ধর্ম) জীবনাচার সহজাতভাবে ধারণ করে। বস্তু-অবস্তু, দৃশ্য-অদৃশ্য প্রত্যেকেই স্ব স্ব আচার/অনাচার/গুনাগুন ধারণ করে থাকে। মানুষের ধর্ম কোন নুতন, বিচ্ছিন্ন, সাম্প্রদায়িক বা দল-উপদলীয় ধর্ম নয় বরং মানবিক ও প্রাকৃতিক। কোরান দেখুন:

সকল মানুষ ছিল একই জাতি। অতঃপর আল্লাহ্ নবীগণকে সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারীরূপে প্রেরণ করেন। মানুষেরা যে বিষয়ে মতভেদ করিত তাহাদের মধ্যে সে বিষয়ে মীমাংসার জন্য তিনি তাহাদের সঙ্গে সত্যসহ কিতাব অবতীর্ণ করেন এবং যাহাদেরকে তাহা দেওয়া হয়েছিল, স্পষ্ট নিদর্শন তাহাদের নিকট আসিবার পরে, তাহারা শুধু পরস্পর বিদ্বেষবশত সেই বিষয়ে বিরোধিতা করিত। যাহারা বিশ্বাস করে, তাহারা যে বিষয়ে ভিন্নমত পোষণ করিত, আল্লাহ তাহাদেরকে সে বিষয়ে নিজ অনুগ্রহে সত্যপথে পরিচালিত করেন। আল্লাহ যাহাকে ইচ্ছা সরল পথে পরিচালিত করেন। [আল কোরআন, সুরা বাকারা, আয়াত নং ২১৩]

ধর্ম অর্থ যা ধারণ করা হয়; ধৃ ধাতু থেকে ধর্ম । ধৃ ধারণ তাই ধরা বা ধরণী; ধরণী বলতে শুধু পৃথিবী নয় বরং প্রকৃতি। প্রকৃতি ধর্মহীন নয়; অণু-পরমাণু থেকে চন্দ্র, সূর্য, গ্রহ-তারা, মাটি, পানি-আকাশ-বাতাস, সবকিছুই নির্দিষ্ট ধর্মের অধীন বলেই বিজ্ঞানীগণ তা কাজে লাগাতে সক্ষম হন; ধর্ম’কে গুণ, চরিত্র বা নির্দিষ্ট স্বভাব বলা যায়। আর এক ধাপ এগুলে বলতে হয় কর্মই ধর্ম, ভাল কর্ম ভাল ধর্ম=আস্তিক, খারাপ কর্ম খারাপ ধর্ম=নাস্তিক। শান্তিবাদ/সাম্যবাদ বা মানব ধর্মে প্রচলিত মুসলমান, শিয়া, সুন্নী, কাদিয়ানী, হিন্দু, খৃষ্টান, ইহুদি, বৌদ্ধ, শিখ, জৈন যাবতিয় দল-উপদল স্বীকার/ সমর্থন বা গুরুত্ব দেয় না। নিম্নে উল্লেখিত আয়াতটিই তার জ্বলন্ত প্রমাণ:

নিশ্চয়ই যাহারা ঈমান আনিয়াছে, যাহারা ইয়াহুদী হইয়াছে এবং খ্রিষ্টান ও সাবিঈন-যাহারাই উপাস্য ও পরকালে বিশ্বাস করে ও সৎকাজ করে, তাহাদের জন্য পুরস্কার আছে তাহাদের প্রতিপালকের নিকট। তাহাদের কোন ভয় নাই এবং তাহারা দুঃখিতও হইবে না। [আল কোরআন, সুরা বাকারা, আয়াত নং ৬২]