ক্যাটেগরিঃ ক্যাম্পাস

অর্জিত জ্ঞান কাজে লাগিয়ে ব্যক্তির আচরণিক পরিবর্তন সাধিত হলে আমরা তাকে শিক্ষা বলি। লব্ধ শিক্ষা কাজে লাগিয়ে নিজের উন্নয়ন সাধনের পাশাপাশি মানবতার কল্যাণে তা কাজে এলে মানুষ তাকে সুশিক্ষা বলে। এ মহতি কাজে নিয়োজিত আমাদেরকে সমাজের মানুষ ভালবেসে ডাকেন ‘মানুষ গড়ার কারিগর’, ‘দেশের স্থপতি’। আমরা আপ্লুত হই। আমাদের শেখানো আদর্শ, নৈতিকতা, শিষ্টাচার এবং ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি শিখে আমাদের সন্তানেরা পরিনত হবে অনন্য মানুষে-এমনটিই প্রত্যাশা তাবৎ মানুষের।

কিন্তু শিক্ষক লেবাস পরে থাকা কতিপয় নরপশুদের কারণে প্রিয় বাংলাদেশের শিক্ষক সমাজের কপালে আজ অযাচিত কলংকের তিলক। সমাজে ঘাপটি মেরে থাকা পরিমলদের অত্যাচার সইতে না পেরে পরওয়ারদেগার কদাচিৎ তাদের মুখোশ উন্মোচন করেন। কারো শাস্তি হয় (শিক্ষক সমাজের শাস্তির আবার কি দরকার! চরিত্রহীনতার অপবাদ উঠলেই তো জীবনটা বরবাদ), কেউবা আইনের মারপ্যাঁচে রক্ষা পেয়ে দানব হয়ে যায়। আহারে! কত ভাল ভাল স্যার পেয়েছি কৈশোরের প্রিয় ঈদগাহ আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ে। শফি স্যার, জাফর স্যার, আবু তাহের স্যার এবং খুরশিদা ম্যাডামের বাংলা পড়ানো; সিরাজ স্যার, মোকতার স্যার, নূরুল হক (বীর প্রতীক) স্যারের ইংরেজী পড়ানো; অসিত স্যার, বিধুভূষণ স্যার ও কবির স্যারের গণিত ও বিজ্ঞান পড়ানো কিংবা মজিদ স্যারের সুন্দর এসেম্বলীর কথা হৃদয়ে আনন্দের ঢেউ তোলে এখনো। সলিম স্যারের মতো একজন অসাধারণ প্রধান শিক্ষকের নিকট থেকে আমরা পেয়েছি জীবনের পাথেয়। সালাম আপনাদের- গুরু! কিন্তু আমার শিক্ষা গুরুদের সহকর্মী অন্য একজনের বিরুদ্ধে যখন আমাদের সন্তানদের নিয়ে অনৈতিক আচরনের অভিযোগ ওঠে, তখন হৃদয়ের চৌহদ্দি থেকে ভেঙ্গে যায় হাজারো দেয়াল। উক্ত বিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র এবং ৯ মাসের খণ্ডকালীন শিক্ষক হিসেবে এ কথা জেনে আমার খুব কষ্ট লেগেছে যে, উক্ত বিদ্যালয়ের কম্পিউটার শিক্ষকের পশুবৃত্তির শিকার হয়েছেন অষ্টম শ্রেণি পড়ুয়া শিক্ষার্থী। নিজের রুমে একলা প্রাইভেট পড়ানোর সুযোগে অনৈতিক কাজে বাধ্য করার লিখিত অভিযোগে গতকাল প্রধান শিক্ষক কর্তৃক যখন তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়, তখন কম্পিউটার শিক্ষক হিসেবে আমার ভেতরের ‘আমি’ ডাক দিলো – নৈতিকতা বিবর্জিত শিক্ষক হওয়ার পূর্বে আমার যেন টিকিট হয়- না ফেরার দেশে যাওয়ার।