ক্যাটেগরিঃ ব্লগ

মাধ্যমিক স্তরে সুশিক্ষার পরিবেশ ভাবনা (৭):
শ্রেণির পঠন-পাঠনের বাইরে যে কার্যক্রমগুলো নিয়মিত অনুশীলনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীর সুপ্ত প্রতিভা উৎসারিত হয় এবং শিক্ষার্থী জীবন কেন্দ্রিক শিক্ষায় দক্ষ হয়ে গড়ে ওঠে তাকে সহপাঠ্যক্রমিক কার্যক্রম বলে। আমরা জানি, প্রাত্যহিক এসেম্বলী, ইনডোর আউটডোর খেলাধুলা, বিতর্ক, সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা, নাট্যানুষ্ঠান, অভিনয়, আবৃত্তি, ম্যাজিক শো, নিরক্ষরতা দূরীকরণ অভিযান, বৃক্ষরোপন অভিযান, দেয়াল পত্রিকা প্রকাশ, বার্ষিক ম্যাগাজিন রচনা, শিক্ষা সফর ইত্যাদি সহপাঠ্যক্রমিক কার্যক্রমের আওতায় পড়ে। এগুলোর যথাযথ অনুশীলনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীর সার্বিক সুশিক্ষা পূর্ণতা পায় – এটি অস্বীকার করার জো নেই। কিন্তু বর্তমানে অধিকাংশ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহপাঠ্যক্রমিক কার্যক্রমে দৈন্য দশা এবং সংশ্লিষ্টদের আন্তরিকতার অভাব পরিলক্ষিত হয় – এটি সমৃদ্ধ জাতি গঠনের জন্যে শুভকর নয়।

গুগল বলছে, সহপাঠ্যক্রমিক কার্যক্রমের মধ্যে বেশী অনুশীলন হয় এমন কাজ হলো প্রাত্যহিক এসেম্বলী ক্লাস। অধিকাংশ বিদ্যালয়ে উপযোগী মাঠের অভাবে তার সঠিক অনুশীলন ব্যাহত হয়। কিছু স্কুলের এসেম্বলী অনেকটা দায়সারা গোছের। প্রায় ৯ বছর পূর্বে আমি একটি বিদ্যালয়ে যখন প্রথম বারের মতো যাই, তখন সে বিদ্যালয়ের এসেম্বলী ক্লাসে আমি বিব্রতকর অবস্থায় পড়ে যাই। জাতীয় সংগীত গাওয়ার পর জাতীয় পতাকার প্রতি সম্মান প্রদর্শন করার বাঁশি পড়লে শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি আমিও জাতীয় পতাকার প্রতি সম্মান প্রদর্শনের জন্য হাত তুলি। কিন্তু অন্যান্য স্যারেরা দুই হাত পকেটে, বুকে কিংবা পেছনে রেখে ঠাঁই দাঁড়িয়ে ছিলেন! মজার ব্যাপার হলো, একই বিদ্যালয়ে কোন একটি কাজে এক সকালে ঈদগাহ আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জনাব নূরুল হক স্যার (বীর প্রতীক) এলেন। জাতীয় সংগীত চলাকালে তিনি তড়িঘড়ি করে স্যারদের সারিতে দাঁড়িয়ে যান এবং যথারীতি জাতীয় পতাকার প্রতি সম্মান প্রদর্শন করেন। অন্যান্য স্যারেরা যথারীতি জাতীয় পতাকার প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে হাত তুলেন নি! আমার শ্রদ্ধেয় শিক্ষক নূরুল হক স্যারও (বীর প্রতীক) জাতীয় পতাকার প্রতি সম্মান প্রদর্শনের কাজে কাউকে সঙ্গী না পেয়ে ডানে-বায়ে তাকিয়ে ছিলেন। আপনি অবাক হবেন, এখনো সেই বিদ্যালয়ের এসেম্বলী ক্লাসে শিক্ষকরা জাতীয় পতাকার প্রতি সম্মান প্রদর্শন করেন না! সেই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বড় হয়ে তাঁদের স্যারদের সার্বিক কার্যক্রম সম্পর্কে বিরূপ ধারনা পোষন করবে – সন্দেহ নেই।

আউটডোর খেলাধুলা শরীর মনে প্রফুল্লতা আনে। মাঠই যদি খেলার উপযোগী না হয় কেবল কম্পিউটারে গেইম খেলে কি আসল স্বাদ ও উপকারীতা পায় যায়, বলেন? ঈদগাহ আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালীন নিজে অংশগ্রহণ না করলেও ছাত্র-ছাত্রীদের খেলাধুলার চমৎকার সব অনুশীলন দেখে আনন্দিত হয়েছি। ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আগে শিক্ষার্থীরা অনুশীলনের যথেষ্ট সময় ও সুযোগ পেত। ক্রীড়া প্রতিযোগিতার রাতে নিজের হাউস সাজানোর জন্য সে কি ব্যস্ততা ছিল আমাদের! এক এক হাউসে দু’জন করে স্যার থাকতেন। হাউসের নামগুলোও ছিলো চমৎকার- নজরুল হাউস, জীবনানন্দ হাউস, রবীন্দ্র হাউস, জসীম উদ্দিন হাউস ইত্যাদি। প্রতিযোগিতার দিন নিজের হাউসের একজন জিতলে সে কি তালি দিতাম আমরা! নিজের দলের কেহ বিজয় মঞ্চে দাঁড়িয়ে সম্মান দেখানোর সময় অন্য রকম শিহরনে আন্দোলিত হত হৃদয়গভীর। পেশাগত জীবনে এসে দেখতে পাই, অনেক বিদ্যালয়ের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার সময় বিভিন্ন দল হয় ঠিকই। বাহারী নামও জুড়ে দিই। কিন্তু হৃদয়ে দাগ কাটা সেই হাউস, সাজ সজ্জা আর চোখে পড়েনা। অবাক হবেন, কোন কোন বিদ্যালয়ে বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার দিনই কেবল শিক্ষাথীরা মাঠে নামে এবং ঐ দিনই একেবারে ফাইনাল রাউন্ড হয় তাদের! বিজয়ী হওয়ার পরে বিজয় মঞ্চে গিয়ে সম্মান জানিয়ে হাততালি পাওয়ার ব্যাপারটি শিক্ষার্থীরা ভুলতে বসেছে। কারণ বিজয় মঞ্চ জিনিসটি কেমন তা দেখেওনি অনেক বিদ্যালয়ের শিক্ষাথীরা।

গত জাতীয় শোক দিবসে কোন এক ছুটির কবলে পড়ে আমাদের বিদ্যালয়। জে.এস.সি পরীক্ষার্থীরা বিশেষ ক্লাসের প্রয়োজনে বিদ্যালয়ে আসে। আমরা তাদের নিয়ে একটি রুমে শোক দিবসের আলোচনা ও দোয়া মাহফিল এর আয়োজন করি। সঞ্চালনার এক পর্যায়ে আমি জে.এস.সি পরীক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে বক্তব্যের জন্য ডাকি ক্লাসের প্রথম ছাত্রীকে। আপনি অবাক হবেন, আমাদের ৮ম শ্রেণির এই মেধাবী ছাত্রী সম্প্রতি প্রকাশিত জে.এস.সি ফলাফলে এ+ পেলেও সেদিন তার মুখ থেকে একটি শব্দও আমরা বের করতে পারিনি! হেড স্যার বলছিলেন, ‘তুমি অন্তত একটি সালাম দাও’। জানেন, মেয়েটি এত কাঁপছিল এবং বিব্রত অবস্থায় পড়ে গিয়েছিল যে তার মুখ থেকে একটি সালামও বের হয়নি। শেষে প্রধান শিক্ষক খুব আফসোস করলেন। তবে কি আমাদের বিদ্যালয়ে বিতর্ক প্রতিযোগিতাসহ বক্তৃতাদান শেখানোর কোন অনুশীলন হয় না? হয়, তবে তা যুগের প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল বলে মেধাবী মেয়েটির ঐদিনের দশা আমাদের লজ্জিত করেছে (?)

আমরা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পড়াকালীন উপরের ক্লাসের বারান্দার উপর দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সাহস ছিলোনা নিচু ক্লাসের কোন শিক্ষার্থীর। এসেম্বলী ক্লাসের পরই ১০ম শ্রেণির ছাত্র-ছাত্রীরা বিভক্ত হয়ে সব শ্রেণিতে যেতো। তাদের মাধ্যমে ক্লাসের সবাইকে বার বার মনে করিয়ে দেওয়া হতো – নিয়মিত ইউনিফর্ম পড়ে আসতে হবে, ক্লাসে স্যার না থাকলে কথা বলা যাবেনা, ক্যাপ্টেন গিয়ে প্রধান শিক্ষককে ইনফর্ম করবে, স্যার এবং বড় ভাই-বোনদের কোথাও দেখলে সালাম দেবে ইত্যাদিসহ চমৎকার ও নৈতিক সব বিষয়। এগুলো করতে গিয়ে শিক্ষার্থীরা আপন মনেই নেতৃত্ব শিখে যেতো। এসবের সুদূর প্রসারী প্রভাবের কারণে এখনো আমরা বড় ভাইদের দেখলে দাঁড়িয়ে যাই, সালাম দিই। কিন্তু বর্তমানে অধিকাংশ বিদ্যালয়ে এসবের সঠিক অনুশীলন চোখে পড়েনা। ১০ম শ্রেণির শিক্ষার্থীদেরকে মাঝে মাঝে নিচের ক্লাস সমূহে পাঠালে দেখা যায় ঐ ক্লাসের স্যার গিয়ে তাদেরকে ছোট ভাই-বোনদের সামনেই বকাঝকা করেন, ঐসব নিয়ম আগে তাদের নিজেদেরকে শিখতে বলেন। ফলে, শিক্ষার্থীদের আগ্রহে ভাটা পড়ে। তাই, আমাদের অবাক নয়নে দেখতে হয়, ৭ম শ্রেণির ছেলেরা তাদের ক্লাসের বারান্দা দিয়ে ৯ম শ্রেণির ছাত্রীরা যাওয়ার সময় টিটকারী দেয়! ৮ম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা দলবল নিয়ে ১০ম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের মারতে আসে! শিক্ষার্থীদের মাঝে সিনিয়রিটি-জুনিয়রিটি বলতে একটি ব্যাপার থাকা উচিত- এটির সফল ব্যবহার দেখার সৌভাগ্য আমাদের অনেক স্কুলের হয় না।

ব্যর্থতা আর নেতিবাচক স্মৃতি না বাড়িয়ে চলুন আমরা নি¤েœাক্ত বিষয়গুলি ভেবে দেখি:
১। এসেম্বলী ক্লাস সুন্দর করার স্বার্থে শরীরচর্চা শিক্ষক প্রধান শিক্ষকের সাথে পরামর্শ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারেন। এসেম্বলী ক্লাস চলাকালে শিক্ষকদের পত্রিকা পড়া, জোরে জোরে কথা বলা পরিহার করা ভাল। জাতীয় পতাকার প্রতি শিক্ষকদেরও সম্মান প্রদশর্ন করতে হয় – এটির বোধোদয় যেন আমাদের হয়।
২। বর্তমানে অনেক বিদ্যালয়ে ব্রাকের অর্থায়ন ও সহযোগিতায় বছরে ২/১ বার আন্ত:শ্রেণি বিতর্ক প্রতিযোগিতার আয়োজন হয়। কিন্তু তাতে সব ছাত্র-ছাত্রীর অংশগ্রহণ থাকেনা বলে কেবল অংশগ্রহণকারীরাই উপকৃত হয়। ছোটবেলায় আমাদের স্কুলে দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষক ১০ম শ্রেণিকে দায়িত্ব দিতেন এসব কাজে। তারা প্রতি ক্লাসে গিয়ে বিতর্কের টপিক জানিয়ে দিয়ে আসতো। সব শ্রেণির বিতর্কে আগ্রহী শিক্ষাথীরা ১০-১৪ দিনের মধ্যে পক্ষে বা বিপক্ষে বিতর্কের জন্য ১০ম শ্রেণির শিক্ষাথীদেরকে তাদের নাম জানিয়ে দিয়ে আসতো। প্রতি মাসের ২য় ও শেষ বৃহস্পতিবার ৪র্থ ঘন্টার পরে বিরাট হলরুমে আমাদের বিতর্ক প্রতিযোগিতার আয়োজন হতো। সবার অংশগ্রহনে হওয়া সেই সব বিতর্ক প্রতিযোগিতা যেন আমাদের প্রতি স্কুলে নিয়মিত হয় এ ব্যাপারে আমাদের উদ্যোগ নেওয়া দরকার।
৩। প্রায় স্কুলে ২দিন ব্যাপী অনুষ্ঠিত হওয়া বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা চলাকালে প্রতিদিনই প্রায় সন্ধ্যা হয়ে যায়। অনেক বিদ্যালয়ে আমরা শিক্ষকেরা দুপুরবেলা পেটপুরে ভাত খেলেও আমাদের শিক্ষাথীদের জন্য আমরা নাস্তার ব্যবস্থা করিনা। ভর্তির সময় সেশন ফি কিংবা খেলাধুলা ফি নেওয়ার পরেও অথবা ক্রীড়া প্রতিযোগিতার পূর্বে শিক্ষার্থীদের নিকট থেকে অতিরিক্ত ১০-২০ টাকা চাঁদা নেওয়া হলেও আমরা কেন তাদের জন্য নাস্তার ব্যবস্থা করতে পারিনা – কে জবাব দেবেন।
৪। বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরনী অনুষ্ঠানে কমিটি ও শিক্ষকরা থাকার পাশাপাশি শিক্ষা সংশ্লিষ্ট গুনীজনেরা আসবেন, তাঁদের ইতিবাচক ও চমৎকার সব কথায় শিক্ষার্থীরা অনুপ্রাণিত ও হৃদ্ধ হবে -এটিই স্বাভাবিক। পুরস্কারের নি¤œমান এবং প্রতিদিন দেখতে পাই এমন ব্যক্তিদের উপস্থিতির আধিক্য পুরস্কার বিতরনী অনুষ্ঠানের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করেনা বরং সুশিক্ষার প্রতি আমাদের মেকি আন্তরিকতাই মনে করিয়ে দেয়। এসবের বদল হলে ভাল হয়।
৫। ক্রীড়া প্রতিযোগিতার পূর্বে পর্যাপ্ত অনুশীলনের সুযোগ যেন আমাদের শিক্ষার্থীরা পায়। একেবারে ফাইনাল রাউন্ডে শিক্ষার্থীদেরকে অংশগ্রহণ করানো খেলাধুলার প্রতি আমাদের উদাসীনতাকে প্রমাণ করে। আমরা যেন শিক্ষার্থীদেরকে পর্যাপ্ত অনুশীলনের সুযোগ দেবার চেষ্টা করি।
৬। বিভিন্ন বিদ্যালয়ে কেবল ব্র্যাকের অর্থায়নে বছরে ২/১ বার দেয়ালিকা প্রকাশ হতে দেখা যায়। বিদ্যালয়ের অর্থায়নে আমাদের জাতীয় দিবসগুলোতে দেয়ালিকা প্রকাশ করা সম্ভব হলে তা আমাদের সন্তানদের সৃজনশীল প্রতিভা বিকশিত করতে সহায়ক হতো।
৭। ছাত্রাবস্থায় বিভিন্ন জাতীয় দিবসের পূর্বের রাতে আমরা পোস্টার লাগাতাম। এটি যেন আমাদের ভালবাসা ও উৎসাহের বহিঃপ্রকাশ ছিলো। আর এখন? জাতীয় দিবসের দিন সকালে স্কুলের আশে-পাশের দেয়াল ও পাশ্ববর্তী এলাকা পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যায়, আমরা অনেক বিদ্যালয় এখন পোস্টারিংও করিনা। কোন রকম দায়সারা ভাবে অনুষ্ঠান করি। অনেক স্কুলে কদাচিৎ বড় হল রুমে স্পিকার ছাড়াই বক্তৃতা দিই। আশেপাশের চেচামেচি, মাঝে মাঝে ইট ভাঙ্গা মেশিনের গর্জনের মধ্যে আমাদের শিক্ষার্থীদের কানে কথা না পৌঁছালেও আমরা অনেক সময় বিব্রত হইনা। অবশ্য গত বিজয় উৎসব প্রস্তাবিত বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে (ঈদগাঁও) জেলা পরিষদ প্রশাসকের সার্বিক সহযোগিতায় অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ে ঝাকঝমকপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে যা সুধীজনের প্রশংসা কুড়িয়েছে।
৮। বিদ্যালয়ের বার্ষিক ম্যাগাজিন প্রকাশ দেখার সৌভাগ্য যেন আমাদের শিক্ষার্থীদের হয়। নাট্যানুষ্ঠান, অভিনয়, আবৃত্তি, ম্যাজিক শো, নিরক্ষরতা দুরীকরণ অভিযান, বৃক্ষরোপন অভিযান ও শিক্ষা সফরে শিক্ষার্থীদের সংশ্লিষ্টতা বাড়ানোর কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া জরুরী।

২৫ ডিসেম্বর ২০১২ প্রথম আলো’র প্রতিবেদনে ওঠে আসে ৫৫ শতাংশ এ+ প্রাপ্ত শিক্ষার্থী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় পাশই করেনি! এটি সমৃদ্ধ জাতি গঠনে বিভোর প্রাজ্ঞদের জন্য শুভকর নয়। পাঠ্যক্রমিক শিক্ষা এবং সহপাঠ্যক্রমিক শিক্ষা একে অপরের পরিপূরক। তাই এ+ প্রাপ্তির পাশাপাশি আমাদের পড়াশোনার সার্বিক মান বাড়ানোর স্বার্থে পাঠ্য বিষয়ের পাশাপাশি সহপাঠ্যক্রমিক কার্যক্রমগুলোর প্রতি সংশ্লিষ্টদের আন্তরিকতা বাড়ানো প্রয়োজন। আশার কথা- ২০১৩ শিক্ষা বর্ষ থেকে সরকার ৬ষ্ঠ থেকে ৯ম শ্রেণিতে (পরের শিক্ষা বর্ষে যা ১০ম শ্রেণিতে আবশ্যিক) ‘শারীরিক শিক্ষা ও স্বাস্থ্য’, ‘চারু ও কারুকলা’ এবং ‘শারীরিক শিক্ষা, স্বাস্থ্য বিজ্ঞান ও খেলাধুলা’ নামক ১০০ নম্বরের আবশ্যিক বিষয় অন্তর্ভুক্ত করে আমাদের আশান্বিত করেছে। এটির পর্যাপ্ত ব্যবহারিক অনুশীলন নিশ্চিত করা গেলে আমাদের শিক্ষার্থীদের সার্বিক শিক্ষার পূর্ণতা প্রাপ্তিতে তা কার্যকর ভূমিকা রাখবে – সন্দেহ নেই।